নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুন ঠিকানা-http://www.somewhereinblog.net/blog/ochenahappy

আবদুস সবুর খান

http://www.facebook.com/AskSumon -https://asksumon.wordpress.com/main-page/

আবদুস সবুর খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

সূরা ফাতিহা শেষে আমীন বলা বিষয়ক কিছু কথা....

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২২

আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সা) ইরশাদ করেন যে, ইমাম যখন আমীন বলবে তোমরাও তখন আমীন বলবে। কারণ ফেরেশতাগণের আমীন বলার সাথে যার আমীন বলা হবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

ইমাম তিরমিযী (রহ) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসটি হাসান ও সহীহ।



সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা) থেকে সালাতে দুই স্থানে নীরবতার কথা স্মরণ রেখেছি। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) এ কথা প্রত্যাখ্যান করে বললেন আমরা এক স্থানে নীরবতার কথা জানি। রাবী হাসান বলেন, আমরা এ বিষয়ে মদীনার উবাই ইবনে কাব (রা) কে লিখলে তিনি আমাদের জানালেন যে, সামুরাই সঠিক স্মরণ রেখেছেন।

রাবী সাইদ বলেন, আমরা কাতাদাকে বললাম এ নীরবতার স্থান কোন দুটি? তিনি বললেন একটি হল সালাত শুরু করার পর, আরেকটি হল কিরাতের পর। পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন আরেকটি হল ওয়ালাদ দল্লীন পাঠের পর। শ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসার উদ্দেশে কিরাত শেষে কিছুক্ষণ নিরব থাকা তিনি পছন্দ করতেন।



এ বিষয়ে আবু হুরায়ারা (রা) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম তিরমিজী (রা) বলেন সামুরা (রা) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। (তিরমিজী শরিফ)



উপরোক্ত হাদীস দুটি থেকে প্রতীয়মান হয়, ইমাম ও মুক্তাদী উভয়েই আমীন বলবে এবং আস্তে বলবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন। (আমীন)

আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সা) ইরশাদ করেন যে, ইমাম যখন আমীন বলবে তোমরাও তখন আমীন বলবে। কারণ ফেরেশতাগণের আমীন বলার সাথে যার আমীন বলা হবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

ইমাম তিরমিযী (রহ) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসটি হাসান ও সহীহ।



সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা) থেকে সালাতে দুই স্থানে নীরবতার কথা স্মরণ রেখেছি। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) এ কথা প্রত্যাখ্যান করে বললেন আমরা এক স্থানে নীরবতার কথা জানি। রাবী হাসান বলেন, আমরা এ বিষয়ে মদীনার উবাই ইবনে কাব (রা) কে লিখলে তিনি আমাদের জানালেন যে, সামুরাই সঠিক স্মরণ রেখেছেন।

রাবী সাইদ বলেন, আমরা কাতাদাকে বললাম এ নীরবতার স্থান কোন দুটি? তিনি বললেন একটি হল সালাত শুরু করার পর, আরেকটি হল কিরাতের পর। পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন আরেকটি হল ওয়ালাদ দল্লীন পাঠের পর। শ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসার উদ্দেশে কিরাত শেষে কিছুক্ষণ নিরব থাকা তিনি পছন্দ করতেন।



এ বিষয়ে আবু হুরায়ারা (রা) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম তিরমিজী (রা) বলেন সামুরা (রা) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। (তিরমিজী শরিফ)



উপরোক্ত হাদীস দুটি থেকে প্রতীয়মান হয়, ইমাম ও মুক্তাদী উভয়েই আমীন বলবে এবং আস্তে বলবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন। (আমীন)

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩৬

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: এই হাদিস দুইটার তাহলে কি হবে?

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম যখন "আমীন" বলে তখন তোমরাও "আমীন" বল। কেননা যার "আমীন" বলা ফেরেশ্তাদের "আমীন" বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী 'আতা (রাযিঃ) বলেছেন "আমীন" হলো দু'আ। 'আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযিঃ) এবং তার পিছনে মুক্তাদিরা "আমীন" বলতেন এমনকি মাসজিদে গুন গুন শব্দ শুনাযেত।

(বুখারী ১ম খণ্ড, আল-মাদানী প্রঃ হাঃ ৭৮০, পৃঃ ২৯৬, আঃ প্রঃ হাঃ ৭৩৬, ইঃ ফাঃ হাঃ ৭৪৪, ১ম খণ্ড তাঃ পাঃ হাঃ ৭৮০, পৃঃ ৩৭৮)

ওয়ায়িল বিন হুজুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে "গায়রিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালাযযাল্লীন" পড়তে শুনেছি। আতঃপর তিনি নিজের স্বরকে উচ্চ করে "আমীন" বলেছেন।

(অত-তিরমিযী- ৫৭-৫৮ পৃঃ ১ম খন্ড ইঃ ফাঃ হাঃ ২৪৮;
বুখারী- ১ম খন্ড ১০৭-১০৮ পৃঃ, হাঃ ৭৮০-৭৮২ পৃঃ,, ১ম খন্ড আযীযুল হক হাঃ ৪৫৩,, ১ম খন্ড, আঃ প্রঃ হাঃ ৭৩৬-৭৩৮,, ১ম খন্ড, ইঃ ফাঃ অনুচ্ছেদসহ হাঃ ৭৪৪-৭৪৭;
মুসলিম- ১৭৬ পৃঃ, ২য় খন্ড ইঃ ফাঃ হাঃ ৭৯৭-৮০৪;
আবু দাউদ - ১৪৩ পৃঃ, ২য খন্ড ইঃ ফাঃ হাঃ ৯৩২;
নাসাঈ- ১৪০ পৃঃ;
ইবনু মাজাহ্- ৬২ পৃঃ;
মিশকাত- ১ম খন্ড ৭৯-৮০ পৃঃ, ২য খন্ড নূর মুহাম্মদ 'আযমী ও মাদ্রাসা পাঠ্য হাঃ ৭৬৮-৭৮৭;
মুয়াত্তা মালিক- ১০৮ পৃঃ;
বুলগুল মারম- ৮৫ পৃঃ;
কিমিয়ায়ে সায়াদাত- ১ম খন্ড, ১৯০ পৃঃ;
ইসলামিয়াত বি-এ হাদীস পর্ব ১৫৭ পৃঃ)

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩৪

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম। Abdullah Arif Muslim, ভাই আশা করি ভাল আছেন। ব্যস্ততার কারনে আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে "প্রসিদ্ধ তাবেয়ী 'আতা (রাযিঃ) বলেছেন "আমীন" হলো দু'আ।" এই জবাবটি শেষে প্রদান করেছি। আশা করি ব্যপারটি বুঝবেন।

জবাব- ১ ঃ আপনার দেয়া প্র্র্রথম হাদীসটি কেবলমাত্র আমীন বলা সম্পর্কে। যার ব্যাপারে আমরা সবাই একমত যে, সুরা ফাতিহা শেষে আমীন বলা বহু ফযিলতপূর্ণ। কিন্তু এই হাদীসটিতে নিঃশব্দে বা স্বঃশব্দে কোনটিই স্পষ্টরূপে উল্লেখ নেই।

জবাব- ২ ঃইমাম বুখারী (র) বর্ণিত যা তিনি তার সহীহ বুখারীতে উল্লেখ করেননি। ঝুলন্ত হাদীস রূপে বর্ণনা করেছেন আতা হতে। আর আবদুর রাযযাক যুক্তরূপে বর্ণনা করেছেন ইবন জুবায়ের হতে। তিনি আতা হতে। তিনি বলেন আমি তাকে (আতাকে) জিজ্ঞাসা করলাম ইবন জুবায়ের (রা) কি উম্মুল কুরআনের পর আমীন বলতেন। তিনি বললেন হ্যা আর তার পেছনে যারা থাকত তারাও আমীন বলতো, এমনকি গুঞ্জরন হতো।

