নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

সোহানী

আমি অতি বিরক্ত হয়ে আমার অনেক লিখাই ড্রাফটে নিয়েছি কারন সামুতে আমার কিছু ভাবনা শেয়ার করছি, আর এ ভাবনা গুলো আমার অনুমতি ব্যাতিরেকে কপি না করার অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু যত্রতত্র আমার লিখার কপি পেস্ট দেখেই যাচ্ছি দিনের পর দিন।

সোহানী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুভি "হক" : ডিভোর্সীর হক আবার কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়! :P

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫



একটা ঘটনা শেয়ার করি। আমার কলিগ মারিয়া, মধ্য বয়সী সিঙ্গেল মাদার। চৈাদ্দ ও সাত বছরের দু'টো বাচ্চা তাঁর। স্কুল জীবনের সুইটহার্টের সাথে পনেরো বছর সংসার করার পর ডিভোর্সের পর হাঁটে দু'জনে। স্কুল গ্রেজুয়েশানের পর সংসার বাচ্চা পালনে পুরোপুরিই সময় দেয় তাই পড়াশোনা বা চাকরী কিছুই করা হয়ে উঠেনি মারিয়ার। স্বামী কঠিন পরিশ্রম করে পড়াশোনা, চাকরী, সম্পত্তি, বাড়ি, গাড়ি সবই সামলেছে এক হাতে। তারপর ডিভোর্সের পর কানাডার আইন অনুযায়ী স্বামীর করা সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক মারিয়া পায়। সাথে প্রতি মাসের ভরনপোষন, বাচ্চার জন্য চাইল্ড সাপোর্ট তো আছেই।

কানাডার আইন অনুযায়ী স্বামী স্ত্রী ডিভোর্সের ক্যাচাল বা মারামারি কাটাকাটি যাই করো না কেন বাচ্চাদের ব্যাপারে নো কম্প্রোমাইজ। বাচ্চা মানেই দু'জনের দায়িত্ব। দু'জনেই তাদের দেখভাল ও খরচ দিতে বাধ্য। তবে যে ইনকাম বেশী করে সে বেশী টাকা দিবে আর যার কাছে বাচ্চা থাকবে সে বাচ্চার ফাইনানন্স মেইনটেইন করবে।

যা বলছিলাম, মামলায় আরো রায় হয় যে যেহেতু মারিয়া তার কেরিয়ার সেক্রিফাইস করেছে স্বামীর পড়াশোনা ও চাকরীর জন্য তাই স্বামীর চাকরীর টাকার উপরও তার অধিকার আছে। তাই মারিয়া আবার তার কেরিয়ার শুরু করবে এবং স্বামী তার সব পড়াশোনার খরচ বহন করবে যতদিন পর্যন্ত না সে আয় শুরু করে।

আর আমাদের দেশ ঠিক তার উল্টা। বাচ্চা মানে একাই মায়ের দায়িত্ব, বাচ্চা পয়দা করেই বাপের দায়িত্ব শেষ। একমাত্র সংসার টিকলেই দায়িত্ব তায়িত্বের কথাবার্তা হবে, সংসার না টিকলে কিসের পোলাপাইন আর কিসের স্ত্রী। যখন খুশী স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়া ঘাড় ধরে বিদায় করলেই স্বামী বা বাবার দায়িত্ব শেষ। সমাজ ধর্ম রাস্ট্র স্বামীদেরকে দায় মুক্তি দেয় তালাকের সাথে সাথেই।

ইসলামের শরিয়া অনুযাী তিনমাসের ইদ্ধতকালীন কিছু খরচাপাতি দেয়ার কথা বা দেনমোহরের টাকাও দেয়ার কথা এবং বেশীর ভাগই পুরুষ তা দেয় না। এবার তালাকের পর বউ বাচ্চাগুলা মরলো নাকি বাঁচলো এ নিয়া বাপু বাপেরই মাথা ব্যাথা নাই সেখানে রাস্ট্র সমাজের কি আসে যায়। বাচ্চাদের ভরনপোষন দেবার বিধান হয়তো আছে কিন্তু বেশীর ভাগ বাপই এর ধার ধারে না।

