| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আওয়াল রবিq
দোপেয়ে অদ্ভুত প্রাণী নয়, মানুষ গুলো সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠুক ।।
ছোটবেলায় পাড়াতো বড় ভাইয়েরা বিভিন্ন ভাবে ভূতের ভয় দেখাত । ছোটমানুষ, দাদি-নানীর কোলে বসে সন্ধ্যাজুড়ে ভূতের গল্প শুনতাম; রাতে ভয়ে গুটিশুটি মেরে তুমুল আগ্রহে শুনতাম রাজা-রানী, রাক্ষস-খৈক্ষস, দৈত্য, পরীর লোমহর্ষক সব গল্প । গল্পগুলো সত্যি না মিথ্যা, ভূত-প্রেত বলে আদৌ কিছু আছে কিনা, এসব প্রশ্নে,যুক্তি-তর্কে যাওয়ার বয়স সেটা কোনভাবেই ছিল না; বরং দিনরাত ভূতের গল্প শুনতে শুনতে সময়টাই হয়ে গেছিল ভূতময় !!
এই সুযোগটাই নিত সিনিয়র’রা । দু-এক বছরের বড় হলেও তাদের সাথে সম্পর্কটা ছিল বন্ধুর মতোই । মজার কিছু একটা দেখাবে বা জরুরী কথা আছে- এরকম কিছু একটা বলে একটু অন্ধকার টাইপ জায়গায় নিয়ে যেত । তারপর হঠাৎ ভূত! ভূত! বলে চিল্লানি দিয়া পিছন দিকে দিত দৌড়! ঘটনার আকস্মিকতায় বুকের মধ্যে ধক্ করে উঠলেও , এটুকু বুঝতাম যে যতক্ষণ জ্ঞান আছে যত জোড়ে সম্ভব দৌড়াতে হবে । ভূত আছে কি নেই তা দেখার সাধ তো হতোই না বরং চোখ মুখ বন্ধ করে যেকোন একদিক ট্র্যাক কল্পনা করে হয়ে যেতাম বিশিষ্ট দৌড়বিদ ! সে কী প্রানপণ দৌড়; আমার তো মনে হয় ভূতের দৌড়ানি খাওয়া অবস্হায় যেকোন লোক যেকোন রীলে উসাইন বোল্ট’কে হারিয়ে দিতে পারবে ।
এটুকুই হলে সমস্যা ছিলোনা, কিন্তু হতো আরেকটু বেশি । যেই-ই এই দুষ্টামির শিকার হতাম, সে-ই সবার কাছে বলতাম যে ভূত দেখেছি । কখনো কালো কাপড় পড়া কালী ভূত, কখনো আবার ধবধবে সাদা ভূত ! ধুঁকপুঁক করা বুক কোনমতে সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে যতই “ভয় পাইনি” “ভয় পাইনি” বলে চিল্লাতাম না কেনো , কাজ হতোনা । রাতে খাওয়ার পরে হুজুরচাচার পানিপড়া, কবিরাজ কাকার গাছপড়া বা ডাক্তার সাহেবের ভাইটামিন ট্যাবলেট ঠিকই খাইতে হতো !!
আমি থিওরীটিক্যালি ভূত বিশ্বাস করিনি কখনোই; প্রাকটিক্যালি দেখিওনি কোনদিন । কিন্তু ঔ যে, শ্রী শরৎ বাবু বলে গেছেন – চরম সাহসী, ভূত অবিশ্বাসী ব্যক্তিও ভয়ের জায়গায় এলে ঠিকই ভয় পায়’ ; আমি এটা বিশ্বাস করি !!!
আমরা আসলে “ভূত” কে ভয় করিনা, আমরা ভয় করি “ভূত” শব্দটি’কে ।।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে মে, ২০১৪ সকাল ১১:৪৪
হাসান বিন নজরুল বলেছেন: আমরা আসলে “ভূত” কে ভয় করিনা, আমরা ভয় করি “ভূত” শব্দটি’কে ।। এটাই বাস্তব