নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্ত্যজ বাঙালী, আতরাফ মুসলমান ...

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান।রবীন্দ্রনাথ

ইমন জুবায়ের

জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]

ইমন জুবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিরূঢ়ক

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:০৭



প্রাচীন ভারতের কোশল রাজ্যের এক রাজপুত্র ছিল বিরূঢ়ক । পিতা ও মাতৃকূলের অবহেলার কারণে ক্রোধে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল সে ...তার কারণেই সমূলে ধ্বংস হয়েছিল কোশল রাজ্যের রাজধানী সমৃদ্ধশালী শ্রাবস্তী নগর এবং বুদ্ধের জন্ম-নগরী সুসমৃদ্ধ কপিলবস্তু নগর; বিরূঢ়ক এর নির্মম ঘটনাটি ঘটেছিল বুদ্ধের জীবদ্দশায় ... বিরূঢ়ক বুদ্ধের সমসাময়িক ছিল বলেই তার বিধ্বংসী কর্মকান্ডে শান্তিবাদী বুদ্ধে মনে তীব্র কষ্ট পেয়েছিলেন ... এই ঐতিহাসিক নিবন্ধটি ২৫০০ বছর আগেকার ওই প্রতিশোধ পরায়ণ পাষন্ড যুবকটিকে নিয়েই ...









প্রাচীন ভারতের মানচিত্র। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ শতকে প্রাচীন ভারতে ট্রাইবাল সমাজ ভেঙে ১৬ টি বৃহদাকার জনপদ বা রাজ্য গড়ে উঠেছিল। বৌদ্ধ সাহিত্যে এদেরকে সম্মিলিতভাবে ‘ষোড়শ মহাজনপদ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ষোড়শ মহাজনপদ- এর মধ্যে অন্যতম ছিল কোসল রাজ্য। কোশল রাজ্যের রাজধানী ছিল শ্রাবস্তী। ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা/ মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য ...সেই শ্রাবস্তী। বর্তমান ভারতবর্ষের উত্তর প্রদেশের আউধ- এ ছিল সুপ্রাচীন কোশল রাজ্যের অবস্থান।







ভাস্কর্য খোচিত শ্রাবস্তী নগরের প্রাচীর



কোসল রাজ্যের রাজা ছিলেন প্রসেনজিৎ। শ্রাবস্তী নগরে তার সুরম্য প্রাসাদ। যা হোক। সেকালে যুদ্ধবিগ্রহ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কাশী রাজ্য (আরেকটি মহাজনপদ) যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কোসলরাজ প্রসেনজিৎ । পরাজিত হন। রণাঙ্গন থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। পথে এক মালাকারের বাড়ি। তার বাড়ি আত্মগোপন করে থাকলেন ক’দিন। আশ্রয়দাতা সেই মালাকারের এক পরম রুপবতী কন্যা ছিল সেই মেয়ের নাম মল্লিকা। মল্লিকাকে দেখে লালসা জেগে ওঠে কোসলরাজ প্রসেনজিৎ -এর। পরে বিপদমুক্ত হয়ে শ্রাবস্তী ফিরে এলেন কোসলরাজ প্রসেনজিৎ । মল্লিকাকে বিয়ে করলেন ।









বর্তমান নেপাল। এই নেপালেই ছিল কপিলবস্তু নগর। বুদ্ধের জন্মস্থান। উচ্চকূলজাত শাক্যবংশীয় শাসন। কপিলবস্তুর বানান কপিলাবস্তু নয়- কপিলবস্তু বা কপিলবাস্তু; দ্র; সুভাস ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘ বাংলা: লেখক ও সম্পাদকের অভিধান।’ (পৃষ্ঠা: ৫৬)



