নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

" আল কোরআন " এর ২৬ টি আয়াত বাতিল চেয়ে আদালতে দায়ের করা রিট বাতিল করলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

১২ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:২৭


ছবি - probashkhabar.com

পবিত্র কোরআনের ২৬টি আয়াত বাতিল চেয়ে ভারতের উচ্চ আদালতে গত ১৩ মার্চ একটি রিট দায়ের করেছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ওয়াসিম রিজভী

জানা গেছে, রিট আবেদনে বলা হয়, এই ২৬টি আয়াত উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামের তিন খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) এবং হযরত ওসমান (রাঃ) কোরআনের মধ্যে ঢুকিয়েছেন। ক্ষমতা সুসংহত করতেই তারা এ কাজ করেছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয় । রিটে বলা হয়েছে,এই আয়াতগুলোতে মানুষকে সহিংস জিহাদে উৎসাহিত করা হয়েছে।রিট আবেদনে আরো বলা হয়েছে,পবিত্র কুরআন শরীফের কিছু আয়াতের কারণে ইসলাম ধর্ম ধীরে ধীরে তার মূল শিক্ষাগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যা আজকাল সহিংস আচরণ, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে চিহ্নিত হচ্ছে। তাই আয়াতগুলো অপসারণের আবেদন জানাচ্ছি। রিটে আবেদনে আয়াত নাম্বারগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়।এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

পবিত্র কুরআনুল কারীম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সর্বশেষ জীবন বিধান, যা পূর্ণাঙ্গ এবং সকল প্রকার দোষত্রুটি মুক্ত। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই সে ঘোষণা দিয়েছেন। দেড় হাজার বছর ধরে পবিত্র কুরআন তার প্রতিটি হরফ এবং হরকতসহ সম্পূর্ণ সংরক্ষিত অবস্থায় আছে।কুরআন সম্পর্কে রিটকারীর বক্তব্য ছিল চরম ধৃষ্টতামূলক। সে শুধু আল্লাহর কুরআনকেই আঘাত করেনি বরং রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর যে মহান চারজন খলীফা মুসলিম মিল্লাতের অভিভাবক ও শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সাহাবাগণের মধ্যে অগ্রবর্তী ছিলেন। তারা জীবিত অবস্থায় জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ছিলেন। তারা সকলের সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। রিটকারী চার চার জন খলীফার মধ্যে তিন জনেরই চরিত্র হনন করেছেন। এ তার ইসালাম কে এবং ইসলামের চার খলিফাকে ছোট করার অপপ্রয়াস ।সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

আর রিট দাখিলের পর পরই অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড ও আরও অনেক মুসলিম সংগঠন রিজভির এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে এবং আদালতের কাছে রিটটি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে বলেছে, কোরআনের আয়াতগুলির সত্যতা নিয়ে মুসলমানরা কোনো বিতর্ক করবে না।এছাড়া, মজলিস-এ-উলামায়ে হিন্দ এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কালবে জাওয়াদ এবং লখনউয়ের আইশবাগ ঈদগাহের ইমাম মাওলানা খালিদ রশিদ ফারঙ্গী মহালিও রিজভীর এ কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন।সকল মুসলমানের প্রত্যাশা ছিল ,রিট আবেদনকারী তার ভুল বুঝতে সমর্থ হবেন এবং রিট প্রত্যাহার করে নেবেন। সেই সাথে ভারত সরকার ও এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ প্রত্যাশা ছিল।


ছবি - Ittefaq.com

তারই ধারাবাহিকতায় -ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) বিচারপতি আর এফ নরিমনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রিট আবেদন বাতিল করে দিয়ে আদেশ দেন।

সোমবার ( ১২ এপ্রিল) বিচারপতি রোহিনটন নারিমানের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই রিট পিটিশনকে "পুরোপুরি অর্থহীন’" বলে মন্তব্য করে রিটটি খারিজ করে দেন। এসময় আদালত রিজভীকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানাও করেছেন। এই অর্থ জরিমানা লিগ্যাল এইড সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছে।


বিচারপতি নারিমান আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি সত্যিই এই পিটিশন নিয়ে তর্ক করতে চান? ওই আইনজীবী দুই মিনিট সময় চান। তিনি আদালতকে বলেন, মাদরাসায় আটকে রেখে শিশুদের মধ্যে "ইসলামি সন্ত্রাসবাদের উন্মেষ" ঘটাতে এসব আয়াত ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারপতি নারিমান বলেন, আমরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনেছি এবং এটা পুরোপুরি অর্থহীন তাই আমরা এই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছি। রিজভী তার পিটিশনে বলেছিলেন যে, "অবিশ্বাসী এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৈধতা দিতে এসব আয়াত কুরআনে ঢুকানো হয়েছে"।



