| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর গভর্নর-জেনারেল পদ গ্রহণ
পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার প্রাতিষ্ঠানিক শিকড়
একটি সমালোচনামূলক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ
সাইদ নাঈম
২৬ জুন ২০২৬
এক: ভূমিকা
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। ভারতের জাতীয় কংগ্রেস জওহরলাল নেহরুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করে এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে আনুষ্ঠানিক গভর্নর-জেনারেল পদে বহাল রেখেছিল, জিন্নাহ ঠিক বিপরীত পথ বেছে নিলেন — তিনি নিজেই গভর্নর-জেনারেল পদ দখল করলেন এবং লিয়াকত আলী খানকে প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসালেন।
এই একটি সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের সমগ্র রাজনৈতিক-সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এই প্রবন্ধে ঐতিহাসিক সাক্ষ্য, প্রাথমিক দলিল, তুলনামূলক সাংবিধানিক বিশ্লেষণ এবং আধুনিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানের তত্ত্বীয় কাঠামোর আলোকে — Huntington, North, Pierson, Levitsky ও Jalal-এর আলোচনার আলোকে এই বিষয়ের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
দুই: সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট — ১৯৩৫ সালের আইনের উত্তরাধিকার ও ১৯৪৭ সালের সাংবিধানিক স্বাধীনতা
বিভাজনের মুহূর্তে পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই Government of India Act, 1935-কে অন্তর্বর্তীকালীন সাংবিধানিক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করে। তবে এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল এটি একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান নয়; বরং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য নির্মিত একটি প্রশাসনিক আইন। এর মাধ্যমে গভর্নর-জেনারেলকে বিস্তৃত executive authority, discretionary powers, special responsibilities, ordinance-making power, financial control এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। এই ক্ষমতাগুলো কোনো একক ধারায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আইনের বিভিন্ন অংশে/ধারায় বিস্তৃত ছিল।
Government of India Act, 1935; Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (Oxford University Press, 2001), pp. 20–30 — গভর্নর-জেনারেলের নির্বাহী, বিচক্ষণাধীন ও বিশেষ ক্ষমতার সাংবিধানিক কাঠামোর বিশ্লেষণ।
প্রাদেশিক পর্যায়েও একই ধরনের ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। Government of India Act, 1935-এর Section 93 গভর্নরকে এই ক্ষমতা দেয় যে, কোনো প্রদেশে সাংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়েছে বলে মনে করলে তিনি নির্বাচিত মন্ত্রিসভাকে অপসারণ করে নিজ দায়িত্বে শাসনভার গ্রহণ করতে পারবেন। স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানের অভিযোজিত শাসন কাঠামোয় এই ধরনের বিধান বহাল থাকে এবং পরবর্তীকালে Section 92A-এর অধীনে একই নীতির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার বরখাস্ত করে।
Government of India Act, 1935, Section 93; Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan; G.W. Choudhury, Constitutional Development in Pakistan.
১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্ন
Indian Independence Act, 1947-এর ৮ ও ৯ ধারা উভয় ডোমিনিয়নকে ১৯৩৫ সালের আইন সংশোধন, অভিযোজন অথবা সম্পূর্ণ নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রণয়নের পূর্ণ আইনি স্বাধীনতা প্রদান করে। ভারত দ্রুত এই সুযোগ ব্যবহার করে একটি সার্বভৌম গণপরিষদের মাধ্যমে ১৯৫০ সালে নতুন সংবিধান কার্যকর করে। পাকিস্তানও একই আইনি স্বাধীনতা লাভ করা স্বত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে ঔপনিবেশিক নির্বাহী কাঠামো বহাল রাখে। ফলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক সংকটকে কেবল আইনি সীমাবদ্ধতার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না; এটি ছিল রাষ্ট্রগঠনের একটি সচেতন, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত।
Indian Independence Act, 1947, Sections 8–9; Khalid Bin Sayeed, Pakistan: The Formative Phase, 1857–1948 (Oxford University Press, 1968), pp. 223–225.
সাংবিধানিক রীতি (Constitutional Convention)-এর গুরুত্ব
একই Government of India Act, 1935 এবং Indian Independence Act, 1947-এর অধীনে যাত্রা শুরু করলেও ভারত ও পাকিস্তানের সাংবিধানিক বিকাশ ভিন্ন হয় মূলত constitutional conventions বা সাংবিধানিক রীতির পার্থক্যের কারণে। ভারতের ক্ষেত্রে গভর্নর-জেনারেল এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি সংসদীয় রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই কার্য পরিচালনা করেন, যদিও লিখিত আইনে কিছু আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা সংরক্ষিত ছিল। পাকিস্তানে একই আইনি কাঠামোর discretionary provisions-কে কার্যকর রাজনৈতিক ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য কেবল আইনের ভাষায় নয়; বরং সেই আইন কীভাবে রাজনৈতিক রীতির মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতেও নিহিত ছিল।
A.V. Dicey, Introduction to the Study of the Law of the Constitution; Walter Bagehot, The English Constitution.
Constitution বনাম Constitutional Practice
পাকিস্তানের সাংবিধানিক সংকট কেবল লিখিত সংবিধানের অভাব থেকে সৃষ্টি হয়নি; বরং সাংবিধানিক রীতি (constitutional conventions) প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা থেকেও উদ্ভূত হয়েছে। Westminster ব্যবস্থায় বহু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অলিখিত হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বোঝাপাড়ার মাধ্যমে কার্যকর থাকে। পাকিস্তানে লিখিত আইনের discretionary provisions-কে constitutional convention দ্বারা সীমাবদ্ধ না করায় নির্বাহী ক্ষমতা ক্রমশ বিস্তৃত হয়।
A.V. Dicey, Introduction to the Study of the Law of the Constitution (8th ed., 1915); Walter Bagehot, The English Constitution (1867); Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (Oxford University Press, 2001), pp. 20–35; Granville Austin, The Indian Constitution: Cornerstone of a Nation (Oxford University Press, 1966).