কোসলরাজ প্রসেনজিৎ এর পরে মনে হল মল্লিকা তো নীচকূলজাত। এ কোসল রাজ্যে রানী হয় কি করে! যার পিতার পেশা মালা তৈরি করা। আসলে লোকটার মল্লিকার শরীর ভোগের তৃষ্ণা মিটে গিয়েছিল। কাজেই মালাকারকন্যা মল্লিকার ভাগ্যে কি ঘটেছিল আমরা অনুমান করতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে ... এই ঘটনাগুলি পালি ভাষায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দ্বারা লিখিত এবং বৌদ্ধ সাহিত্যের অর্ন্তভূক্ত । এর অনেক অসংগতি হয়তো সেইসব বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চোখে পড়েনি। আমাদের সময়ে ঘটনাগুলি আমরা আমাদের মতো করে ইন্টারপ্রিট করছি।







যুগ যুগ ধরেই নারী শক্তিমান পুরুষের খেয়াল খুশির শিকার । মালাকারকন্যা মল্লিকার করুন জীবন যেন তারই এক বিয়োগান্ত উদাহরণ।



যা হোক। কোসলরাজ প্রসেনজিৎ উচ্চকূলজাত বংশে বিয়ে করবেন বলে মনস্থির করলেন। তৎকালে হিমালয়ের পাদদেশের কপিলবস্তু নগরীর শাক্যবংশীয়া ছিল উচ্চকূলজাত। উল্লেখ্য, বুদ্ধের জন্য কপিলবস্তু নগরীর শাক্যবংশেই হয়েছিল।







মানচিত্রে কপিলবস্তু। কপিলবস্তু নগরের নাম হয়েছে সাংখ্য দার্শনিক কপিলের নামে। শ্রীমাধবচন্দ্র চাক্মা কর্ম্মী বিরচিত শ্রীশ্রীরাজনামা এবং রাজা ভুবনমোহন রায় বিরচিত চাক্মা রাজবংশের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে তুলে দিচ্ছি: “...একদা অযোধ্যা রাজ্যে অরঞ্জিত নামক এক রাজার দুইটি মহিষী ছিল। প্রথমা রানীর গর্ভে তিনটি পুত্র, একটি কন্যা, দ্বিতীয় রানির গর্ভে একটি কন্যা ও একটি পুত্র হয়। ছোট রানির প্ররোচনায় মহারাজ অরঞ্জিত প্রথমা রানির গর্ভজাত রাজকুমারগনকে অযোধ্যা রাজ্য হইতে নির্বাসিত করেন। রাজকুমারগন পিতৃসত্য পালনের জন্য দ্বিরুক্তি না করিয়া অনুরাগী প্রজাবৃন্দসহ অযোধ্যা নগর হইতে বর্হিগত হইয়া হিমালয় পর্ব্বতের সান্নিধ্যে কপিল মুনির আশ্রমে গমন করিলেন। তথায় মুনির আজ্ঞা গ্রহণ করতঃ কপিলবস্তু নামক নগর নির্মান করিয়া রাজত্ব করিতে লাগিলেন। লোক পরম্পরায় মহারাজা অরিঞ্জিত কুমারগনের এতাদৃশ রাজ্য স্থাপনের কথা শুনিয়া মন্ত্রণাকুশল মন্ত্রীগনকে এবং দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণগনকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “রাজকুমারগন সেখানে বাস করিতে শক্য কিনা।” তদুত্তরে তাহারা বলিয়া উঠিল, “মহারাজ,কুমারগন উত্তম স্থান প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাঁহারা সেখানে সম্পূর্নরুপে বাস করিতে সমর্থ বা শক্য”। ইহার পর হইতে অযোধ্যা হইতে আগত সুর্যবংশীয় রাজকুমারগন শাক্য নামে বিখ্যাত হইল। কপিলবস্তুর রাজকুমারগন সকলেই শাক্য নামে অবহিত হইয়াছিল।” (পৃষ্ঠা ৪০) কপিল>কপিলবস্তু>সাক্য>শাক্য বংশ> বুদ্ধ ... প্রতিশোধ পরায়ণ বিরূঢ়ক এই শাক্যবংশই ধ্বংস করেছিল। অসাধারণ যোগাযোগই বটে!