তথ্যসূত্র - ইত্তেফাক

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:৫৪

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: কিন্ত পুরো কোরান যে নিষিদ্ধ করে দিল চীন,সেটা নিয়ে তো কেউ কিছু বলছে না।নাকি ভাসুরের নাম মুখে আনতে নেই।

১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নুরুলইসলা০৬০৪ ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

গত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন শরীফসহ সব ধর্মীয় গ্রন্থ নতুন করে লেখার পরিকল্পনা করছিল চীন। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের আদলে ধর্মগ্রন্থগুলো পুনর্লিখনের বিষয়ে সে সময় দলটির জাতিতত্ত্ব বিষয়ক কমিটির এক সভায় এ পরিকল্পনা করা হয়।

যদিও মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন আর খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল নতুন করে লেখার উদ্যোগ নিয়েছে চীন।তাদের ভাষায় মৌলিক ধর্মগ্রন্থগুলোর সব অনুবাদ পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ গ্রন্থগুলোর নতুন সংস্করণে সমাজতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনও তথ্য রাখা হবে না। কোনও অনুচ্ছেদ সাংঘর্ষিক মনে হলে সেন্সর বোর্ড সেগুলো পরিমার্জন করবে।ফরাসি গণমাধ্যম লে ফিগারোকে ওয়াং ইয়াংয় জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যুগের চাহিদা ও সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধর্মের তত্ত্ব ব্যাখ্যা দেবে চীনা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে এটাও ঠিক কোন ধর্মের ই মৌলিক বিষয়গুলি পরিবর্তনযোগ্য নয় ।তার মানে হল ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলি অপরিবর্তনযোগ্য ।তা সে যেই দেশ বা সরকারই হোক না কেন।সারা দুনিয়ায় অনেকেই অনেক কিছু করতে চায় তবে সব কিছু করার বা সবার আশা পূরণ হয়েছে এমন নজীর দুর্লভ।

২| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৫

চাঁদগাজী বলেছেন:




আপনি ভারতকে ধর্মীয়-দেশ হিসেবে দেখতে চান, নাকি ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চান?

১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

পৃথিবীর সবচয়ে বেশী ধর্ম বৈচিত্রের দেশ ভারত।আর ভারত চাইলেই ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারবেনা তার জাতি বৈচিত্রের এবং বিশাল জনসংখ্যার কারনে।

ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন শাসকদল তথা বিজেপি শাসনামলে ভারতকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী তথা হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা পরিলক্ষিত হচছে।তবে ভারতের জন্য ধর্ম-নিরপেক্ষতাই সবচেয়ে ভাল অপশন।যদিও বর্তমানে দুনিয়াব্যাপী ই উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান হচছে এবং ভারতেও তা প্রভাব বিস্তার করছে।

৩| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
মহান আল্লাহ নিজেই তার পবিত্র কালামকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন
কেয়ামত পর্যন্ত তিনিই একে হেফাজত করবেন। কারো সাধ্য নাই
এর একটি অক্ষর পরিবর্তন করার।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

মানুষ ক্ষমতা পেলে এমন অনেক কিছু করতে চেষ্টা করে যা আসলে তার কখনো করা উচিত না। যে বিষয়ে মহান আল্লাহ নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন সে বিষয়ের বিরুদ্ধে মানুষের কিছু করার চেষ্টা করাই বোকামী। এতে স্রষ্টার কিছুই হবেনা তবে যারা এ জাতীয় পাপাচার করবে তারাই ইতিহাসের আস্থাকুড়ে নিপতিত হবে।

৪| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


২নং মন্তব্যের উত্তরে দেয়া আপনার গরুর রচনা পড়েছি, গরু অনেক পায়খানা করেছে। নীচে আমার প্রশ্নটা আবার দিলাম, দেখেন উহার উত্টর দিতে পারেন কিনা।

আপনি ভারতকে ধর্মীয়-দেশ হিসেবে দেখতে চান, নাকি ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চান?

১২ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: মিয়াভাই (মুরুববী),গরুর রচনার প্যারার (আপনার ভাষায় পায়খানা, তয় আমার মনে লয় আপনার হয়ত অজানা যে গরু পায়খানা করেনা - ল্যাদায় ।পায়খানা করে মানুষের আকৃতি রুপী কিছু প্রাণী) মাঝেই আপনার জবাব ছিল।আপনি আসলে মনে হয় কখনোই কিছু পড়ে মন্তব্য করেন না।

ভারত কেন ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারবেনা তার জবাবের মাঝেই আপনার প্রশ্নের উত্তর নিহিত।তার পরেও এককথায় প্রকাশ করি "ধর্ম-নিরপেক্ষ "।

৫| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি ভারতেকে ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চান, এটাই সঠিক?