গত বছর মুক্তি পেলেও এ বছর নেটফ্লিক্সে আসার কারনে আবারো আলোচনায় আসে ইমরান হাসমি ও ইয়ামি গৈাতম অভিনিত হিন্দি মুভি "হক"। ১৯৭৮ সালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাহা বানু ও মোহাম্মদ আহমেদ খান মামলার সত্য ঘটনার উপর নির্মিত ছবিটি। একজন অসহায় মা বাচ্চাদের খরচের প্রাপ্য হক আদায়ের জন্য লড়াইয়ে নামে। যেখানে তাঁর স্বামী তথা বাচ্চাদের বাবা স্বনামধন্য ধনী উকিল অথচ খরচের সামান্য ক'টা টাকা দিতেও তার আপত্তি। ভদ্রলোক কোনভাবেই চিন্তা করেনি এ বাচ্চাগুলো তার, তাদের দেখভালের দায়িত্ব সম্পূর্ন তার, উপার্জনহীন সামান্য শিক্ষিত অসহায় এ মায়ের নয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো সাত সাতটা বছর একজন অসহায় মা এ ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের কারনে অপমান অপদস্থ হতে হয় সমাজ, আদালত, রাস্ট্র, ধর্ম, আলেম সমাজ সহ প্রতিটি স্থানে। এমন কি উকিল স্বামী তাঁর জীবনকে আরো বিষিয়ে তোলার সব বন্দোবস্ত করে প্রতিটি ক্ষেত্রে। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে একজন নারী কিভাবে এতো অসামন্জস্য, এতো এতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা লড়াই করেছে তা এ যুগেও চিন্তা করা যায় না। যদিও যুগ প্লাটেছে কিন্তু নারীর এ হেনেস্তা একই রকম আছে উপমহাদেশগুলোতে।

ধর্মকে ব্যবহার করে কিভাবে পুরুষশ্রেনী অন্যায় করে যাচ্ছে তা দেখিয়েছে এ মুভিতে। প্রথম স্ত্রীর আবেগ ভালোবাসা দায়িত্বশীলতাকে তোয়াক্কা না করে দ্বিতীয় বিয়ে, প্রতিবাদী হলেই তিন তালাক, ডিভোর্সী মানেই সমাজ সংসারে অচ্ছুৎ, সন্তানদের প্রতি দায়িত্বহীনতা, অমানবিকতা এমন অনেক অসাম্জস্য অন্যায় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে মুভিতে।

তারপর এ মুভি দেখে আমাদের সমাজ জেগে উঠে হইহই করে উঠলো যেন এরকম কিছু যে সমাজে ঘটে তা এ প্রথম জানলো। কি ভয়ংকর অন্যায় চলছে নারীর প্রতি!!!! তারপর.... লেপ মুড়ি দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো আর বিবি তালাকের ফতুয়া খুঁজতে লাগলো।


সোহানী
জানুয়ারী ২০২৬

বি:দ্র: ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অনেকদিন পর ব্লগে আসার জন্য। ব্যাস্ততায় ব্লগে আসা সত্যিই কঠিন। তারপরও সবাইকে ধন্যবাদ আমাকে না ভুলে যাবার জন্য। :P

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




অনেক দিন পরে ব্লগে আসলেন । গতকাল তব ব্লগে গিয়ে লেখা নিয়ে ফিরে আসাতে বলার ফল কিনা তা জানিনা।
যাহোক ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি মুভি “হক” এর সুবাদে মুসলিম সমাজের বিশেষ করে ডিবর্সী মেয়েদের করুন
জীবন গাথা আর সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের আচরণধারা সুন্দর করে তুলে ধরেছেন লেখাটিতে ।