যা হোক। কোসলরাজ প্রসেনজিৎ শাক্যবংশজাত কোনও রাজকুমারীকে বিয়ে করা জন্য কপিলবস্তু দূত প্রেরণ করেন। শাক্য গোত্রের জাত নিয়ে গর্ব ছিল অথচ শক্তিধর কোসলরাজ প্রসেনজিৎ প্রত্যাখান করতে পারে না। শাক্যদের রাজা তখন ছিলেন মহানাম। তার নাগমুন্ডা নামে এক দাসীর গর্ভে বাসবক্ষত্রিয়া নামে বিবাহযোগ্যা একটি কন্যা ছিল। কোসলরাজ প্রসেনজিৎ বাসবক্ষত্রিয়ার বিবাহ হয়। যথাসময়ে পুত্র সে পুত্রের নাম রাখা হয় বিরূঢ়ক । পরে কোসলরাজ প্রসেনজিৎ শাক্যদের ছলনার কথা জানতে পারেন। ক্রোধান্বিত হয়ে স্ত্রী-পুত্রকে ত্যাগ করেন।







বুদ্ধ। যিনি বলেছিলেন,‘জলের ফোঁটার জন্যও আমার দয়া হইত।’ তিনি তো অসহায় বাসবক্ষত্রিয়ার দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়াবেনই।



বুদ্ধ তখন ভারতবর্ষে ‘ধর্ম’ প্রচার করছেন। এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কোসল রাজ্যেও আসতেন। শ্রাবস্তী নগরের কাছেই জেতবন নামে একটি আমবাগান। সেখানেই এক কুঠিরে বুদ্ধ তখন বাস করছেন। স্বামী হারিয়ে আশ্রয়চ্যূত বাসবক্ষত্রিয়া তখন আতঙ্কিত হয়ে ছেলে বিরূঢ়ক কে নিয়ে বুদ্ধের কাছে ছুটে গিয়ে পায়ে পড়লেন। প্রভূ, আমায় রক্ষে করুন।

কি হয়েছে?

আমার স্বামী আমায় তাড়িয়ে দিয়েছে।

তাড়িয়ে দিয়েছে? কেন?

আমি নীচকূলজাত প্রভূ। জানেনই তো আমার মা দাসী নাগমুন্ডা ।

বুদ্ধ মাথা নাড়লেন। তিনি সবই জানেন। তাঁর জন্মও কপিলবস্তুর শাক্য গোত্রে। সে গোত্রের অহঙ্কার বুদ্ধের শাক্য গোত্র পরিত্যাগ করার অন্যতম কারণ। বুদ্ধ জাতপাত মানেন না। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে চল।

কোথায়? ক্রন্দনরতা বাসবক্ষত্রিয়াকে কেমন বিমূঢ় দেখাল।

আহা, চলই না। বুদ্ধ ঈষৎ বিরক্ত হয়ে বললেন।

কিশোর বিরূঢ়ক সবই দেখছিল। সে নত হয়ে বুদ্ধের পায়ে চুম্বন করে।

বুদ্ধ আর্শীবাদ করলেন।

বিরূঢ়ক এর চোখে জল আসে। পিতার নির্মম আচরণে সে বাকরুদ্ধ। মায়ের কান্না সে সহ্য করতে পারছে না। পিতাকে হত্যা করার জন্য ফুঁসে উঠছে রক্ত।







শ্রাবস্তী নগরের কাছে জেতবন। ঠিক এই জায়গায় ছিল বুদ্ধের কুঠির। আজ থেকে ২৫০০ বছর আগে এই কুঠিরেই অবস্থানরত মহামতি বুদ্ধের কাছে বিপদগ্রস্থ বাসবক্ষত্রিয়া তার ছেলেকে নিয়ে ছুটে এসেছিল ।