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: সঠিক।

৬| ১২ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:২৭

রানার ব্লগ বলেছেন: পৃথিবীতে এখনো অনেক উন্মাদ আছে তাহলে।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রানার ব্লগ ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

মানুষ নিজেকে লাইমলাইটে রাখার জন্য বা নিজের স্বার্থে এমন অনেক কাজই করে না শোভন না মানানসই। আর এসব মানুষ শুধু উন্মাদ নয় মহা উন্মাদ । এরা মানবতার তথা সভ্যতার দুশমন।

৭| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট এবং মন্তব্য গুলো পড়লাম।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

৮| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:১৪

লাতিনো বলেছেন: লাল ছাগলের প্রশ্ন সুন্দর হলে উত্তর দিয়ে মজা পাওয়া যায়।

কোন দেশের সংবিধানের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক হলে সেই দেশ যে কোন প্রকাশনা নিষিদ্ধ করতে পারে। সেক্যুলার চাইনিজদের কাছে কুরআন কোন ঐশী গ্রন্থ নয় - একটি প্রকাশনা মাত্র। তাই তারা সেটি নিষিদ্ধ করতেই পারে। কিন্তু কোন অবস্থায়ই তার বিকৃতি কাম্য নয়।

চাইনিজ সরকার যদি কুরআনের সেক্যুলার সংস্করণ বের করতে চায়, তবে তা আর কুরআন থাকবেনা। অন্য কিছু হবে। সেটাকে জোর করে চায়নাতে চালানো গেলেও একটি মুসলিমও মন থেকে তা গ্রহণ করবেনা। তাই অরজিনাল কুরআন সেটাই যেটা শিয়া সুন্নী নির্বিশেষে সমস্ত মুসলিম মনে প্রাণে গ্রহণ করেছে, হিফজ করেছে এবং অনুসরণ করে চলেছে।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ২:১৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ লাতিনো ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

চাইনিজদের তা প্রস্তাব বা পরিকল্পনা ।তবে যদি সত্যিই এরকম কিছু শেষপর্যন্ত করতে চায় বা করে তা কারো জন্যই ভাল ফল বয়ে আনবেনা । তা মুসলিম,খ্রিস্টান কিংবা চাইনিজ কারো জন্যই।আর এই ক্রিয়ার কি প্রতিক্রিয়া হবে তা চীনের ভালোভাবেই জানা আছে।

আর , আল কুরআনের সংরক্ষণের ও হেফাজতের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাকের। আল্লাহর ঘোষনা বা বাণী অপরিবর্তনীয়। কাজেই এ ব্যাপারে আল্লাহ পাকের ফয়সালাই শেষ পর্যন্ত সঠিক হবে ।মানুষ যে যে ভাবেই চেষ্টা করুক না কেন তাতে আল কুরআনের কোন ক্ষতিই বা পরিবর্তন করতে পারবেনা।

৯| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৩:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: লাতিনো একজন ব্লগারকে 'ছাগল' বলতে পারেন না।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৩:৫৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: রাজিব নুর ভাই, আমাদের সকলকেই একটা জিনিষ মনে রাখা প্রয়োজন -

" অন্যকে সম্মান দিলে পরোক্ষভাবে নিজেকে সম্মানিত করা হয়।আর কাউকে অসম্মানিত বা ছোট করে নিজেকে বড় প্রমাণ করা যায়না"

মানুষে মানুষে মতের-মনের অমিল থাকবেই ।থাকবে মতবিরোধ,থাকতে পারে দ্বৈত দ্বন্ধ। তবে যাই কিছু হোকনা কেন ,সব শেষে আমাদের মনে রাখা উচিত - আমরা মানুষ।আশরাফুল মাখলুকাত ।আমাদের এমন কোন আচরন কারোরই করা উচিত নয় যা আমাদের স্রষ্টার পক্ষে তৈরী সেরা মানুষের মর্যাদা ছোট করে।

১০| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৪:১১

নতুন বলেছেন: শিয়ারা যদি এই বিশ্বাস রাখে তবে নিশ্চই এর পেছনে কিছু কারন আছে।

এমন বিষয়গুলি কেন থাকলো ?

কেন রাসুল সা: জিবিত থাকার সময় কোরান সম্পূর্ন ইনডেক্সিং করে গেলেন না?

কেন সাধারন মানুষেরা কোরানের সংকলন করলো?
কেন প্রথম নাজিল হওয়ার সময় ধরে কোরানের সংকলন করা হলো না?

