| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা থেকে শুরু করে দেশের আপামর জনসাধরণ স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এক কাতারে দাড়িয়ে ছিল আপনাদের সাথে, পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকেও যেভাবে ৭১ এ মানুষ হায়েনাদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে ছিল মুক্তির তাড়নায়, ঠিক একই ভাবে স্বাধীনতার ৪১ বছর পর স্বাধীন দেশের মানুষকে আপনারা জাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন, হয়েছিলেন বললাম এই কারণে যে আপনারা গণমানুষের সামাজিক একটি আন্দোলন কে রাজনৈতিক ও পরে তাকে দলীয় লেবাসে লেবাসিত করে ফেললেন, অসাম্প্রদায়িক একটি আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক বানিয়ে ফেললেন। প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ভাবে আগে ও পরে আপনারা ব্লগিং ও বক্তৃতা দিয়েছেন তা এদেশের ৮০ ভাগেরও বেশি মুসলমানের জন্য কষ্ট দায়ক। আপনারা কেন ভুলে যান জামাতে ইসলাম মানেই আমাদের রাসুলের ইসলাম ধর্ম না। আপনাদের যেমন সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখার বা না রাখার অধিকার আছে তেমনি ভাবে অন্যদেরও তাদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। সরকারের মদদে তাদের ব্লগিং সাইট বন্ধ করে দেয়ার অর্থ হলো আপনারা তাদের প্রচারের সাথে পেরে উঠছেন না। এতে তাদের লাভই হচ্ছে । কালকে যদি অভিযোগ উঠে যে আপনারা আদর্শ , নীতি কে বিসর্জন দিয়ে, জলাঞ্জলি দিয়ে একটি দলের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন তখন কি আর কেউ কোনদিন কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনাদের কিংবা আগামীর তরুণদের পাশে দাড়াবে? আমার উত্তর হচ্ছে না ।
আপনাদের আন্দোলন ছিনতাই হয়ে গেছে একটি দলের কূট কৌশল দ্বারা, যারা দলীয় বুদ্ধীজিবিদের দ্বারা আপনাদের মগজ ধোলাই করে ফেলেছে, অথচ চিন্তা করে দেখুন এই সকল দলীয় বুদ্ধীজিবিদের বের্থতার কারনেই আপনাদের পথে নামতে হয়েছে । এই দলটি নিজেদেরকে অসাম্প্রদায়িক দল বলে দাবি করলেও ভিতরে ভিতরে এরা হলো সাম্প্রদায়িক, যাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আত্তীয়তা রয়েছে রাজাকারদের সাথে তারা কিভাবে সচ্ছ বিচার করবে? এরা তো পারলে তাদের কে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিতে দিধা করবে না। যারা ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতি করে তারা কখনো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে না ।
রাজিবের হত্যাকান্ড বেদনা দায়ক । যারাই এর পেছনে আছে তার বিচার আমরা চাইতেই পারি, কিন্তু এর পেছনেও রয়েছে ঘৃণ্য রাজনীতির কূট কৌশল, আন্দোলনের প্রথমদিকে সরকার দলীয় নেতারা যখন আপনাদের মঞ্চ রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করতে পারেনি, লাঞ্চিত হয়ে শাহবাগ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তাদেরই ঘৃণ্য কূটকৌশল হিসাবে একজন ব্লগারকে হত্যা করা হলো ।
একটু চিন্তা করে দেখুন যখন আপনারা জনমানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আন্দোলনকে সময়ের ফ্রেমে বেধে দিয়েছিলেন ঠিক তখনি আমাদের বন্ধুকে হত্যা করা হলো কেন ? এর ফলে একটুও হলেও জামাত-শিবিরদের লাভ হচ্ছিল কিন্তু ক্ষতি হচ্ছিল ক্ষমতাসীনদের, প্রশ্ন উঠতে পারে কিভাবে? উত্তর হলো -
১) এই আন্দোলনের পেছনে ক্ষমতাসীনরা যে পরিমান অর্থ ব্যয় করেছে তার সুফল এখনো তারা ঘরে তুলতে পারে নাই তাই তারা আন্দোলনের বেধে দেয়া টাইম ফ্রেম কে সহজ ভাবে নিতে পারে নাই ।
২) এই আন্দোলনকে জিয়ে রেখে তারা বিরোধীদল গুলোর অন্যান্য নায্য দাবি কে উপেক্ষা করতে চাইছে ।
৩) আন্তর্জাতিক মহলে বিচারকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে যাতে তাদের দলীয় রাজাকারদের বিচার না হয় ।
৪) রাজীবকে হত্যা করে সহজেই জামাত-শিবিরের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও তারা করছে ।
আন্দোলনকারী ভাইদের বলছি
---------------------------------
মানুষের মনে স্বাধীনতার চেতনাকে আপনারা যেভাবে জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন তা স্বাধীনতার ৪১ বছরেও কেউ পারেনি এ জন্য জাতি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে বহুদিন,
১) যদি আপনারা ছিনতাইকৃত আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন
২) রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চ ব্যবহার করতে না দেন
৩) জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আন্দোলনকে ভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত করেন-
তাহলে সাধারণ মানুষ খুসি হবে ।
দলীয় মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে কিভাবে আন্দোলনকে আরো বেগবান করাযায় সেদিকে নজর রাখুন ।
যেদেশে সাগর-রুনি, বিশ্বজিতদের হত্যার বিচার হয়না সেদেশে রাজিবের হত্যাকারীদের বিচার কতটা আগ্রহের সাথে হবে সে বেপারে সন্দেহ থাকতেই পারে।
তারপরও বলব ন্যায় ভিত্তিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক এটাই গণমানুষের চাওয়া।
©somewhere in net ltd.