বুদ্ধ। বুদ্ধের জীবদ্দশায় তাঁর মানবিক ভূমিকার কথা বিশ্বের তত্ত্বদর্শী মহল অবগত। সে জন্যই তাঁর কল্পিত ভাস্কর্যটি যেন পরিনত হয়েছে শান্তির আইকনে ...৩টি কারণে বাংলার সঙ্গে বুদ্ধের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। (১) প্রাচীন বাঙলার মানুষ শান্তিপ্রিয় ছিল বলেই প্রাচীন বাংলাই প্রথম তাঁর মতাদর্শ গ্রহন করেছিল। (২) ভারতবর্ষে যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনে বৌদ্ধধর্ম বিলুপ্তির পথে - বাংলা তখন ও বৌদ্ধ ধর্মকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল, একে আশ্রয় দিয়েছিল। (৩) বাংলা বৌদ্ধ দর্শনকে ব্যাখ্যা করে নারীকে প্রাধান্য দিয়ে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের ভিত রচনা করেছিল।



বুদ্ধ বাসবক্ষত্রিয়া আর তার ছেলে কে নিয়ে শ্রাবস্তী নগরের রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেলেন। তারপর অবিচল কন্ঠে কোসলরাজ প্রসেনজিৎ কে বুদ্ধ বললেন, বাসবক্ষত্রিয়ার পিতা শাক্যরাজ, বিরূঢ়ক এর পিতাও কোসলরাজ। এই কারণে বাসবক্ষত্রিয়া অবশ্যই স্ত্রীর মর্যাদা পেতে পারে।

কোসলরাজ প্রসেনজিৎ বলল, প্রভূ, আপনাকে আমি শ্রদ্ধা করি বটে তবে আপনার অনুরোধ আমি রাখতে পারব না।

বুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

এ পৃথিবী কি কোনওকালে জাতপাতের উর্ধে উঠতে পারবে?

কোসলরাজ প্রসেনজিৎ কে চাপ দিয়ে লাভ নেই। বড় একগুঁয়ে মানুষ।







নারীদের আজও বাসবক্ষত্রিয়ার মতো বিরূপ পরিস্থিতিতে নিক্ষিপ্ত হতে দেখি ...



বিষন্ন মনে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এলেন বুদ্ধ। তাঁর পিছনে ক্রন্দনরতা বাসবক্ষত্রিয়া ও ক্রোধান্বিত কিশোর বিরূঢ়ক। চৈত্র মাস। মধ্যাহ্ন বেলা তার প্রখর সূর্যালোক আর উষ্ণতা ছড়িয়েছে। পিপাসায় কন্ঠ শুকিয়ে আসে।

বুদ্ধ বললেন, বাসবক্ষত্রিয়া।

আজ্ঞে, বলুন।

তোমাকে একটা কথা বলি শুন।

বলুন।

তুমি এখন পথে পথে কোথায় ঘুরে মরবে। তুমি বরং ছেলেকে নিয়ে একবার কপিলবস্তু যাও। হাজার হলেও কপিলবস্তুর রাজপ্রাসাদ তোমার পিত্রালয়, শাক্যরাজ মহানাম তোমার পিতা।

আমি আপনার নির্দেশ মাথা পেতে নিলাম।

বাসবক্ষত্রিয়া বলল।

বুদ্ধের নির্দেশে বাসবক্ষত্রিয়া ছেলেকে নিয়ে কপিলবস্তু রওনা হয়ে যায়।







এর পর বেশ ক’বছর কেটে গেছে।

এর মধ্যে বাসবক্ষত্রিয়ার সঙ্গে বুদ্ধের আর দেখা হয়নি। তবে বুদ্ধ শুনেছেন কপিলবস্তুর শাক্য পরিবার বাসবক্ষত্রিয়া আর তার ছেলে কে গ্রহন করেনি। বুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এ পৃথিবী কি কোনওকালে জাতপাতের উর্ধে উঠতে পারবে? আপন আত্মজার সঙ্গে কেমন প্রতারণা? বাসবক্ষত্রিয়ার জ ন্ম দাসীর গর্ভে বলেই কি অচ্ছুত হয়ে গেল? ছিঃ! মানুষ এত সংর্কীণ হয় কি করে। অথচ জীবনের আয়োজন উপাচার কত মহৎ কত বিশাল ...

