| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]
বুল্লে শাহ। (১৬৮০-১৭৫৭) অস্টাদশ পাঞ্জাবের মরমী কবি। এঁকে পাঞ্জাবের লালন হিসেবে চিহ্ণিত করা যায়। মরমী কবি সুফিসাধক ছাড়াও বাবা বুল্লে শাহ ছিলেন একালের নিরিখেও পরম মানবতাবাদী। বুল্লে শাহের সময়কালটা মুসলিম ও শিখ দাঙ্গায় দুঃখজনকভাবে ছিল লাঞ্ছিত । সে ভয়াবহ সময়টায় দু-পক্ষেরই বিপুল মানুষ নিহত হচ্ছিল। সে সময়ই একবার একদল শিখ দ্বারা কয়েকজন মুসলিম নিহত হয়। মুসলিমরা বদলা নেবে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিশোধ হিসেবে মুসলিমরা একজন নিরীহ শিখকে হত্যা করে। মুসলিম হলেও বাবা বুল্লে শাহের নিরীহ শিখ হত্যার বিরোধীতা করেন। তিনি দুহাত তুলে বললেন - স্বন্ত্রাস কখনেই স্বন্ত্রাসের জবাব নয়। এভাবে নিহত শিখের পক্ষ নেওয়ায় মোল্লারা বাবা বুল্লে শাহের ওপর ক্ষেপে যায়। ক্ষেপে গেলেও বাবা বুল্লে শাহ সেই হন্যমান সময়ে পাঞ্জাবের জনগনের জন্য হয়ে উঠেছিলেন শান্তির প্রতীক।
বাবা বুল্লে শাহের জন্মসাল ধরা যেতে পারে ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দ। পাঞ্জাবের ভাওয়ালপুরের উচ গ্রাম- গ্রামটি ভারতবিভাগের পর পাকিস্তানে পরেছে। বাবা বুল্লে শাহের পূর্বপুরুষ বুখারা থেকে এসেছিলেন। জায়গাটা বর্তমান উজবেকিস্থান। বুল্লে শাহের বাবার নাম শাহ মোহাম্মদ দরবেশ। ছিলেন গ্রামের মসজিদের একজন ইমাম।
বুল্লে শাহের শিক্ষক হিসেবে তিনজনের নাম পাই। গুহলাম মুরতাজা, মাওলানা মহিউদ্দীন এবং বিশিষ্ট সুফিসাধক শাহ্ এনায়েৎ কাদরী। এদের কাছেই বুল্লে শাহ জেনেছিলেন তুরস্কের বিশিষ্ট সুফিকবি মাওলানা জালালউদ্দীন রুমির কথা। হয়তো গুহলাম মুরতাজা সাহেব বলতেন, মাওলানা জালালউদ্দীন রুমি ৬ খন্ডের মহাকাব্য মসনভীও লিখেছেন। জামি, আরেকজন বিশিষ্ট সাধক, যাকে বলেছেন ‘পারস্যের কোরান।’ হয়তো বলতেন, মাওলানা মহিউদ্দীন সাহেব বলতেন, রুমির অধিবিদ্যা নিয়ে বইয়ের নাম- ফিহি মা ফিহি। হয়তো শাহ্ এনায়েৎ কাদরী তাঁর মেধাবী শিষ্যকে বলতেন, একজন ভ্রাম্যমান দরবেশ রুমিকে বিস্মিত করেছিল। তাঁর নাম শামসুদ্দীন তাবরিজ। শামস এ তাবরিজ মারা গেলে শোকার্ত রুমি লিখলেন-‘দিউয়ানি শামসী তাবরিজি।’
যাক। তখন আমি বলছিলাম ছবি। বুল্লে শাহ অস্টাদশ পাঞ্জাবের মরমী কবি। এঁকে পাঞ্জাবের লালন হিসেবে চিহ্ণিত করা যায়। বুল্লে শাহ কবিতা লিখতেন। সে সময়কার মরমী কবিতাকে বলা হত কাফি। কাফি আসলে কবিতার পাঞ্জাবিশৈলি বা ফর্ম। মুসলিম পীরেরাই শুধু না -শিখ ধর্মগুরুরাও লিখতেন কাফি।
বাবা বুল্লে শাহের কবিতাজুড়ে কট্টর মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ধিক্কার।
নিচের কবিতাই সে প্রমান দেবে।
Na maen momin vich maseet aan
Na maen vich kufar diyan reet aan
Na maen paakaan vich paleet aan
Na maen moosa na pharaun.
