নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমিই রাজা

বাশের কলম

বাশের কলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ILU

২৩ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ১১:২৭

বিয়েবাড়িতেই আমার কাছের এক মানুষকে নতুন ভাবে দেখেছিলাম।

তখন ক্যাডেট কলেজ থেকে ছুটিতে এসেছি। ছোট মামার বিয়ে উপলক্ষে আমরা সবাই নানুর বাড়ি গেলাম। গিয়ে দেখি ব্যাপক আয়োজন। কারণ এটাই ছিল আমার নানুবাড়ির শেষ বিয়ে।



দুই দিন আগে থেকেই বাড়ি আত্মীয়স্বজনে ভর্তি। গায়েহলুদের দিন নিজেরাই স্টেজ সাজালাম। এরপর মামাতো ভাইকে নিয়ে স্টেশনে গেলাম ফিল্ম কেনার জন্য। ফিরে এসে দেখি সবাই প্রস্তুত। অনুষ্ঠান শুরু হলো।



ছবি তুলতে গিয়ে একটা মুখের ওপর থেকে চোখ সরাতে পারছিলাম না। এতো দিন যাকে খুজেছি, দেখলাম সে বসে আছে ছোট মামার পাশে।



মনের ঘোড়া ছুটে চললো তোপান্তরের মাঠ পেরিয়ে। ঘণ্টা দুয়েক আগেও যাকে দেখেছি ফ্রক পড়া ছোট এক বালিকা কিংবা কিশোরী রূপে এখন শাড়িতে সে যেন হয়ে উঠেছে অপ্সরী। আজও মনে আছে, সেদিন তার পরনে ছিল লালপেড়ে শাদা শাড়ি আর লাল ব্লাউজ।



সেই থেকে বুকের মধ্যে তাকে লালন করেছি। পরদিন বরযাত্রীতেও শাড়ি পরে গিয়েছিল সে। তার ওপর থেকে চোখ সরাতে পারিনি। সবাই যখন এদিক-সেদিক সুন্দরী খোজায় ব্যস্ত তখন বার বার ফিরে আসছিলাম তার কাছে। কথায় দুষ্টুমিতে মত্ত ছিলাম। তবে তাকে একটুও বুঝতে দিইনি আমার মনের কথা।



তাকে আমার মনের সেই কথা বলেছিলাম ছয় বছর পর এবং জেনেছিলাম সেও আমাকে পছন্দ করে। দিনটা আজও মনে আছে।



১ জুন বিকাল সাড়ে তিনটায়।



আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন।



এরপর দিনগুলো কেটে যেতে লাগলো স্বপ্নের মতো। আমরা কখনো বাইরে কোথাও দেখা করিনি। বেশির ভাগ সময় তাদের বাসায়ই আমাদের দেখা হতো, কথা হতো।



এভাবেই চলে গেল পাচ মাস। একজন আরেকজনের জন্য আকুলতা, কথা বলা ও একটু দেখার জন্য ব্যাকুলতা নিয়ে দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল হাসি, আনন্দ, অভিমান আর ভালোবাসায়।



ইতিমধ্যে জেনেছি নানু চান আমার বিয়ে তার সঙ্গে হোক। মাকে জানালাম। বাবাহারা আমার পছন্দকে মাও পছন্দ করলেন। তার মাকে সে জানালো। সেখানেও কোনো অমত নেই। শুধু সুন্দর একটা সময়ের অপেক্ষা।



আমার তখন মেরিনের পরীক্ষা চলছে। পাস করে থার্ড অফিসার হিসেবে জাহাজে যাবো। এরপর সেখান থেকে ফিরলেই বিয়ে। ততোদিন তার পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে।



প্রকৃতি বোধহয় এতো সুন্দর সমাধান পছন্দ করে না। সব কিছুই যখন ঠিকঠাক চলছে, আমরা যখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মত্ত, তখনই এলো ঝড়। এটা অবশ্য জানাই ছিল। তবুও তার তীব্রতা যে এতো হবে তা জানা ছিল না।



আমি অনড় দাড়িয়ে থাকলেও তাকে চলে যেতে হলো। কারণ আমার মামাবাড়ির কলহ। যৌথ পরিবারের চিরন্তন কিছু সমস্যা। তা যেন প্রকট আকার ধারণ না করে সে জন্যই তার প্রস্থান।



সে বলে গিয়েছে। কিন্তু ভুলে গেছে, প্রথম দিনেই আমরা কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছেড়ে যাবো না বলে ওয়াদা করেছিলাম।



কয়েকদিন বেশ চোটপাট করলাম। পরীক্ষা খারাপ হলো। এরপর আবার শান্ত। অবশেষে পরীক্ষায় পাস করলাম। চলে এলাম জাহাজে।



আজও প্রতীক্ষায় আছি একদিন সে আসবে সকল বাধা ছিন্ন করে। মামাবাড়ির কলহেরও অবসান হবে। আসবে একটা সুন্দর আগামী। সেখানে আমরা সবাই আনন্দে এক সঙ্গে উদযাপন করবো আরেকটা বিয়ে।



একদিন তাকে আবার শাড়ি পরতে বলেছিলাম। তখন সে বলেছিল, এখন না। বিয়ের পর তো শাড়ি পরেই থাকবো। তখন মন ভরে দেখো।



এখন মা যখন বিয়ের কথা বলেন তখন বলি, বিয়ে করবো না। কারণ বৌ আমার আছে। তাকে তো আমি এ বলেই ডাকতাম।



শেষ কথায় আমাকে বলে গেছে আমাকেই সে ভালোবাসে। কিন্তু তার কিছু করার নেই।



আশায় আছি এ ভালোবাসাই একদিন তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.