| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আরোগ্য
পৃথিবী আজ তার বার্ধক্যে এসে পড়েছে, শৈশব পেরিয়ে যৌবন ও সে হারিয়েছে, তাই বৃথা আনন্দ করো না, ক্ষণিকের সময় হাতে, নশ্বর এ পৃথিবী যেন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। সে মৃত্যু আসার আগে আজ তীর্থে ভ্রমণ করো, পবিত্র জলে হে পৃথিবী তুমি অবগাহন করো, ধুয়ে ফেলো তোমার গায়ের শত কালিমা, সাজিয়ে নাও বিদায়ের আগে আবার আঙিনা।
"ইসলামে নারীর মর্যাদা" শিরোনামে নারী শব্দটি স্পষ্টত উল্লেখ করা হয়েছে তথাপি লেখাগুলো নারী পুরুষ উভয়ের জন্য জানার বিষয়। চারপাশে ফেতনার জোয়ার, কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল তা বিচার করাও দ্বিধাগ্রস্ত ব্যাপার। এতদ্ব্যতিত নিকট ভবিষ্যতে ইসলামের নাম ব্যবহার করে এক বিশাল ফেতনার আগমন টের পাচ্ছি, যা মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায় সকলের উপর আপতিত হবে। এমতাবস্থায় যদি আমরা দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে না ধরি তাহলে চরমভাবে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজে নারীদের বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও ইসলামি শরীয়তের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডনে যথেষ্ট দলিল প্রমাণ, তুলনামূলক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সহকারে "ইসলামে নারীর মর্যাদা" নামে একটি ধারাবাহিক শুরু করেছিলাম যেগুলোর সারকথা ও লিংক নিম্নে উল্লেখ করা হলো, আগ্রহী পাঠকবৃন্দ চাইলে দেখে নিতে পারেন।
পর্ব ১ : পর্দা
এটি সবচেয়ে দীর্ঘ পর্ব। পর্দা যে কেবল পোশাকের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা গৃহে বাইরে, চলনে বলনে, আচার-আচরণ সবক্ষেত্রেই বিদ্যমান তা কোরআন হাদিসের আলোকে এ পর্বে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে নারীর পর্দার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং শরীয়ত মোতাবেক পর্দা করার ফলে নারীদের জন্য যে উপকারিতা রয়েছে তা বৈজ্ঞানিক তথ্যসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সবশেষে পর্দার নিয়মনীতি অনুসরণ না করার ফলে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়ের চিত্র ও পর্দা অমান্য করার কুফল নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও এ পর্বে মন্তব্যগুলোতেও গঠনমূলক আলোচনা করা হয়েছে যা এ পর্বটিকে অধিকতর সমৃদ্ধ করেছে।
পর্ব ২ : কন্যাসন্তান
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই কন্যাসন্তান সমাজে অবহেলিত। এ পর্বে বিভিন্ন যুগ ও সভ্যতায় কন্যাসন্তানের প্রতি পরিবার ও সমাজের অমানবিক আচরণ পর্যাপ্ত দলিলসহ তুলে ধরা হয়েছে। এবং পোস্ট এর মূল বিষয়, ইসলাম ধর্মে কন্যাসন্তানের মূল্যায়নকে কোরআন হাদিসের আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্ব ৩ : শিক্ষা
নারীবাদী ও তথাকথিত সেকুলার মুক্তমনা সুশীল চিন্তাবিদদের মতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী নারী সেকেলে, অজ্ঞ, শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া নাগরিক। অথচ ইসলামে শিক্ষা অর্জন করা প্রতিটি নারী পুরুষের কর্তব্য। এ পর্বে ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে।
পর্ব ৪ : বিবাহ
ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে নারীর জন্য নিরাপত্তা ও সম্মান। এ পর্বে কোরআন হাদিসের আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পর্ব ৫ : তালাক
তালাক শব্দটি সমাজে অসম্মানজনক হলেও ইসলামি শরীয়তে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এ পর্বে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় তালাকের বিভৎস চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রচলিত তালাক ও কোরআন সুন্নাহভিত্তিক তালাকের পার্থক্য সুস্পষ্ট করা হয়েছে এবং তালাকের বিধান যে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার এক অন্যতম হাতিয়ার তা এ পর্ব থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়।
পর্ব ৬ : মাতৃত্ব
মাতৃত্ব নারীর মূল বৈশিষ্ট্য যা একজন নারীকে বিভিন্ন ভাবে পুরুষ থেকে আলাদা করে। এ পর্বে মাতৃত্বের প্রতিটি স্তর, নারীজীবনে মাতৃত্বের প্রভাব, ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃত্ব, বিভিন্ন স্তরে করণীয় বর্জনীয় ও বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।
পর্ব ৭: সম্পদ