Bulleh! ki jaana maen kaun
মসজিদের ভিতরের বিশ্বাসী নই
ভ্রান্ত রীতির পৌত্তলিকও নই
নই দুষিতদের মধ্যে নির্মল
মুসাও নই ফেরাউনও নই
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
Na maen andar ved kitaab aan,
Na vich bhangaan na sharaab aan
Na vich rindaan masat kharaab aan
Na vich jaagan na vich saun.
Bulleh! ki jaana maen kaun.
পবিত্র বেদেও নই
কিংবা আফিমে কি মদে
আমি নেই মাতালের মাতলামিতে
জাগ্রত অবস্থায় কি ঘুমের ঘোরে
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
Na vich shaadi na ghamnaaki
Na maen vich paleeti paaki
Na maen aabi na maen khaki
Na maen aatish na maen paun
Bulleh!, ki jaana maen kaun
সুখে কি দুঃখেও নেই
আমি স্বচ্ছও নই নোংরা কাদাও নই
পানি থেকে কিংবা পৃথিবী থেকে
আগুনও কিংবা বাতাসে আমার জন্ম হয়নি।
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
Na maen arabi na lahori
Na maen hindi shehar nagauri
Na hindu na turak peshawri
Na maen rehnda vich nadaun
Bulla, ki jaana maen kaun
আমি আরব নই, লাহোরবাসীও নই
হিন্দুস্থানের নই, আমি নাগরিক নই
হিন্দু নই, তুর্কি মুসলিম কি পেশওয়ারেরও নই
আমি নাদায়ূনেও ( এই শব্দটা বুঝতে পারি নি ) বাস করি না।
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
Na maen bheth mazhab da paaya
Ne maen aadam havva jaaya
Na maen apna naam dharaaya
Na vich baitthan na vich bhaun
Bulleh , ki jaana maen kaun
ধর্মের গূহ্যকথা আমি জানিনি
আদম হাওয়া থেকে আমি উত্থিত নই
যে নাম আমার, সে আমি নই
স্থিরতা কিংবা গতিতে আমি নেই
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
Avval aakhir aap nu jaana
Na koi dooja hor pehchaana
Maethon hor na koi siyaana
Bulla! ooh khadda hai kaun
Bulla, ki jaana maen kaun
আমিই প্রথম আমিই শেষ
এ ছাড়া আমি কিছুই জানি না।
আমিই সবচে জ্ঞানী।
বুল্লে, আমি কি একা দাঁড়িয়ে?