কিন্তু এখানে উল্লেখ্য সাহাবাদের মধ্যে ওমর (রা), আলী (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) নিঃশব্দে আমীন বলতেন। আর অনুকরনীয় হিসাবে (যেহেতু তারা অধিক পরিমানে রাসূল (স) এর কাছে ছিলেন এবং তারা ফকীহ ছিলেন যার ফলে সঠিক অনুধাবনে সক্ষম ছিলেন) অধিক উপযুক্ত। তাছাড়া তাবারীর বক্তব্য যে, অধিকাংশ সাহাবী ও তাব্ঈ নিঃশব্দে আমীন বলতেন।

জবাব- ৩ ঃ হযরত ওয়াইল ইবন হুজর (রা) এর হাদীস "আমি শুনেছি নবী করীম (স) গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালাদদাললীন বলে আমীন বলেছেন এবং আওয়াজকে টেনেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে সজোরে আমীন বলেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে আমীন বলার সময় তার আওয়াজ উচু হত।" হাদীসের শব্দগুলো সুফিয়ান ছাওরীর বর্ণনা।
এদিকে তারই সঙ্গী ইমাম শোবা এর রিওয়াতকে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন, "নবী করীম (স) যখন গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালদদললীন বলতেন তখন আমীন বলতেন। আমীন বলার সময় তার আওয়াজ নিচু হত।" (মুসনাদে আহমদ খ৪, পৃ- ৩১৬। তায়ালিসী, আবু ইয়ালা মওসিলী, তাবরানী ও হাকেম নাসবুর রায়াহ খ১ পৃ- ৩৬৯)
সুফিয়ান সাওরী ও শোবার মাঝে হাদীসের সনদ নিয়েও মতপার্থক্য বিরাজমান। এ কারনে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে তাদের রিওয়ায়াত ঠাই পায়নি। এবং শোবার রিওয়ায়াতের ব্যাপারে যেসব আপত্তি তোলা হয়েছে তার যথেষ্ট জবাব প্রদান করা হয়েছে।
জবাবটি দেখুন-
আলকামা ইবন ওয়াইল হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) এর সঙ্গে নামায পড়তেন। যখন তিনি গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদদললিন পর্যন্ত পৌছলেন তখন আমীন বললেন এবং উচ্চারনে আওয়াজ নিঃশব্দ রাখলেন। (ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ তায়ালিসী ও আবু ইয়ালা আলমুসিলী তাদের নিজ নিজ মুসনাদে তা সংকলন করেছেন। আর দারা কুতনী তার সুনানে এবং ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাকে তা সংকলন করেছেন। হাকিম বলেন এটি সহীহ সনদের হাদীস। কিন্তু বুখারী ও মুসলিম তা সংকলন করেননি। (যায়লাঈ খঃ১, পৃ- ১৯৪)

জবাব- ৪ ঃ "প্রসিদ্ধ তাবেয়ী 'আতা (রাযিঃ) বলেছেন "আমীন" হলো দু'আ।"
এটি আমিন নিঃশব্দে বলার দলীল। স্বঃশব্দে বলার দলীল নয়। কারন -
আল্লাহ তাআলা বলেন "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো সকাতরে ও নীরবে।"
এবং সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে, "হে লোকেরা তোমরা নম্রতা অবলম্বন কর। তোমরা কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। কেননা তিনি তোমাদের সাথে আছেন্ তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী, বড়ই বরকতময় তার নাম, অতি উচ্চে তার মর্যাদা।"
আতা (র) বলেন আমীন হচ্ছে দুআ। আমীন শব্দের অর্থ কবুল কর। এবং আবু শায়খ হযরত আনাস (রা) হতে মাফুরূপে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, "গোপনের একটি দুআ প্রকাশ্যের সত্তরটি দুয়ার সমান।" (আল আযীযী খন্ড-২)

ইনশাআল্লাহ আমীন নিঃশব্দে পড়ার আরো দলীল পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।

আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

২| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৩১

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: ওয়ালাইকুম আসসালাম। ধন্যবাদ রিপ্লাই এর জন্য। প্রথমত আপনি বললেন-

জবাব- ১ ঃ আপনার দেয়া প্র্র্রথম হাদীসটি কেবলমাত্র আমীন বলা সম্পর্কে। যার ব্যাপারে আমরা সবাই একমত যে, সুরা ফাতিহা শেষে আমীন বলা বহু ফযিলতপূর্ণ। কিন্তু এই হাদীসটিতে নিঃশব্দে বা স্বঃশব্দে কোনটিই স্পষ্টরূপে উল্লেখ নেই।

=> আমি কোথাও বলি নাই আমীন বলা কম ফযিলতপূর্ণ। বরং বলেছি হাদিসটি বলছে "ইমাম যখন আমীন বলে তোমরাও আমীন বল"।

তার মানে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলছেন ইমামের আমীন শুনে তারপর তোমরাও ইমামের সাথে সাথে আমীন বল। আমি যদি শুনতেই না পাই কখন ইমাম আমীন বললো তাহলে এই হাদিসের তো কোন দরকার হয় না। আর এখানে আপনি যদি বলেন ইমাম নিঃশব্দে আমীন বলছে তাহলে উপরের হাদিস টির তো আরো অনেকগুলো লাইন আছে। সেগুলো কি করবেন?

যেমন বলা আছে ইমাম যখন বলে "সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ" তখন তোমরা বলো রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। এখানেও তো নিঃশব্দে বা স্বশব্দে ষ্পষ্ট করে উল্লেখ নাই।

এখানে যদি সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ কে স্বশব্দে ধরে নেন তাহলে আমীন কে কোন যুক্তিতে নিঃশব্দে ধরে নিবেন?

---------------------------------------------------------------------------------

দ্বিতীয়ত-

জবাব- ২ ঃইমাম বুখারী (র) বর্ণিত যা তিনি তার সহীহ বুখারীতে উল্লেখ করেননি। ঝুলন্ত হাদীস রূপে বর্ণনা করেছেন আতা হতে। আর আবদুর রাযযাক যুক্তরূপে বর্ণনা করেছেন ইবন জুবায়ের হতে। তিনি আতা হতে। তিনি বলেন আমি তাকে (আতাকে) জিজ্ঞাসা করলাম ইবন জুবায়ের (রা) কি উম্মুল কুরআনের পর আমীন বলতেন। তিনি বললেন হ্যা আর তার পেছনে যারা থাকত তারাও আমীন বলতো, এমনকি গুঞ্জরন হতো।

কিন্তু এখানে উল্লেখ্য সাহাবাদের মধ্যে ওমর (রা), আলী (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) নিঃশব্দে আমীন বলতেন। আর অনুকরনীয় হিসাবে (যেহেতু তারা অধিক পরিমানে রাসূল (স) এর কাছে ছিলেন এবং তারা ফকীহ ছিলেন যার ফলে সঠিক অনুধাবনে সক্ষম ছিলেন) অধিক উপযুক্ত। তাছাড়া তাবারীর বক্তব্য যে, অধিকাংশ সাহাবী ও তাব্ঈ নিঃশব্দে আমীন বলতেন।


=> উপরোক্ত হাদিসের মেইন ফেক্ট হচ্ছে আল্লাহর রাসুলের সাহাবা ইবন জুবায়ের যখন ইমামতি করতেন তখন জোরে আমীন বলতেন। এ থেকে আমরা আল্লাহর রাসুলের সাহাবাদের সালাতের জোরে আমীন সংক্রান্ত দলিল/ বর্ণনা পাই। (প্রথম দলিল)

আপনি বললেন সাহাবাদের মধ্যে ওমর (রা), আলী (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) অনুকরণীয় যেহেতু তারা অধিক পরিমাণে রাসুল সাঃ এর কাছে ছিলেন এবং আপনি তাদের অধিক উপযুক্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আর আল্লাহ কোরআনে সূরা তাওবার ১০০ নং আয়াতে বলছেন

যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী এবং আনসারদের মাঝে পুরাতন এবং যারা তাদের ""অনুসরণ""" করেছে আল্লাহ সেই সব লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