ইসলামি শরীয়ত সম্পর্কে যার জ্ঞান নেই কেবল সেই ব্যক্তিই বলতে পারে যে, ইসলাম নারীকে বঞ্চিত করেছে। অথচ ইসলাম নারীকে বিভিন্ন ভাবে সম্পদ লাভের ও সম্পদ অর্জনের অধিকার দিয়েছে। এ পর্বে কোরআন হাদিসের দলিল সহ তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমতে জটিল ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখা পর্বগুলো সমাপ্ত করতে পেরেছি। একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, অনেকেই মনে করতে পারেন এখানে ইসলামকে বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে রেখে পোস্ট করা হয়েছে ( আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুক) তা মোটেই নয় বরং শরীয়তের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করে বান্দা অধিক শোকরগুজার হবে এবং ঈমান আরো মজবুত হবে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো যুক্ত করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে উপসংহার ব্যতিত বাকি লেখাগুলো দলিল প্রমাণ ভিত্তিক, এখানে আমার কোন কৃতিত্ব নেই তবে যদি কোনরূপ ভুল তথ্য দিয়ে থাকি সেটার জন্য আমি দায়বদ্ধ। পাঠকের নিকট সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি যে, কোন প্রকার ভুল ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে তা যেন ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। এছাড়াও পোস্টটি যদি দ্বীনের জন্য কল্যানকর মনে হয় তাহলে তা ছড়িয়ে দিয়ে সকলের জন্য সাদাকায়ে জারিয়ার পথ উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ রইলো এবং সেই সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান নারী, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, যিনি আমার মমতাময়ী মা (আল্লাহ তার উপর রহম করুন) তার জন্য সকলের নিকট দোয়ার দরখাস্ত রইল, আল্লাহ যেন আমার মা জননীকে জান্নাতুল ফেরদৌসের ওয়ারিশ করেন।
( বি.দ্র : উল্লেখিত পর্বের বিষয়ে যদি কোন মন্তব্য থাকে সেটা সংশ্লিষ্ট পোস্টে করলে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার ধারা বজায় থাকে। মন্তব্য করার সময় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য সম্মানিত পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ধন্যবাদ! )
২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:১৮
আরোগ্য বলেছেন: ওয়া ইয়্যাকুম জাযা! অনেক ধন্যবাদ নকিব ভাই শুরু থেকেই আপনারা কয়েকজন পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আল্লাহ চাইলে হয়তো আবারও কোন নতুন বিষয় নিয়ে সিরিজ শুরু করবো, যেটা আমার জ্ঞানের দুয়ার আরো আলোকিত করবে ইনশাআল্লাহ। সেই সময়েও আপনাদের পাশে থাকা প্রত্যাশা করছি।
২|
২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ১২:২০
রাজীব নুর বলেছেন: মূলত ইসলাম নারীর সর্বনাশ করেছে।
২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২১
আরোগ্য বলেছেন: সব পর্বে প্রায় একই মন্তব্য। আপনার শব্দ ভান্ডারে ক্ষয় ধরেছে।
৩|
০১ লা নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:৪৭
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ''ইসলামে নারীর মর্যাদা'' সিরিজের সারকথা পোষ্ট আইডিয়াটা আমার পছন্দ হইছে।
আমাগো ইসলামোফোব আর 'অত্যাধুনিক' নামধারী চুশীল আবালরা ইসলাম লয়া পড়ালেখা না কইরাই কিছু তোতাপাখীর বুলি আওড়ানোরে তাগো সুমহান কর্তব্য মনে করে। এইসব আবাল গো ধারনা, সবকিছুর লেইগা দায়ী হইলো ইসলাম। ইসলামের কামই হইলো নারীগোরে চাইর দেওয়ালের মইদ্দে আটকাইয়া রাখা। এই ধারনার পিছে অবশ্য কিছু আলেম নামের ভুয়া ইসলামী বক্তাও দায়ী।
যাউকগ্যা, আপনের এই সিরিজ তাগো আন্ধার কাটাইতে কামে দিবো, যারা তাদের মনের আন্ধার কাটাইতে চায়। আর যারা চায় না, তাগো আরো ল্যাদানোর সুযোগ দিবো। আশাকরি, ভবিষ্যতে আপনে সবাইরে যার যার মনের আশা পূরণে আরো সহায়তা করবেন।
আইতে ইকটু দেরী হইলো, তয় এই পোষ্টের কথা সব সময়েই আমার মনে আছিলো। অল দ্য বেস্ট ফর ফিউচার সিরিজ। ![]()
০১ লা নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৯
আরোগ্য বলেছেন:
ব্যক্তিগত ভাবে আমি অহন সালাফি আকিদা পছন্দ করি আর তাগো তরিকাই আমার কাছে সহীহ মনে অহে। বাকিরা তো কয় খালি, "চিল্লায়া কন ঠিক না / কি ঠিক নাকি বেঠিক / বলেন না কেন ঠিক বললাম না ভুল "। হায়রে দুনিয়া নিজেই জানে না কোনটা ঠিক শ্রোতাগো থেইকা জানবার চায়। ওয়াজ করবার আহে নাকি ঠিক বেঠিক জানবার আহে?