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
বাবা বুল্লে শাহের কাফি কবিতাটির দার্শনিক ভিত্তি
আমার কেন যেন মনে হয়, বাবা বুল্লে শাহের এই কাফি কবিতার দার্শনিক ভিত্তিটি রচে দিয়েছেন ত্রয়োদশ শতকের তুরস্কের আনাতোলিয়ার মিস্টিক মাওলানা জালালউদ্দীন রুমি।
আমরা তাঁকে আজ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করতে পারি।
রুমির জন্ম বর্তমান তাজাকিস্থানে; ১২০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর। পরিবারটি বিদগ্ধ। বাবা বাহাউদ্দীন ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী পন্ডিত। সে সময়টায় বলখ্, তাজাকিস্থান ইত্যাদি মধ্যএশিয়ার রাজ্যগুলির দিকে চেঙ্গিশ খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা তেড়ে আসছিল । বাহাউদ্দীন সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমযাত্রার। মক্কায় হজ করলেন সপুত্রক। শেষে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের সিদ্ধান্ত নিলেন। আনাতোলিয়ার কোনিয়ায়। জায়গাটা সে সময় ছিল সেলজুক তুর্কিদের সাম্রাজ্য । ওখানেই মাদ্রাসায় বাহাউদ্দীন শিক্ষকতার কাজ পেলেন। ১২৩১ সালে বাহাউদ্দীন মারা গেলেন। রুমির বয়স সবে ২৪। বিদগ্ধ ছিলেন। বাবার পদটি অনায়াসে পেলেন।
রুমি; একালের শিল্পীর কল্পনায়
যাক। তার আগেই একজন ভ্রাম্যমান দরবেশ রুমিকে মুগ্ধ করে ফেলেছিলেন। ভ্রাম্যমান দরবেশের নাম- শামসুদ্দীন তাবরিজ। শামস মানে সূর্য। শামসুদ্দীন তাবরিজ-এর ভাব তেমনই ছিল হয়তো। যা হোক। শামসুদ্দীন তাবরিজ মারা গেলেন। রুমি শোকার্ত হলেন। শোকার্ত রুমি লিখলেন-‘দিউয়ানি শামসী তাবরিজি।’ এই গ্রন্থেরই একটি কবিতাকে বাবা বুল্লে শাহের কাফি কবিতাটির দার্শনিক ভিত্তি হিসেবে চিহ্ণিত করতে পারি।
What is to be done, O Moslems? for I do not recognize myself.
I am neither Christian, nor Jew, nor Gabr, nor Moslem.
I am not of the East, nor of the West, nor of the land, nor of the sea;
I am not of Nature's mint, nor of the circling' heaven.
I am not of earth, nor of water, nor of air, nor of fire;
I am not of the empyrean, nor of the dust, nor of existence, nor of entity.
I am not of India, nor of China, nor of Bulgaria, nor of Saqsin
I am not of the kingdom of 'Iraqian, nor of the country of Khorasan
I am not of the this world, nor of the next, nor of Paradise, nor of Hell
I am not of Adam, nor of Eve, nor of Eden and Rizwan.
My place is the Placeless, my trace is the Traceless ;
'Tis neither body nor soul, for I belong to the soul of the Beloved.
I have put duality away, I have seen that the two worlds are one;
One I seek, One I know J One I see, One I call.
He is the first, He is the last, He is the outward, He is the inward;
I know none other except 'Ya Hu' and 'Ya man Hu.'
I am intoxicated with Love's cup, the two worlds have passed out of my ken ;
I have no business save carouse and revelry.
If once in my life I spent a moment without thee,
From that time and from that hour I repent of my life.
If once in this world I win a moment with thee,
I will trample on both worlds, I will dance in triumph for ever.
O Shamsi Tabriz, I am so drunken in this world,
That except of drunkenness and revelry I have no tale to tell.
