নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিষাদ

আমি জানি আমি জানি না

ব্যতীপাত

স্থপতি

ব্যতীপাত › বিস্তারিত পোস্টঃ

কুরবানী অবশ্য পালনীয় কিনা তা নির্দিষ্ট নয় ।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৩৫

আগামি ২৭ অক্টোবর থেকে তিনদিন সারা দেশ রক্তে ভাসবে – পশুর রক্তে।

অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে ,প্রকাশ্যে তাদের হত্যা করা হবে । শিশু মনে এর প্রভাব পড়ে- পরিবেশ নষ্ট করে ।

ঢাকা শহর সবটাই হবে একটা রক্তাক্ত কসাই খানা ।



পশ্চিমে বেশীর ভাগ দেশে প্রকাশ্যে পশু হত্যা নিষিদ্ধ । ডাচ সরকার এইভাবে প্রকাশ্যে পশু নিধন আইন করে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। মুসলমানরা হয়তো প্রতিবাদ করবে ,কেননা এইটি তাদের উপাসনারও অঙ্গ । কিন্তু্ প্রকাশ্য এই ভাবে জবাই করা মধ্য প্রাচ্যেও অনেক দেশে নিষিদ্ধ ।



দেবতাদের উদ্দেশ্য এক সময় নরবলি দেয়া হত, কোরবানি সেই প্রাচীন প্রথারই নবতর প্রকাশ সন্দেহ নাই । মানুষের বদলে পশু ।



ইসলামে প্রাথমিক কালেও কিন্তু এভাবে ঘরে ঘরে কোরবানী হত না । নিয়ত করা হজ্ব কোন কারনে যেতে না পারলে পশু কুরবানী বা ফিদাইয়া দিতে হত ।



তবে কেবল তো ধর্ম পালনই নয় । পরিবেশ, সময় ,সমাজ সব কিছু মেনে ধর্ম পালনেরও ধরন পালটায় ।

বৃটিশ আমলেই স্যার সৈয়দ আহমদ আলীগড় ক্যাম্পাসে ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি নিষিদ্ধ করেছিলেন ।



‘আমরা জানি মালয়েশিয়ানরা জীবনে একবার হজ্জ করেন এবং একবারই সামাজিক যৌথ অনুষ্ঠানে পশু জবাইতে অংশগ্রহণ করেন।



অপরদিকে ব্রুনাইর বাদশাহ ঐ বিশেষ দিনে সকলের পক্ষ থেকে

একটি পশু জবাই দিয়ে থাকেন।



আরজ আলী মাতব্বর জানাচ্ছেন-

.কোরবানি যাতে আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতো পশু নিধন অনুষ্ঠানের মহোৎসবে পরিণত

না হয় এমন আশঙ্কা থেকেই সম্ভবতঃ হযরত আবু বকর হযরত ওমর বা হযরত ইবনে আব্বাস এর মতো সাহাবীগণ কখনো পশু কোরবানি দিতেন না।

(দ্রষ্টব্য : ইমাম সাফি, কিতাব-উল-ঊম্মা, ভল্যুম-২, পৃষ্ঠা ১৭৯।



আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ ও পুরো বনী হাসেম গোত্রের পক্ষ থেকে একটি পশু কোরবানি দিতেন।




(দ্রষ্টব্য : নাহেল আল-আউতার, ভল্যুম-৫, পৃষ্ঠা ১৭৭)।”

বেনজীন খান সম্পাদিত-

পশু কোরবানি : একটি বিকল্প প্রস্তাব (সংস্কার আন্দোলন, ১ম সংস্করণ, প্রকাশ ২০০৫)।



বিশিষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ ‘সা’দ উল্লাহ বলেন-

…..’প্রথা অনুযায়ী হজ্ব পালনের পর পরই পশু কুরবাণী করা হয় । সুরা ইমরানের ৯৬ আয়াতে বলা হয়েছে হজ্ব পালন অবশ্য কর্তব্য- খরচ করার সামর্থ থাকলে । কিন্ত এই আয়াতে কোথাও পশু কোরবাণীর কথা নাই ।

পরবর্তী সুরা বাকারার ১৯৬ আয়াতে বলা হয়েছে-‘আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব ও ওমরা পালন কর । যদি তোমরা বাঁধাপ্রাপ্ত হও, তবে কোরবানীর জন্য যা কিছু তোমার জন্য সহজ লভ্য ,তাই তোমাদের উপর ধার্য্য।’ এখানে কোরবানীর কথা বলা হচ্ছে একটি শর্তে-যদি তোমরা বাঁধাপ্রাপ্ত হও । অর্থাৎ হজ্ব করার ইচ্ছে করে কোন কারণে বাঁধা প্রাপ্ত হলে পশু কোরবানী আদেশ হয়েছে । আয়াতটি নাজেল হয় হোদায়বিয়া সন্ধির সময়ে অর্থাৎ ৬২৮ খৃষ্টাব্দে ,হিজরী ৬ষ্ট বছরে ।

