| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্
যখনি এ পথে যাবে, বারেক দাঁড়ায়ো ফুলবনে, শুধু দু হাত ভরিয়া দেব ফুল।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড। রাত ১১ টা। ইভিনিং এ ১২ বছর বয়সের মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ইন্টেস্টিনাল টিবি’র কেস। বাচ্চাটা থেকে থেকেই চিৎকার করছে, আংকেল আমার ব্যাথাটা কমিয়ে দেন। টিবির কারনে খাদ্যনালীর কিছু যায়গা চিকন হয়ে গেছে (ইন্টেস্টিনাল স্ট্রিকচার)। যখনই পেরিস্টলসিস হচ্ছে বাচ্চার চিকন হয়ে যাওয়া নাড়ির অংশে প্রবল ব্যাথা তৈরি করছে। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা ছাড়া এটা কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেই। যতক্ষণ না অপারেশন করা যাচ্ছে পেইন কিলার দিয়ে ব্যাথা কমানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে বাচ্চার সিভিয়ার এনিমিয়া। হেমোগ্লোবিন লেভেল ৬। স্যার ব্লাড ট্রান্সফিউশনের অর্ডার দিয়ে গেছেন। উল্লেখ্য এটা ছিল এডমিশন নাইট এবং পুরা ওয়ার্ডে ডাক্তার বলতে আমি একা। একের পর এক রোগী আসছে। এদের রিসিভ করতে হিমশিম খাচ্ছি। স্যার বলেছিলেন ফ্রেস ব্লাড দিতে। বি + ব্লাড গ্রুপ। বাচ্চার মা বলছিলেন চিটাগাং এ আমার জানাশোনা কেউ নেই। তাই মা নিজেই ব্লাড দিচ্ছেন। রাত ১২ টার দিকে নার্স খবর দিল ব্লাড রিএকশন হচ্ছে। সি এ কে কল দিলাম। উনি বললেন ব্লাড খুলে দিয়ে আবার এক ঘন্টা পর চেষ্টা কর। এদিকে বারান্দা, ওয়ার্ডের মেঝে কোথাও যায়গা খালি নেই। এতগুলা রোগীকে আমি একা ম্যানেজ করছি। রাত তিনটা। হঠাত খেয়াল হল, আমি তো বেমালুম ভুলে গেছি বাচ্চার ব্লাড আবার লাগিয়ে দিতে। তো সিএকে আবারও কল দিলাম। উনি বললেন এই ব্লাড আর দেয়া যাবে না। তুমি আরেক ব্যাগ ব্লাড যোগাড় করতে বল। মা কে বললাম এই ব্লাড দেয়া ঠিক হবে না। উনি কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করলেন, চিটাগাংএ আমার জানাশোনা কেউ নেই। তাই নিজেই রক্ত দিয়েছি। আপনি আমার এই রক্তটাও নষ্ট করে ফেললেন? তাঁকে আস্বস্ত করলাম, ফ্রেস ব্লাড যোগাড় হবে। ব্লাড ব্যাংকে চলে গেলাম। আমার রক্ত দিয়ে এলাম এবং ক্রসম্যাচ করতে বললাম। যদি না মেলে এই ব্লাড অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েন। যাই হোক ব্লাড মিলে গেল। রক্ত লাগিয়ে দেয়া হল। রোগীর মা বলল স্যার এই পানি আর জ্যুসটা এনেছি। আপনি খান প্লীজ! পরদিন ইভিনিং ডিউটিতে গিয়ে দেখলাম বাচ্চাটা নেই। নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চা মেয়েটা কোথায়? নার্স বলল ওরা চলে গেছে স্যার।
১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৬
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেছেন: আমি তখন ইন্টার্ন ডাক্তার। অপারেশন তো করবেন সার্জন। ভর্তি হয়েছিল মেডিসিনে। মেডিসিনের স্যার ডায়াগনোসিস করেছিলেন এবং পেশেন্ট কে সার্জারিতে রেফার করা হয়েছিলেন। ওরা আর সার্জারিতে যায়নি। তার আগেই রিস্ক বন্ড সাইন করে চলে যায়।
২|
১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: চিটাগাংএ আমার জানাশোনা কেউ নেই।
.................................................................
আমার জানা মতে চট্টগ্রামে ব্লাড ডোনার গ্রুপ আছে
সন্ধানী আছে, এমন বিপদে সাধারন মানুষ যদি
উপকার না পায়, তাহলে লজ্জার কথা ।
.............................................................................................
কারন এই ব্লাড ডোনেশন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় করেছি ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:২৯
ঢাকার লোক বলেছেন: আল্লাহর রহমত ও ডাক্তারদের চিকিৎসার কল্যানে কত রুগী প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তার হিসাব কেউ রাখে না, সব কিছুর মত অযত্নটাই চোখে পড়ে যত ! যার ফলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটে , যেমন হয়েছে ড নাসিরের ক্ষেত্রে।
লিখেছেন, অপারেশন ছিল একমাত্র অপসন , সে রাতেই কি অপারেশন করেছিলেন? আপনিই ? সে স্পষ্ট বোঝা গেলো না। পরদিন মেয়েটি বাড়ি চলে গেলো, অপারেশন না করেই ?