উক্ত আয়াতে প্রথম দিকের সাহাবাদের বেশী মর্যাদা দেওয়া হইছে। ইবনে যোবায়ের হলেন আয়েশা রাঃ এর জেষ্ঠ্যা ভগ্নিপতি এবং রাসুল সাঃ এর ফুফু তনয় ভ্রাতা। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর মুখে আনুষ্ঠাঠিকভাবে বেহেশতের ঘোষনাপ্রাপ্ত দশ জনের একজন। খলিফা ওমর রাঃ এর সময় ইয়ারমুক এলাকায় যে জিহাদ হয়েছিল সেখানে তিনিও ছিলেন। যেহেতু তিনি প্রথম দিকের সাহাবা এবং রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায়ও তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরবর্তীতেও তিনি জীবিত ছিলেন। তাই তার এই বর্ণনাকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোন মানে হয় না। তার উপর তিনি করেছেন ইমামতি।
-
=============================================


জবাব- ৩ ঃ হযরত ওয়াইল ইবন হুজর (রা) এর হাদীস "আমি শুনেছি নবী করীম (স) গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালাদদাললীন বলে আমীন বলেছেন এবং আওয়াজকে টেনেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে সজোরে আমীন বলেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে আমীন বলার সময় তার আওয়াজ উচু হত।" হাদীসের শব্দগুলো সুফিয়ান ছাওরীর বর্ণনা।

=> হাদিসটা বুখারীর এবং সহীহ তাতে কোন সন্দেহ নাই এবং উচ্চস্বরে আমীন বলা হত সে ব্যাপারেও দ্বিমত থাকার কথা না। এটা (দ্বিতীয় দলিল)

----------------------------------------------------------------------------
এদিকে তারই সঙ্গী ইমাম শোবা এর রিওয়াতকে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন, "নবী করীম (স) যখন গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালদদললীন বলতেন তখন আমীন বলতেন। আমীন বলার সময় তার আওয়াজ নিচু হত।" (মুসনাদে আহমদ খ৪, পৃ- ৩১৬। তায়ালিসী, আবু ইয়ালা মওসিলী, তাবরানী ও হাকেম নাসবুর রায়াহ খ১ পৃ- ৩৬৯)

=> উপরোক্ত হাদিস মুসনাদে আহমদ এর। আপনি নিজেই বলছেন হাদিসের সনদ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। যদি হাদিসটি যইফ হয় তাহলে তো সেই হাদিস আমলের অযোগ্য।

যেকোন হাদিস সম্পর্কে দুই একজন ভিন্ন মত দিতে পারেন। তবে আমরা সেটাই গ্রহণ করবো যেটাতে অধিক সংখ্যক মুহাদ্দিস গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন "আল্লাহর রাসুল কে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতো না"। এই হাদিসটি সম্পর্কে দুই একজন পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মুহাদ্দিসই হাদিসটিকে জাল ভিত্তিহীন রেওয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাই যেটা সর্বজনিন ভাবে স্বীকৃত সেটা গ্রহণীয়।

=============================================
সর্বশেষ আপনি বললেন,

জবাব- ৪ ঃ "প্রসিদ্ধ তাবেয়ী 'আতা (রাযিঃ) বলেছেন "আমীন" হলো দু'আ।" এটি আমিন নিঃশব্দে বলার দলীল। স্বঃশব্দে বলার দলীল নয়। কারন -


এবং সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে, "হে লোকেরা তোমরা নম্রতা অবলম্বন কর। তোমরা কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। কেননা তিনি তোমাদের সাথে আছেন্ তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী, বড়ই বরকতময় তার নাম, অতি উচ্চে তার মর্যাদা।"
আতা (র) বলেন আমীন হচ্ছে দুআ। আমীন শব্দের অর্থ কবুল কর। এবং আবু শায়খ হযরত আনাস (রা) হতে মাফুরূপে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, "গোপনের একটি দুআ প্রকাশ্যের সত্তরটি দুয়ার সমান।" (আল আযীযী খন্ড-২)


=> সব দুয়া যে নিঃশব্দে হয় এমন শিউর আপনি হলেন কিভাবে? আতা রাযিঃ শুধু বলেছেন যে আমীন বলা দুয়া। তিনি আর বেশী কিছু বলেন নাই।

কিন্তু আপনি কোরআন দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে আল্লাহ বলছেন আল্লাহ তাআলা বলেন "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো সকাতরে ও নীরবে।"

আপনি যদি বলেন উক্ত আয়াত দিয়ে নিঃশব্দে আমীন বলতে বলা হইছে। তাহলে বলতে হইবো রাসুল সাঃ কেন বললেন কিন্তু এই আয়াত যার উপর নাজিল হইছে তিনি কেন উচ্চ স্বরে আমীন বললেন এবং আমাদের নির্দেশ দিলেন ইমাম "আমীন" বললে তোমরা আমীন বলবা-যেমন

হযরত ওয়াইল ইবন হুজর (রা) এর হাদীস "আমি শুনেছি নবী করীম (স) গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালাদদাললীন বলে আমীন বলেছেন এবং আওয়াজকে টেনেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে সজোরে আমীন বলেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে আমীন বলার সময় তার আওয়াজ উচু হত।


=> তিনি কি তাহলে ভূল করছেন (নাউযুবিল্লাহ)?????

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৪

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু,
উত্তরটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় দু:খ প্রকাশ করছি।

আপনার প্রেরিত মন্বব্যের জবাব-
প্রথম কথা হল আপনি সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমান দেয়ার পরিবর্তে সহীহ হাদীসের আলোকে কিয়াস দ্বারা প্রমান দিয়েছেন। এবং আপনার করা কিয়াসটিও অত্যন্ত দূর্বল।
এবং এর বিপরীতে শক্তিশালী কিয়াস রয়েছে। আপনার কিয়াস মেনে নিলে সহীহ বুখারীর একটি হাদীসের উপর আমল হয় আর আমাদের কিয়াস মেনে নিলে তা কুরআনের ব্যাখ্যা এবং সহীহ বুখারীর দুটি হাদীসের উপর আমল হয়। কোনটি উত্তম ?

আপনি বুখারী শরীফেরই দুটি হাদীস খেয়াল করুন।
ক. হযরত আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্নিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন নামযে ইমাম যখন আমীন বলে তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে তার পূরববতী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
খ. হযরত আব হুরায়রা (রা) কর্তক বর্নিত । রাসুলু্ল্লাহ (সা) বলেছেন ইমাম যখন গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন উচ্চারন করবেন তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা যার কখা ফেরেশতার কথার সাথে মিলে যায় তার পূরববতী সমস্ত গুনাহ মাফ করা হয়।
এখন আপনি দুটি হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করুন। প্রথমটিতে বলা হয়েছে ইমাম যখন আমীন বলে আর ২য় হাদীসটিতে বলা হয়েছে ইমাম যখন "গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন উচ্চারন করবেন" তখন আমীন বলার কথা। এতএব হাদীস দুটি সাংঘষিক হল। এবার হাদীস দুটি উসুলে হাদীসের নিয়ম অনুসারে সমন্বয় সাধন করা দরকার হবে।

আসুন কুরআনের একটি আয়াত খেয়াল করি। আল্লাহ বলেন, যখন তোমরা নামাযে দন্ডায়মান হও অতপর তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ধৌত কর ...।
এখন আপনিই বলুন এটি কিভাবে সম্ভব ? এতএব আয়াতের অর্থ হবে যখন তোমরা নামাযে দন্ডায়মান হওয়ার ইচ্ছা কর। এ অর্থ নেওয়ার পর আর কোন অসুবিধা থাকে না। আমরা কুরআনের এই আয়াতের অনুরুপ ব্যাখ্যা প্রথম হাদীসটির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে ২য় হাদীসটির সাথে আর কোন দ্বন্ধ থাকে না।
অর্থাৎ ইমাম যখন আমীণ বলার ইচ্ছা করবেন তখন মুক্তাদী আমীন বলবেন। আর যদি আমরা এ ব্যাখ্যা যা কুরআনের ক্ষেত্রে সকলেই গ্রহন করেছেন তা হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহন করলে হাদীস দুটির মধ্যে কোন সংঘর্ষ থাকে না।
আর এই দুইটি হাদীসের ক্ষেত্রে তখন অর্থ দাঁড়াবে ইমাম যখন গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন উচ্চারন করবেন এবং আমীন বলার ইচ্ছা করবেন তথন তোমরা আমীন বলবে। অর্থাত ইমামতো গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন উচ্চারন করার পর আমীন বলা ইচ্ছা করবেন আর মুক্তাদী আমীন বলবে এবং সে সময় ইমাম সাহেবও আমিন বলবেন। ফলে ইমাম, মুক্তাদি ও ফেরেশতা সবার আমিন একসাথে হবে।

আর আপনার ব্যাখ্যা হল "ইমাম আমীন বলার পর" কিন্তু তাহলে আরেকটি হাদীসের উপর আমল অর্থাৎ গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালদ দল্লিন পাঠের পর আমীন বলতে হবে এটি কোথায় যাবে ?