কিন্তু সুরা ইমরানের হজ্বের আয়াতটি নাজেল হয় তারও তিন বছর আগে-৬২৫ খৃঃ,হিজরী ৩য় বছরে –ওহুদ যুদ্ধের সময়ে। সুতরাং কোরবানীর আয়াত ২:১৯৬ নাজেল হয় হজ্বের আয়াতের ৩:৯৬ অনেক পরে প্রায় তিন বছর পর।

ইতিহাস হল-হোদায়বিয়া সন্ধির সময় মুহা্ম্মদ ও সাহাবিরা ওমরা করার লক্ষে ইহরাম অবস্থায় ছিলেন । কিন্তু মক্কার লোকেরা বাঁধা দেয়ায় ওমরা সম্পন্ন হয়নি, কারণ তাদের মক্কায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তখন আদেশ হলো ,ইহরামের ফেদাইয়া স্বরূপ একটি করে কোরবাণী কর এবং ইহরাম ভেঙ্গে ফেল ।

এই অবস্থায় বাঁধাপ্রাপ্ত শব্দের অর্থ হচ্ছে রাস্তায় কোন শত্রু কর্তৃক বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা প্রাণ নাশের আশংকা থাকা ।ইমাম আবু হানিফা এবং আরও কোন কোন ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়াকেও বাঁধাগ্রস্তের আওতায় এনেছেন । সুরা ২:১৯৬ তে বলা হয়েছে কেউ পীড়িত হলে কিংবা মাথায় কোন ক্লেশ থাকলে সে সিয়াম বা সদকা খয়রাত বা কোরবানী দ্বারা ফিদাইয়া দিবে । ব্যখ্যায় বলা হয়েছে রোগব্যধি বা অন্য

কোন কারণে পথিমধ্যে আটকে গেলে সঙ্গের পশু সেখানেই জবাই করে ইহরাম খুলে ফেল । তফসিরে মাজেদি ,ইফাবা ।



উপরোক্ত কোরানিক নির্দেশ ও ব্যখ্যায় দেখা যাচ্ছে-

মুসলমানদের জন্য হজ্ব অবশ্য পালনীয় যদি আর্থিক সামর্থ থাকে । এবং হজ্ব পালনের জন্য ইহরাম বাধা অবস্থায় বাঁধাপ্রাপ্ত হলে পশু কোরবানী ফিদাইয়া দিয়ে ইহরাম ভেঙ্গে ফেলতে হবে। কিন্তু -যারা হজ্বযাত্রী নয়, হজ্বের ইচ্ছাও করেনি, নিজের দেশ বা গ্রামে অবস্থান করছে- তাদের জন্য কোরবানী করা ,পশু হত্যা

করে ভোজন উৎসবে মেতে উঠা ফরজ কিনা ,এ নিয়ে কোন নির্দেশ পাওয়া যাচ্ছে না ।
বরং কোরানেই বলা হচ্ছে –জবাই করা পশুদের গোস্ত বা রক্ত আল্লাহর সমীপে পৌঁছায় না । পৌঁছায় তাকওয়া ,অন্তরের সংযম ও সদভাবগুলো । - জনকন্ঠ ,ঈদুল আযহা বিশেষ সংখ্যা ২০০১



এই বিষয়ে কথা বার্তা ইসলামে বহুকাল ধরেই হচ্ছে । বাংলা ১৩২৭ সালে সবুজপত্রে তরীকুল আলম বলে এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এর নিবন্ধে কোরবানীকে ‘বর্বর যুগের হত্যারীতির চিহ্ন বই আর কিছু নয়’ বলে অভিহিত করেন । তিনি আরও বলেন, –আল্লাহ দয়াময়, তিনি এই হত্যায় খুশী হতে পারেন না । এই প্রবন্ধ পড়ে নজরুলও লেখেন-ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ, শক্তির উদ্বোধন ।

আরও লেখেন ,পশু হত্যা নয় মনের পশুত্বকে কোরবানী দেয়াই আসল এবাদত-

‘মনের মাঝে পশু যে তোর

আজকে তোর কর জবেহ্ ।।

পুলসেরাতের পুল হতে পার

নিয়ে রাখ আগাম রশীদ।’