১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:০৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন ভাই, আপনার মন্তব্য এর জন্য। ৷৷ আসলে ভাই,এগুলি কেউ ইসলামকে ভালবেসে করেনা। এগুলি তারা নিজেদের প্রচারণা র জন্য করে আর করে ইসলামের সাথে প্রতারণা। রসুলল্লাহ’র ( সঃ) জীবদ্দশায় নানা কারনেই কোরআন সংকলন করা হয়নি। আর হযরত উসমান (রাঃ) এর সময়ে নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে কোরআন সংকলন করা হয়েছে এবং তা করা হয়েছে নানা রকম যাচাই-বাছাই য়ের মাধ্যমে। তার জন্য একটি পোসট দরকার বিস্তারিত বলার জন্য। তবে এটা ঠিক নয়,যে সাধারণ মানুষেরা কোরআন সংকলন করেছে। তখনকার সময়ের শ্রেষ্ঠ সাহাবী এবং জ্ঞানী মানুষেরাই এ মহান কাজে অংশগ্রহণ করেছিল এবং তারা তার বিশুদ্ধতা তথা আদিঅকৃত্রিম কোরআন বহুরকম যাচাই-বাছাই য়ের পরই আজকের রুপ লাভ করেছে।

১১| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:২২

নতুন বলেছেন: ভাই রাসুল সা: এর মৃত্যুর পরের সময়টা খুবই অন্যরকম ছিলো।

৩ খলিফাকে হত্যা করা হয়েছিলো
রাসুল সা: এর ২ নাতীকে হত্যা করা হয়েছিলো
আলী এবং আয়সা রা: এর মাঝে যুদ্ধ হয়েছিলো
রাসুল সা: কন্যাকে দাফন করা হয়েছিলো পারিবারিক ভাবে, সেখানে খলিফাকেও জানাজায় বলা হয় নি। এবং তাকে দাফনও করা হয়েছে একেলা।
সাহাবী মায়াবিয়ার ছেলে ইয়াজিদ রাসুলের নাতীর হত্যা পেছনে ছিলো।

কোরানের দায়ীত্ব সৃস্টিকতার তবে সেটার সংকলন নানা কারনে করা হয় নি কেন?

সময়টা যতটা মনরম সবাই দেখায় আসোলেই কি ততটা সুন্দর ছিলো? রাসুল সা: এর মৃত্যুর পরে রাজনিতি অনেক বড় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছিলো।

১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১১:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন ভাই, আপনার মন্তব্য এবং অনেকগুলি প্রশ্নের জন্য।

এ দুনিয়ায় কোন কিছুই সরলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়না ।প্রতিটা জিনিষ প্রতিষ্ঠার পিছনে অনেক করুন কাহিনী এবং অনেক কিছু এবং অনেক মানুষের প্রাণের বিনিময়ে হয় যা পরবর্তী সময়ের মানুষ সেগুলি ততটা উপলব্ধি করতে পারেনা।

ইসলামের ৩য় খলিফা হযরত উসমান (রাঃ) হত্যা,হাছান-হোসেন হত্যা,উষ্ট্রের যুদ্ধ বা জঙ্গে জামাল যুদ্ধ ,সিফফিনের যুদ্ধ এসবই ক্ষমতার ইতিহাসের চোরাগলির অনেক করুন কাহিনী আমাদের মনে করিয়ে দেয়।

সে সময়টা আসলেই ততটা মনোরম বা সুন্দর ছিলনা।রাজনীতি ছিল তার সাথে সাথে ছিল কারো কারো ক্ষমতালিপসা এবং
ব্যক্তিগত স্বার্থ চর্চা।আর এগুলি বলতে গেলে অনেক সময় এবং ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্ট দরকার।

আপনার প্রশ্ন , কোরানের দায়ীত্ব সৃস্টিকতার তবে সেটার সংকলন নানা কারনে করা হয় নি কেন?

ভাই, এ মন্তব্যের জবাব অল্প কথায় দেয়া মুশকিল ।আল কোরআন সংরক্ষনের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাকের তারপরেও আল্লাহ পাক নিজে নিজে কোন কিছু সরাসরি করেন না ।তার সব কিছুই তিনি কোন মাধ্যমে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে করেন।আর তাই আল কোরআন সংকলন মানুষ তথা হজরত ওসমান (আঃ) মাধ্যমে হয়েছে।