আর আপনি যদি এক্ষেত্রেও কোন কিয়াস করতে চান তবে আপনাকে দুটি কিয়াস করতে হবে। তাহলে কোনটি উত্তম? একটি কিয়াস করে উভয় হাদীসের উপর আমল নাকি দুটি কিয়াস করার পরও একটি হাদীসের উপর আমল করার ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হওয়া?

এতএব আমীন সশব্দে বলা প্রমান হল না।

আতা (র) বলেন আমীন হচ্ছে দুআ (এর অর্থ কবুল কর)।
আপনি প্রশ্ন করেছেন যে, "আমাকে কে বলল যে সব দুআ নিরবে হতে হবে ?" ভাই আমিও বলিনা যে সব দুআ নিরবে হতে হবে। তবে এটির উত্তর তো পরপরই ছিল যে হযরত আনাস (রা) হতে মারফূরূপে সহীহ সনদে বর্ননা করেছেন যে গোপনের একটি দুআ প্রকাশ্যের সত্তরটি দুআর সমান। এবং বুখারীর হাদীস। এতএব দুআ সরবে হলে তা নিরবে বলার চেয়ে সত্তরগুন কম ফজিলতপূর্ন হবে।

এবং আপনি ইবন মাজাহর একটি হাদীস বর্ননা করেছেন। যে আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্নিত তিনি বলেন মানুষ আমীন বলা ছেড়ে দিযেছে,অথচ রাসূল (সা) যখন যখন গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন বলতেন তখন আমীন বলতেন এমনকি প্রথম কাতারের লোকেরা শুনতে পেত এবং আমীনের আওয়াজে মসজিদ গুন্জরিত হত।
এই হাদীসটির সনদে সমস্যা রয়েছে।
সনদের সমস্যা হল হাদীসটির একজন রাবী বিশর ইবন রাফে। তার সম্পর্কে বুখারী (র)বলেন হাদীসের ক্ষেত্রে তার অনুগমন করা উচিত নয়। ইবন মাঈন বলেন,সে বহু মুনকার হাদীস রচনা করেছে। ইবন হিব্বান বলেন সে মাওযু হাদীস বর্ননা করে যেন সে এজন্যই নিয়োজিত। (আল মীযান খ ১ পৃ ১৪৭)
তাহযীবুত তাহযীব কিতাবে বলা হয়েছে মুহাদ্দিসদের মতে সে দুর্বল এবং মুনকার হাদীস বর্ননাকারী ।
এবং হাদীসটি আবু দাউদ বিশর ইবন রাফের সুত্রে হাদীসটি হল রাসূলুল্লাহ (সা) যখন গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন তিলওয়াত করতেন তখন আমীন বলেতন।
এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদে বর্ননা করেছেন বিশর ইবন রাফে হতে । সেখানেও এমনকি মসজিদ গুন্জরিত হত কখাটি নেই।

অতএব, আপনার উল্লেখিত এ হাদীসটি মাওজু (বানোয়াট) কমপক্ষে মুনকার। অতএব দলীল উপযোগী নয়।

ভাই আপনি বলেছেন, আমি কোথাও বলি নাই আমীন বলা কম ফযিলতপূর্ণ। বরং বলেছি হাদিসটি বলছে "ইমাম যখন আমীন বলে তোমরাও আমীন বল"।

ভাই আমিও বলি নাই যে আপনি বলেছেন কম ফযিলতপূর্ন। বরং আমি জবাবের শুরুতে আপনার সাথে যে বিষয়ে আমি সহমত পোষন করি তাই উল্লেখ করেছি মাত্র। আমার জবাবটি আবার পড়ুন, আশা করি বুঝতে পারবেন।

তার মানে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলছেন ইমামের আমীন শুনে তারপর তোমরাও ইমামের সাথে সাথে আমীন বল।
আপনার এ বক্তব্য উল্লেখিত ২য় হাদীসটি যা সহীহ বুখারীর তার উপর আমলে বাধা প্রদান করে। কারন ইমাম যখন গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লিন উচ্চারন করবেন তখন তোমরা আমীন বলবে।
হাদীসের একথার উপরে আমল করা সম্ভব হয় না। বরং আরো একটি কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আপনার কিয়াসের কারনে হাদীসের উপর আমল রদ করতে হয়। এতএব আপনার কিয়াস গ্রহনযোগ্য নয়।

ভাই আপনি বলেছেন, "আমি যদি শুনতেই না পাই কখন ইমাম আমীন বললো তাহলে এই হাদিসের তো কোন দরকার হয় না।"

এ হাদীসের দরকার হয় কারন যিনি ইমাম হবেন তিনি আমীন বলবেন কিনা তা এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝে আসে।

ভাই আপনি বলেছেন, "আর এখানে আপনি যদি বলেন ইমাম নিঃশব্দে আমীন বলছে তাহলে উপরের হাদিসটির তো আরো অনেকগুলো লাইন আছে। সেগুলো কি করবেন? যেমন বলা আছে "ইমাম যখন বলে "সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ" তখন তোমরা বলো রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।" এখানেও তো নিঃশব্দে বা স্বশব্দে ষ্পষ্ট করে উল্লেখ নাই।
এখানে যদি সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ কে স্বশব্দে ধরে নেন তাহলে আমীন কে কোন যুক্তিতে নিঃশব্দে ধরে নিবেন?"

জবাব : প্রথম কথা আপনি বললেন হাদীসটির আরো অনেকগুলো লাইন আছে যেমন বলা আছে ইমাম যখন বলে "সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ" তখন তোমরা বলো রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। এই লাইনগুলো আলোচ্য হাদীসটিতে কোথায় কোন গ্রন্থে আছে ? দয়া করে জানাবেন। তারপর ইনশাআল্লাহ সে মুতাবেক উত্তর প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয়ত : এই হাদীসটি দেখুন :
হযরত আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বনিত। রাসূলুল্লাহ (সা) যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে শুরু করতেন। তারপর যখন রুকুতে যেতেন তখনও তাকবীর বলতেন এবং প্রথম রাকাতে রুকু হতে উঠবার সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন। এরপর দন্ডায়মান অবস্থায়ই রব্বনা লাকাল হামদ বলতেন। তারপর সিজদার জন্য অবনত হওয়াকালীন , সিজদা হতে মস্তক উত্তোলনকালীন এবং পুনরায় সিজদাগমনকালীন তাকবীর বলতেন। পরে সিজদা হতে মাথা তোলার সময় আবার তাকবীর বলতেন এবং এভাবেই সম্পুর্ন নামায শেষ করতেন। (সহীহ বুখারী)
এখানেতো বলা রাসূল (সা) সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ এবং রব্বনা লাকাল হামদ দুটি ব্যপারেই বলা হয়েছে বলতেন। অথচ রাব্বনা লাকাল হামদকে নিশব্দে বলা হয় আর সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহকে সশব্দে বলা হয়। এতএব শুধুমাত্র বলতেন শব্দটি দ্বারা সশব্দে প্রমান হয় না।