যা হোক। বেশ ক’বছর বাসবক্ষত্রিয়ার কোনও সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে না।

বেশ ক’বছর পর বুদ্ধ বিরূঢ়ক -এর সংবাদ শুনলেন। বিরূঢ়ক তখন যুবক। যা শুনলেন তাতে রীতিমতো শিউরে উঠলেন বুদ্ধ। ক্রোধে উন্মক্ত বিরূঢ়ক নাকি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে শ্রাবস্তী নগর আক্রমন করার পর ধ্বংস করেছে। কোসলরাজ প্রসেনজিৎ মগধে পালিয়ে যাওয়ার পথে নাকি মৃত্যুবরণ করেছেন।

প্রতিশোধ পরায়ন তরুণ বিরূঢ়ক এখন নাকি কপিলবস্তু নগরী ধ্বংসের জন্য উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বুদ্ধ অত্যন্ত উৎকন্ঠিত হয়ে উঠলেন।

জ্ঞাতিকূলের আসন্ন বিপর্যয় ঠেকাতে অতিসত্ত্বর কপিলবস্তু রওনা হলেন। এবং পথিমধ্যে বিরূঢ়ক কপিলবস্তু নগরীর কাছেই ছোট্ট একটি নদীর পাড়ে সৈন্য শিবির স্থাপন করেছিল। বুদ্ধ বিরূঢ়ক কে অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কপিলবস্তু নগরী আক্রমন হতে বিরত করলে।

সসৈন্য কোসল রাজ্যে ফিরে গেল।







মানচিত্রে কপিলবস্তু



বিরূঢ়ক এখন কোসল রাজ্যের নৃপতি। তা সত্ত্বেও শাক্য পরিবারের অপমান বিরূঢ়ক ভুলতে পারেনি। শোকে-দুঃ খে জর্জরিত হয়ে তার মা বাসবক্ষত্রিয়ার করুণ মৃত্যু হয়েছে। বিরূঢ়কও সৈন্য বাহিনী গড়ার জন্য বছরের পর বছর অনাহারে অর্ধাহারে শ্বাপদশঙ্কুল হিমালয়ের গভীর অরণ্যে কঠিন সময় অতিবাহিত করেছে।

কাজেই, বিরূঢ়ক আরও দু’বার কপিলবস্তু আক্রমনের উদ্যেগ নেয়।

অবশ্য বুদ্ধ তাকে নিবৃত্ত করেন।

তা সত্ত্বেও বিরূঢ়ক তার প্রতিশোধ পরায়ন আগ্রাসী মনোভাব পরিত্যাগ করেনি। সে কপিলবস্তু আক্রমনের উদ্যেগ নেয়।

এবার কপিলবস্তুর শাক্যকূলও বিরূঢ়ক এর ওপর ভয়ানক ক্ষেপে উঠল। কপিলবস্তুর কাছের সেই ক্ষুদ্র নদীর জলে বিষ মিশিয়ে দিল- যাতে বিরূঢ়ক-এর সৈন্যরা বিষ মিশ্রিত জল পান করে মৃত্যুবরণ করে। (এই ঘটনাটি কেমন অবাস্তব মনে হয় ...)

নদীর জলে বিষ মিশিয়ে দেওয়ায় বুদ্ধ মনে অত্যন্ত কষ্ট পেলেন।

এবার তিনি বিরূঢ়ক কে নিবৃত্ত করলেন না!