নবী করিম (সঃ)‌ ওফাতের পর সর্বপ্রথম হজরত আবু বকর (রাঃ) আল কোরআন সংকলনের ব্যবস্থা করেন ।তার সংকলিত কোরআনের বৈশিষ্ট্য হলো- সে সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল লিখিতভাবে কোরআন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। আর সে সংকলনের প্রেক্ষাপট ছিল তৎকালীন হাফেজে কোরআনদের একের পর এক মৃত্যুবরণ করার কারণে কোরআনের কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। রাসুল (সঃ)‌ - এর যুগ থেকে বিভিন্ন সাহাবির কাছে কোরআনের সম্পূর্ণ অথবা অসম্পূর্ণ যেসব কপি বা পাণ্ডুলিপি নিজ নিজ সংগ্রহে ছিল, সেসব কপির মধ্যে সমন্বয় সাধন কিংবা চূড়ান্ত বিচার-মীমাংসা করে অভিন্ন পঠন পদ্ধতি প্রণয়ন সে সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল না।এমনকি সেখানে সর্বসাধারণের সুবিধার্থে সাত কেরাত বা সাতভাবে কোরআন পাঠের অবকাশ রাখা হয়েছিল।

ফলে "মাসহাফে আবি বকর" এর পাশাপাশি আরো বহু 'মাসহাফ' তৈরি হতে থাকল এবং একেক শহরে একেক 'কারি'কে অনুসরণ করে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষ কোরআন পড়তে লাগল। সিরিয়ার অধিবাসীরা হজরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ)-এর কেরাত অনুসারে, ইরাকের অধিবাসীরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কেরাত অনুসারে, অন্যরা হজরত আবু মুসা আশআরি (রাঃ)-এর কেরাত অনুসারে তেলাওয়াত করতে লাগল। এতে পবিত্র কোরআনের শাব্দিক উচ্চারণ ও পঠনরীতি নিয়ে কিছুটা বিরোধ দেখা দিল। (সূত্র - জমউল কোরআনি হিফজান ওয়া কিতাবাতান, ড. আলী বিন সুলায়মান, পৃ. ৫৩-৫৪)।

এদিকে ইসলামের ৩য় খলিফা হজরত ওসমান (আঃ)-এর যুগে ইসলাম বিজয়ী বেশে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর যুগে আরবের সীমানা পেরিয়ে ইসলাম খুব দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করে। আরব-অনারব নির্বিশেষে অগণিত লোক ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকে। ফলে সেসব এলাকার নব মুসলিমরা খেলাফতের পক্ষ থেকে প্রেরিত বিভিন্ন 'মুয়াল্লিম' থেকে এবং কোথাও কোথাও মুজাহিদিনে ইসলাম থেকে কিংবা আরবের মুসলিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোরআন শিখতে শুরু করে। এতে বিপত্তিও বাড়তে থাকে। হজরত হুজাইফা বিন ইয়ামান (রাঃ) আরমেনিয়া, আজারবাইজান সীমান্তে জিহাদে মশগুল থাকা অবস্থায় দেখলেন, সেখানে মানুষের মধ্যে কোরআনের পঠনরীতি নিয়ে মতবিরোধ চলছে। এমনকি এক দল আরেক দলকে কাফের পর্যন্ত বলছে। তিনি জিহাদ থেকে ফিরে হযরত ওসমান (রাঃ) -কে এক রীতিতে কোরআন পড়ার প্রথা চালু করতে পরামর্শ দেন।

হযরত ওসমান (রাঃ) অবিলম্বে এ নিয়ে নেতৃস্থানীয় সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। সাহাবায়ে কেরামের ইজমার ভিত্তিতে সে পরামর্শে তিনটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যথা -

১। 'মাসহাফে আবি বকর'-এর পরিবর্তে অভিন্ন পঠনরীতিতে কোরআন সংকলন করা হবে।
২। প্রতিটি শহরে এর একেকটি কপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
৩। বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে অবশিষ্ট কোরআনের কপি বাজেয়াপ্ত করা হবে।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজরত ওসমান (রাঃ) ২৫ হিজরির শুরুর দিকে চারজন বিশিষ্ট সাহাবির সমন্বয়ে একটি কোরআন সংকলন বোর্ড গঠন করেন। এ চারজন সাহাবি হলেন -
১। হজরত জায়েদ ইবনে সাবেত
২। আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের
৩। সাইদ ইবনুল আস
৪। আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম (রা.)।

তাঁদের মধ্যে হজরত জায়েদ (রাঃ) ছিলেন আনসারি সাহাবি আর বাকি তিনজনই ছিলেন কুরাইশি। প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত এ চারজনের বাইরে হজরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) , কাসির ইবনে আফলাহ (রাঃ) , মালেক ইবনে আবি আমের (রাঃ) , আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখসহ মোট ১২ জন এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
(ফতহুল বারি, খ. ৯, পৃ. ১৩-১৫; কিতাবুল মাসাহিফ, ইবনে আবি দাউদ, পৃ. ২৫)

