নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্ত্যজ বাঙালী, আতরাফ মুসলমান ...

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান।রবীন্দ্রনাথ

ইমন জুবায়ের

জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]

ইমন জুবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

জাপানি কবি তানিকাওয়া শুনতারো এবং তাঁর কবিতা

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

কবি তানিকাওয়া শুনতারো। জাপানের ভীষন জনপ্রিয় কবি তিনি। বলা যায়, আমাদের যেমন জীবনানন্দ- শুনতারো তেমনি জাপানের । ২য় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে জীবনের ওপর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন শুনতারো । পরে, বিটোফেনের সঙ্গীত শুনে জীবনের ওপর বিশ্বাস ফিরে পান ।



বেশ কিছুদিন ধরে আমি বিদেশি ভাষার বিদগ্ধ কবিদের কবিতা অনুবাদ করছি। প্রথম প্রথম দ্বিধা ও সঙ্কোচ ছিল। তবে কয়েকজন বিদগ্ধজনের উৎসাহ পেয়ে দ্বিধা কাটছে। কাজে কাজেই এখন থেকে কবিতার মাধ্যমে প্রায়শ আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব বিদেশি ভাষার বিদগ্ধ সব কবিদের ।




শুনতারোর জন্ম ১৫ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে জাপানের টোকিয়োতে। বাবা ছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক। যা হোক। ছেলেবেলায় একদমই স্কুলে যেতে চাইত না বালক শুনতারো । তারপরও স্কুলের চৌকাঠ পেরুনো গেল কোনওমতে। মা-বাবা আর জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাননি। ১৮ বছর থেকে কবিতা লেখা শুরু। জাপানের এক বিখ্যাত কবির হাতে শুনতারোর কবিতার খেড়ো খাতাটি পড়ার পর সেই কবিটি শুনতারোর কবিতা ছেপে দিলেন। জাপানের শিল্পবোদ্ধা মহল শুনতারোকে গ্রহন করল।

শুনতারো শিল্পে নিমগ্ন হলেন।

২য় বিশ্বযুদ্ধ শুনতারোর শিল্পধ্যানকে বিনষ্ট করল।

মর্মাহত শুনতারো সাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখলেন বিধ্বস্ত জাপান । চতুদির্কে পোড়া ঘরবাড়ি। বির্দীণ পথঘাট। পশু-পাখি ও শিশুদের লাশ! ভীষন হতাশ হয়ে পড়লেন শুনতারো । নিজেকে গুটিয়ে নিলেন সবকিছু থেকে।

যাহোক। এরপর বিটোফেন শুনলেন শুনতারো । শুনে শুনতারো বললেন,‘জীবন সম্ভব।’ তারপরই আবার কবিতায় ফিরলেন শুনতারো ।

এই কথা কটি জানানোর জন্যই এই লেখা।

প্রায়ই শোনা যায়-শুনতারো নোবেল পাবেন নোবেল পাবেন। পাননি। যা হোক। নোবেল না-পেলেও তাঁর অসাধারনত্ব ম্লান হয়নি মোটেও।

এবার তাঁর তিনটে কবিতা পড়া যাক।



যাদুঘর



কাঁচের ওধারে রাখা শান্ত কুঠার

নক্ষত্রপুঞ্জরা ঘুরে যায় অবিরাম

আমাদের অনেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে

অনেকেই আবার এসেছে



তারপর

ধূমকেতুর সংঘর্ষ এড়িয়ে

অক্ষুন্ন মৃৎপাত্র, কয়েকটি ভাঙ্গা

দক্ষিণ মেরুর ওপর হাঁটছে এস্কিমোদের কুকুর

পূর্বে ও পশ্চিমে উঠেছে বিস্তর সমাধি

বই ও কবিতা করা হয়েছে উৎসর্গ

সম্প্রতি

পরমাণুকে ভাঙ্গা হয়েছে আরও।

একজন রাষ্ট্রপতির মেয়ে গান গাইছে

এইসব ...আর

আরও অনেক কিছুই ঘটছে



কাঁচের ওধারে রাখা শান্ত কুঠার।



বৃদ্ধি



অর্থহীন রেখা আঁকলে

শিশুরা বলে আপেল।



আপেলের মতো আপেল আঁকলে

চিত্রকর বলে: ‘আপেল।’



আপেল না-অথচ তার ছবি আঁকলে

শিল্পী বলে: সত্যিই আপেল।



অন্যকিছু কিংবা আপেল না আঁকা

আকাডেমী অভ আর্টের সদস্যরা

শব্দ করে আপেলের রস খায়।



আপেল ,আপেল, লাল আপেল

আপেল কি তিক্ত? আপেল কি তিতা?



দশ ইয়েনের কয়েন



তার শেষ দশ ইয়েনের কয়েন দিয়ে

ছেলেটি ফোন করতে চাইল।

রুঢ় ভাষায় ঘনিষ্ট কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইল

অথচ ওর কোনও বন্ধুরই টেলিফোন নেই।

তার মুঠোয় দশ ইয়েনের কয়েনটি ভিজে যাচ্ছে।

ধাতব গন্ধ, (চকোলেট কেন কিনব? এই দশ ইয়েনের

কয়েন দিয়ে আরও ভালো কিছু করব।)

ছেলেটি তারপর গাড়িটা দেখল।

সুন্দরী নারীর মতন ঝলমলে গাড়ি।

অধরা আনন্দের মতন ভয়ানক গাড়ি

কোন ও কিছু বোঝার আগেই

দশ কয়েন হাতে নিয়ে

সেই সৌন্দর্যে ধাক্কা লাগল।

তারপর লম্বা গভীর ক্ষত-

সবটুকু শক্তি দিয়ে ছেলেটি দশ ইয়েনের কয়েনটি

শহরের ভিড়ের মধ্যে ছুঁড়ে মারল ।



মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৩

লালন অনিক বলেছেন: দারুণ কাজ, চালিয়ে যান অনুবাদ

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ, অনিক। বিটোফেন কি এরপরও মৃত বলা যাবে? শিল্প এমনই বিষয়!

২| ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৭

লালন অনিক বলেছেন: সুরের জীবন নিয়ে প্রশ্ন অবান্তর কারণ সুর জীবন দাতা....


কবি তানিকাওয়া শুনতারো বা আমাদের মতো সাধারণেও সুরের আলোড়নে জীবনকে জাগিয়ে ফিরছে জীবন জুড়ে...খেয়ালে বে খেয়ালে...

ভালোথাকা হউক

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই তাই।

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২০

নাজিম উদদীন বলেছেন: অনুবাদ জটিল হইছে !! চালিয়ে যান।

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ওক্কে, বস্ ।

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

প্রণব আচার্য্য বলেছেন: গ্রেট জব

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: থ্যাঙ্কস্।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.