তিন: জিন্নাহর প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত — বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ
৩.১ ১১ আগস্টের ঘোষণা ও সাংবিধানিক বৈপরীত্য
১১ আগস্ট ১৯৪৭ তারিখে পাকিস্তানের গণপরিষদে উদ্বোধনী ভাষণে জিন্নাহ নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে গণপরিষদ হবে "sovereign legislative body"। কিন্তু বাস্তবে তিনি এমন একটি শাসন কাঠামো গ্রহণ করলেন যেখানে গভর্নর-জেনারেলের পদে সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষিত ছিল। তাঁর ঘোষিত নীতি ও বাস্তব শাসন ব্যবস্থার অবস্থানের এই দ্বৈততা পাকিস্তান রাষ্ট্রগঠনের প্রথম মৌলিক সাংবিধানিক বৈপরীত্য।
Muhammad Ali Jinnah, Presidential Address to the Pakistan Constituent Assembly, 11 August 1947, Pakistan Constituent Assembly Debates, Vol. I (Government of Pakistan, 1947).
৩.২ মাউন্টব্যাটেন-জিন্নাহ পত্রালাপ
লর্ড মাউন্টব্যাটেন চেয়েছিলেন দুটি নতুন ডোমিনিয়নের জন্য একজন যৌথ গভর্নর-জেনারেল হিসেবে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করতে। জিন্নাহ এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং নিজেই পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রত্যাখ্যানটি প্রমাণ করে যে গভর্নর-জেনারেল পদটি জিন্নাহর কাছে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না — এটি ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সচেতন কৌশল।
Stanley Wolpert, Jinnah of Pakistan (Oxford University Press, 1984), Chapter 18 — মাউন্টব্যাটেন-জিন্নাহ সংলাপের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে Wolpert দেখিয়েছেন যে জিন্নাহ যৌথ গভর্নর-জেনারেলের ধারণাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছিলেন — কিন্তু তাঁর আসল উদ্বেগ ছিল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ।
৩.৩ গণপরিষদের উপর জিন্নাহর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব
পাকিস্তানের গণপরিষদের সভাপতি হিসেবে জিন্নাহ সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। যদিও সংবিধান প্রণয়নের জন্য পরবর্তীকালে বিভিন্ন কমিটি গঠিত হয়, রাষ্ট্রের প্রাথমিক পর্যায়ে গণপরিষদের কার্যক্রমে তাঁর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের ধারা আরও সুদৃঢ় হয়।
Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan, Stanley Wolpert, Jinnah of Pakistan, Ayesha Jalal, The Sole Spokesman.
Constituent Assembly-এর গণতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা
পাকিস্তানের গণপরিষদ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের (universal adult franchise) ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়নি। এর অধিকাংশ সদস্য ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে গণপরিষদের প্রতিনিধিত্বমূলক বৈধতা (representative legitimacy) শুরু থেকেই সীমিত ছিল। এই সীমাবদ্ধতা পরবর্তীকালে গভর্নর-জেনারেলের পক্ষে সংসদের কর্তৃত্ব খর্ব করা আরও সহজ করে তোলে।
Ian Talbot, Pakistan: A Modern History.
৩.৪ উত্তরাধিকার কাঠামোর অনুপস্থিতি — একটি মৌলিক ব্যর্থতা
জিন্নাহ তাঁর জীবদ্দশায় কোনো সাংবিধানিক উত্তরাধিকার কাঠামো (leadership succession mechanism) তৈরি করেননি। তাঁর ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের বিকল্প হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব গড়ে না ওঠায় তাঁর মৃত্যুর পর (সেপ্টেম্বর ১৯৪৮) রাষ্ট্র দ্রুত আমলাতন্ত্র ও গভর্নর-জেনারেলের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। প্রকৃত গণতান্ত্রিক নেতারা প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী করেন — জিন্নাহ ঠিক তার বিপরীত করেছিলেন। এই ব্যর্থতাই পরবর্তী সকল রাজনৈতিক সংকটের শিকড়।
Stanley Wolpert, Jinnah of Pakistan (1984); Khalid Bin Sayeed, Pakistan: The Formative Phase (1968) — উভয় জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতার বিশ্লেষণ করেছেন।
৩.৫ মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের সংকোচন
জিন্নাহ মুসলিম লীগের অভ্যন্তরে দলীয় শৃঙ্খলার নামে প্রতিদ্বন্দ্বী ও স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে তিনি এ. কে. ফজলুল হককে মুসলিম লীগ থেকে বহিষ্কার করেন এবং একই সময়ে খাজা হাবিবুল্লাহকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িকভাবে স্থগিত (suspend) করা হয়। অন্যদিকে, ১৯৪৭ সালে যুক্তবঙ্গ (United Bengal) পরিকল্পনার প্রশ্নে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত না করলেও জিন্নাহ তার নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে রাখেন। এর ফলে মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ বহুমত, নেতৃত্বের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয়; দলটি ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বনির্ভর সংগঠনে রূপান্তরিত হয়।
Muhammad Ali Jinnah, Speeches, Statements and Messages of the Quaid-i-Azam, Vol. XVII, 11 December 1941 (expulsion order against A. K. Fazlul Huq), Ian Talbot, Pakistan: A Modern History, pp. 78–80, Ayesha Jalal, The Sole Spokesman, Chapter 8, Abul Hashim, In Retrospection, United Bengal chapters, Vicky Randall & Lars Svåsand, "Party Institutionalization in New and Older Democracies" (2002)
৩.৬ Cabinet Responsibility-র পতন — Westminster মডেলের মূল নীতি
সংসদীয় ব্যবস্থার মূল নীতি হলো collective cabinet responsibility — মন্ত্রিসভা সংযুক্তভাবে সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সংসদীয় আস্থা হারালে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। Walter Bagehot তাঁর The English Constitution (1867) গ্রন্থে এই নীতিটিকে Westminster সংসদীয় ব্যবস্থার "efficient secret" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানে মন্ত্রিসভা বাস্তবে গভর্নর-জেনারেলের নিকট জবাবদিহি করত, সংসদের নিকট নয়। ফলে Westminster model-এর মৌলিক ভিত্তিই প্রথম দিন থেকে কার্যকরভাবে ভেঙে পড়েছিল।
Walter Bagehot, The English Constitution (1867; reprint Chapman & Hall, 1878) — "The efficient secret of the English constitution may be described as the close union, the nearly complete fusion, of the executive and legislative powers."; Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan, pp. 20–35.
