নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মকথক

আজন্ম আত্মসচেতনতার সংগ্রামে নিবেদিত

আত্মকথক

সদা আত্মসচেতন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নে ও সংগ্রামে বিভোর

আত্মকথক › বিস্তারিত পোস্টঃ

টাকার আত্মকথাঃ আমি শক্তি, আমি অসীম, আমি টাকা

২৮ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৫

অধিকাংশ মানুষ ভাবে যে তারা আমাকে চিনে; আসলে তা নয়।



অধিকাংশ মানুষ যা চিন্তা করে- আমি তা নই। আমি তোমাদের মানিব্যাগে কচকচে কাগজের নোট নই, পার্সে পয়সার ঝনঝনানি নই, তোমাদের ব্যাংক একাউন্টে বসে নেই যে আশা করছো আমাকে একদিন ব্যবহার করবে।



তোমরা আমাকে দেখতে পার না, অনুভব করতে পার না, এমনকি ছুঁতেও পার না। কারণ আমি একটি ধারণা মাত্র— আমি শক্তি!

আমি ভালোও নই, মন্দও নই। আমি শুধু তাই যা তোমরা সিদ্ধান্ত নাও এবং সেই নিয়মটাই আমি পরিপূর্ণ করি যা তোমরা আমার জন্য তৈরি কর।



হেই, তুমি কতটুকু স্মার্ট— আমি থোড়ই কেয়ার করি; তুমি কোথায় থাকো, কী কর, কোত্থেকে এসেছো- এগুলো আমার ধর্তব্য বিষয় নয়। যা আমি কেয়ার করি তা হচ্ছে তোমার শক্তি।

তোমার শক্তি-ই নির্ধারণ করে তোমার চিন্তার ধরণ, আর একইভাবে তোমার চিন্তা নির্ধারণ করে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক।



আমার একটা খুবই সাধারণ প্রয়োজন এবং একটা সাধারণ নীতি আছে— আর তা হচ্ছে আমি অসীম।

আমার কোনো সীমা নেই, এ বিশ্বজগতে শক্তিরও কোনো সীমা নেই; যেহেতু আমি স্রেফ একটা শক্তি তাই আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা রুখা যায় না।



প্রাচুর্য আমার তীব্র বাসনা।

আমি তাদেরকেই আকর্ষণ করি যারা সীমাবদ্ধ চিন্তা করে না, যারা সবসময় বড় চিন্তা করতে পছন্দ করে।

যখন তুমি বিশ্বাস কর আমার যথেষ্ট আছে ধাবিত হওয়ার জন্য, ঐ ধরণের চিন্তাই সাধারণত আমাকে আকর্ষণ করে।



অভাবকে আমি ঘৃণা করি।

কারণ আমি কোনো সীমাবদ্ধতায় থাকি না। আমি তাদেরকে এড়িয়ে চলি যারা জয়-পরাজয় বা ভীরু দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। যারা বিশ্বাস করে আমার সরবরাহে ঘাটতি আছে কিংবা আমাকে গ্রহণ করায় জটিলতা আছে-- তারাই এ ধরণের বাস্তবতায় পতিত হবে; কারণ যারা সংকীর্ণভাবে চিন্তা করে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি।



আমি ভালবাসি মূল্যে।

এই বিশ্বভ্রহ্মাণ্ডে সৃষ্টির মূল্যই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। যেখানে মূল্য সৃষ্টি হয় সেখানেই আমি ধাবিত হই কারণ সৃষ্টির মধ্যেই শক্তি নিহিত। যদি আমাকে আকর্ষণ করতে চাও তোমার জীবনে, অন্যের জন্য মূল্য তৈরিতে মনযোগী হও— আমি আসতে বাধ্য।



আমি পদমর্যাদা এবং আত্মতুষ্টি এড়িয়ে চলি।

কেউ আমাকে পাওয়ার উপযুক্ত হয় না, আমিও সেখানে ধাবিত হই না যতক্ষণ না মূল্য তৈরি হয় এবং আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠি। ন্যায্য-অন্যায্যের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাকে অনুমোদনের জন্য নেয় অথবা আমার শক্তিতে যারা তুষ্ট—আমি সেখানেই যাই।



আমার একটিই মাত্র কাজ আর সেটা হল তোমাকে সহায়তা করা।

এটা শুধু শক্তি আর মূল্য সৃষ্টির বিষয়। আমার উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ: যেখানে সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত হই এবং আমি বেড়ে উঠতে পারি—আমি সেখানেই যাই।



আমার আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে নিজের প্রতিরূপ তৈরি করা।

কারণ শক্তির কোনো সীমা নেই, আমার কাজ হচ্ছে পূণঃ উৎপাদন এবং বৃদ্ধি ঘটিয়ে এ বিশ্বে আরও শক্তির সঞ্চালন করা। মূল্য তৈরির মধ্য দিয়েই আমার সৃষ্টি এবং প্রতিরূপের বিকাশ। আসলে আমি এক বিবর্তনের শক্তি।



এ বার্তাটি তোমাদের জন্য পরিষ্কার হওয়া উচিত যে এ বিশ্বে অন্যের জন্য যারা মূল্য সৃষ্টি করে তাদের জীবনেই আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে সুস্পষ্টভাবে।



আমাকে যে-রকম তুমি বিশ্বাস করবে আমি ঠিক সে-রকমই।

তুমি যেভাবে আমাকে বিশ্বাস করবে সেভাবে তোমার জীবনকে আমি দুর্দশায় পতিত করতে পারি, অথবা তোমার বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন অলৌকিকতার মতো ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারি।



আমি পজিটিভও নই নেগেটিভও নই। তুমি যেভাবে বিবেচনা করবে আমি ঠিক তেমনি।



তুমি যদি আমাকে ভয় কর তাহলে আমি তোমার বেঁচে থাকার ক্ষমতাকে দুমরে-মুচরে নষ্ট করে দিতে পারি; আর যদি আমাকে সঠিকভাবে জানতে পার তাহলে তোমার জীবনকে প্রস্ফুটিত করতে পারি, তোমার স্বপ্নকে জীবন্ত করতে পারি।



আমি তোমার প্রভুও হতে পারি, ভৃত্যও হতে পারি— যেভাবে তুমি আমাকে তৈরি করবে। সুতরাং আমাদের উভয়ের সম্পর্কটা নির্ভর করছে— তুমি যেভাবে নির্ধারণ করবে তার উপর।



একে অপরকে সঠিকভাবে জানার এটা কি সঠিক সময় নয়?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.