চুশীল আর চুলকাটা নারীবাদীগো লয়া কি কমু। এরা আদামিদি আয়াত মুখস্ত কইরা টক শোতে টিকটক করে। তয় এগো দোষ কম কারণ এরা মানসিক বিকারগস্ত। দোষ তাগো বেশি যারা দ্বীন প্রচারের দায়িত্ব লয়া ব্যবসা শুরু করসে তয় বেশিদিন এই ব্যবসা আর টিকবো না ইনশাআল্লাহ।
নাহ্ অত জলদি কোন সিরিজ ধরুম না। কয়দিন আগে ২০ টা বই কিনসি সাড়ে তিনটা শেষ করসি, আর সিরাত শেষ না কইরা কোন গবেষণা পোস্টে হাত দিমু না। কয় বছর হইসে সিরাত পড়তে লইলেই শয়তান আমারে ডিসটার্ব করে। এইবার ইনশাআল্লাহ শেষ করুম যদি আল্লাহ বাঁচায়।

৪|
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৪৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বিবিধ ধরনের ব্যস্ততার কারণে ব্লগে বেশ কিছুদিন অনিয়মিত খাকায় এই মুল্যবান পোস্টটি দেখা হয়ে উঠেনি ।
ইসলামে নারীর মর্যাদা সে সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আপনার লেখালেখির বর্তমান প্রয়াসটি প্রসংসার দাবীদার ।
আমার মনে হয় ধর্ম ও বিজ্ঞানকে সমন্বয় করে ধারাবাহিক ভাবে লেখা শুরু করতে পারেন ।
কারণ বর্তমান যুগ নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের জয়যাত্রার যুগ। প্রযুক্তি, গবেষণা, আধুনিক চিকিৎসা,
মহাকাশ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আমাদের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। এই
বাস্তবতায় নতুন প্রজন্ম আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বিজ্ঞানমনস্ক, অনুসন্ধানী ও
প্রশ্নপ্রবণ।তাই সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের কাছে ইসলামকে সঠিকভাবে, যুক্তিনির্ভরভাবে
এবং সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা আজ সময়ের দাবি।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায় যে একদিকে আমাদের লেখালেখিতে এই দিকটি এখনো
জোড়ালো নয় । অন্য দিকে দেখা যায় যে, আমাদের মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রায়ই শুধু
ইসলামী শিক্ষা ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও তাঁরা ধর্মীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ,
বিজ্ঞানের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের
প্রস্তুতি অনেক সময় সীমিত থেকে যায়। ফলে তরুণ প্রজন্মের প্রশ্নের জবাবে যুক্তির ঘাটতি
দেখা যায়, আর এতে তাদের মনে ইসলামের প্রতি ভুল ধারণা তৈরির ঝুঁকি থাকে।
এ অবস্থায় প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা একদিকে ইসলামের গভীর ও বিশুদ্ধ জ্ঞানে সমৃদ্ধ,
অন্যদিকে বিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতি সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষায় সমৃদ্ধ। মসজিদের
ইমাম হোন বা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এই দায়িত্ব তাঁদেরই হাতে অর্পণ করা উচিত যারা
ইসলাম ও বিজ্ঞানে সমানভাবে দক্ষ, সমন্বিত দৃষ্টি সম্পন্ন এবং সময়োপযোগী যুক্তি দিয়ে
নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাতে সক্ষম।
আমার এই প্রস্তাবের পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো:
বিজ্ঞান ও ইসলাম পরস্পরের পরিপূরক, ইসলামের অসংখ্য আয়াতে চিন্তা, গবেষণা ও সৃষ্টির রহস্য
অন্বেষণের আহ্বান রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্ব ইসলামকে আরও শক্তিশালী যুক্তির ভিত্তিতে
উপস্থাপন করতে পারে।
নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন মুখর বাস্তবতায় দক্ষ উত্তরদাতা প্রয়োজন কেবল ধর্মীয় জ্ঞান দিয়ে আজকের
প্রজন্মের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। বিজ্ঞান দক্ষ আলেমরা সহজেই তাদের প্রশ্নকে
সম্মান দিয়ে সত্যনিষ্ঠ উত্তর দিতে সক্ষম হবেন।
মসজিদ মাদ্রাসাকে আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বানানো প্রয়োজন । যখন ইমাম বা প্রিন্সিপাল নিজেই
বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত হন, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক চিন্তা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার
মেলবন্ধনে এগিয়ে যাবে।
চরমপন্থা ও ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে তাঁরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন । বিজ্ঞানসম্মত ও
যুক্তিনির্ভর ইসলামী ব্যাখ্যা তরুণদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে। জ্ঞানসমৃদ্ধ নেতৃত্ব সমাজকে
অন্ধবিশ্বাস ও চরমপন্থা থেকে দূরে রাখে।
সমাজে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে । সমসাময়িক শিক্ষায় পারদর্শী ইমাম ও প্রিন্সিপালগন
দ্রুত সমাজের আস্থা অর্জন করতে পারেন। এতে মসজিদ মাদ্রাসার মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, বর্তমান সময়ের দাবি হতে পারে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল পদে এমনসব
ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, যারা ইসলামিক স্টাডিজের পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত।
এতে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নত হবে না, নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে বিজ্ঞানসম্মত ইসলাম সম্পর্কে
গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থা জন্মাবে। এর মধ্যেই ভবিষ্যৎ সমাজ ও উন্মুক্ত জ্ঞানভিত্তিক
ইসলামচর্চার ভিত্তি গড়ে উঠবে।
আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন আমার সাম্প্রতিক পোষ্টগুলিতে ধর্মবিশ্বাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক
কোরানের আয়াত এর সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন মুলক লেখালেখি শুরু করেছি । যদিউ কিছু
ব্লগার এতে বিরোক্তি প্রকাশ করেছেন বিবিধভাবে ।
শুভেচ্ছা রইল
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:৫৪
আরোগ্য বলেছেন: প্রথমত আপনাদের মত গুণী ব্লগারদের একটি লাইক পাওয়াও অনেক বড় অর্জন তার উপর এতো বড় গঠনমূলক মন্তব্য পাওয়া যেন সোনায় সোহাগা। একমাসেরও অধিক সময় পর পোস্টটি খুঁজে এমন সুন্দর অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্য করেছেন তার জন্য আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
আমার মনে হয় ধর্ম ও বিজ্ঞানকে সমন্বয় করে ধারাবাহিক ভাবে লেখা শুরু করতে পারেন ।
কারণ বর্তমান যুগ নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের জয়যাত্রার যুগ। তাই সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের কাছে ইসলামকে সঠিকভাবে, যুক্তিনির্ভরভাবে এবং সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা আজ সময়ের দাবি।
এ কাজটি খুবই কঠিন ও জটিল, সেই সাথে বেশ সময়সাপেক্ষ। এ সিরিজটি তৈরি করার জন্য আমার যে কি পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়েছে তা যে কোন পাঠক সামান্য চোখ বুলালেই সহজে অনুমান করতে পারবে। তার উপর এমন বিতর্কিত বিষয়ে লেখার জন্য এক প্রকার উৎকণ্ঠা ও ভীতি কাজ করতো, অনেক ঠিক বুঝে উঠতে পারতাম না কি দিয়ে শুরু করবো আর কিভাবেই শেষ করবো, আল্লাহর অশেষ রহমতে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য আমার অনুসন্ধানে চলে আসতো, আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমানে লিখার চেয়ে বই পড়ার প্রতি অধিক মনোনিবেশ করছি, ইনশাআল্লাহ কিছু অর্জন করতে পারলে আবার তা শেয়ার করার চেষ্টা করবো। নতুন প্রজন্মকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য ইসলামের বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা একটি হাতিয়ার হতে পারে তবে সবকিছু যদি বিজ্ঞানের মানদন্ডে দাড় করানো হয় তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল, কারণ ধর্ম আবেগের বিষয় আর বিজ্ঞান যুক্তি দ্বারা চলে কিন্তু ধর্মকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করতে গেলে তা ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে যায় যেটা ইসলামের পরিপন্থী।