চার: ক্ষমতার ত্রিমুখী কেন্দ্রীভবন
জিন্নাহর সবচেয়ে বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত ছিল তিনটি পদ একই সঙ্গে ধারণ করা — গভর্নর-জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লীগের সভাপতি। ক্ষমতার বিভাজন (separation of powers)-এর নীতি এতে কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে।
পদ প্রকৃতি গণতান্ত্রিক বিপদ
গভর্নর-জেনারেল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ Government of India Act, 1935-এর অধীনে গভর্নর-জেনারেলের বিচক্ষণাধীন ও বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বাইরে একক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা।
গণপরিষদ সভাপতি আইনসভার সর্বোচ্চ পদ আইনসভাকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনার সুযোগ ও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
মুসলিম লীগ সভাপতি একমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রধান দলীয় রাজনীতিতেও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক নজরদারির অভাব; Founder's Syndrome-এর শুরু।
Khalid Bin Sayeed, Pakistan: The Formative Phase (1968), pp. 223–225 — প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান কার্যত ছিলেন জিন্নাহর "Chief Executive Officer"।
পাঁচ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ — ওয়েস্টমিনস্টার মডেল, ফেডারেলিজম ও Huntington-এর Institutionalization
৫.১ সাংবিধানিক তুলনা — ভারত বনাম পাকিস্তান
একই ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে উঠে আসা দুটি দেশ সম্পূর্ণ বিপরীত পথ বেছে নিয়েছিল:
মাপকাঠি ভারত পাকিস্তান
নির্বাহী প্রধান প্রধানমন্ত্রী (সত্যিকারের ক্ষমতা) গভর্নর-জেনারেল (সত্যিকারের ক্ষমতা)
রাষ্ট্রপ্রধান আনুষ্ঠানিক, ক্ষমতাহীন সর্বশক্তিমান গভর্নর-জেনারেল
সংবিধান প্রণয়ন ১৯৫০ (২.৫ বছরে) ১৯৫৬ (৯ বছরে)
Cabinet Responsibility সংসদের কাছে (Bagehot মডেল) গভর্নর-জেনারেলের কাছে (Westminster model-এর অপূর্ণ বা বিকৃত প্রয়োগ)
আইনসভার মর্যাদা সার্বভৌম, কার্যকর দুর্বল, বারবার ভঙ্গ বা বিলুপ্ত
ফেডারেলিজম শক্তিশালী, সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত অত্যন্ত দুর্বল, কেন্দ্রীভূত (লাহোর প্রস্তাবের বিপরীত)
সামরিক ভূমিকা বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে আমলা-সামরিক জোট → সামরিক শাসন
প্রথম সামরিক শাসন অনুপস্থিত ১৯৫৮ (মাত্র ১১ বছর পর)
Granville Austin, The Indian Constitution: Cornerstone of a Nation (1966); Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (2001); Ian Talbot, Pakistan: A Modern History (1998).
৫.২ লাহোর প্রস্তাব থেকে কেন্দ্রীভবনের পথ — ফেডারেলিজমের বিসর্জন
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে (Lahore Resolution) "independent states" (বহুবচন)-এর কথা বলা হয়েছিল — যা স্পষ্টভাবে একটি ফেডারেল বা একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে এই বহুবচনকে একবচন "state"-এ পরিণত করা হয় — যা কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রের দিকে যাত্রার সূচনা। পরবর্তীতে স্বাধীন পাকিস্তানে জিন্নাহ সেই কেন্দ্রীভূত কাঠামোকে গভর্নর-জেনারেলের ক্ষমতার মাধ্যমে সম্পূর্ণতা দেন। এটি ছিল লাহোর প্রস্তাবের মূল আদর্শের সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
Abul Hashim, In Retrospection (Dhaka University Press, 1974); Harun-or-Rashid, The Foreshadowing of Bangladesh (The University Press Limited, 1987) — লাহোর প্রস্তাবের "states" থেকে দিল্লি কনভেনশনের "state"-এ রূপান্তরের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ।
৫.৩ Samuel Huntington-এর Institutionalization তত্ত্ব ও পাকিস্তান
Samuel P. Huntington তাঁর Political Order in Changing Societies (Yale University Press, 1968) গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছেন যে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর "institutionalization"-এর মাত্রার উপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে চারটি মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করা হয়: অভিযোজনযোগ্যতা (adaptability), সংহতি (coherence), জটিলতা (complexity), এবং স্বায়ত্তশাসন (autonomy)।
ভারতীয় কংগ্রেস দল হিসেবে এবং সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই চারটি মাপকাঠিতে উচ্চ মানের ছিল — তাই ভারতীয় গণতন্ত্র দীর্ঘমেয়াদে টিকে আছে। পাকিস্তানে মুসলিম লীগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল Huntington-এর চার মাপকাঠিতে দুর্বল — তাই সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