জবাব- ২ ঃ ইমাম বুখারী (র) বর্ণিত যা তিনি তার সহীহ বুখারীতে উল্লেখ করেননি। ঝুলন্ত হাদীস রূপে বর্ণনা করেছেন আতা হতে। আর আবদুর রাযযাক যুক্তরূপে বর্ণনা করেছেন ইবন জুবায়ের হতে। তিনি আতা হতে। তিনি বলেন আমি তাকে (আতাকে) জিজ্ঞাসা করলাম ইবন জুবায়ের (রা) কি উম্মুল কুরআনের পর আমীন বলতেন। তিনি বললেন হ্যা আর তার পেছনে যারা থাকত তারাও আমীন বলতো, এমনকি গুঞ্জরন হতো। কিন্তু এখানে উল্লেখ্য সাহাবাদের মধ্যে ওমর (রা), আলী (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) নিঃশব্দে আমীন বলতেন। আর অনুকরনীয় হিসাবে (যেহেতু তারা অধিক পরিমানে রাসূল (স) এর কাছে ছিলেন এবং তারা ফকীহ ছিলেন যার ফলে সঠিক অনুধাবনে সক্ষম ছিলেন) অধিক উপযুক্ত। তাছাড়া তাবারীর বক্তব্য যে, অধিকাংশ সাহাবী ও তাব্ঈ নিঃশব্দে আমীন বলতেন।

ভাই আমার পাঠানো উপরোক্ত দলীলের প্রেক্ষিতে আপনি বলেছেন,
"উপরোক্ত হাদিসের মেইন ফেক্ট হচ্ছে আল্লাহর রাসুলের সাহাবা ইবন জুবায়ের যখন ইমামতি করতেন তখন জোরে আমীন বলতেন। এ থেকে আমরা আল্লাহর রাসুলের সাহাবাদের সালাতের জোরে আমীন সংক্রান্ত দলিল/ বর্ণনা পাই। (প্রথম দলিল)"

জবাব : আপনি হাদীসটি থেকে রাসূলের সাহাবাদের জোরে আমীন বলার প্রমান পেলেন। আর তাবারীর বক্তব্য অধিকাংশ সাহাবী ও তাবিঈ নিশব্দে আমীন বলতেন এই বক্তব্যটি থেকে রাসূলের সাহাবাদের আস্তে আমীন বলার প্রমান পেলেন না ? বরং অধিকাংশ সাহাবী এবং তাবেঈ এর মতামত অবলম্বন করা কি কমসংখ্যক সাহাবা ও তাবিই এর মত অবলম্বন করা থেকে উত্তম নয় কি ?
এবং আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের (রা) এর রাজধানী ছিল মক্কা। তার থেকেই মক্কায় জোরে আমীন বলার রেওয়াজ চালু হয়। এবং তিনি ছিলেন অল্পবয়সী সাহাবী।
পক্ষান্তরে মদীনার অবস্থা ছিল ভিন্ন। সেখানে রাসূল (সা) নিজে নামাজ পড়িয়েছেন এর পর খোলাফায়ে রাশেদীন নামায পড়িয়েছেন। এবং ইমাম মালেক (র) যিনি খবরে ওয়াহিদ পর্যায়ের হাদীসের উপর মদীনাবাসীদের আমল প্রাধান্য দিয়েছেন তার মাযাহাব হল আমীন আস্তে পড়া। এতএব এটা স্পষ্ট যে সাহাবী এবং তাবেঈগনের ধারাবাহিকতায় ইমাম মালেক (র) মদীনায় আস্তে আমীন বলা দেখেই আমীন আস্তে পড়তে হবে বলে মত দিয়েছেন।

ভাই আমার পাঠানো উপরোক্ত দলীলের প্রেক্ষিতে আপনি বলেছেন, "সাহাবাদের মধ্যে ওমর (রা), আলী (রা) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) অনুকরণীয় যেহেতু তারা অধিক পরিমাণে রাসুল সাঃ এর কাছে ছিলেন এবং আপনি তাদের অধিক উপযুক্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আর আল্লাহ কোরআনে সূরা তাওবার ১০০ নং আয়াতে বলেছেন,
যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী এবং আনসারদের মাঝে পুরাতন এবং যারা তাদের ""অনুসরণ""" করেছে আল্লাহ সেই সব লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।"

জবাব- ভাই আলোচনার এ স্থানে এসে খুবই খারাপ লাগল একারনে যে আপনি আমার এ বক্তব্য এমনভাবে খন্ডন করেছেন যে, ইবনে যুবায়ের (রা) এর মযাদা ওমর (রা), আলী (রা) এর চেয়ে বেশী।

আপনার কথাটি অবশ্যই ভূল কেননা-
আপনি যে আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেছেন সেখানে লক্ষ করুন (“যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী”) বহুবচনে বলা হয়েছে । আর আমরা অধিকাংশ সাহাবীর আমলের উপর আমল করছি এ সকল সাহাবীরা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছেন। (আলী (রা) পরে হিযরত করার কারন ব্যাখ্যা করা হয়েছে)
অতএব, যদি আপনার বক্তব্য মেনে নিই তাহলেও আমরাই আয়াতটির উপর অধিক পরিমানে আমল করছি। আর আপনি অল্প পরিমানে আমল করছেন।

আপনি কুরআনের আলোকে যুক্তি পেশ করেছেন কুরআনে ঈমান আনয়নে যারা অগ্রগামী তাদের কখা বলা হয়েছে আর আলী (রা) ইমান আনয়নে নিসন্দেহে অগ্রগামী। তাহলে তার মর্যাদা ইবনে যুবায়ের (রা) থেকে বেশী হল না কেন ?

অথচ আল্লাহ বলেছেন, “অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামীই” (সুরা ওয়াকিয়াহ)। যারা অগ্রে ঈমান আনয়ন করেছেন তাদের মর্যাদা অবশ্যই বেশী এবং আলী (রা) এর কথা আমি বলেছি। যিনি সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীদের একজন। আপনি ইবনে জুবায়ের (রা) হিযরত কখন করেছেন, তিনি হিযরতের ক্ষেত্রে অগ্রগামী কিনা তা জানাবেন। এবং আলী (রা) পরে হিযরত করেছেন মদীনায়। কিন্তু তা রাসূল (স)-এর নিদের্শেই। সমগ্র উম্মাহর মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক (রা) সবচেয়ে সম্মানীত সবচেয়ে অনুকরণীয়। কিন্তু তিনি হিযরত করেছেন পরে। কেননা তা রাসূলের নির্দেশ ছিল।

এরপর খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন চার খলিফার মর্যাদা এবং তারা যে অন্য যে কারো তুলনায় অধিক অনুসরনের যোগ্য তাতে মুসলিম উম্মাহ একমত। অবশ্য শীয়াদের মতভিন্নতা আছে। আপনি নিশ্চয় সে মতের অনুসারী নন। এতএব এ সম্পর্কে আর অপব্যখ্যা করবেন না। আপনার এ ব্যাখ্যা খুবই মারাত্মক এবং জঘন্য হয়েছে।

এবার আসুন ফিকহী যোগ্যতায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) এর যোগ্যতা দেখি :
বুখারী শরীফে হযরত হুযায়ফা বিন শোরহবিল বলেন হযরত আবু মুসা আশআরী (রা) কে একবার মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি উত্তর দিলেন। তবে প্রশ্নকারীকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) মতামত জেনে নেয়ারও নিদেশ দিলেন । হযরত ইবনে মাসউদের বরাবরে বিষয়টি পেশ করা হলে তিনি বিপরীত সিদ্ধান্ত দিলেন। হযরত আবু মুসা আশআরী (রা) সব বিষয় অবগত হয়ে হযরত ইবনে মাসউদের উচ্চাসিত প্রশংসা করে বললেন , এ মহা জ্ঞান সমুদ্র যত দিন বিদ্যমান আছেন ততদিন আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করো না । (বুখারী : কিতাবুল ফরাযেজ ২। মুসনাদে আহমাদ ।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ (র) বলেন : কোন বিষয়ে মতানৈক্য হলে দেখো, হযরত ওমর কি করেছেন, তাকেই তোমরা অনুসরন করবে।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত ইব্রাহিম নাখাই (র) এর অনুসৃত নীতি প্রসংগে ইমাম আমশ (র) বলেন: হযরত ওমর (রা) ও ইবনে মাসউদ (রা) সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মুকাবেলায় কাউকে তিনি বিশেষ গুরত্ব দিতেন না।

এখানে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে নচেৎ যে তিন সাহাবী (রা) নাম আমি পেশ করেছি তাদের ফিকহী যোগ্যতা যে কতটুকু এবং এ যোগ্যতার কারনে যে অন্যান্য সাহাবী (রা)গন তাদের অনুসরন করতেন সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করতাম।

ভাই আপনি বলেছেন,উক্ত আয়াতে প্রথম দিকের সাহাবাদের বেশী মর্যাদা দেওয়া হইছে।

জবাব- আলী (রা) কি দ্বিতীয় দিকের সাহাবা।এ ধরনের উত্তর কেন দিলেন ?

