| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতিখউস সাদাত
আমি একজন ছোট ব্যবসায়ী।
উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ শহরে উদয়ন নামক একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে , যা নওগাঁ ডিগ্রি কলেজের মোড়ে অবস্থিত । কতৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী এটা একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেবার নামে এরা অসহায় মাদকাসক্তদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উদয়ন মাসে ৮০০০ টাকা করে নেয় প্রতি রোগীর কাছ থেকে। ৩ মাসের কোর্সে মোট তারা ২৪০০০ টাকা নেয় । কিন্তু কারো অভিভাবক যদি একমাস পরেও রোগীকে নিয়ে আসে , সেক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক ২৪০০০ টাকা আদায় করা হয়। এটা তাদের সেবার একটি নমুনা। এবার তাদের খাদ্য তালিকা তুলে ধরছি। সকালের নাস্তা দেয় খুব মোটা ৩ টি রুটি আর সাথে পানির মত পাতলা ডাল। মাঝে মাঝে রুটির সাথে সবজি দেয়। বেলা ১১.৩০ টায় একটা নিম্নমানের টোস্ট বিস্কুট আর ১/২ কাপ লাল চা দেয়। সাপ্তাহিক দুপুর এবং রাত মিলিয়ে ১৪ বেলার মাঝে , ১১ বেলায় দেয় আলু ভর্তা ও অত্যন্ত নিম্নমানের এক প্রকার সবজি। বাজারের সবচেয়ে সস্তা সবজি গুলো তারা কিনে আনে।বাঁকি ৩ বেলার মাঝে ১ বেলা দেয় ডিমের তরকারি, ১ বেলা এক কেজি গরুর মাংস এনে ২৫ থেকে ৩০ জনকে খাওয়ায় এবং আরেকবেলা এক কেজি ব্রয়লার মুরগী এনে ২৫ থেকে ৩০ জন কে দেয়। এসব তরকারীতে তারা তেল দেয় মাত্র ২০ গ্রাম। মশলা প্রায় দেয় না বললেই চলে । আর রোগীদেরকে বলে তোমাদের লঘুপাক খাবার খেতে হবে। এভাবে তারা টাকা বাঁচায়। দুপুর ৩.৩০ টায় আবার টোস্ট বিস্কুট আর ১/২ কাপ লাল চা দেয়। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল , যে পরিমান ভাত এরা রোগীদের কে দেয় তাতে কেউ পেট ভরে খেতে পারেনা। আর এসব নিয়ে কোন প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে রোগীদের উপর। রোগীদেরকে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন সাবান দেয়া হয় । তাও একটি সাবান কেটে তিন ভাগের এক ভাগ দেয় , যা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের গোসল করতে হয় । এই সাবান, শেভিং ক্রিম, কাপড় কাঁচার পাওডার আলাদাভাবে রোগীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় । মাসিক ৮০০০ টাকার বাইরে। কোন রোগীর বারি থেকে প্রসাধনী সামগ্রী (শ্যাম্পু বা অন্য কিছু ) যদি দিয়ে যাওয়া হয় তবে তা রোগীকে না দিয়ে স্টাফরা আত্মসাৎ করে। সবমিলিয়ে একজন রোগীর পেছনে এরা মাসে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা খরচ করে । এক রোগী , নিজের খাতাতে তার মাকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছিল যে, সে এখানে খুব কষ্টে আছে, পেট ভরে খাবার পায়না এবং ভারী কাজ করে নেয়া হয়। সেই চিঠি ঘটনাক্রমে কেন্দ্রের পরিচালক রায়হান সাহেবের হাতে পরে । পরের দিন তাকে লাঠি দিয়ে নির্মম ভাবে মারা হয়। ওখানে আর একজন রোগী ছিল যার মাদক নিতে নিতে মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সে সবসময় কথা বলত। নিজেকে থামাতে পারতনা। তাকে ওখানে গামছা দিয়ে হাত, পা, মুখ বেঁধে নিয়মিত নির্মম ভাবে মারা হত। তার দরকার ছিল ওষুধ। অথছ...এ কেমন চিকিৎসা ! ভেতরে এরা রোগীদেরকে প্রায় মারধোর করে। কেন্দ্রের রান্না, থালা বাসন ধোয়া, পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ কতৃপক্ষ রোগীদের কে দিয়ে করিয়ে নেয়। এসব কাজকর্ম বাবদ তারা কোন কর্মচারী রাখে নাই। কাজে কর্মে রোগীরা ভুল করলেই শুরু হয় নির্যাতন। এরা রোগীদেরকে প্রতিদিন ৮ টা করে চেয়ারম্যান নামক অতি নিম্ন মানের সিগারেট দেয়। যা রোগীদের শরীর আর খারাপ করে দেয়।