এখানে উল্লেখ্য, কেউ কেউ হজরত ওসমান (রাঃ) -এর আমলে কোরআন সংকলনের প্রধান তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

১। কোরআনের পঠনরীতি নিয়ে সদ্য বিজিত দেশগুলোতে মতবিরোধ।
২।বিভিন্ন কেরাত নিয়ে কোরআনের মুয়াল্লিমদের বিরোধ।
৩।এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের বিরোধ।
(সূত্র : রসমুল মাসহাফি ওয়া জবতুহু.., ড. শা'বান মুহাম্মদ ইসমাইল, খ. ১, পৃ. ১৬-১৭।

কোরআন সংকলন কমিটির কর্মপন্থা -

হজরত ওসমান (রাঃ) এর আমলে কোরআন সংকলন কমিটি সংকলনের ক্ষেত্রে প্রথমে কর্মপন্থা ও নীতিমালা নির্ধারণ করে। সেসব কর্মপন্থার অন্যতম নীতি ছিল এই যে -

১।হজরত আবু বকর (রাঃ) সংকলিত কোরআনকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে নতুন সংকলনে অগ্রসর হওয়া। তাই হজরত ওসমান (রা.) হজরত হাফসা (রাঃ) এর কাছে এ মর্মে বার্তা পাঠালেন যে 'হজরত আবু বকর (রাঃ) সংকলিত কোরআনের কপি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হোক, আমরা তার থেকে আরো কপি করে আপনাকে তা ফেরত দিয়ে দেব।'
২।হজরত ওসমান (রাঃ) এর সার্বক্ষণিক পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে সে সংকলনটি প্রস্তুত করা হয়। (কিতাবুল মাসাহিফ, ইবনে আবি দাউদ, পৃ. ২৫)
৩।কোরআনের প্রমিত উচ্চারণসহ সার্বিক বিষয়ে তাঁরা নেতৃস্থানীয় সাহাবায়ে কেরামের পরামর্শ নিতেন।
৪। বৈধ থাকা সত্ত্বেও একই শব্দের একাধিক লিখন পদ্ধতির পরিবর্তে প্রমিত ও অভিন্ন রীতি প্রচলন।
৫।শব্দের লিখনরীতি নিয়ে মতবিরোধ হলে কোরাইশ ভাষার প্রাধান্য। হজরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন যে 'তোমরা ও জায়েদ কোনো বিষয়ে একমত না হলে কোরাইশ ভাষায় তা লিখে দেবে। কেননা কোরআন কোরাইশ ভাষায় নাজিল হয়েছে।' (বুখারি ৬/৯৯) (সূত্র : জম্উল কোরআনি হিফজান ওয়া কিতাবাতান, ড. আলী বিন সুলায়মান, পৃ. ৫৯-৬১)।

৬। উল্লিখিত কাজগুলো করার পাশাপাশি তাঁরা এবারও সে পন্থা অবলম্বন করেছেন, যে পন্থা হজরত আবু বকর (রাঃ) এর সময় অবলম্বন করা হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য রাসুল (সাঃ) এর যুগে প্রস্তুতকৃত সাহাবায়ে কেরামের কাছে সংরক্ষিত কোরআনের বিভিন্ন কপি ও পাণ্ডুলিপি আবার তলব করা হয়। এরই সঙ্গে নতুনভাবে নিরীক্ষণের মাধ্যমে নতুন কপি প্রস্তুত করা হয়। এবার সুরা আহজাবের ২৩ নম্বর আয়াত কেবল হজরত খুজাইমা (রাঃ) এর কাছেই পাওয়া গেছে। এর অর্থ এই নয় যে সে আয়াত আর অন্য কারো স্মরণে ছিল না। কেননা হজরত জায়েদ (রাঃ) নিজেই বলেছেন, 'মাসহাফ লেখার সময় সুরা আহজাবের একটি আয়াত (লিখিতরূপে) পাওয়া যাচ্ছিল না, অথচ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সেটি পাঠ করতে শুনেছি। আমরা অনুসন্ধান করেছি, অতঃপর তা পেয়েছি খুজাইমা বিন সাবেত আনসারি (রাঃ) এর কাছে।' (ফতহুল বারি, খ. ৯, পৃ. ১৭) ।

