নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু

স্বাধীনতা প্রিয় ১ জন মানুষ।শুধুই স্বাধীনতা চাই। https://www.facebook.com/md.z.bablu

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু

"মেবি আমি ক্রিয়েটিভ লোক না। কারণ শুনেছি ক্রিয়েটিভ লোকদের তৃপ্তি থাকতে হয় না, অতৃপ্তি থাকতে হয়।" ---হুমায়ূন আহমেদ

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রশ্নের উত্তর এবং মুর্ছার সাথে কিছু সময়।

০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:২৪

অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল মূর্ছাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো।চোখ রাঙিয়ে এত চটাং চটাং কথা বলে যে,কখনো শুরুই করতে পারি নি।

এইতো সেদিন টিউশনি বাদ দিয়ে দেখা করতে গেলাম...ওমনি সাথে সাথে...



-কি লাট সাহেব!এইভাবে উড়নচন্ডি হলে চাকরী করবেন কিভাবে?সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি?

-তাহলে গেলাম আমি।

-না থাক।আজকের মত মাফ।কোথায় আকাশ না কি ছাই দেখাতে নিয়ে যাবা বলছিলা না?তাড়াতাড়ি চল।



আরেকদিন গিটার ক্লাস থেকে বের হয়ে বাসায় না গিয়ে সোজা গেলাম মুর্ছার সাথে দেখা করতে।পিঠে গিটার দেখে কালবিলম্ব না করে..



-পড়ালেখা বাদ দিয়ে রকস্টার হওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি তোমার?

-হম(কিছুটা মন খারাপ করে)।



আমার মন খারাপ হলে মূর্ছা বুঝে।মুচকি হেসে বলে।



-আচ্ছা আমাদের যেদিন ফার্স্ট দেখা,সেইদিন বাসস্ট্যান্ড এ একটা গান বাজছিল,মনে আছে?ওটা গিটার এ তুলে শোনাও তো।



আমিও সুযোগ পেয়ে মুচকি হাসি।বলি...



-কোনটা?কৃঞ্চ কলির,"অল্প বয়সে পিরিতি করিয়া,হয়ে গেল জীবনেরও শেষ।" এটা?

-ধুর।যাও কোন গান শোনানো লাগবে না।



তারপর আমি দুজনের নীরবতা ভেঙে গানটা গিটারে তুলি..



"তুমি কি আজ বন্ধু,যাবে আমারি সাথে।

এমন ভরা জোছনা,পায়ে পায়ে দূরের ও পথে।"



এভাবে যতবার ই কথাটা বলতে যাই।ততবার ই কথার স্রোত অন্য দিকে বয়ে চলে যায়।টের ও পাই না।আজকে যাওয়ার কথা ছিল নদীর পাড়ে।তাই নদীর পাড়ে বসে,আজকে মনে থাকতেই, কোন কথা বলার আগেই একদম টিয়া পাখির শিখানো কথার মত কথাটা বলে ফেললাম।



-আচ্ছা মূর্ছা তুমি আমাকে কতটুকু ভালবাস?



কথাটা বলার পর নিজেকে কেমন জানি ওমর সানি মনে হল।মূর্ছার কোন উত্‍সাহই দেখলাম না।যা ভেবেছিলাম তার ছিটেফোঁটা প্রতিক্রিয়াও তার চোখে মুখে নেই।স্বাভাবিক কথার মতই বলল...



-বাংলা সিনেমা দেখা শুরু করলে কখন থেকে?

-তো কি তামিল সিনেমার মত বলবো নাকি,"নিঙ্গাল আন্ন্যে ইভভালাউই নেইসিক্কারারকাল?"

-তার মানে এখন তোমার কাজকর্ম সব সিনেমার অনুকরনেই চলছে?

-হম(কিছুটা রাগ দেখিয়ে)

-তা এই যে শার্ট উল্টা করে পড়ে এসেছো,এটা কোন সিনেমার অনুকরনে?



তাড়াহুড়োই খেয়াল ই করি নি যে আমি শার্ট উল্টো করে পড়েছি।আবার বললাম...



-আচ্ছা প্রশ্ন ডালিউড হোক আর হলিউড হোক।তুমি মূর্ছাউড এর মত উত্তরটা দাও।

-দেখ তোমার দেওয়া কানের দুলগুলো পড়ে এসেছি।ভাল লাগছে না?

-প্লিজ মুর্ছা?



আমরা নদীর পাড়ে বসে ছিলাম।মূর্ছা হঠাত্‍ দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে বলে...



-চল নৌকায় ভাসি কিছুক্ষন।



এইবার আমার জিদ চেপে গেল।



-উত্তর দাও।নাহলে আমি তোমার সাথে আর কোথাও যাচ্ছি না।

-আচ্ছা তুমি তো সাঁতার পার বলেছিলে।আমি কিন্তু পারি না।



আমি হঠাত্‍ সব ভুলে গেলাম।



-সাঁতার জান না।নৌকায় উঠতে যাচ্ছ কেন?দরকার নেই।

-তুমি পারলে আর আমার পারার দরকার কি?চল।



আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল।সূর্য তখন ডুবি ডুবি।নৌকা একটায় উঠলাম।আমি আর মূর্ছা মাঝ জায়গাটায়।নৌকা সূর্যমূখি।যেন সূর্যের পেটে গিয়ে পৌঁছাবে।পানির কলকল শব্দ। মূর্ছা আমার হাত চেপে ধরে কাঁধের উপর মাথা রাখল।প্রশ্নের উত্তরের কথা ভুলে গেলাম।হয়ত আরেকদিন মনে পড়লে জেনে নিব।এইভাবে প্রতিদিন উত্তর নেওয়ার কথা আর ভুলাতে দিব না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.