| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আওয়াল রবিq
দোপেয়ে অদ্ভুত প্রাণী নয়, মানুষ গুলো সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠুক ।।
আজ ২৫ শে আগস্ট ।
আধুনিক নারীমুক্তি, অধিকার, স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িকতার কবি ও মুক্তমনা লেখক তসলিমা নাসরীন এর ৫২ তম জন্মবার্ষিকী ।
এদেশে নিষিদ্ধ ও বর্তমানে নির্বাসিত, মানবতা ও জীবনের গান গাওয়া এ বিরল প্রগতিশীল কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী নিম্নে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
নামঃ তসলিমা নাসরীন
জন্মঃ ২৫ শে আগস্ট, ১৯৬২( ময়মনসিংহ জেলা)
শিক্ষাঃ এম.বি.বি.এস (ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ)
কাব্যগ্রন্থঃ শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা, নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে, বন্দিনী, কিছুক্ষণ থাকো ইত্যাদি।
বইঃ নির্বাচিত কলাম, লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, ফেরা ইত্যাদি।
পুরস্কারঃ আনন্দ(দুইবার), কুর্ট টুখলস্কি, শাখারভ, হিউমেনিস্ট লরিয়েট ইত্যাদি।
তসলিমা নাসরীন শুধু দুই বাংলাকে নিয়েই নয়, সমগ্র ভারতবর্ষের গনমুক্তি, বাক-স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার জন্য নিরলস ভাবে লিখে গেছেন ধারালো ভাষায়, যৌক্তিক ও জোরালো মতামত তুলে ধরেছেন প্রতিটি লেখায়।
তাঁর এই স্পষ্টভাষার প্রতিবাদী আন্দোলন সংকীর্ণ ও ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের সহ্য হয়নি, নারিমুক্তি ও ধর্মনিরপেক্ষতার শিকড় সমূলে উপ্রে ফেলার ঘৃণিত হুঙ্কারে তাঁর মাথার অর্থমূল্য ঘোষণা করলো তারা। সারাদেশ-ব্যাপি তাণ্ডব চালাল মুক্তি ও স্বাধীনতার অগ্নিকন্যার ফাঁসি চেয়ে। একদল স্বার্থান্বেষী ও ভীতু বুদ্ধিজীবিও স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলো নিজেদের লেখক-কবি সত্ত্বার সাথে বেইমানী করে। সারাদেশে ডাক উঠলো তাকে নিষিদ্ধ করার, নির্বাসিত করার।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার একজন স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার নাগরিক কে রক্ষা তো করলই না, বরং তৎকালীন সরকার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করল। একটি বিজ্ঞ আদালত তাকে একবছরের জেলেরও ঘোষণা দিলো।
তাঁর স্বদেশী পাসপোর্ট বাতিল করা হল। সুইডেন সরকারের দেওয়া নাগরিকত্ব নিয়ে ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে জার্মানির উদ্দেশ্যে তিনি দেশ ছাড়লেন। যে প্রিয় স্বদেশ ও দেশের অবহেলিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মুক্তির জন্য তিনি কলম কে করলেন উলঙ্গ হাতিয়ার; পুরনো-পচা-মিথ্যার অন্ধকার দেয়াল ভেঙে দেবার পবিত্র মন্ত্রে যিনি প্রাণপণ লড়ে গেলেন সমানে, সেই তাকেই একরকম বাধ্য করা হল এ মাটি ও মানুষ ছেড়ে চলে যেতে। সেই যে যাওয়া, আর ফিরতে পারেন নি। এমনকি, তাঁর মা ও পরে বাবা যখন মৃত্যু শয্যায়, তখনও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি এদেশের সীমানায় ঢোকার, মৃত্যু পথ যাত্রী মা-বাবা কে এক নজর দেখার।
২০০৪ সালে ভারতীয় ভিসা নিয়ে তিনি বসবাস শুরু করলেন কলকাতায়। ২০০৭ সালে অল “ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড” বা “জাদীদ” এর সভাপতি “তৌকির রেজা খান” তসলিমা নাসরীনের শিরচ্ছেদের বিনিময়ে পাঁচ লক্ষ রুপি অর্থমূল্যের ঘোষণা দেয় ।
এমতাবস্থায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে প্রায় চার মাস গৃহবন্দী করে রাখে। একপর্যায়ে ২২ শে নভেম্বর ২০০৭ সালে তাকে তুলে দেওয়া হয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। কেন্দ্রীয় সরকার এই দুর্বিনীত কবি কে একটি অজ্ঞাত জায়গায় তথাকথিত “সেইফ হাউজে” বন্দি করে রাখে। এই গৃহবন্দি অবস্থায় তিনি রচনা করেন “বন্দিনী” কাব্যগ্রন্থ।
তাঁকে বন্দি করে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল একটাই, তিনি যেন নিজ থেকেই ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তিনি তা করেন নি, বরং সব অত্যাচার নির্লিপ্ত ভাবে সহ্য করে গেছেন, লড়াই করেছেন নিজের ও মানুষের স্বাধীনতার জন্য।
অবশেষে, ১৯ শে মার্চ ২০০৮ সালে অসুস্থ অবস্থায় তিনি ভারত ছাড়তে বাধ্য হন ।
তাঁর এই ভারত ত্যাগের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের বাক স্বাধীনতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শের সূর্য অস্তমিত হল, পাশাপাশি অন্ধ কুসংস্কার ও মৌলবাদের পাহাড়সম বিজয় হল।
তসলিমা নাসরীনের মত একজন বাঙালি কবি ও লেখক কে এভাবে হারানোটা দুই বাংলার লজ্জা, বাংলা সাহিত্যের লজ্জা ।
সকল বাঙালির লজ্জা ।।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৫:১৬
ওপেস্ট বলেছেন: শালিন চটি লেখিকা ।