নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু

স্বাধীনতা প্রিয় ১ জন মানুষ।শুধুই স্বাধীনতা চাই। https://www.facebook.com/md.z.bablu

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু

"মেবি আমি ক্রিয়েটিভ লোক না। কারণ শুনেছি ক্রিয়েটিভ লোকদের তৃপ্তি থাকতে হয় না, অতৃপ্তি থাকতে হয়।" ---হুমায়ূন আহমেদ

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহিনার চিৎকার!

০৩ রা মে, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৮

আমি রানা প্লাজায় আটকে পরা শাহিনা বলছি...

বাঁচার আশা যখন ছেড়েই দিয়েছিলাম,বদ্ধ ঘরটাকে যখন মনে করছিলাম আমার জীবনের শেষ আশ্রয়,গ্রাম হতে আসার সময় মায়ের জরিয়ে ধরা যখন চোখ বুঝে মনে করছিলাম...ঠিক তখন ই কিসের যেন খট খট টুং টাং শব্দ।মাথার ঠিক বাম পাশ থেকে আসছিল।হঠাত্‍ চোখে বালি এসে পড়ল।চোখ কচলানোর পর যখন তাকালাম,দেখি আলো এসে পড়ছে চোখে।দিন কয়েক অন্ধকারে থাকার পর এই আলোক ছটা যেন চোখ ধাঁধিয়ে দিল।বহুকাল পর যেন কানে এসে লাগলো সেই বহুপরিচিত মানুষের কোলাহল।আমি কখনোই কোলাহল সহ্য করতে পারতাম না।আজ যেই এই শব্দকেই জীবনের শোনা সবচেয়ে সুমিষ্ট শব্দ বলে মনে হলো।



তারা জীজ্ঞেস করলো "কয়জন?"।আমি বললাম

-৪জন।

সারা গায়ে বালি।কথা বলার সময় মুখে বালি খচখচানি।

তারা চেষ্টা করতে লাগলো দেওয়ালের ফুটো টা বড় করতে।যাতে আমরা বের হতে পারি।

হঠাত্‍ মাইক্রোফোন হাতে একজন সাংবাদিক এর চেহারা দেখলাম ফুটো দিয়ে।এতদিন তাকে টিভিতে দেখেছি।আজ সরাসরি দেখছি।আমাকে জিজ্ঞেস করলো,"আপনার অনুভূতি কি?"

মুখে বালির খচখচানি নিয়েই জবাব আর দিলাম না।ফেলফেলিয়ে তাকিয়ে থাকলাম।মনে মনে ভাবলাম,"আপনার মাথার উপরের আকাশটা আমার একখন্ড বিশাল নড়বড়ে পাথর।"



উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে একটা রড কাটার ব্লেড খুঁজে নিয়েছিলাম।যেটা দিয়ে ভাল করে গাছ কাটতেই কষ্ট হয়ে যায় সেটা দিয়ে অনেক কষ্টে আস্ত একটা রড কেটে নিলাম।

কিছুক্ষন পর একটা কিসের যেন হট্টগোল শুনলাম।উপরে তাকিয়ে দেখি নাদুস নুদুস চেহারার একজন আমার দিকে চেয়ে আছে।হাত নেড়ে কি যেন বলল....রড কাটার শব্দে ঠিক বুঝতে পারি নি।আমি কোন সময় ই নষ্ট করতে চাইছিলাম না।যেভাবে হঠাত্‍ এসেছিল,সেভাবেই হঠাত্‍ চলে গেল।ততক্ষনে আমি আরো একটি রড কেটে নিয়েছিলাম।উপর থেকে মন্ত্রী নামটা শুনলাম হঠাত। বুঝলাম নাদুস নুদুস চেহারার মানুষটি মন্ত্রী।ততক্ষনে হাতে ফোসকা গলে ছোপ ছোপ রক্ত আসতে লাগলো।থামালাম না রড কাটা।



অক্সিজেন এর পাইপ কয়েকটা নিচে নামানো হয়েছে।আমার কেন জানি পাইপগুলে দেখে ভয় করছিল।উপরে একটা ক্যামেরা মত দেখতে পেলাম।উপরে মুখ তুলে তাকাতেই ক্লিক ক্লিক করে কয়েকটা ছবি তুলেই সরে গেল।কিছু রাগ যে উঠা দরকার সেটা বুঝছিলাম।কিন্তু রাগ টা বেশী উঠছিল নিজের উপর।হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম,হাতের জমাট রক্ত ঘষে উঠে যাচ্ছে...আবার কোথাও দলা পাকিয়ে বসছে।



