নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমাদের এই সময়

আমার কনঠস্বর

আমার কনঠস্বর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের শেকড় কি হারিয়ে যাবে?

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১৭

ইউটিউবে বিটিভির আর্কাইভ নিয়ে খোলা চ্যানেল নিয়ে কয়েকদিন আগে একটা লেখা পড়েছিলাম। বিষয়টা হলো, বিটিভি মোটামুটি পুরনো অনুষ্ঠান আপলোড করতে গিয়ে স্বত্ত্ব নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়ার কারনে পরপর ৩টির মতো চ্যানেল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

বিষয়টা নিয়ে আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা ধরলো তাতে হয়তো ব্যপারটা এমন যে, কোন অনুষ্ঠান আপলোড করতে গিয়ে দেখা গেল সেটি পূর্বেই কেউ আপলোড করে বসে আছে। যার ফলশ্রুতিতে তাদের স্বত্ত্ব নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।

পিছিয়ে থাকা জাতি হিসেবে আমাদের বেশ সুনাম আছে। উদাহরনটা আগেও দিয়েছি আবার দেই। বেশ কয়েক বছর আগে কোন এক সরকারী অফিসে গিয়েছি কি এক কাজে। সেখানে গিয়ে আবিস্কার করলাম পেন্টিয়াম-৩ কম্পিউটার এর অস্তিত্ব। ওমা একি!!
কারন আমার জানামতে ঐ বস্তু বোধহয় প্রায় বছর দশেক আগেই বিদায় নিয়েছে। ওরা এখনো এই ঠেলাগাড়ি চালাচ্ছে।

উদাহরনটা টানার একটা কারন আছে বৈকি। আমাদের দেশে একসময় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল বিটিভি। তাদের একটা নিজস্ব আর্কাইভ থাকার কথা। আর সেই আর্কাাইভে পুরনো জনপ্রিয় সব নাটক, ম্যাগাজিন, গান, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি আরো যা আছে তার সবই থাকার কথা। আর এর সবই আরো বহু আগেই ইউটিউবে চ্যানেল খুলে আপলোড দেয়ার দায়িত্ব তাদের এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়েরই। কিন্তু তা হয়নি। কারন তারা বসে বসে পান চিবোন। ইতিহাস আর ঐতিহ্য রক্ষা হলো কি না হলো তাতে তাদের কিছু এসে যায় না।
সময় এগিয়েছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি। কিন্তু পড়ে আছি অ্যানালগেই। আমাদের দেশে ফিল্ম আর্কাইভ নামেও একটা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব আছে। যতদুর কানে এসেছে আর্কাইভের ফিল্ম পেপার নাকি যত্রতত্র এখানে সেখানে অযতœ আর অবহেলায় পড়ে নষ্ট হয়েছে কত তার কোন হিসেব নেই। ঘেটে ঘেটে সেই গাদার মধ্যে অজ¯্র প্রামান্য দলিল যে পাওয়া সম্ভব তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমার কথা বিশ্বাস না হলে এখনই ইউটিউবে খুজতে লেগে যান। আপনাকে চমকে দেয়ার মতো তেমনই ঐতিহাসিক কিছু ক্লিপ আপনি অবশ্যই পেয়ে যাবেন।

এর সংরক্ষন কিংবা রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব যাদের ঘাড়ে ন্যাস্ত। তাদের এ বিষয়ে কোন প্রকার মাথা ব্যাথা নেই। সংশ্লিষ্ট উর্ধতনের কথা আর কি বলবো।

এত প্যাচাল পাড়ার আসল কারনে এবার আসি।

বর্তমান নাটকের কিংবা বিজ্ঞাপনের হাল দেখে আপনার কি মনে হয়?
এখনকার প্রজন্মের ক্ষেত্রে একটা বিষয় হলো। ধরুন, আমি যদি ছেলেবেলা থেকেই মারপিট দেখে অভ্যস্ত হয়ে থাকি। তাহলে সে বিষয়টা আমার কাছে ডালভাত মনে হবে। যে কোন স্থানে, যে কোন পরিস্থিতিতে।

