নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যোগেশ চন্দ্রের ডায়েরী

অনেক কথা বলবার আছে আমার...............সময়ের অপেক্ষায়

শ্রী জোগেশ চন্দ্র বর্মণ

খালি পড়তে মনে চায়। মানুষ এতো কম বাঁচে ক্যান???????????????

শ্রী জোগেশ চন্দ্র বর্মণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

'ক্ষমতার' নগ্ন প্রদর্শনী: আমাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩১

এখন থেকে মাস ছয়েক আগের কথা। খুলনা শহর। সন্ধ্যায় রাস্তায় রাস্তায় হাটাহাটি করি। গলি থেকে ধাড়ি রাস্তা, আবার ধাড়ি রাস্তা থেকে গলি। ঢাকা শহরের মতো মানুষের অতো হিবজিগিবজি অবস্থা না। তবে হাটার 'শান্তি'তে ক্রমাগতই বাগড়া বাধায় রিক্সা, অটো-রিক্সা আর ইজি বাইক। পিলে চমকায় ক্ষণেক্ষণে। এই বুঝি ঘাইঘুই লাগে। কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন গা বাচিয়েই পথ চলি। অন্য শহরগুলোর মতোই এখানেও বিচিত্র মানুষের মেলামেশা। ধনী-গরীব, কালা-ধলা, খাটো-লম্বা, মোটা-চিকন, নারী-পুরুষ, যুবক-বুড়ো, ইয়ো-আবুল...........ইত্যাকার হাজারো প্রকার।



শহরে মানুষগুলোর আরোও এক প্রকার আছে- হিন্দু-মুসলমান। মন্দির আছে ঢের। আছে মসজিদ প্রচুর। একবার আযান শুরু হলে এ মসজিদ, ও মসজিদে চলতে থাকে 'আধ ঘন্টা' জুড়ে। মন্দিরে মসজিদে উৎসব লেগে থাকে। শহরে হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থানে তীব্র সাম্প্রদায়িক আঘাত আমি প্রত্যক্ষ করি নি।



এক সন্ধ্যায় শহরের বড় বাজারের দিকে যাচ্ছি। কানে ভেসে আসলো দরদী গলার সঙ্গীত। কাছেই কোথাও মাইকে বাজানো হচ্ছে। কথাগুলোও বেশ সুন্দর.......

"লাখো শহীদের রক্তে কেনা

বাংলা মোদের প্রাণ,

তবুও কেন বন্ধু তোমার

বিদেশের প্রতি টান......."

অন্তরে গেথে যাবার মতো। প্রাণ আছে কথায়। সন্ধ্যায় শহরের বড় বাজার এলাকায় মানুষের ভিড় হয় বেশ। এখানে হিন্দু দোকানী আর খরিদদার মুসলমানের সমানে সমান। বিশেষ কারণেই এই প্রসঙ্গ পাড়তে হলো।



গান চলছে। এবারে নতুন লাইন ধরেছে গাতক............

"হাতে শাখা, মাথায় সিদুর

সেজেছো হনুমান

....... মানুষ রূপী শয়তান"।



বুকের ভেতর শেলের মতো বিধলো কথাগুলো। একটু আগে যেই সুর কানে সুধা বর্ষেছে, এখনো ঢেলে দিলো সুতীব্র গরল। ভাষার নোংড়ামী, আর জঘন্যতাকে মাইকে ছড়িয়ে দেওয়া হচেছ। গান বেজে চলেছে। থামাবার কেউ নেই। ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শনী একেই বলে বুঝি?? ঘটনা যদি এর বিপরীত হতো? ধরা যাক কোনো মন্দির থেকে বাজানো হচেছ......

"মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি

সেজেছো হনুমান........"

বলুন তো কেমন লাগতো মুসলমান ভাইয়ের? বলবার অপেক্ষা রাখেনা, দলবল নিয়ে হামলে পড়তেন মন্দিরে।



"কাটার আঘাত দাওগো যারে তারে,

ফুলের আঘাত সয় না।

তোমার দিল কি দয়া হয় না......."



আমাদের যাচ্ছেতাই কর্মকান্ড তিলে তিলে ঘনীভূত হয়ে নোংড়ামীর বিস্ফোরন ঘটায় রামু, উখিয়ায়। মালাউন, মালু.........ইত্যাকার তুচ্ছতাচ্ছিল্য, সামাজিকভাবে কোন ঠাসা করে রাখা........



ভাবুনতো...................ভাবতে আপনাকে হবেই।

দয়া করে বেহায়ার মতো এড়িয়ে যাবেন না।

দু'টা মিনিট চোখ বন্ধ করে ভাবুন..............

নির্ধারণ করুন আপনার ভূমিকা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.