কিংবা-

“দিও নাকো পশু কোরবানি, বিফল হবেরে সবখানি ,

মনের পশুরে করো জবাই, পশুরাও বাঁচে ,বাঁচে সবাই” ।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:০০

আহমদ জসিম বলেছেন: সাধারণ লেখা, ফেইসবুকে শেয়ার করলাম।

২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:০৩

আহমদ জসিম বলেছেন: অসাধারণ লেখা, ফেইসবুকে শেয়ার করলাম।





পথম মন্তব্যটি অসাবধানবসত ভুল হয়ে গেছে, দয়া করে মুচে দিন।

৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:০৩

নূরুল হুদা (শান্ত) বলেছেন: কি আবাল।

৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:২৪

ঝুকিনাই বলেছেন: অসাধারন পোষ্ট। তবে, অনেকের ঈমানী গালি হজম করতে হবে মনে হয়। এক শান্ত বালক ইতিমধ্যে জিহাদী হয়ে উঠেছে।

৫| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:৪৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মৌলিক বিধান ছেড়ে আজ নয় বহু বহুদিন ধরেই প্রথার দাস হয়ে আছিরে ভাই!

একি একদিনে ভাংবে।

কালকে একজনকে তর্কে বলেছিলাম- সত্যিই কোরবানী করতে চান?
বলে হ্যাঁ।
তো আসেন - আপনার ৩-৪ টি ফ্লাটের একটি ফ্লাট কোরবান করেন, স্বত্ত্ব ত্যাগ করে লিখে দেন, দান করে দেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানব সেবায়!!!
একদম - লা জওয়াব হয়ে চেয়ে রইলেন।
কিছু বললেন না।

নিজের প্রিয় জিনিষটি কোরবানী কর। ত্যাগ কর। যার জন্য তুমি আকাঙ্খি তাকে ত্যাগ কর;

বনের পশুর জন্য তোমার কি কোন আকাঙ্থা ছিল?
তুমি কি তোমার চেয়ে তাকে অধিক ভালবাস?
বরং তুমি তোমার মোবাইল সেটটাকে বেশী ভালবাস!!
কোন ভাবে ভাংগার উপক্রম হলে, পড়তে গেলে নিজে জান্রপাণ দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা কর।
তো এইবারে আসুন- মোবাইল কোরবানী করি। দান করে দেই প্রিয় সেটটিকে মানুষের কল্যানে।
সেই পথশিশুটির জন্য যে সারা বছর ভাল খেতে পায় না! পরতে পারে না। পড়তে পারে না।

আছেন ভাইরা এইরকম সবচে প্রিয়ে জিনিস কোরবানী করে মুসলমান হতে চান!!!

৬| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:৫৮

ঢাকাবাসী বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন, তবে এই যুগে হালে পানি পাবেন কিনা বা বিদ্রোহী ভৃগুর আইডিয়া বিক্রি হবে কিনা জানিনা, শান্তরা তো অশান্ত হয়ে উঠছেন। দীর্ঘায়ু হোন।

৭| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৮

মেংগো পিপোল বলেছেন: View this link

৮| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৪

কামরুল ইসলাম রুবেল বলেছেন: বুঝছি তর চুল্কানি উঠছে। যাহ গিয়া রাজা মলম ডইলা ডইলা লাগা।

৯| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:২৯

আহমদ জসিম বলেছেন: কোরবান আসলেই রেফ্রিজারেটর এর দাম ও বিক্রি চাহিদা বেড়ে যায়! কেন বলুনতো?

১০| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫০

ব্যতীপাত বলেছেন: ইসলামের উৎসবগুলোই সব খাবার দাবারের ।দেখেন না আমরা বলি রোজা মনে উপবাস-গরীবীর অভ্যাস কৃচ্ছসাধন-কিন্তু আসলে দেখা যায় রোজায় আমরা খাই বেশী ।তাই জিনিষপত্রেরও দাম বাড়ে ।
কুরবানীও তাই ।বাইরে যাই বলা হোক -আল্লাহর নামে উৎসর্গ ইত্যাদি- আসলে তো উদাপূর্তি। ফ্রীজ এর দামও দাম সে কারণেই বাড়ে--

১১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১০

মৃধা জুয়েল বলেছেন: যাহা নিজের বিষয় নয়, তাহা নিয়ে নাক গলানো ঠিক নয়। আপনাদের মত লোকদের কাছ থেকে শিখে কি মুসলমান কুরবানি করবে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.