Samuel P. Huntington, Political Order in Changing Societies (Yale University Press, 1968) — Huntington-এর "Institutionalization" তত্ত্ব পাকিস্তানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
ছয়: সংসদীয় সার্বভৌমত্বের অবক্ষয় — কালানুক্রমিক বিশ্লেষণ
৬.১ গণপরিষদের গণতান্ত্রিক ঘাটতি
পাকিস্তানের গণপরিষদ (Constituent Assembly) সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভিত্তিতে গঠিত হয়নি। ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে বিজয়ী মুসলিম লীগ সদস্যরাই মূলত এই পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন — অর্থাৎ তারা পাকিস্তানের নাগরিকদের কাছে নয়, বরং ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক নির্বাচনকক্ষের কাছে জবাবদিহিযোগ্য ছিলেন। এই "democratic deficit" প্রথম থেকেই গণপরিষদের বৈধতার একটি দুর্বলতা তৈরি করেছিল যা পরবর্তীতে গভর্নর-জেনারেল নিজের সুবিধায় ব্যবহার করেছিলেন।
Ian Talbot, Pakistan: A Modern History (Hurst & Company, 1998) — পাকিস্তানের গণপরিষদের গঠন প্রক্রিয়া ও তার সীমাবদ্ধতার বিশ্লেষণ।
৬.২ ১৯৪৮ — ভাষা প্রশ্ন ও বাঙালি প্রতিনিধিত্বের বৈষম্য
একতরফা নীতি নির্ধারণ: ঢাকায় জিন্নাহর উর্দু-ঘোষণা পাকিস্তানের বহুজাতিক চরিত্রকে উপেক্ষা করে গভর্নর-জেনারেলের ব্যক্তিগত মত রাষ্ট্রনীতিতে পরিণত করার প্রথম দৃষ্টান্ত। Ian Talbot তাঁর Pakistan: A Modern History (Hurst & Company, 1998)-এ উল্লেখ করেছেন যে এই ঘোষণাটি পাকিস্তানকে একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছিল।
বাঙালি প্রতিনিধিত্বের বহুমাত্রিক বৈষম্য: পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশেরও বেশি বাস করত পূর্ব বাংলায়, কিন্তু রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাঙালি প্রতিনিধিত্ব ছিল:
প্রতিষ্ঠান বাঙালি প্রতিনিধিত্ব (প্রায়)
Civil Service ৭%
Pakistan Army Officer Corps ৫%
Foreign Service ১০%
Central Secretariat খুবই কম
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে ভাষা প্রশ্নটি কেবল সাংস্কৃতিক ছিল না — এটি রাজনৈতিক ক্ষমতায় অ্যাক্সেসের প্রশ্নে রূপান্তরিত হয়েছিল।
Rounaq Jahan, Pakistan: Failure in National Integration (Columbia University Press, 1972), Chapter 3 — বাঙালি প্রতিনিধিত্বের বিস্তারিত পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ।
৬.৩ ১৯৪৮ — সিন্ধু সরকারের বরখাস্ত: Section 92A-এর অপব্যবহার করে জিন্নাহ নির্বাচিত সিন্ধু সরকারকে বরখাস্ত করেন — এটি ছিল প্রথম দৃষ্টান্ত যেখানে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারকে অপসারণ করেছিল।
৬.৪ ১৯৪৯ — Objectives Resolution ও সংসদীয় সার্বভৌমত্বের ধর্মতাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা
১৯৪৯ সালের ১২ মার্চ পাকিস্তানের গণপরিষদে Objectives Resolution গৃহীত হয়। প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান যুক্তি দেন যে পাকিস্তানের জনগণ রায় দিয়েছে—রাষ্ট্রের সংবিধান ইসলামি নীতিমালার ভিত্তিতে প্রণীত হবে ("the people of Pakistan have given their verdict that Pakistan should be an Islamic state")। এই দাবি প্রত্যক্ষ গণভোট বা জনগণের সরাসরি সাংবিধানিক অনুমোদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ছিল না। ফলে এই দাবি সংসদীয় সার্বভৌমত্বকে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটের পরিবর্তে একটি ধর্মতাত্ত্বিক বৈধতার ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
Objectives Resolution-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব জনগণের পরিবর্তে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের উপর পুনর্নির্ধারিত হয়। যদিও এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি, তবুও সংসদীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে নির্বাহী ও বিচার বিভাগ এই ভাষাকে নির্বাচিত সংসদের ক্ষমতা সীমিত করার সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে।
Objectives Resolution-এর বিরোধিতা করেছিলেন পূর্ব বাংলার শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, বিরাটচন্দ্র মণ্ডলসহ একাধিক সদস্য। তাঁদের যুক্তি ছিল, এই প্রস্তাব নাগরিক সার্বভৌমত্বের পরিবর্তে রাষ্ট্রকে একটি অনির্দিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধীনস্থ করবে এবং এর ফলে সংখ্যালঘু নাগরিকদের সাংবিধানিক নিরাপত্তা ও সমঅধিকার দুর্বল হতে পারে।
Objectives Resolution, 12 March 1949, Pakistan Constituent Assembly Debates; Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (2001), pp. 52–58.