এই কেন্দ্রের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নিন্মমানের। মেঝেতে বিছানা করে রোগীদেরকে শুতে দেয়। আর মেঝেতে তেলাপোকা , টিকটিকি আর কিছু বিষাক্ত পোকার অবাধ বিচরন । প্রায় রোগীদেরকে এসব পোকা মাকর কামড় দেয়। এখানকার বাথরুমে কোন সুস্থ মানুষ গেলে বমি করে দিবে । পরিস্কার করার জন্য কোন হারপিক বা এই জাতিও কিছুই দেয়া হয়না। শুধু পানি ঢেলে দিয়ে ব্রাশ দিয়ে রোগীদেরকে দিয়ে পরিস্কার করে নেয়া হয়। পরিচালক রায়হান সাহেব এসব কিছুই দেখেননা। কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং অনেক সময় মারধোর করেন। কেন্দ্রে কিছু স্টাফ রাখা আছে রোগীদেরকে দেখাশোনা এবং শাসন করার জন্য । যারা নিজেরাও ৩ থেকে ৬ মাস আগেও মাদকাসক্ত ছিল। এরা অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করে রোগীদের সাথে এবং মারধোরও করে। এদের পিছনে পরিচালিকের খুব কম খরচ হয়। আর সে কারনে এসব সদ্য মাদক মুক্ত ছেলেদের স্টাফ হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ রোগীদের জন্য প্রয়োজন সুস্থ মানুষ দ্বারা চিকিৎসা সেবা । কিন্তু খরচ কমানোর জন্য পরিচালক কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা প্রাপ্ত স্বল্প সময়কালীন সুস্থ থাকা মাদকাসক্তদের দিয়েই রোগীদের দেখাশনা করায়। এই কেন্দ্রের কিছু পুরনো রোগী আছে যারা এখানে কমিশনের বিনিময়ে রোগী সরবরাহ করে। এদের মাঝে অন্যতম একজনের নাম হচ্ছে আরিফ উল আলম ( হিরন )। নওগাঁর জিরো পয়েন্ট এ অবস্থিত মরহুম আলীম খান মার্কেটের ২য় তলায় ক্যাফে গাঁও নামক তার একটি কম্পিউটারের দোকান আছে। এটা তার মুল ব্যবসা হলেও উদয়নে রোগী সরবারহ করা তার আরেকটি ব্যবসা। হিরনের ফোন নাম্বার ০১৭৪৭৪৭৪৭৫২। কেন্দ্রের পরিচালক রায়হান নিজেও একজন মাদকাসক্ত ছিল। হেরোইন, ফেনসিডিল , বিভিন্ন ইঞ্জেকশানে তার দীর্ঘদিন আসক্তি ছিল। এসব আসক্তির কারনে সে সম্ভবত তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এজন্য এখন এই অসৎ ব্যবসা ফেঁদে বসেছে । সে দাবী করে ১২ বছর ধরে সে সুস্থ আছে। কিন্তু রোগীদের সাথে তার আচরন ( মারধোর ) কোন সুস্থ ব্যক্তির আচরন নয়। এখানে বেশিরভাগ রোগীদেরকে ধরে আনা হয় গ্রামাঞ্চলের লেখাপড়া না জানা পরিবার থেকে। কারন এসব অভিভাবকদের বুঝানর কাজ অনেক সহজ পরিচালক রায়হান সাহেবের পক্ষে ।
পরিচালক রায়হান সাহেব অত্যন্ত মিষ্টভাষী লোক। যে কোন মানুষের সাথে কথা বলে তাকে ভুল বুঝানো তার জন্য খুবই সহজ কাজ। কেউ যদি তার সাথে কথা বলে , তবে কল্পনাও করতে পারবেনা যে সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের নামে এরকম একটি নোংরা ব্যবসা সে চালাচ্ছে। রায়হান সাহেবের ফোন নাম্বার ০১৭১১০০০৭৯৫। রায়হান সাহেবের সহকারি ( তার শ্যালক ) প্রতিকের ফোন নাম্বার ০১৭২৫৬৯২৯২৯।
এই লেখা পরে আশাকরি বুঝতে পারছেন , আমি একজন ভুক্তভুগী । আমি যে কষ্ট ভোগ করেছি, তা তো আর লাঘব করা সম্ভব না। কিন্তু আমি চাইনা আর কোন হতভাগ্য ছেলের জীবনে এই দুর্ভোগ আসুক । আমি চাই চিকিৎসার নামে এই অপচিকিৎসা বন্ধ হোক। বাংলাদেশের কিছু মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র ছাড়া বেশির ভাগই এরকম বলে শুনেছি। উদয়ন বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমেই শুরু হোক না এই অপচিকিৎসার বিরুধধে আমাদের শুভ যাত্রা। পরিচালক রায়হান সাহেব বলেছেন, উনি নাকি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিয়মিত টাকা দেন। এজন্য পুলিশ , সাংবাদিক কেউ নাকি উনার কিছু করতে পারবেননা । উনার অনেক ক্ষমতা। উনি যদি কেন্দ্রে কোন রোগীকে পিটিয়ে মেরেও ফেলেন তাও উনার কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবেনা। সুশীল সমাজের কাছে আবেদন, দয়া করে এই অন্যায়ের বিরুধধে প্রতিবাদ করুন, এই অন্যায় বন্ধ করুন। এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারবেন সাংবাদিক ভাইয়েরা এবং আমাদের প্রশাসন। আপনারা যদি উপরোক্ত ফোন নাম্বার গুলোতে ফোন করে এই লেখার সত্যতা যাচাই করতে যান , তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই ওরা সব কিছু অস্বীকার করবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সমাজে অনেক বিজ্ঞ মানুষ আছেন , যারা জানেন এই ক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের ভরসাতেই এই লেখাটা প্রকাশ করলাম।
©somewhere in net ltd.