(বাংলা তর্জমা আর করলাম না)
রুমির কথাগুলিই বাবা বুল্লে শাহের কাফি কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে।
সুফিজগতে রুমির প্রভাব এমনই অপ্রতিরোধ্য।
কবিতা থেকে গান: এক বিস্ময়কর রুপান্তর ও উপস্থাপনা
ধারনা করি। বাবা বুল্লে শাহের কাফি কবিতাগুলি তাঁর স¤প্রদায়ের মধ্যে আর পাঞ্জাবেই সীমাবদ্ধ ছিল। বৃহৎ পরিসরের গোচরে আসেনি।
মনে থাকার কথা, ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সাল। আমরা সবাই একটি পাঞ্জাবি সুফি পপ শুনে থমকে গিয়েছিলাম। বুললা কি জানা ম্যায় কৌন । গায়ক রাব্বি শেরগিল। রাব্বি শেরগিল এর জন্ম ১৯৭৫ সালে। দিল্লি। বাবা দিল্লিরই এক শিখ ধর্মবেত্তা। মা কলেজ অধ্যক্ষ। তিনি কবিও। মায়ের কাছেই শেরগিল সম্ভবত বাবা বুল্লে শাহের সেই কাফি কবিতাটি শুনে থাকবে। যে কবিতায় বাবা বুল্লে শাহের এক তুরীয় মুহূর্তে লিখেছিলেন -
Bulla, ki jaana maen kaun
রাব্বি শেরগিল
পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শেরগিল-এর গান চলছিল। লোকে বলে: গলা ভালো। তেজ আছে। একটা অ্যালবাম করার কথা ভাবলেন শেরগিল। কাজে নামলেন। অ্যালবামের নাম দিলেন: রাব্বি। ভাবলেন, বাবা বুল্লে শাহ কে কি পৃথিবীর মানুষ চিনবে না? বাবা বুল্লে শাহ মুসলিম কর্তৃক এক নিরীহ শিখের হত্যার সমালোচনা করেছিলেন। মুসলিম হলেও বাবা বুল্লে শাহের নিরীহ শিখ হত্যার বিরোধীতা করেছিলেন। তিনি দুহাত তুলে বলেছিলেন - 'স্বন্ত্রাস কখনেই স্বন্ত্রাসের জবাব নয়।' এভাবে নিহত শিখের পক্ষ নেওয়ায় মোল্লারা বাবা বুল্লে শাহের ওপর ক্ষেপে যায়।
এমন মানুষকে বিশ্ব চিনবে না? তা কি হয়?
২০০৪। শেরগিল তাঁর অ্যালবাম বের করলেন।
Bulla, ki jaana maen kaun
হিট! হিট! হিট!
এক শিখ মিউজিশিয়ান বাবা বুল্লে শাহের কবিতা গানরুপে বিশ্বের কাছে তুলে ধরলেন!
যে কবিতার পটভূমিতে নিহিত মাওলানা রুমি ।
ইতিহাস পাঠে মাঝে মাঝে আমি এভাবেই শিহরিত হই! একা।
কবিতাটির ইংরেজি তর্জমার লিঙ্ক ...
Click This Link
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:১২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: কোনও সন্দেহ নেই।
২|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
আমি এক যাযাবর বলেছেন: লেখা ভাল। কিন্তু "বুল্লে শাহের " নামের আগে "বাবা"টা কেন আসল বুঝলাম না।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:২১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: পাঞ্জাবের লোকে "বুল্লে শাহের " নামের আগে বাবা বলে।
এখানে যেমন লালনের নামের আগে ফকির।
বোঝা গেল?
৩|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:২৮
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। +++
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: শুভেচ্ছা।
৪|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
মানবী বলেছেন: Excellent Post!!!
খুব প্রিয় একটি গানের রচয়িতাকে নিয়ে লেখা সুন্দর পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ ইমন জুবায়ের।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক দিন পর।
অনেক শুভেচ্ছা মানবী।
৫|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: গানটা অসাধারণ। যদিও অর্থ বুঝতাম না, তবে একটা স্পিরিচুয়াল টান অনুভব করতাম। গানটার অর্থের জন্য ধন্যবাদ।
অনেকদিন পরে আপনার একটা লেখা পড়লাম। ভাল লাগল।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: কিছু কিছু গান আর কবিতাকে গভীরভাবে জানতে হয়। বাবা বুল্লে শাহর এই কাফি কবিতাটি তেমনই। গভীরে গিয়ে দেখলাম মাওলানাও আছেন। আর রুমি তো ...
অনেক ধন্যবাদ।
৬|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪
শয়তান বলেছেন: রাব্বি শেরগিলের গানটা শোনা হয়েছে বারবার বহুবার । তবে এর পেছনকান বিশাল ইতিহাসটা জানা হল এবারই । ধন্যবাদ ।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: রাব্বি শেরগিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি বাবা বুল্লে শাহের কবিতাকে সবার সামনে তুলে এনেছেন। আর এর পেছনকান ইতিহাসটা বিশালই বটে- মাওলানা রুমি আছেন যে!