হজরত ওসমান (রাঃ) সংকলিত কোরআনের বৈশিষ্ট্য

১। হজরত আবু বকর (রাঃ) এর আমলে কোরআন সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল লিখিতভাবে কোরআন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। আর সে সংকলনের প্রেক্ষাপট ছিল তৎকালীন হাফেজে কোরআনদের একের পর এক মৃত্যুবরণ করার কারণে কোরআনের কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। হজরত ওসমান (রাঃ) এর আমলে কোরআন সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল রাসুল (সা.)-এর যুগ থেকে বিভিন্ন সাহাবির কাছে কোরআনের সম্পূর্ণ অথবা অসম্পূর্ণ যেসব কপি বা পাণ্ডুলিপি নিজ নিজ সংগ্রহে ছিল, সেসব কপির মধ্যে সমন্বয় সাধন কিংবা চূড়ান্ত বিচার-মীমাংসা করে প্রমিত ও অভিন্ন পঠন পদ্ধতি প্রণয়ন করা।

২। হজরত আবু বকর (রাঃ) কোরআনের যে কপি প্রস্তুত করেছেন, সেখানে সুরাগুলো বিন্যস্ত ছিল না। বরং প্রতিটি সুরা আলাদা আলাদা লেখা হয়েছিল। এ সংকলনে সব সুরাকে বিন্যস্ত করে একই মাসহাফে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

৩। এ সংকলনে কোরআনের আয়াতগুলো 'নুকতা' ও 'হরকত' ব্যতীত এভাবে লেখা হয়েছে যে একই আয়াতের সব কয়টি 'মুতাওয়াতির' কেরাতের অবকাশ রাখা হয়েছে।

৪।হজরত আবু বকর (রাঃ) এর আমলে কোরআনের কেবল একটি কপি প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর এ সংকলনে কোরআনের একাধিক কপি প্রস্তুত করা হয়েছে। আল্লামা সুয়ুতির গবেষণা ও প্রসিদ্ধ অভিমত অনুসারে হজরত ওসমান (রা.) কোরআনের পাঁচটি কপি প্রস্তুত করেছেন। (আল ইতকান, খ. ১, পৃ. ২১১)

ইবনে আবি দাউদ (রহ.) বলেন, আমি আবু হাতেম আস সিজস্থানি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে সে সময় মোট সাতটি কপি তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো একটি করে মক্কা, শাম, কুফা, বসরা, ইয়ামান ও বাহরাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি মদিনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। (কিতাবুল মাসাহেফ : (১/২৪২)

৫। সাত কেরাতের পরিবর্তে অভিন্ন রীতিতে কোরআন প্রচলন।

৬। বিভিন্ন সাহাবির ব্যক্তিগত সংগ্রহে কোরআনের যেসব পাণ্ডুলিপি ছিল, তাদের কারো কারো কপিতে কোরআনের শাব্দিক ব্যাখ্যাও লেখা ছিল, এ সংকলনে সেগুলো পৃথক করা হয়েছে। (সূত্র - জম্উল কোরআনিল কারিম ফি আহদিল খুলাফাইর্ রাশিদিন, আবদুল কাইউম আস্ সানাদি, খ. ১, পৃ. ৪২)।

আল কোরআনের সংকলনের কাজ সমাপ্তির পর.....

হজরত ওসমান (রাঃ) এর তত্ত্বাবধানে কোরআন সংকলনের কাজ সমাপ্তির পর তিনি আগের ঘোষণা অনুযায়ী 'মাসহাফে আবি বকর' হজরত হাফসা (রাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে দেন। হুকুমতের বিভিন্ন প্রদেশে এর একেকটি কপি পাঠিয়ে দেন। এরই সঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ সম্মতিক্রমে কোরআন নিয়ে মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করে কোরআনের অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপি ও কপি তিনি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে হজরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) ব্যতীত আর কোনো সাহাবির দ্বিমত ছিল না। আর প্রথমে দ্বিমত পোষণ করলেও পরবর্তী সময় তিনিও সম্মত হন।


আর তারপর থেকে সারা দুনিয়ায় আল কোরআন অভিন্ন রীতিতে একই রকম আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত একই থাকবে।

১২| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:৫৮

লাতিনো বলেছেন: লাল ছাগলকে দেখতে মানুষের মত মনে হতে পারে, কিন্তু এমন সব মন্তব্য করে, সেগুলো দেখে মনে হয় ঘাস আর কাঁঠালপাতা ছাড়া আর কোন খাবার তাকে খেতে দেয়া হয়না। সুস্থ স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কোন মানুষ এত ফালতু মন্তব্য করতে পারে? তাকে ছাগল ছাড়া কি ডাকব? ভেড়া?