মার পিট কেবল নয়, প্রতিটি বিষয়ের বেলাতে কিন্ত আসলে এটাই সত্যি।

এখনকার নাটক এখনকার প্রজন্ম দেখছে। তারা ভাবছে নাটক, গান, বিজ্ঞাপন তো আসলে এমনটাই হবার কথা। এমনটাই হচ্ছে।
আপনি বিপক্ষে যুক্তি দেখাবেন, কিন্তু প্রমান দেখাতে হিমশিম খাবেন। তাদের রুচি পরিবর্তন করতে আপনার রিমোটের সাথে নিশ্চই প্রতিদিন যুদ্ধ করতে বা দেখতে হয়। আপনার দেখা সেই সংশপ্তক কিংবা অয়োময় নাটকের অভিনয় কিংবা দারুন সব বিজ্ঞাপনের কোনটাই তাদের সামনে দাড় করিয়ে পার্থক্যটা দেখিয়ে বলতে পারবেন না বাবা দেখ, অভিনয় কিভাবে করতে হয়। শক্তিমান অভিনেতা কাকে বলে। বিজ্ঞাপনের ভাষা, ভাবাবেগ, চিত্রায়নের পার্থক্য দেখ।

অতীত জমিয়ে রাখলে তাতে ক্ষতি নেই। বরং ভবিষ্যৎতের জন্য তা নজির রুপে রেখে দেয়াটাই বুুদ্ধিমানের কাজ। তাতে বরং ফল ভালো হয়। সংস্কৃতি, ইতিহাস শেকড়ের অস্তিত্বের সে প্রমান গুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর শেকড়ের অস্তিত্ব টিকে থাকে জন্মান্তর।

আমরা স্বেচ্ছায় সে শিকড় শুদ্ধ গাছকে আনন্দের সাথে উপড়ে ফেলছি। ইতিহাস, ঐতিহ্যকে সুকৌশলে বলবো নাকি অবহেলা করে কিভাবে বললে ভাল হয় জানি না। তা নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। সচেতনভাবেই। আর তাই পশ্চিমা এবং ভারতীয় সংস্কৃতি খুব সহজে আমাদের ভেতর ঢুকে পড়ছে। আমরা শিখছি পরকিয়া কিভাবে করতে হয়। এডাল্ট কনটেন্ট এখন মোবাইলে মোবাইলে ডালভাতের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ধর্ষণ, হত্যাকান্ড, বিবেকহীনতা, মানবতা বোধ নিচে নামতে নামতে এখন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে।
আমার মনে আছে। আমাদের সময়কার কথা। স্কুলে যেতাম। স্যারদের দেখলে ভয়ে সিটিয়ে থাকতাম আমরা। ঐযে অমলবাবু স্যার। পালা!!

মেয়েদের সাথে কথা বলা। ওরে বাবা!! হাগা-মোতা অবস্থা!!

এখন অমলবাবু স্যারদের আর দেখি না। এখনকার স্যারেরা ছাত্রদের সাথে এক বেঞ্চিতে বসে সিগারেট ফোকে। ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও প্রযু্িক্তর কল্যানে ইন্টারনেট আর মোবাইলে ছড়ায়। দুইদিন চিৎকারের পর আবার সব চুপচাপ। কই কিছু হয়নি তো!!

এখন পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংন্ত্রান্তি, বৈসাবি, সাকরাইন, ২১ ফেব্রুয়ারী এমনতরো প্রতিটি সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কেবল উৎসবে পরিনত হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্য গুলো আর উৎপত্তি মানুষ ভুলে গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আগামী ১৫ বছর পর পহেলা বৈশাখ কেন পালন হয় তা দেশের তৎকালীন প্রজন্মের সিংহভাগ বলতে পারবে কিনা
কে জানে?

ভয় হয়!!

এর সবই সংস্কৃতির, ঐতিহ্যের শেকড় নষ্ট করার ফল।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:০১

রাজীব নুর বলেছেন:

২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:১৪

যবড়জং বলেছেন: আসুন পান চিবুই ...।

৩| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:২৮

আখেনাটেন বলেছেন: ভালো বলেছেন। সরকারী এই অফিসগুলোতে কি কাজ হয় অাল্লাহ মালুম। জবাবদিহিতা না থাকলে যা হয় আর কি!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.