ভাই আপনি বলেছেন, "ইবনে যোবায়ের (রা) হলেন আয়েশা রাঃ এর জেষ্ঠ্যা ভগ্নিপতি এবং রাসুল (সাঃ) এর ফুফু তনয় ভ্রাতা। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর মুখে আনুষ্ঠাঠিকভাবে বেহেশতের ঘোষনাপ্রাপ্ত দশ জনের একজন। খলিফা ওমর রাঃ এর সময় ইয়ারমুক এলাকায় যে জিহাদ হয়েছিল সেখানে তিনিও ছিলেন। যেহেতু তিনি প্রথম দিকের সাহাবা এবং রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায়ও তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরবর্তীতেও তিনি জীবিত ছিলেন।"

আমরা তার মর্যাদা সম্পকে পূর্ন সচেতন। নিসন্দেহে তিনি অধিক সম্মানিত সাহাবাগনের একজন। তবে রাসূল (সা) এর সাহাবাগনের মধ্যে তার বয়স অল্প ছিল।

ভাই আপনি বলেছেন, "তাই তার এই বর্ণনাকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোন মানে হয় না।"

জবাব-আমরা তার এই বর্ননাকে হালকাভাবে নেয়নি। বরং আমরা বলেছি যেহেতু অধিকাংশ সাহাবীগন এবং তাবেঈগন যেহেতু আমীন নিম্নস্বরে বলেছেন তাই আমীন নিম্নস্বরে পড়া উত্তম। এবং যেহুতু আমীন দুআ। যার মুল হল আস্তে পড়া। এবং উম্মাহর ফকীহ (সুক্ষজ্ঞানী ) সাহাবীগন এবং বেশীর ভাগ সাহাবীগন আস্তে আমীন বলেছেন তাদের অনুসরন যে উত্তম সে সম্পর্কে উপরে বর্ননা করা হয়েছে।

ভাই আপনি বলেছেন, "তার উপর তিনি করেছেন ইমামতি।"

জবাব- উমর (রা), আলী (রা), আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) আরো উত্তম ইমামতের অধিকারী ছিলেন এ বিষয়ে উম্মাহ একমত।

এবং যখন মুজতাহিদের নিকট দুটি দলিল পারষ্পরিক সাংঘর্ষিক হবে তখন সংঘষ যদি দুটি আয়াতের মধ্যে হয় তাহলে সুন্নাহর প্রতি ধাবিত হবে। আর যদি দুটি হাদীসের মধ্যে তাআরুয(সংঘর্ষ) হয় তাহলে সাহাবা কেরামের আছর তথা উক্তি বা আমলের দিকে রজ্জু হবে।

ভাই আপনি বলেছেন,
"হযরত ওয়াইল ইবন হুজর (রা) এর হাদীস "আমি শুনেছি নবী করীম (স) গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালাদদাললীন বলে আমীন বলেছেন এবং আওয়াজকে টেনেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে সজোরে আমীন বলেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে আমীন বলার সময় তার আওয়াজ উচু হত।" হাদীসের শব্দগুলো সুফিয়ান ছাওরীর বর্ণনা।
=>হাদিসটা বুখারীর এবং সহীহ তাতে কোন সন্দেহ নাই এবং উচ্চস্বরে আমীন বলা হত সে ব্যাপারেও দ্বিমত থাকার কথা না। এটা (দ্বিতীয় দলিল)"

জবাব- হাদীসটা বুখারীর একথা দ্বারা কি বোঝাতে চাইলেন ? সহীহ বুখারীর ? সহীহ বুখারীতে এ হাদীস ঠাই পায়নি এমনকি সহীহ মুসলিমেও নয়। আমাদের সমাজের কিছু লোক কথায় কথায় সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের দলীল খোজে। অথচ এ হাদীস সেখানে ঠাই পায়নি। কারন হাদীসটি সম্পর্কে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।দেখুন হাদীসটি কোন কোন বর্ননায় বলা হচ্ছে সজোরে বলেছেন কোন বর্ননায় আওয়াজ উচু হত আর কোন বর্ননায় আওয়াজকে টেনেছেন। স্পষ্টভাবেই হাদীসটিতে শব্দগত বিভ্রাট রয়েছে আর আপনি বললেন কোন সন্দেহ নাই সহীহ।
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল এ বর্ননা থেকে ইয়ামুদ্দু বিহা সাওতাহু গ্রহন করেছেন। রফাআ বিহা সাওতাহু(আওয়াজকে উচু করেছেন) এ বর্ননা গ্রহন করেননি। এবং ইয়ামুদ্দু বিহা সাওতাহু (তিনি তার স্বরকে দীর্ঘ করেছেন ) এ বর্ননা গ্রহন করেছেন।
এবার লক্ষ্য করুন এ হাদীসটির রাবী সুফিয়ান সাওরী (র)এর মাযহাব হল আমীন নিচু স্বরে পড়া। এখন তার বর্নিত হাদীস দ্বারা যদি আপনি দলীল গ্রহন করেন যে আমীন উচু স্বরে পড়তে হবে তবে বিষয়টি এমন হল যে হয় সাওরী (র) হাদীস মানছেন না অথবা আপনারা হাদীসটি ভূল বুঝেছেন। সাওরী (র) যদি এমন ব্যক্তি হয় যে তিনি হাদীস মানেন না তবে তার মত ব্যক্তি থেকে গ্রহন করা হাদীস কিছু্তেই সহীহ নয়।
আসল বিষয় হল যে, যা ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল তার বর্ননায় গ্রহন করেছেন অর্থাত রাসূল (সা) স্বরকে দীর্ঘ করেছেন। এবং এই দীর্ঘর অর্থ রাসূল (সা) শব্দটিকে মদ বা দীর্ঘ আলিফ যোগে টেনে পড়েছেন। হ্রস্ব আলিফ যোগে নয়। এবং এ ব্যাখ্যা গ্রহন ছাড়া হাদীসটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহে পড়তে হবে। কারন হাদীসের রাবীর মাযহাব হল আস্তে আমীন পড়া।যদি তিনি জোরে আমীন পড়ার হাদীসই বর্ননা করতেন তবে তার মাযহাব জোরে আমীন পড়া হত।

এদিকে তারই সঙ্গী ইমাম শোবা এর রিওয়াতকে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন, "নবী করীম (স) যখন গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালদদললীন বলতেন তখন আমীন বলতেন। আমীন বলার সময় তার আওয়াজ নিচু হত।" (মুসনাদে আহমদ খ৪, পৃ- ৩১৬।
তায়ালিসী, আবু ইয়ালা মওসিলী, তাবরানী ও হাকেম নাসবুর রায়াহ খ১ পৃ- ৩৬৯)

ভাই আপনি বলেছেন,
=> "উপরোক্ত হাদিস মুসনাদে আহমদ এর। আপনি নিজেই বলছেন হাদিসের সনদ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। যদি হাদিসটি যইফ হয় তাহলে তো সেই হাদিস আমলের অযোগ্য।"