Objectives Resolution জিন্নাহর জীবদ্দশায় গৃহীত না হলেও, গভর্নর-জেনারেলকেন্দ্রিক দুর্বল সংসদীয় কাঠামো ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাষ্ট্রগঠনের যে প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার তিনি রেখে গিয়েছিলেন, সেই কাঠামোর মধ্যেই এই প্রস্তাব পাস হয় এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রের আদর্শিক ও সাংবিধানিক চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬.৫ ১৯৫১ — লিয়াকত আলী খানের হত্যাকাণ্ড ও উত্তরাধিকার সংকট: প্রধানমন্ত্রীর হত্যার পর গভর্নর-জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কাজে লাগালেন — প্রশাসনিক কর্তৃত্ব আরও গভর্নর-জেনারেলমুখী হয়ে পড়ল। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল যে পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী পদটি কতটা প্রতিস্থাপনযোগ্য (replaceable)।
৬.৬ ১৯৫৩–১৯৫৪ — গণপরিষদ বিলুপ্তি ও Doctrine of Necessity
গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক গণপরিষদ বিলুপ্তি (১৯৫৪): গোলাম মোহাম্মদ পুরো গণপরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন — একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি একটি নির্বাচিত সংবিধান প্রণয়নকারী সংস্থাকে বাতিল করে দিলেন।
১৯৫৪ — পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারের বরখাস্ত: ২৩৭টি আসন (মোট ৩০৯-এর মধ্যে) জয়ী যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মাত্র দুই মাস পর বরখাস্ত করা হয়। এটি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের কাছে এই বার্তা দিল যে নির্বাচনী বিজয় কোনো সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে না।
Lawrence Ziring, Pakistan in the Twentieth Century: A Political History (Oxford University Press, 1997) — এই পুরো প্রক্রিয়াকে "দ্রুততর প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার শিকড় ছিল জিন্নাহর প্রতিষ্ঠিত গভর্নর-জেনারেলকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামোয়।
Federation of Pakistan v. Maulvi Tamizuddin Khan (PLD 1955 FC 240): প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনীর গভর্নর-জেনারেলের পদক্ষেপকে বৈধতা দেন এবং "doctrine of necessity" প্রয়োগ করেন। এই রায় পাকিস্তানের সাংবিধানিক ইতিহাসে বিচার বিভাগের মাধ্যমে নির্বাহী শ্রেষ্ঠত্ব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থাপনের প্রথম নজির।
Doctrine of Necessity-র দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: ১৯৫৫ সালের Tamizuddin রায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। PLD 1977 SC 657 — Begum Nusrat Bhutto v. Chief of Army Staff: জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিরুদ্ধে ১৯৭৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিতে আবারও "doctrine of necessity" প্রয়োগ করা হয়। PLD 2000 SC 869 — Syed Zafar Ali Shah v. General Pervez Musharraf: পারভেজ মোশাররফের ১৯৯৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিতে সুপ্রিম কোর্ট একই doctrine প্রয়োগ করে। এই তিনটি রায়ের ধারাবাহিকতা — ১৯৫৫, ১৯৭৭, ২০০০ — দেখায় কীভাবে জিন্নাহর প্রতিষ্ঠিত নজির বারবার সামরিক ও নির্বাহী আধিপত্যের হাতিয়ার হয়েছে।
Federation of Pakistan v. Maulvi Tamizuddin Khan, PLD 1955 FC 240; Begum Nusrat Bhutto v. Chief of Army Staff, PLD 1977 SC 657; Syed Zafar Ali Shah v. General Pervez Musharraf, PLD 2000 SC 869; Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (2001), pp. 85–110.
প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনীর পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক স্মৃতিকথাধর্মী গ্রন্থ From Jinnah to Zia-এ পাকিস্তানের সাংবিধানিক বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও তিনি নিজের বিতর্কিত রায় প্রত্যাহার করেননি, তাঁর বই পাকিস্তানের বিচারিক-নির্বাহী সম্পর্ক বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
Muhammad Munir, From Jinnah to Zia.
৬.৬ "Viceregal Tradition" — Allen McGrath-এর থিসিস
Allen McGrath তাঁর The Destruction of Pakistan's Democracy (Oxford University Press, 1996) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে দেখিয়েছেন যে পাকিস্তানে গভর্নর-জেনারেল পদের ক্ষমতা কীভাবে ঔপনিবেশিক ভাইসরয়ের কার্যত উত্তরাধিকার হিসেবে কাজ করেছে। McGrath-এর ভাষায়, পাকিস্তানের "viceregal tradition" ছিল একটি অলিখিত কিন্তু শক্তিশালী রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা প্রতিটি নির্বাহী প্রধান — জিন্নাহ থেকে আইয়ুব পর্যন্ত — অনুসরণ করেছেন। এই সংস্কৃতিতে নির্বাহী প্রধান জনগণের প্রতিনিধির কাছে নয়, বরং আমলাতন্ত্র ও সামরিক শক্তির কাছে জবাবদিহি করেন।
Allen McGrath, The Destruction of Pakistan's Democracy (Oxford University Press, 1996) — পাকিস্তানের সাংবিধানিক পতনের সর্বোত্তম প্রামাণিক বিশ্লেষণগ্রন্থগুলোর একটি।
সাত: সামরিক হস্তক্ষেপের প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত নির্মাণ
৭.১ Hamza Alavi-এর Overdeveloped State থিসিস
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী হামজা আলভি তাঁর প্রভাবশালী প্রবন্ধ "The State in Post-Colonial Societies: Pakistan and Bangladesh" (New Left Review, 1972)-এ যুক্তি দিয়েছেন যে পাকিস্তান হলো "overdeveloped state" — এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র (বিশেষত আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনী) সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শক্তিশালী। এই "overdeveloped" রাষ্ট্রযন্ত্র ঔপনিবেশিক কাল থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এবং স্বাধীনতার পরেও জনগণের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থেকেছে। জিন্নাহর গভর্নর-জেনারেলকেন্দ্রিক কাঠামো এই "overdeveloped state"-এর বিকাশকে সহায়তা করেছিল।
Hamza Alavi, "The State in Post-Colonial Societies: Pakistan and Bangladesh," New Left Review, No. 74 (July–August 1972) — পাকিস্তানের রাষ্ট্রতত্ত্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রবন্ধগুলোর একটি।
Hasan Askari Rizvi দেখিয়েছেন যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কেবল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং শক্তিশালী আমলাতন্ত্রের সমন্বয়ই সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা বিস্তারের প্রধান কারণ।
Rizvi, Hasan Askari. Military, State and Society in Pakistan. Lahore: Sang-e-Meel Publications, 2000.