নেট ফ্লিক্সের কল্যানে ছবিটি দেখেছি । হক ছবিটা নিয়ে চারপাশে এত প্রশংসা, এত রিভিউ স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে এক্সপেকটেশন আকাশছোঁয়া। এখন এই পোস্টেও দেখলাম এইটা শুধু ভালো সিনেমা না, এইটা একটা চুপচাপ চিৎকার।
“হক” শুধু একটি সিনেমা নয়,এটি একটি সামাজিক প্রতিফলন, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা থেকে শুরু করে সমাজের আইনি
ও নৈতিক কাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আলোচনার সূচনা হয়। শান্ত, গভীর এবং শক্তিশালী বার্তা বহনকারী এই ছবি
দর্শকের মনে দীর্ঘদিন প্রতিধ্বনিত হয়।

কোনো অযথা মসালা নেই, বাড়াবাড়ি নাটক নেই। খুব সিম্পল ভাবে দেখানো হয়েছে একটা মেয়ের জীবনের যুদ্ধ
আসলে কতটা নীরব, কতটা একা, আর কতটা নির্মম হতে পারে।

আমি এই ছবিটার চরিত্রগুলি নিয়ে নিয়ে লিখবো না।আমি লিখবো একটা জিনিস নিয়ে যেটা পুরো ছবিটা জুড়েই
আমাকে নারিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছে।

পুরো ছবিটা জুড়ে একটাই কথা ঘুরেছে, এই মেয়েটা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার শক্তি পেলো কীভাবে? উত্তর একটাই,
তার বাবা। যখন তার বাবা বলে,“যাই হোক না কেন, আমি আছি তোমার পাশে।” এই এক লাইনের শক্তি যারা বোঝে,
তারা জানে এই বাক্য একটা মেয়েকে নতুন করে বাঁচতে শেখাতে পারে।

এই বাক্য একটা ভেঙে যাওয়া মেয়েকে দাঁড় করাতে পারে।এই বাক্য একটা মেয়েকে বলে দেয়, তুমি একা না।

আমরা যারা এই সমাজে বড় হয়েছি, তারা জানি বিয়ের পর মেয়েরা কেমন করে নিজের পরিবারের কাছেই “বোঝা”
হয়ে যায়।যাই হোক না কেন, মানিয়ে নেয়, সয়ে যায়, লাইফ তো শেষই, এখন আর বাপের বাড়ি না।

মেয়েটা প্রতিদিন একটু একটু করে মরছে কিনা, সে সুখে আছে কিনা, সে নিরাপদ কিনাএই প্রশ্নগুলো কেউ করে না।

একটা মেয়ে যখন ভাঙে, সে আগে ভাঙে নিজের মানুষের কথায়।শ্বশুরবাড়ির আগে সমাজের আগে, সে ভাঙে নিজের
পরিবারের এই মানসিক চাপের নিচে। সহযোগিতা পাওয়ার বদলে আমরা শুনে “লাইফ তোর শেষ!”

এই কথাগুলো মারধরের থেকেও ভয়ংকর। কারণ এগুলো আত্মাকে মেরে ফেলে।একজন বাবা, একজন মা, একটা
মেয়ের জীবনে যে কত বড় সাপোর্ট সিস্টেম হতে পারে, সেটা শুধু একটা মেয়েই জানে।

প্রতিটা মেয়ের জীবনে তার প্রথম হিরো আসলেই তার বাবা।হক মুভিটার সবচেয়ে সুন্দর দিক আমার কাছে এইটাই!
একটা সময়ে দাঁড়িয়ে, যে সময়ে মেয়েদের সত্যিই বোঝা মনে করা হতো,সেই সময়ে একজন বাবা নিজের মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে।

কেও যদি বাবা হয়ে থাকেন এই মুভিটা তাকে মনে করিয়ে দেবে,আপনার একটা “আমি আছি” এই কথাটি
তার মেয়ের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

