নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দুনিয়া

নাজিল আযামীর ব্লগ সাইট

নাজিল আযামী

আমার ভাবনা, চিন্তা, স্রষ্টা, সাধনাকে নিয়ে আমার দুনিয়া।

নাজিল আযামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

জাতীয় কবির মাযার ভেঙে ফেলার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ অঙ্গনে সমাহিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর ভাঙ্গাকে নিয়ে দেশব্যাপী একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে হয়। জানা গেছে যে, তার সমাধিটি ভেঙ্গে সেখানে আরো কিছু ব্যক্তির কবরের সাথে তা একত্র করে তার নতুন নামকরণ করা হচ্ছে। সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের পর তা আর জাতীয় কবির মাযার হিসেবে পরিচিত হবে না, অন্যান্য কিছু ব্যক্তির নাম সংযোজন করে তার নতুন পরিচয় দেয়া হবে। দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের নামে জাতীয় কবির কবর ভাঙ্গার নিন্দা করেছেন এবং অবিলম্বে এই তৎপরতা ব করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরাও তাদের সাথে একমত এবং তার মাযার ভাঙ্গা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে তাকে একই মর্যাদায় দেখার সরকারি প্রবণতাকে জাতীয় কবির অবমাননা বলে মনে করি।



কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, স্বাধীনতার নকীব, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ, অশান্ত বিদ্রোহী একজন কবি যার দৃষ্টান্ত বিশ্ব সাহিত্যে বিরল। তিনি আমাদের ঐতিহ্যের কবি, ইসলামী পুনর্জাগরণ তার কবিতার সুর মূর্ছনা এবং আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার কবিতার সর্বজনীনতা এবং গানের ব্যপ্তি ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ব কবিকে ডিঙ্গিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রতিভা বিকাশের হেমন্তকালেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং বসন্তে পা রাখতেই এই ষড়যন্ত্র তাকে শুধু কণ্ঠরুদ্ধ করেনি তাকে অচলও করে দেয়। তথাপিও তার কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও গান শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের নয় বিশ্ববাসীকেও উদ্বুদ্ধ করে। এ প্রেক্ষিতে তার মর্যাদা আমাদের কাছে অনেক উঁচু।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ অঙ্গনে এই মহান কবিকে সমাহিত করা এবং সেখানে তার মাযার তৈরির পেছনে তার মর্যাদা যেমন কাজ করেছে তেমনি তার একটি আকুতিও কাজ করেছে। কবি তার একটি গানে মৃত্যুর পর তাকে মসজিদের পাশে কবর দেয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন যাতে করে কবরে শায়িত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পান। শিক্ষার পবিত্র অঙ্গন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কেও সম্মানিত করা হয়েছিল বলে মনে করি। কবি হিসেবে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তার এই স্বাতন্ত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করা যায় না এবং করা হলে তা জাতীয় কবির প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী হবে বলে আমাদের ধারণা।



আমরা জানি না সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের নামে জাতীয় কবিকে অন্যান্য ব্যক্তির সাথে এক করে দেখার ধারণার উৎস কোথায় এবং যারা তা করছেন তাদের পরিকল্পনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা। জাতীয় কবি একজনই হন এবং তার মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা জাতিরই দায়িত্ব। কবির মাযারটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হলেও তার সংরক্ষণের দায়িত্ব থেকে সরকার অব্যাহতি পেতে পারেন না। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা নিয়েই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জাতীয় কবির মাযার নিয়ে নতুন কোনও সমস্যার সৃষ্টি হোক আমরা তা চাই না। কাজেই মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে কোনও অঘটন ঘটানোর আগেই সরকার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন বলে আমরা মনে করি।





মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

নাজিল আযামী বলেছেন: পোস্টটি বেশি পাঠকের নজরে আনার জন্য স্টিকি করার অনুরোধ জানাচ্ছি

২| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩

নাজমুল হুদা সুমন বলেছেন: majar banan thik koren pls (bangla aashtese na tai eng te likhlam)

valo post

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫

নাজিল আযামী বলেছেন: ভাইয়া,মনে হয় আমারটা ঠিক আছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত বইগুলোয় এভাবে 'মাযার' লিখে।ধন্যবাদ আপনার মনোযোগের জন্য

৩| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩

সত্যান্বেষী বলেছেন: নজরুল আমাদের প্রেম ও দ্রোহের টোটেম। নজরুল থাকুক যেখানে আছে একক ও ধ্রুব।

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫

নাজিল আযামী বলেছেন: খুব সুন্দর বলেছেন।

৪| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৫

সাইকাস বলেছেন: নজরুল আমাদের চেতনার কবি।
নজরুল আমাদের।
নজরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানবো না।

৫| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৫

খোমেনী ইহসান বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঘোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়। নজরুলের মাজার নিয়া অকান্ড-কুকান্ডে তার আর একটা প্রমাণ খাড়া হয়। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল সমস্যার দিকে কোন নজর না দিয়ে যত্তোসব ফালতু কাজ নিয়া উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক নামধারী সরকারী প্রশাসকদের মেতে থাকতে দেখা যায়।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আবাসিক ছাত্র। মুহসীন হলে থাকি। আমার রুমের জানালা খুললেই দেখা যায় হলের সামনে একটা সিনেট ভবন। এ ভবনটি ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে বছরে একবার সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অথচ আমি যে হলে থাকি এ হলেই গণরুম নামক গোয়ান্তানামো বে ধরণের কারাগার আছে কমপক্ষে ২০ টি। যাতে ২ শয্যার এক একটি কক্ষে কারাজীবন কাটায় ২২-৩০ জন ছাত্র। তাদের একটু থাকার মতো পরিবেশে বাস করানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন নজরই নেই। এরকম অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলেরই। আর শিক্ষকদেরও থাকার ব্যবস্থা নেই। জুনিয়র শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ভাবে জীবন যাপন করে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না।
আমি কোন ভাবেই মনে করিনা নজরুলের মাজারকে সমাধি সৌধ করা যাবে না। কিন্তু শিক্ষিত ভদ্রলোকদের কাছে জিজ্ঞাস্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কী প্রাধান্য পাবে? ছাত্র-শিক্ষকদের জন্তু-জানোয়ারের মতো বসবাসের গ্লানি থেকে মুক্ত করা না মৃত মানুষের সম্মানের জন্য যেনতেনভাবে সমাধি সৌধ নির্মাণ করা।
আমার তো মনে হয় এতো ছাত্র শিক্ষক যে ক্যাম্পাসে কুত্তা-বিলাইয়ের জীবন যাপন করে সেখানে শুয়ে থেকে নজরুল নিজেই যথেষ্ট লজ্জিত। সেখানে তাকে ইট-কাঠ পাথর দিয়ে সম্মান জানালে সেই সম্মান কী তার জীবনের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে। নিশ্চয় না।
এর বাইরে মাজার ভাঙ্গা না ভাঙ্গার তর্কটাও রাজনৈতিক জায়গা থেকে নিশ্চয় আলোচনা করা যায়। তবে সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।
ধন্যবাদ পোস্টদাতাকে।

৬| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০

সৌম্য বলেছেন: মডুরাম মামা, এই পোস্ট স্টিকি করা হউক।

৭| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৫

কোডনেম ৪৭ বলেছেন: পোস্টটি স্টিকি করা হউক।

৮| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১

খোমেনী ইহসান বলেছেন: পোস্টটি স্টিকি করা হোক।



আমেন.........

৯| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮

নজরুল ফরাজী বলেছেন: নজরুল আমাদের চেতনার কবি।
নজরুল আমাদের।
নজরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানবো না।

১০| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৯

মামু বলেছেন: মডুরাম পুন্টটারে তারাতারি ইছটিকি কর..

১১| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৩

আকাশ সুনীল বলেছেন: এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে । পোস্ট টি স্টিকি করা হোক ।

১২| ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৪

সাইকাস বলেছেন: পোস্ট টি স্টিকি করা হোক ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.