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রাধান্য: স্বাধীনতার পর দুর্বল রাজনৈতিক দল ও অস্থিতিশীল সংসদীয় কাঠামোর সুযোগে Civil Service of Pakistan (CSP) নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্রপরিচালনায় ক্রমবর্ধমান প্রভাব অর্জন করে। ফলে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের তুলনায় স্থায়ী আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও নীতিনির্ধারণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রবণতা পরবর্তীকালে সামরিক-আমলাতান্ত্রিক জোটের বিকাশ ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করাকে আরও সহজ করে তোলে।
Hamza Alavi, The State in Post-Colonial Societies: Pakistan and Bangladesh, New Left Review, No. 74 (1972). Khalid Bin Sayeed, Politics in Pakistan: The Nature and Direction of Change. New York: Praeger Publishers, 1980.
৭.২ মুসলিম লীগের প্রাতিষ্ঠানিক অসম্পূর্ণতা
মুসলিম লীগ স্বাধীনতার পূর্বে মূলত একটি আন্দোলনভিত্তিক দল ছিল এবং এর সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল জিন্নাহর ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। স্বাধীনতার পরে এটিকে একটি গণতান্ত্রিক, সদস্যভিত্তিক, নীতিনির্ভর রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
Keith Callard, Pakistan: A Political Study (George Allen & Unwin, 1957) — মুসলিম লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার মৌলিক বিশ্লেষণ।
৭.৩ ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব — কাঠামোর পরিপক্কতা
ইস্কান্দার মির্জার ধারাবাহিকতা: গোলাম মোহাম্মদের উত্তরসূরি ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬–১৯৫৮ সময়কালে মাত্র দুই বছরে চারজন প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর তিনি নিজেই সামরিক আইন জারি করেন। মাত্র কুড়ি দিন পরে আইয়ুব খান তাঁকেও ক্ষমতাচ্যুত করে দেশান্তরিত করেন।
Lawrence Ziring, Pakistan in the Twentieth Century (Oxford University Press, 1997), pp. 89–125 — ইস্কান্দার মির্জার রাষ্ট্রপতিত্বকালকে "the last chapter of the Viceregal tradition" হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন।
আইয়ুব খান ও Basic Democracies (১৯৬২): আইয়ুব খান কোনো নতুন দর্শন নিয়ে আসেননি — জিন্নাহর গভর্নর-জেনারেল মডেলের সামরিক রূপান্তর ঘটালেন। ১৯৬২ সালের সংবিধানে "Basic Democracies" ব্যবস্থা চালু করা হয়: ৮০,০০০ "Basic Democrat" পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করত; সরাসরি সার্বজনীন ভোটাধিকার বাতিল হয়; রাষ্ট্রপতি সংসদীয় জবাবদিহিতার বাইরে থাকতেন; দলীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কঠোরভাবে সীমিত ছিল। এটি আসলে কেন্দ্রীভূত নির্বাহী আধিপত্যকে সাংবিধানিক আকারে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা।
G.W. Choudhury, Constitutional Development in Pakistan (Longmans, 1959); Ayesha Jalal, The State of Martial Rule (Cambridge University Press, 1990), pp. 277–279.
আট: বিকল্প ব্যাখ্যা ও পাল্টা যুক্তি
সুষম ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের জন্য বিকল্প ব্যাখ্যাগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এসব ব্যাখ্যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনোটিই এককভাবে মূল থিসিসকে খণ্ডন করতে সক্ষম নয়।
স্বাস্থ্যগত দুর্বলতা: জিন্নাহ জানতেন তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত। তবে এই যুক্তি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা গণপরিষদ ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত না করে গভর্নর-জেনারেল হিসেবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
জিন্নাহর অকালমৃত্যু: জিন্নাহ স্বাধীনতার মাত্র ১৩ মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এমন প্রাতিষ্ঠানিক নজির প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য পরিবর্তন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে।
সংকটকালীন শাসনের চাহিদা: ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান অভূতপূর্ব প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি ছিল। কিন্তু ভারতও একই ধরনের সংকট মোকাবিলা করেও সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ও দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাঃ জিন্নাহর মুসলিম লীগের অভ্যন্তরে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তিতেপ্রতিদ্বন্দ্বী ও স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সর্বদাই দুর্বল ছিল এবং জিন্নাহর ব্যক্তিগত কর্তৃত্বই দলের মূল শক্তি ছিল।
ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন: পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সঠিক উপায় ছিল ফেডারেল গণতন্ত্র — কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ব নয়।
কোল্ড ওয়ারের ভূরাজনীতি: SEATO ও CENTO-তে যোগদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে শক্তিশালী করেছিল। তবে এটি সম্ভব হয়েছিল কারণ রাষ্ট্রগঠনের শুরু থেকেই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ছিল দুর্বল এবং কার্যকর ক্ষমতা ক্রমশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ফলে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে সামরিক শাসন শক্তিশালী হয়েছিল।
ভারতেও গণতন্ত্র সংকটাপন্ন হয়েছিল: ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা। তবে ভারত সেই সংকট থেকে গণতান্ত্রিকভাবে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিল — পাকিস্তান পারেনি।
নয়: প্রাতিষ্ঠানিক পূর্বনজির — Path Dependence ও Constitutional Lock-in
আধুনিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানে "path dependence" তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে যে কীভাবে প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের বিকল্পগুলোকে সংকুচিত করে দেয়।
Douglass North ও Increasing Returns: Douglass North, Institutions, Institutional Change and Economic Performance (Cambridge University Press, 1990) — প্রতিষ্ঠানগুলো "increasing returns" তৈরি করে, অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠান যত দীর্ঘস্থায়ী হয় তার পরিবর্তনের খরচ তত বাড়ে।
Paul Pierson ও Critical Junctures: Paul Pierson, Politics in Time: History, Institutions, and Social Analysis (Princeton University Press, 2004) — ১৯৪৭ সালই ছিল পাকিস্তানের "critical juncture" এবং সেই মুহূর্তে গৃহীত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সত্তর বছরের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
পাকিস্তানে গভর্নর-জেনারেলের ক্ষমতা কাঠামো — এবং পরবর্তীতে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব — এই "increasing returns"-এর মাধ্যমেই প্রতিটি সংকটে আরও গভীর হয়েছে।জিন্নাহকে অনুসরণ করে গোলাম মোহাম্মদ, ইস্কান্দার মির্জা, আইয়ুব খান — প্রত্যেকে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থাকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
দশ: ব্যক্তি বনাম প্রতিষ্ঠান — প্রতিষ্ঠাতাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনে প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে Steven Levitsky ও Daniel Ziblatt (How Democracies Die, Crown Publishers, 2018) এবং Juan Linz (The Breakdown of Democratic Regimes, Johns Hopkins University Press, 1978) গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব প্রদান করেছেন। চারটি প্রতিষ্ঠাতা নেতার তুলনা এই দৃষ্টিকোণকে সমৃদ্ধ করে:
প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র ও কাল পদ গ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার
George Washington যুক্তরাষ্ট্র, ১৭৮৯–৯৭ রাষ্ট্রপতি, দুই মেয়াদে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের সর্বোচ্চ নজির; প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির উপরে
Jawaharlal Nehru ভারত, ১৯৪৭–৬৪ প্রধানমন্ত্রী; রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক সংবিধান, সংসদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করেছিলেন; প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার সুদৃঢ়
Mustafa Kemal Atatürk তুরস্ক, ১৯২৩–৩৮ রাষ্ট্রপতি; কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা মিশ্র: সেকুলার আধুনিকতার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু গণতন্ত্র দুর্বল; পরবর্তী দশকগুলোতে ধাপে ধাপে বহুদলীয় রাজনীতিতে রূপান্তর ঘটে।
Muhammad Ali Jinnah পাকিস্তান, ১৯৪৭–৪৮ গভর্নর-জেনারেল + গণপরিষদ সভাপতি + লীগ সভাপতি (ত্রিমুখী কেন্দ্রীভবন) কোনো সাংবিধানিক উত্তরাধিকার নেই; Founders' Syndrome-এর ধ্রুপদী উদাহরণ; ১৩ মাস পরে সামরিক পথ উন্মুক্ত
Nelson Mandela দক্ষিণ আফ্রিকা রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা সীমিত রেখে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার; এক মেয়াদের পর স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ
Levitsky ও Ziblatt যুক্তি দিয়েছেন যে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দুটি অলিখিত নিয়ম অপরিহার্য: mutual toleration (পারস্পরিক সহনশীলতা) এবং institutional forbearance (প্রাতিষ্ঠানিক সংযম)। জিন্নাহ এই উভয় নীতিই লঙ্ঘন করেছিলেন — ভাষার প্রশ্নে বিরোধীদের প্রতি সহনশীলতা ছিল না, এবং গভর্নর-জেনারেলের ক্ষমতাকে সংযতভাবে ব্যবহার করেননি।
Steven Levitsky & Daniel Ziblatt, How Democracies Die (Crown Publishers, 2018); Juan J. Linz, The Breakdown of Democratic Regimes: Crisis, Breakdown and Reequilibration (Johns Hopkins University Press, 1978).
এগারো: Founder's Syndrome — জিন্নাহর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার আধুনিক বিশ্লেষণ
আধুনিক সাংগঠনিক তত্ত্বে "Founder's Syndrome" বলতে বোঝানো হয় এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের চেয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানকে নিজের পরে টিকে থাকার যোগ্য করে তোলেন না।
Randall ও Svåsand তাঁদের "Party Institutionalization in New and Older Democracies" গবেষণাপত্রে দেখিয়েছেন যে নতুন গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের "Institutionalization failure" প্রায়ই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠাতার Founder's Syndrome থেকে উদ্ভূত হয়। জিন্নাহর ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি সুস্পষ্টভাবে প্রযোজ্য: তিনি মুসলিম লীগকে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক সংগঠনে রূপান্তরিত করেননি, পাকিস্তানের গণপরিষদকে সত্যিকারের সার্বভৌম সংস্থায় পরিণত করেননি, এবং সাংবিধানিক উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেননি। Huntington-এর Institutionalization মাপকাঠিতে — adaptability, coherence, complexity, autonomy — জিন্নাহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল রেখেছিলেন।
Vicky Randall & Lars Svåsand, "Party Institutionalization in New and Older Democracies," Party Politics, Vol. 8, No. 1 (2002), pp. 5–29; Samuel P. Huntington, Political Order in Changing Societies (Yale University Press, 1968).