জবাব- আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পারেননি, অথবা আমি আপনাকে বুঝাতে পারিনি। এখানে আমি যে বলেছি সনদগত বিভ্রাট রয়েছে সেটি উপরোক্ত দুটি হাদীসের মাঝে। অর্থাত সুফইয়ান সাওরীর সনদ এবং শোবার সনদে মতপাথক্য আছে। এবং শোবার ব্যাপারে
তিরমিযী (র) বলেন, আলী বলেন আমি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, দীর্ঘ হাদীসের ক্ষেত্রে হাদীসের ক্ষেত্রে দুজনের কে অধিক সংরক্ষনকারী? সুফিইয়ান না শোবা? তিনি বলেন দীর্ঘ হাদীসের ক্ষেত্রে শোবা অধিকতর সাবলীল।
ইয়াহইয়া ইবন সাইদ বলেন অমুক হতে অমুক সনদে রিজালের ক্ষেত্রে শোবা অধিক অবহিত। পক্ষান্তরে সুফিয়ান ছিলেন বিভিন্ন বিষয়ের হাদীসের অধিকারী।
ইমাম আহমদ হতে আবু তালিব বলেন হিকমত ও প্রজ্ঞা সংক্রান্ত হাদীসের ক্ষেত্রে শোবা আমশ এর চেয়ে বেশি সুদৃঢ় এবং বেশী অবগত ছিলেন। শোবা না হলে প্রজ্ঞা বিষয়ক হাদীস বিলুপ্ত হত। আর হাদীস বর্ণনায় শোবা সাওরীর চেয়ে বেশি উত্তম। শোবার যামানায় হাদীসের ক্ষেত্রে তার মত কেউ ছির না এবং তার চেয়ে উত্তম হাদীসের অধিকারী কেউ ছিল না্ তাকে হাদীসের বিরাট অংশ দান করা হয়েছিল।
মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস নাসাঈ বলেন আবু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, "কে অধিক সুদৃঢ়? শোবা না সুফিআন।" তিনি বললেন, "সুফিয়ান হাফিয ছিলেন এবং সৎ ছিলেন। তবে শোবা তার চেয়ে সুদৃঢ় ছিলেন এবং তার চেয়ে অধিক মুত্তাকী ছিলেন।
আর আবদুল্লাহ ইবন আহমদ তার পিতা হতে বলেন, "এই বিষয়ে অর্থাৎ রিজাল বিষয়ে এবং হাদীসের প্রতি গভীর দৃষ্টি ও সুসংহতির ক্ষেত্রে এবং রিজাল বাছায়ের ক্ষেত্রে মোবা একাই জামাত ছিলেন।
আর হাম্মাদ ইবন যায়দ বলেন শোবা যদি আমার সাথে অভিন্ন মত হন তাহরে কে আমার সাথে মতভিন্নতা করল আমি পরওয়া করিনা। হ্যাঁ শোবা যদি আমার সাথে কোন বিষয়ে মতভিন্নতা করেন তাহরে আমি তা বর্জন করি।
আবু দাউদকে জিজ্ঞাসা করা হল হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি (শোবা) সুফিয়ান থেকে উত্তম? তিনি বললেন,"দুনিয়াতে কেউ শোবা ও মালিকের চেয়ে উত্তম হাদীসের অধিকারী নন। যদিও তা সংখ্যায় কম।
আরেকটি কারনে শোবার হাদীস সুফিয়ানের হাদীসের উপর অগ্রাধিকার যোগ্য। তা হল শোবা কখনো তাদলীস করতেন না। দুর্বলদের থেকেও না, সিকাহদের থেকেও না। তা সত্বেও তিনি "খবর প্রদান" শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পক্ষান্তরে সুফিয়ান কখনো কখনো "তাদলীস" করেন এবং "আনআন" ব্যবহার করেন।

ভাই আপনি বলেছেন,
"যেকোন হাদিস সম্পর্কে দুই একজন ভিন্ন মত দিতে পারেন। তবে আমরা সেটাই গ্রহণ করবো যেটাতে অধিক সংখ্যক মুহাদ্দিস গুরুত্ব দিয়েছেন।"

জবাব- হাদীস যদি সনদ এবং মতনের দিক থেকে শক্তিশালী না হয় তবে কেন তা গুরত্ব দেয়া হবে ? অধিকের তালিকায় যদি গুরত্ব দিতে হয় তবে সাহাবীদের অধিকের তালিকাকে গুরত্ব দেয়া যারা রাসূল (সা) থেকে দেখে সালাত শিখেছেন এবং ফকীহ সাহাবীদের গুরত্ব দেয়া যারা অধিক অনুধাবনে সক্ষম ছিলেন।আর যেখানে বর্ননাকারী স্বয়ং তার বনর্নাকে গুরত্ব দেননি (আপনাদের ব্যাখ্যার) সেখানে আপনি অন্য মুহাদ্দিস বেশী সংখ্যক হলে গুরত্ব দিতে চান ?

ভাই আপনি বলেছেন,
"যেমন "আল্লাহর রাসুল কে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতো না"।
এই হাদিসটি সম্পর্কে দুই একজন পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মুহাদ্দিসই হাদিসটিকে জাল ভিত্তিহীন রেওয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাই যেটা সর্বজনিন ভাবে স্বীকৃত সেটা গ্রহণীয়।"


জবাব- অবশ্যই জাল রেওয়ায়েত আমরাও জাল বলি। আর মাউযু বা জাল বর্ননা চেনার উপায় হল বর্ননাকারী নিজে তা বলে দেওয়া কিংবা অপর কোন শক্তিশালী বর্ননার বিপরীত হওয়া ইত্যাদী।
এখন দেখুন নিচের বর্ননাগুলো যা সবজন স্বীকৃত তার বিপরীতে অবস্থান করছে আপনার বনর্না।

=============================================
আমি বলেছি,
"প্রসিদ্ধ তাবেয়ী 'আতা (রাযিঃ) বলেছেন "আমীন" হলো দু'আ।" এটি আমিন নিঃশব্দে বলার দলীল। স্বঃশব্দে বলার দলীল নয়। কারন - এবং সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে, "হে লোকেরা তোমরা নম্রতা অবলম্বন কর। তোমরা কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। কেননা তিনি তোমাদের সাথে আছেন্ তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী, বড়ই বরকতময় তার নাম, অতি উচ্চে তার মর্যাদা।" আতা (র) বলেন আমীন হচ্ছে দুআ। আমীন শব্দের অর্থ কবুল কর। এবং আবু শায়খ হযরত আনাস (রা) হতে মাফুরূপে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, "গোপনের একটি দুআ প্রকাশ্যের সত্তরটি দুয়ার সমান।" (আল আযীযী খন্ড-২)"

আপনি বললেন,
=> "সব দুয়া যে নিঃশব্দে হয় এমন শিউর আপনি হলেন কিভাবে? আতা রাযিঃ শুধু বলেছেন যে আমীন বলা দুয়া। তিনি আর বেশী কিছু বলেন নাই।"

জবাব- আতা (রা) আর বেশী কিছু বলেন নাই। কিন্তু বাকিরা যে বলছে, কুরআনে যে আয়াত আছে, রাসূল (সা) এর যে সহীহ এবং স্পষ্ট হাদীস আছে তা কি আপনি দেখছেন না।
এত মযবুত দলীলের বিপরীতে এত দুর্বল দলীল কেন গ্রহন করছেন।

আপনি বললেন,
"কিন্তু আপনি কোরআন দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে আল্লাহ বলছেন আল্লাহ তাআলা বলেন "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো সকাতরে ও নীরবে।"
আপনি যদি বলেন উক্ত আয়াত দিয়ে নিঃশব্দে আমীন বলতে বলা হইছে। তাহলে বলতে হইবো রাসুল সাঃ কেন বললেন কিন্তু এই আয়াত যার উপর নাজিল হইছে তিনি কেন উচ্চ স্বরে আমীন বললেন এবং আমাদের নির্দেশ দিলেন ইমাম "আমীন" বললে তোমরা আমীন বলবা-যেমন
হযরত ওয়াইল ইবন হুজর (রা) এর হাদীস "আমি শুনেছি নবী করীম (স) গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালাদদাললীন বলে আমীন বলেছেন এবং আওয়াজকে টেনেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে সজোরে আমীন বলেছেন। আরেক বর্ণনায় আছে আমীন বলার সময় তার আওয়াজ উচু হত।"