অনেক ধন্যবাদ।
৭|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫১
নিভৃত পথচারী বলেছেন: আপনার সহজ সরল অনুবাদকর্মগুলো ভালো লেগেছে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের বোঝার উপযোগী করে বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় করা। যদিও জানি অনুবাদ সাহিত্যকে সুন্দর প্রতারণা বলে অভিহিত করেন শ্রদ্ধাভাজনেরা।
সে সাথে পাঞ্জাবের বুল্লে শাহ সম্পর্কেও বেশ কিছূ তথ্য জানলাম। বুল্লেশাহের নাম পূর্বে শুনেছিলাম কিন্তু তার সম্বন্ধে কিছু জানা ছিল না। অনেক অনেক ধন্য বাদ।
কিন্তু অনুবাদের নিম্নলিখিত অংশগুলোয় একটু খটকা লাগলো, অনুগ্রহপূর্বক নিরসন করলে আনন্দিত হব।
Na maen arabi na lahori
Na maen hindi shehar nagauri
Na hindu na turak peshawri
Na maen rehnda vich nadaun
Bulla, ki jaana maen kaun
আমি আরব নই লাহোরবাসীও নই
হিন্দুস্থানের নই, আমি নাগরিক নই
হিন্দু নই তুর্কি মুসলিম কি পেশওয়ারেরও নই
আমি নাদায়ূনেও ( এই শব্দটা বুঝতে পারি নি ) বাস করি না।
তৃতীয় লাইনের অনুবাদে যেখানে 'মুসলিম শব্দটি কিন্তু মূল লেখায় পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয় লাইনটাও যেন মনে হতে চায় ' আমি হিন্দুস্তানের কোন শহরের নাগরিক নই।" এমন অর্থবোধক।
Na vich shaadi na ghamnaaki
Na maen vich paleeti paaki
Na maen aabi na maen khaki
Na maen aatish na maen paun
Bulleh!, ki jaana maen kaun
সুখে কি দুঃখেও নেই
আমি স্বচ্ছও নই নোংরা কাদাও নই
পানি থেকে কিংবা পৃথিবী থেকে
আগুনও কিংবা বাতাসে আমার জন্ম হয়নি।
বুল্লে, আমাকে আমি জানি না।
৩য় ও ৪র্থ লাইনের পঠণে সাধারন দৃষ্টিতে মনে হতে চায় এখানে যেন জন্মের কথা বলা হচ্ছে না যেন বলা হচ্ছে " আমি জল নই স্থলও নই, অগ্নি নই সমীরনও নই।
আরেক ছত্রে পেলামঃ
Na maen bheth mazhab da paaya
Ne maen aadam havva jaaya
ধর্মের গূহ্যকথা আমি জানিনি
আদম হাওয়াথেকে আমি উত্থিত নই
মাজহাব বলতে ধর্মের গূহ্যকথাকে বোঝানো হয় না।
আপনার শ্রমসাধ্য জ্ঞানগর্ভ লেখার জন্য আবারো ধন্যবাদ।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমি বরং ইংরেজি অনুবাদটা তুলে দিই। তা হলে বুঝতে সুবিধে হবে। আমি ইংরেজি থেকেই বাংলা করেছি।
Not a believer inside the mosque, am I
Nor a pagan disciple of false rites
Not the pure amongst the impure
Neither Moses, nor the Pharoh
Bulleh! to me, I am not known
Not in the holy Vedas, am I
Nor in opium, neither in wine
Not in the drunkard`s craze
Niether awake, nor in a sleeping daze
Bulleh! to me, I am not known
In happiness nor in sorrow, am I
Neither clean, nor a filthy mire
Not from water, nor from earth
Neither fire, nor from air, is my birth
Bulleh! to me, I am not known
Not an Arab, nor Lahori
Neither Hindi, nor Nagauri
Hindu, Turk (Muslim), nor Peshawari
Nor do I live in Nadaun
Bulleh! to me, I am not known
Secrets of religion, I have not known
From Adam and Eve, I am not born
I am not the name I assume
Not in stillness, nor on the move
Bulleh! to me, I am not known
I am the first, I am the last
None other, have I ever known
I am the wisest of them all
Bulleh! do I stand alone?