শুভেচ্ছা রইল

২| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬

নতুন বলেছেন: আমাদের দেশের প্রতিটা নারীর উচিত তার ছেলেদের নারীর প্রতি সন্মান করার বিষয়টা শিক্ষা দেওয়া।

আর সমাজে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলাও বড় অপরাধ মনে করে না।

হক বাবার ভুমিকা যেমন দেখিয়েছে, বাস্তবেও বাবার উচিত এমন ভাবেই মেয়ের পাশে থাকা।

আমার মেয়ের জামাই কে আমি বলে দেবো বাবা আমার মেয়ের গায়ে হাত তুললে আমি তোমারে গুলি করবো B-)

ঝামেলা হইলে আলোচনা করবা, কিন্তু কারুর গায়ে হাত তোলা ফৌজদারী অপরাধ সেটা সবার জানা উচিত।

৩| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ইসলাম যখন সত্যিকারের হৃদয় দিয়ে পালন করা হয়, তখন সে সমাজকে শুধু ধর্মীয়ভাবে পরিপূর্ণ করে না, একেবারে ন্যায় আর মানবতার আলোয় ভরিয়ে দেয়। বৈষম্যের কালো ছায়া সরিয়ে দেয়, মানুষকে মানুষের মতো সম্মান করতে শেখায়।

নারীর প্রতি যে সহিংসতা, অবমাননা, লাঞ্ছনা আমরা চারপাশে দেখি, ইসলাম এসেছিল ঠিক সেগুলোর মূলোৎপাটন করতে। নারীকে সে মা বলে শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছে, বোন বলে রক্ষা করতে বলেছে, স্ত্রী বলে ভালোবাসার যোগ্য মনে করতে আদেশ করেছে। ইসলাম নারীর অশ্রুকে হারাম করে দিয়েছে, তার সম্মানকে আকাশের মতো উঁচু করে দিয়েছে।

কিন্তু আজকে আমাদের সমাজের অধিকাংশ দৃশ্য এর বিপরীত। এটা ইসলামের দোষ নয়। এটা আমাদের নিজেদের তৈরি করা অন্ধকার। আমরা ধর্মের নামে মুখোশ পরেছি। আয়াতের আড়ালে লুকিয়ে নিজেদের পশুত্ব ঢেকেছি। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, স্বার্থের মোহে আল্লাহর রহমতের ধর্মকে নির্যাতনের হাতিয়ার বানিয়েছি।

তাই দোষ ধর্মের নয়। দোষ অবশ্যই আমাদের। আমরা যদি সত্যিকারের ইসলামকে নিজেদের জন্য অপরিহার্য করে নিতাম, যদি কুরআনের আলো আর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্দর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করতাম, তাহলে আজ আর কোনো মায়ের চোখে ভয়ের ছাপ থাকতো না। ডিভোর্সী নারীদের অসহায়ত্ব আর দেখতে হতো না। কোনো বোনের গলায় কান্নার আওয়াজ দেওয়াল ভেদ করে বের হতো না।

সত্যিকারের ইসলামের শিক্ষা যদি ফিরে আসে, খাঁটি ইসলাম, নরম হৃদয়ের ইসলাম, ন্যায় আর ভালোবাসার ইসলাম, তাহলে দেখা যাবে এই সমাজ আবারও হেসে উঠবে। নারী নির্ভয়ে পথ চলবে। মা-বোনের মুখে আবার হাসি ফুটবে। আর সেই হাসিই হবে সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য যে, ইসলাম কখনো নারীর শত্রু ছিল না। বরং সে ছিল নারীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সম্মান আর ভালোবাসার ঠিকানা।

আমরা যদি শুধু নিজেদের বদলাই, ইসলামকে সঠিকভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করি, তাহলে এই পৃথিবীটা আবারও সুন্দর হবে। ইনশাআল্লাহ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.