বিরূঢ়ক কপিলবস্তু নগর ধ্বংস করে।

এমন কী রাজপরিবারের ছোট ছোট শিশুদেরও রেহাই দেয়নি।

সুসমৃদ্ধ কপিলবস্তু ধ্বংস হয়ে যায়।







সুসমৃদ্ধ কপিলবস্তু ধ্বংস করে বিরূঢ়ক সীমা লঙ্ঘন করেছিল বটে, তবে কপিলবস্তু ধ্বংসের জন্য বিরূঢ়ক এর চেয়ে অহঙ্কারী শাক্যবংশই দায়ি। কেননা:



(১) শাক্য গোত্রের জাত নিয়ে গর্ব ছিল অথচ শক্তিধর কোসলরাজ প্রসেনজিৎ প্রত্যাখান করতে পারে না। শাক্যদের রাজা তখন ছিলেন মহানাম। তার নাগমুন্ডা নামে এক দাসীর গর্ভে বাসবক্ষত্রিয়া নামে বিবাহযোগ্যা একটি কন্যা ছিল। কোসলরাজ প্রসেনজিৎ বাসবক্ষত্রিয়ার বিবাহ হয়।



(২) কপিলবস্তুর শাক্য পরিবার বাসবক্ষত্রিয়া আর তার ছেলে কে গ্রহন করেনি।







কপিলবস্তুর ধ্বংসাবশেষ।



তারপর? তারপর বিরূঢ়ক এর কি হয়েছিল?

যথাসময়েই বিরূঢ়ক-এর মৃত্যু হয়েছিল। তবে কোসল রাজ্যটি আক্রমন করে অধিকার করে নিয়েছিল পাশ্ববর্তী আরেকটি শক্তিশালী রাজ্য - মগধ; এবং তার পরাক্রমশালী সম্রাট অজাতশত্র“। সম্রাট অজাতশত্র“ ছিলেন মগধের সম্রাট বিম্বিসারের পুত্র । সম্রাট বিম্বিসার আমাদের অপরিচিত নন। পাঠ করুন:



হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে আরো দূর অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকার বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।







হয়তো বুদ্ধ বিরূঢ়ক এর রোষ থেকে কপিলবস্তুর নগরটি রক্ষা করতে পারেন নি; তথাপি তাঁর মানবিক ভূমিকার কারণে আজও তাঁর প্রতি তাঁর ভক্ত অনুসারীর দ্বারা নিবেদিত হয় গভীর শ্রদ্ধা ...





তথ্যসূত্র:



১. শ্রী শান্তিকুসুম দাশ গুপ্ত; বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্ম এবং প্রাচীন বৌদ্ধ সমাজ। (বিরূঢ়ক এর মূল কাহিনী এই বইতে পেয়েছি)

২. শ্রীশ্রীরাজনামা এবং রাজা ভুবনমোহন রায় বিরচিত চাক্মা রাজবংশের ইতিহাস। (কপিলবস্তুর শাক্যদের ইতিহাস এই বইতে আলোচিত হয়েছে।)

৩. সুনীল চট্টোপাধ্যায়: প্রাচীন ভারত (১ম খন্ড) (বুদ্ধযুগের ভারতবর্ষের সম্পর্কে তথ্যাদির জন্য এই বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন)

৪. ডি.ডি কোসাম্বী; ভগবান বুদ্ধ। (বুদ্ধের পরিব্রাজক জীবনের নানা কাহিনী এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে। )

৫. রিস ডেভিস; বুদ্ধিস্ট ইন্ডিয়া । (কোশল রাজ্যের বিস্তারিত ইতিহাস এখানে রয়েছে।)

মন্তব্য ৫৯ টি রেটিং +১৬/-০

মন্তব্য (৫৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:২২

ম্যাভেরিক বলেছেন: মহাকালের গল্প...

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:২৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। তাই তো ...

২| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৩

শূণ্য উপত্যকা বলেছেন: যথারীতি আরেকটি তথ্যময় লেখা
এবং যথারীতি++++++++++++++

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৮

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৩| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৫

আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: +++

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: কৃতজ্ঞতা, কবি।

৪| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৬

অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: আবারো প্রিয়তে।


অ ট - আচ্ছা , এখন কি প্রাচীন রাজা রাণী আরজকুমার রাকুমারী নিয়ে চলবে ??