জবাব-
ভাই আপনি প্রশ্ন করেছেন এই আয়াত যার উপর নাযিল হয়েছে তিনি কেন উচ্চস্বরে আমীন বললেন ? ভাই তিনি তো উচ্চস্বরে আমীন বলেননি বরং কুরআনের আয়াত অনুযায়ী নিম্নস্বরে বলেছেন। আপনি এমন একটি হাদীস দ্বারা এ কথাটি বলছেন যে হাদীস সম্পর্কে আলোচনা পূবেই করা হয়েছে যে হাদীসটির বিভিন্ন বর্ননায় বিভিন্ন মতন পাওয়া গেছে। এবং হাদীসটি কোন মতনে হাসান পযায়ের হতে পারে তা উপরে দেয়া হয়েছে।
যে হাদীসটিতে এত মতন বিভ্রাট সেটি দিয়ে আপনি কুরআনের আয়াতের হুকুমের বিপরীত করতে চান ?
এখানে একটি বিষয় জানিয়ে রাখি যে , হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা) ইয়ামেনের শাহজাদা ছিলেন। প্রথমবার যখন তিনি দরবারে নববীতে হাজির হন তখন নবীজি তাকে অভ্যথনা জানান। এমনকি তার আগমনের আগেই নবীজি সাহাবায়ে কিরামকে এ সুসংবাদ দেন। তিনি কিছুদিন নবীজি (সা) এর দরবারে থাকেন এবং দ্বীনি তালিম অর্জন করে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

আপনি আরেকটা হাদিস দিলেন-
Narrated AbuHurayrah: When the Apostle of Allah (peace_be_upon_him) recited the verse "Not of those with whom Thou art angry, nor of those who go astray," he would say Amin so loudly that those near him in the first row would hear it. (আবু দাউদ হাদিস নং-0934)
এবং আপনি বললেন,দ
উপরোক্ত হাদিসটিও বলছে যে রাসুল সাঃ জোরে আমীন প্রথম সারির সাহাবার সেটা শুনতে পারতো।

জবাব-
ভাই Abdullah Arif Muslim, হাদীসটি লক্ষ্য করূন :
হযরত আবদুল্লাহ ইবন আবু কাতাদাহ (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী কারীম (সা) যোহর এবং আসরের নামাযের প্রথম দুরাকাত সুরা ফাতেহা এবং তার সাথে আর একটি করে অন্য সুরা পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পড়তেন এবং প্রথম রাকাত লম্বা করতেন। (সহীহ বুখারী শরীফ।)

এবার আসুন আমরা আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করি :যাদুল ম্আদ কিতাবে হাফিয ইবনুল কায়্যিম বলেন ,ইমাম যদি মুক্তাদীকে শিক্ষা দানের জন্য মাঝে মাঝে আমীন সশব্দে উচ্চারন করেন তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই। কারন ওমর (রা) মুক্তদীদেরকে শিক্ষা দানের জন্য মাঝে মধ্যে সানা সশব্দে পড়েছেন। আর ইবন আব্বাস (রা) সালাতুল জানাজায় ফাতিহা সশব্দে পড়েছেন যেন সবাই শিখতে পারে যে ফাতিহা পড়া সুন্নাত। (খ;১ পৃ :৭১)
এবং ওয়াইল বিন হুজর (রা) সামান্য সময় নবীজির (সা)্এর দরবারে ছিলেন। এতএব এ সময় যদি রাসূল (সা) আমীন সশব্দে বলা মেনেও নেয়া হয় তবু এটি কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হবে।
আবু সাকান হাজার ইবন আনবাস সাকাফী হতে বর্নিত। তিনি বলেন আমি ওয়াইল ইবন হাজার আল হাযরামীকে বলতে শুনেছি (তিনি বলেন) আমি রাসূল(সা) কে দেখেছি যখন তিনি নামাজ থেকে ফারেগ হলেন এমনকি আমি তার এই দিকের গন্ডদেশ এবং ঐ দিকের গন্ডদেশ দেখেছি। তিনি গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালদ দললিন বললেন তারপর আমীন বললেন, এমন অবস্থায় যে আমীন উচ্চস্বরে তিনি তার আওয়াজ লম্বা করেছেন। আমি মনে করি যে তিনি আমাদের শুধু শিক্ষা দিচ্ছিলেন। (কিতাবুল আসমায়ী ওয়াল কিনী)।


আপনার উল্লেখিত হাদীসটির পযালোচনা পরে করব। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফিয।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৫

আবদুস সবুর খান বলেছেন: অথচ আল্লাহ বলেছেন, “অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামীই” (সুরা ওয়াকিয়াহ)।

যারা অগ্রে ঈমান আনয়ন করেছেন তাদের মর্যাদা অবশ্যই বেশী এবং আলী (রা) এর কথা আমি বলেছি।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৭

আবদুস সবুর খান বলেছেন: মাসউদের উচ্চাসিত প্রশংসা করে বললেন , এ মহা জ্ঞান সমুদ্র যত দিন বিদ্যমান আছেন ততদিন আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করো না ।
(বুখারী : কিতাবুল ফরাযেজ
২।
মুসনাদে আহমাদ ।

৩| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪২

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: আরেকটা হাদিস:-

Narrated AbuHurayrah: When the Apostle of Allah (peace_be_upon_him) recited the verse "Not of those with whom Thou art angry, nor of those who go astray," he would say Amin so loudly that those near him in the first row would hear it. (আবু দাউদ হাদিস নং-0934)

উপরোক্ত হাদিসটিও বলছে যে রাসুল সাঃ জোরে আমীন প্রথম সারির সাহাবার সেটা শুনতে পারতো।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৯

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনার আগের জবাবের মন্তব্য দেখুন। ধন্যবাদ।

৪| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৪৩

ত্রিশোনকু বলেছেন: কই লিখেন আর না লিখেন!

সামু আবার রাহামাতুল্লা আলাইহে হিলো কবে যে লিখছেনঃ
সামুরা (রা)

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:১৮

আবদুস সবুর খান বলেছেন: ত্রিশোনকু ভাই, সামুরা (রা) একজন সাহাবীর নাম। ধন্যবাদ

৫| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:০৭

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে। জাজাকাল্লাহ। বিস্তারিত কিছুদিন পরে লিখবো। একটু ব্যস্ত আছি। আবারো ধন্যবাদ আপনার কষ্টের জন্য।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:১০

আবদুস সবুর খান বলেছেন: আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। ধন্যবাদ

৬| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৪৩

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: সবুর ভাই, খোলাফায়ে রাশেদীনগণ যে নিম্নস্বরে আমিন পড়তেন তার দলিল কি? আপনি কি এটা কিয়াস করে বের করেছেন নাকি কোন সহিহ দলিল আছে?

০৫ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ২:৫২

আবদুস সবুর খান বলেছেন: তাছাড়া তাবারীর বক্তব্য যে, অধিকাংশ সাহাবী ও তাব্ঈ নিঃশব্দে আমীন বলতেন।

পক্ষান্তরে মদীনার অবস্থা ছিল ভিন্ন। সেখানে রাসূল (সা) নিজে নামাজ পড়িয়েছেন এর পর খোলাফায়ে রাশেদীন নামায পড়িয়েছেন। এবং ইমাম মালেক (র) যিনি খবরে ওয়াহিদ পর্যায়ের হাদীসের উপর মদীনাবাসীদের আমল প্রাধান্য দিয়েছেন তার মাযাহাব হল আমীন আস্তে পড়া। এতএব এটা স্পষ্ট যে সাহাবী এবং তাবেঈগনের ধারাবাহিকতায় ইমাম মালেক (র) মদীনায় আস্তে আমীন বলা দেখেই আমীন আস্তে পড়তে হবে বলে মত দিয়েছেন।

উপরের বক্তব্য দুটি খেয়াল করুন। একটি ইমাম জারীর ইবনে তাবারীর যিনি বহু উচু মাপের ঐতিহাসিক হিসেবে খ্যাত এবং আর একটি বক্তব্যে খেয়াল করুন যেখানে সর্বপ্রথম সংকলিত সহীহ হাদীস গ্রন্থ মুয়াত্তা মালিকের লেখক ইমাম মালিক (র) এর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। যিনি সেই সময়কার মদীনাবাসীদের আমলের উপর ভিত্তি করে তার রায় দিতেন। আশা করি ব্যপারটি বুঝতে পারছেন যে, এটি আমার কিয়াস নয়।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.