আমার এই প্রস্তাবের পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো:
বিজ্ঞান ও ইসলাম পরস্পরের পরিপূরক, ইসলামের অসংখ্য আয়াতে চিন্তা, গবেষণা ও সৃষ্টির রহস্য অন্বেষণের আহ্বান রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্ব ইসলামকে আরও শক্তিশালী যুক্তির ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে পারে। বিজ্ঞানকে ইসলামের পরিপূরক না বলে হয়তো ইসলামের কতিপয় আয়াতের ব্যাখ্যা বুঝার সহায়ক বলা যেতে পারে। যদিও কোরআনে বলা হয়েছে মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য " শুনলাম এবং মানলাম" সেটা বুঝে আসুক আর না আসুক, যেমনটা সালফে সালেহীনের বৈশিষ্ট্য ছিল।
মসজিদ মাদ্রাসাকে আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বানানো প্রয়োজন । যখন ইমাম বা প্রিন্সিপাল নিজেই বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত হন, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক চিন্তা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মেলবন্ধনে এগিয়ে যাবে।
বড়ই আক্ষেপের বিষয় আমাদের মসজিদ মাদ্রাসার অধিকাংশ আলেমগণ কেবল মুখস্ত বুলি আওড়ায়। কোন কিছু গলাধঃকরণ করা আর ঠিকমত চিবিয়ে হজম করা বিস্তর তফাত। এদের কাছে বেশি কিছু আশা করাও মনে হয় ভুল হবে।
চরমপন্থা ও ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে তাঁরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন । বিজ্ঞানসম্মত ও যুক্তিনির্ভর ইসলামী ব্যাখ্যা তরুণদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে। জ্ঞানসমৃদ্ধ নেতৃত্ব সমাজকে অন্ধবিশ্বাস ও চরমপন্থা থেকে দূরে রাখে।
তিক হলেও সত্যি মাজহাবি বক্তারা কেবল আমলের বয়ান করে, যে পর্যন্ত আকিদা বিশুদ্ধ না হবে সে পর্যন্ত কোন ব্যাখ্যাই ফলপ্রসূ হবে না।
সুতরাং, বর্তমান সময়ের দাবি হতে পারে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল পদে এমনসব ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, যারা ইসলামিক স্টাডিজের পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত। এতে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নত হবে না, নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে বিজ্ঞানসম্মত ইসলাম সম্পর্কে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থা জন্মাবে। এর মধ্যেই ভবিষ্যৎ সমাজ ও উন্মুক্ত জ্ঞানভিত্তিক ইসলামচর্চার ভিত্তি গড়ে উঠবে।
আমি আলেম সমাজের ব্যাপারে হতাশ, আপনার এই পরামর্শ আমাদের সমাজের ধর্মভীরু লোকজন মেনে নিবে বলে আমি সন্দিহান। সুরের ওয়াজ মাহফিল আর লেবাসধারী আমলে তারা অভ্যস্ত। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এক নতুন প্রজন্ম বের হবে যারা দ্বীনের কল্যাণে আপোষহীন পরিশ্রম করবে।
আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন আমার সাম্প্রতিক পোষ্টগুলিতে ধর্মবিশ্বাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক কোরানের আয়াত এর সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন মুলক লেখালেখি শুরু করেছি । যদিউ কিছু ব্লগার এতে বিরোক্তি প্রকাশ করেছেন বিবিধভাবে । ধর্মীয় পোস্ট লিখলে ব্লগে অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়, আপনি চেষ্টা চালিয়ে যান, আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমি আপনার কয়েকটি পোস্ট মার্ক করে রেখেছি ইনশাআল্লাহ সময় করে শেষ করবো।
প্রতিউত্তরে যদি কোন ভুল করে থাকি তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য বিশেষ করে অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে অক্টোবর, ২০২৫ বিকাল ৩:২৮
নতুন নকিব বলেছেন:
জাজাকুমুল্লাহু খাইরান। আপনার প্রচেষ্টা আল্লাহ তাআ'লা দ্বীনের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে কবুল করে নিন।