প্রশ্নটা রাজীব নুরকে। আপনার জবাব দেয়ার প্রয়োজন নেই।

১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১১:৪৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: লাতিনো ভাই,

দেখলাম, বুঝলাম তয় জবাব দিলাম না।

ভাই একখান কথা আছেনা - " যদি দাগ থেকেই দারুন কিছু হয় তবে দাগই ভাল "।জানার-বুঝার জন্য বা উদ্দেশ্যে যদি আপাত দৃষ্টিতে ফালতু তয় নির্দোষ মন্তব্য করে তবে জবাব দেয়া যায় । আর যার প্রশ্ন তথা কৌতুহল যত বেশী তার জানার আগ্রহ তত বেশী । এভাবেও যদি দেখি তাহলে কেমন হয়?

১৩| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:৫৮

রিফাত হোসেন বলেছেন: কোরআন শরীফ আরবীর সাথে সাথে বাংলায় অনুবাদ পড়া বাধ্যতামূলক এই রকম রিটমিট পিটিশন টিটিশন আসে না কেন?

১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১১:৫৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রিফাত হোসেন ভাই, আপনার সরেস মন্তব্যের জন্য।

এখনো যেহেতু কেউ এরকম পিটিশন বা চিন্তা করেনি এবং আপনার মাথায় এরকম একটা চিন্তা এসেছে তাহলে করবেন নাকি একটা পিটিশন (আরবীর সাথে বাংলা তরজমা পড়া বাধ্যতামুলক) আসবেন নাকি লাইম-লাইটে। হবেন নাকি অমর?

ভাই গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন একজন বাঙালি ধর্মবেত্তা,অনুবাদক ও বহুভাষীক । গিরিশচন্দ্র সেন ১৮৮০-৮৬ সালে বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ সম্পন্ন করেন। তখনকার সময়ে আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা একজন অমুসলমানের পক্ষে সত্যিই কঠিন ছিল।যেখানে বড় বড় আলেমরা সাহস পাননি, প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি সেখানে একজন হিন্দু লোক এমন একটি কাজ করতে পারেন তা সত্যিই অবাক করার মতো। গিরিশচন্দ্র এই অনুবাদের জন্য আরবি ভাষা শিখেছেন, অনুবাদ করতে গিয়ে ফার্সি-উর্দু ভাষা শিখেছেন। তিনিই কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদকারী হিসেবে বাংলার মুসলমান সমাজে অমর হয়ে আছেন।

১৪| ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ২:৪৯

নতুন বলেছেন: কিছু মানুষ গিরিশচন্দ্র সেনকে প্রথম কুরান অনুবাদক মানতে চায় না এবং নতুন এক মুসলমানের নাম নিয়ে কিছু প্রচারনা ফেসবুকে দেখছি।

ঐটার সত্যতা কতটুকু?

১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:৩১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন ভাই, আবারো আসার এবং আপনার প্রতিমন্তব্যের জন্য।

ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের আগে ১৮০৮ খিষ্টাব্দে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা চিলখাল মটুকপুর গ্রাম নিবাসী মৌলভী আমির উদ্দীন বসুনিয়া আমপারার কাব্যানুবাদ করেছিলেন। বাংলা ভাষায় কুরআন অনুবাদের তিনিই পথিকৃৎ, যদিও তা আংশিক ছিল। জানা যায়, এই আমপারা সে কালের লিথো প্রেসে মুদ্রিত হয়েছিল। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল ১৬৮।কবি আমির উদ্দিন বসুনিয়ার পবিত্র কুরআনের আমপারার বঙ্গানুবাদ ১৮৬৬ সালে ছাপার অক্ষরে আসে বলে অনেকেই মনে করেন। সেই হিসেবে ভাই গিরিশচন্দ্রের প্রায় বিশ বছর আগে রংপুরের আমির উদ্দিন বসুনিয়াই কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদকারী। যদিও তা আংশিক ছিল, তা সত্ত্বেও কেউ কেউ তাকেই কুরআনের প্রথম অনুবাদকারী হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

এদিকে, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন ১৮৮০-৮৬ সালে বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ সম্পন্ন করেন। কাজেই যে যেভাবেই বলুক ,প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ কারী হিসাবে ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের নামই আসে।

যদিও অনেক দিন থেকেই চেষ্টা করছি আল কোরআনের নাযিল-সংকলন-সংগ্রহের ইতিহাসের একটা পোস্ট দেয়ার জন্য তা আগামী আগামী সপ্তাহে দিব আশা করি ।আর তা আপনার এবং চাঁদগাজী ভাইয়ের কিছু প্রশ্নের জবাবের জন্য শীঘ্রই শেষ করে ফেলব ইনশাআল্লাহ । তারপরে আশা করি তাতে আপনার সবগুলি প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন।অগ্রীম আমন্ত্রণ রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.