Bulleh! to me, I am not known
৮|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫৯
রাজর্ষী বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। বুল্লে শাহ সম্পর্কে জানাছিলো অল্পই, এক পান্জাবী বন্ধুর কাছ থেকে। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো ধারনা হল। যথার্থই বলেছেন, বুল্লে শাহ পান্জাবের লালন।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। বুল্লে শাহ পান্জাবের লালন।
এভাবে দুজনতেই সম্মান জানানো হল। দুই পাঞ্জাব ও দুই বাংলা কাছাকাছি এল।
অনেক ধন্যবাদ।
৯|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭
খেক খেক বলেছেন: ভাল লাগল সুন্দর একটা লিখার জন্য।গান টা আমার খুব ই পছন্দের।গানের অডিও লিঙ্ক টা দিলে ভাল হয়।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: Click This Link
১০|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৯
আকাশ অম্বর বলেছেন: চমৎকার। অনেক ধন্যবাদ, ইমন ভাই।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ। গানটাতো আগেই শোনার কথা।
১১|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৫
কিরিটি রায় বলেছেন: ম্যায়ভিনা জানা কৌন!! কৌন হু ম্যায় কৌন...
আপনার লেখা আর গানের প্রভাব ফল..![]()
এক্সক্লুসিভ!!!
তবে অনুবাদে মূল থেকে করলেই সঠিকের কাছেকাছি থাকা যায়।
প্রিয়তে।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ম্যায়ভিনা জানা কৌন!! কৌন হু ম্যায় কৌন...
১২|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৬
আকাশ অম্বর বলেছেন: হ্যাঁ, গানটা শোনা ছিলো।
____________________________
ফিরে এলাম আজ। এটা আবারও আপনার জন্য।
Click This Link
ধন্যবাদ।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: দেখছি।
১৩|
২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:১৮
নাজনীন খলিল বলেছেন:
অনেক ভাল লাগা একটি গান।ধন্যবাদ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
২২ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৪৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: সত্যিই গানটা অন্যরকম।
শুভেচ্ছা।
১৪|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০২
আমি এবং আঁধার বলেছেন: গানটি রাব্বি এর আগেই জুনুন[পাকিস্তানি ব্যান্ড] গেয়েছিল।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: তাই?
১৫|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৪
আমি এবং আঁধার বলেছেন: এলবাম- Parvaaz
প্রকাশ-১৯৯৯
সূত্র- http://en.wikipedia.org/wiki/Junoon_(band)
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আচ্ছা। জানলাম। ধন্যবাদ।
১৬|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৬
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: দারুন লাগলো লেখাটা ইমন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
প্রিয়তে রেখে দিলাম।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ।
১৭|
২৪ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩২
শিরীষ বলেছেন:
আপনাকে যে আমি কী বলে আমার ধন্যবাদ এবং ভাল লাগা জানাবো, আমার স্রেফ জানা নেই। এই সাধক সম্বন্ধে জানার আগ্রহ আমার দীর্ঘদিনের। গানটি প্রথম যখন টিভিতে দেখি এবং শুনি - এর সুরে মোহিত হয়েছিলাম। কথাগুলো পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও এতটুকু অন্তত বুঝতে পারছিলাম ম্যাসেজ আর কিছুই নয় - "তিনিই আমি"---"তিনিই আমি" !
আহ, পিপাসা মিটলো দীর্ঘ দিনের। গ্রেট, ইমন ভাই, গ্রেট !
২৪ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ।
১৮|
২৪ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৪
ধ্রুবমেঘ বলেছেন:
গ্রেট পোস্ট!
২৪ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: থ্যাঙ্কস্ ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:০৯
কানা বাবা বলেছেন:
দূর্দান্ত গান...