উপরের দিক হতেও কিছু রড কাটা হয়ে গেল।হাতটা বাড়িয়ে দিলাম।নাহ...শরীরটায় রড আরো কয়েকটাতে আটকে যাচ্ছে।কিছুটা মোচড়া মোচড়ি করলাম।পারলাম না বের হতে।আবার রড কাটা শুরু হল।এইতো আর কয়েকটা রড।তারপর বেরিয়ে যাব।আমার মেয়েটাকে এইবার মেলায় নিয়ে যাব বলেছিলাম।কচি মেয়ে।এখনো কথা বুঝে না।অবুঝ বাচ্চারা শুধু মায়ের ভাষাই বুঝে।



হঠাত্‍ কিসের যেন শক লাগতে দেখলাম।উপরে তাকিয়ে দেখি অক্সিজেন এর পাইপ এর সাথে লোহার স্পারকিং হচ্ছে।আমলে নি নাই।উপরের মানুষগুলোও খেয়াল করে নাই।কিছুক্ষন পর পোড়া পোড়া গন্ধে ধীরে ধীরে দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।দেখি সবকিছু দ্রুত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আসছে।ছোটাছোটির আওয়াজ পেলাম।তাকিয়ে দেখি উপরের মানুষগুলো আর নেই।



কিছুক্ষনের জন্য ভুলেই গেলাম কি করতে হবে।হঠাত করেই চিৎকার দিলাম। আমি চেঁচাচ্ছি।চেঁচানোর কোন বিরাম নেই।আমার বাচ্চাটাকে দুধ খাওয়াতে হবে।চেঁচানো বন্ধ করা যাবে না।আমার মায়ের ঔষধ ও শেষ।কিনে দিব বলেছিলাম।এখন চেঁচানো বন্ধ করলে কিভাবে কিনে দিব?এইবার মাইনে পেলে বাবার একটা ফাতেয়া দিব ভেবেছিলাম।গলা টা শুকিয়ে আসছে।আমার বাচ্চাটাকে মেলায় নিয়ে যাব বলেছিলাম....চেঁচাতে চেঁচাতে হঠাত্‍ জ্ঞান হাড়াঁলাম।



মুখে পানির ছটা পড়ল।জেগে উঠলাম।ভেবেছিলাম হয়তো দুঃস্বপ্ন দেখছি।হাত,পা আর মুখের কিছু অংশ পুড়ে গেছে অনুভব করলাম।বুঝতে পারলাম দমকল কর্মীর পাইপ এর পানি মুখে এসে লাগছে।ভুলেই গিয়েছিলাম চেঁচাতে হবে।রডে আর সিমেন্ট এ জড়ানো জেলখানা থেকে দেখলাম বাইরে ভোরের আলো।ধোঁয়া ক্রমশ বাড়ছে।আকাশের দিকে তাকালাম।বিশ্রী রকমের সুন্দর।ছোট বাবুর মুখটা ভেসে উঠলো।আমাকে চেঁচাতে হবে।হাঁটুর উপড় ভর দিয়ে দাঁড়ালাম।পোড়া জায়গায় ঘষা লাগতেই মাংস কিছুটা খসে পড়ল।বুক ভরে আগুনের ধোঁয়া টেনে নিলাম।চোখ বন্ধ করলাম সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাশ কাদিঁয়ে চিত্‍কার দিব বলে...



কিছুক্ষন পর....

আকাশে কিছু কাক উড়ে গেল।শাহিনার শেষ আর্তনাদটি ভোরের হিমেল বাতাসে ভেসে এসে...কা কা শব্দের সাথে মিলিয়ে গেল।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা মে, ২০১৩ দুপুর ১:৫৫

প্রতাপ অভি বলেছেন: সত্যি কি কষ্ট ,হায় শাহীনা তোমাকে কেউ বাচাতে পারল না। ভালই লিখেছেন ভাই

০৩ রা মে, ২০১৩ দুপুর ২:০২

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু বলেছেন: কয়েকফোঁটা পানি আর একগাদা মন খারাপ করা লিখা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারলাম না...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.