| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সচরাচর মূল্যবান বক্তব্য হল ” শিক্ষায় জাতীর মেরুদণ্ড” । আর সেই শিক্ষা আজ চরম প্রশ্নের সম্মুখিন । দেশে আজ এ প্লাসের ছড়াছড়ি । শিক্ষার মান যেখানে বেড়েছে বলে অনেক শিক্ষাবিদের ধারনা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির হাল চিত্র দেখে বোঝা যায় এর আসল চিত্র। এবার আসা যাক আসল কথায়। বাংলাদেসে প্রায় অর্ধ লক্ষের কাছাকাছি রয়েছে মাধ্যমিক ও কয়েক হাজারের উচ্চমাধ্যমিক কলেজ। যেখান থেকে অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী পড়াশুনা করে বের হচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষাখাতে সরকারের সু দৃষ্টির কারনে তাদের বেতন ভাতা এখন সরকারি বেতন ভাতার সমতুল্য। যদিও এক্ষেত্রে সরকার কে আরও অনেক কিছু করা উচিত ছিল।
ম্যানেজিং কমিটি-
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক ভাবে চালনা করার জন্য একটি ম্যানেজিং কমিটি থাকে যারা শিক্ষার মান উন্নয়ন সহ প্রতিষ্ঠানের সকল উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কথা। বাস্তবতা কি? এই কমিটিতে কাদের থাকার কথা ? যারা শিক্ষানুরাগী, নিবেদিত প্রান তাদের। আসলে দেখা যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাপে কিছু অশিক্ষিত লোক হয়ে বসেন এর সভাপতি আর ধরেই নেন এইটা একটা মহা বাবসা ক্ষেত্র।
কি ধরনের বাবসা চলে?
প্রথমেই আসা যাক শিক্ষক নিয়োগের কথা। আজ কাল পত্রিকা খুললেই জে নিয়োগ বেশি দেখা যায় তা হল স্কুল কলেজের শিক্ষক নিয়োগ। অনেকেই আবেদন করেন , পরীক্ষাও দেন কিন্তু চাকরি হয় না। কোন লাভ নেই। চাকরি নিতে হলে আপনাকে প্রথমে প্রধান শিক্ষক অথবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সঙ্গে দেখা করে দর দাম ঠিক করে নিতে হবে। এবার আসি দরদামে। মানবিক বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্কুল পর্যায়ে ৭-১০ লাখ কলেজ পর্যায়ে ৮-১২ লাখ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে স্কুল পর্যায়ে ৫ – ৭ লাখ , কলেজের ক্ষেত্রে ৭ – ১০ লাখ টাকা লাগে। যে টাকা স্খুলের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে ডি পি ও অফিস থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে চাকরির এম পিও আসা পর্যন্ত প্রায় ১৫ – ২০ জন পেয়ে থাকেন। একবার টাকা দিয়ে দিলে ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে স্থানীয় শিক্ষা অফিসের সহজুগিতায় নিয়োগ পরীক্ষা নামের এক প্রহসনের নাটক চলে। সত্যি মজার। বিভিন্ন বে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিনে হল কন্টাক করে নিবন্ধন পাশ করে প্রচুর অর্থ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে গলায় টাই ঝুলিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করাচ্ছেন, এরকম বহু নজির আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই শিক্ষার খাত কে বলা হচ্ছে সবচাইতে লাভবান খাত। যদিও ইতোমধ্যে সরকার একটা উদ্যোগ নিচ্ছেন কিন্তু সেইটা কত দিনের ভেতর বাস্তবায়ন হবে তা কে জানে।
সারকথা হল এভাবে যদি চলতে থাকে তবে খুব বেসিদিন লাগবে না বাংলাদেশে যখন মেধা কি তা খুজেও পাওয়া যাবে না। একদিন জ্ঞানীরা পালিয়ে যাবে আর মূর্খরা দেশের চেয়ারে বসে থাকবে।
©somewhere in net ltd.