পাকিস্তানের পরবর্তী ইতিহাসে গোলাম মোহাম্মদ, ইস্কান্দার মির্জা, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়া-উল-হক এবং পারভেজ মোশাররফ প্রত্যেকে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় এলেও একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়—নির্বাহী শ্রেষ্ঠত্ব, সংসদের দুর্বলতা এবং বিচার বিভাগের শর্তাধীন বৈধতা। এই ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে সংকটগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল না; বরং একই প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকারের বিভিন্ন পর্যায়।
Hamid Khan, Constitutional and Political History of Pakistan (Oxford University Press, 2001); Ayesha Jalal, The State of Martial Rule (Cambridge University Press, 1990); Lawrence Ziring, Pakistan in the Twentieth Century (Oxford University Press, 1997); Hasan Askari Rizvi, Military, State and Society in Pakistan (Sang-e-Meel, 2000).
বারো: ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ও উপসংহার
পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যর্থতা কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; তবে ১৯৪৭ সালে জিন্নাহর গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল সেই 'critical juncture' যা পরবর্তী ঘটনাবলীর গতিপথ নির্ধারণ করে। দুর্বল সংসদ, শক্তিশালী গভর্নর-জেনারেল, দলীয় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ব্যর্থতা এবং বিকল্প নেতৃত্বের অনুপস্থিতি—এই চারটি উপাদান মিলেই এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো সৃষ্টি করে যেখানে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনী ক্রমশ নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান, বিচারিক বৈধতা এবং নির্বাহী আধিপত্য তাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ১৯৪৭ সালে জিন্নাহ কর্তৃক নির্মিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ধারাবাহিক পরিণতি।
__________________________________________________________________________________
গ্রন্থপঞ্জিঃ
ক) প্রাথমিক দলিলসমূহ (Primary Sources)
• Government of India Act, 1935 (His Majesty's Stationery Office, 1935).
• Indian Independence Act, 1947, Sections 8–9 (His Majesty's Stationery Office, 1947).
• Jinnah, Muhammad Ali. Presidential Address to the Pakistan Constituent Assembly, 11 August 1947, Vol. I (Government of Pakistan, 1947).
• Objectives Resolution, 12 March 1949. (Government of Pakistan, 1949).
• Federation of Pakistan v. Maulvi Tamizuddin Khan. PLD 1955 FC 240 (Federal Court of Pakistan).
• Begum Nusrat Bhutto v. Chief of Army Staff. PLD 1977 SC 657 (Supreme Court of Pakistan).
• Syed Zafar Ali Shah v. General Pervez Musharraf. PLD 2000 SC 869 (Supreme Court of Pakistan).
• Constituent Assembly Debates of India, Vol. XI (Government of India, 1949–1950).
খ) দ্বিতীয়িক উৎস — বই (Secondary Sources)
• Alavi, Hamza. "The State in Post-Colonial Societies: Pakistan and Bangladesh." New Left Review, No. 74 (July–August 1972).
• Austin, Granville. The Indian Constitution: Cornerstone of a Nation. Oxford University Press, 1966.
• Bagehot, Walter. The English Constitution. Chapman & Hall, 1867 (reprint 1878).
• Callard, Keith. Pakistan: A Political Study. George Allen & Unwin, 1957.
• Choudhury, G.W. Constitutional Development in Pakistan. Longmans, 1959.
• Huntington, Samuel P. Political Order in Changing Societies. Yale University Press, 1968.
• Jahan, Rounaq. Pakistan: Failure in National Integration. Columbia University Press, 1972.
• Jalal, Ayesha. The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan. Cambridge University Press, 1985.
• Jalal, Ayesha. The State of Martial Rule: The Origins of Pakistan's Political Economy of Defence. Cambridge University Press, 1990.
• Khan, Hamid. Constitutional and Political History of Pakistan. Oxford University Press, 2001.
• Levitsky, Steven & Ziblatt, Daniel. How Democracies Die. Crown Publishers, 2018.
• Linz, Juan J. The Breakdown of Democratic Regimes: Crisis, Breakdown and Reequilibration. Johns Hopkins University Press, 1978.
• McGrath, Allen. The Destruction of Pakistan's Democracy. Oxford University Press, 1996.
• North, Douglass C. Institutions, Institutional Change and Economic Performance. Cambridge University Press, 1990.
• Pierson, Paul. Politics in Time: History, Institutions, and Social Analysis. Princeton University Press, 2004.
• Randall, Vicky & Svåsand, Lars. "Party Institutionalization in New and Older Democracies." Party Politics, Vol. 8, No. 1 (2002).
• Sayeed, Khalid Bin. Pakistan: The Formative Phase, 1857–1948. Oxford University Press, 1968.
• Talbot, Ian. Pakistan: A Modern History. Hurst & Company, 1998.
• Wolpert, Stanley. Jinnah of Pakistan. Oxford University Press, 1984.
• Ziring, Lawrence. Pakistan in the Twentieth Century: A Political History. Oxford University Press, 1997.
• হারুন-অর-রশিদ। The Foreshadowing of Bangladesh. The University Press Limited, 1987।
• আবুল হাশিম। In Retrospection। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা, ১৯৭৪।
• আল্লানা, জি.। Pakistan Movement: Historic Documents. University of Karachi Press, 1969
• Dicey, A.V. Introduction to the Study of the Law of the Constitution. 8th ed. London: Macmillan, 1915.
• Rizvi, Hasan Askari. Military, State and Society in Pakistan. Lahore: Sang-e-Meel Publications, 2000.
• Munir, Muhammad. From Jinnah to Zia. Lahore: Vanguard Books, 1979.
• Mandela, Nelson. Long Walk to Freedom. Little, Brown and Company, 1994.
— সাইদ নাঈম, জুন ২০২৬
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪১
রাজীব নুর বলেছেন: খুবই বিরক্তকর পোষ্ট।