সিদ্ধার্থ নিয়ে পোস্ট কি পাবো ?

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৪০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
চলুক।
সিদ্ধার্থ নিয়েও লিখব।

৫| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:২১

আন্দালীব বলেছেন: অন্য সহস্রাব্দ থেকে যেন ঘুরিয়ে আনলেন ইমন ভাই...

এই বিষয়ে জানা ছিলো না। ধন্যবাদ।

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:২৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:২২

দীপান্বিতা বলেছেন: পড়তে পড়তে যেন সেকালেই চলে গেলাম!...দারুন!

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:২৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৩০

করবি বলেছেন:
আপনার লেখা যতই পড়ছি ততই জানছি !!

ধন্যবাদ।

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৩৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৪৩

আরিয়ানা বলেছেন: খুব ভাল লাগলো ইতিহাসটি জানতে। ধন্যবাদ পোস্টটার জন্য।

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৪৮

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৯| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৪

খান ফেরদৌস বলেছেন: ভাই অপেক্ষায় রইলাম । আরো কিছু দিবেন ।

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: দেব, অবশ্যই। পুরনো লেখাগুলিও পড়বেন আশা করি। অনেক ধন্যবাদ।

১০| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:০৫

খান ফেরদৌস বলেছেন: আমি সিনেমা ডিরেকসন এর উপর কোর্স করছি ,আশা করি আমার প্রথম কোণ ছবি হবে এই রকম প্রাচিন কোণ ঘটনা থেকে
আর অবস্যই পরবো ধন্যবাদ

২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:০৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: এ রকম প্রাচীন অনেক ঘটনা রয়েছে যা দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মান করা যায়। বলিউডে বুদ্ধের উপর নির্মিত হচ্ছে ব্যয়বহুল মুভি। গিয়াসউদ্দীন সেলিম নির্মাণ করছেন কাজললতা ...
আপনার সাফল্য কামনা করি।

১১| ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:২২

খান ফেরদৌস বলেছেন: [email protected]
এই টা আমার মেইল আইডি আশা করি যোগাযোগ করবেন আপনার হেল্প দরকার হবে আমার

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:০৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ওকে

১২| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:২৮

শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: এমন কিছু লেখা গতকাল আশা করেছিলাম!
আপনার লেখায় ফুটনোটের মতন অনেকগুলো ম্যাসেজ আপনি চুপিচুপি দিয়ে যান, যেগুলো আবার মূল লেখার সাথে মিলেমিশে যায়। যেগুলো নিয়ে কথা বললে মনে হবে অফটপিক কিছু বলছি।
ভাল লাগা রইল ইমন ভাই। শ্রদ্ধা জানবেন।

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: :)

১৩| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭

শায়মা বলেছেন: আপনি কি সারা দিনরাত শুধু পড়ালেখাই করেন? আর কোনো কাজ নাই আপনার ভাই? খুব জানতে ইচ্ছে করে এত পড়ালেখার সময় পান কিভাবে?

দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি, খাবার টেবলে ভাতের থালার পাশে বই, এক গ্রাস ভাত আর ১০ লাইন লেখা পেটে যাচ্ছে। পরাতঃকালীন ভ্রমনে ছাঁদে হাটতে হাটতে হাতে বই। ভাগ্যিস ছাদটার রেলিং উঁচু।

ইউনি/ অফিস যাচ্ছেন গাড়িতে বই নিয়ে। অফিসের ড্রয়ারে লুকানো বই।সুযোগ পেলেই কাজ ফাকি দিয়ে পড়তে বসে যাওয়া। রাতে ফিরে বিছানার চারিধারে বই বই আর বই। বালিশ গুলো ও তোষক বই দিয়েই বানানো।:)

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৪৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আরে না! আসলে আপনি যেমন ভাবছেন সেরকম কিছু নয়। অনেক বছর আগে এসব পড়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিষয় ছিল ইতিহাস। এখন ইন্টারনেটের কারণে ছবি ও মানচিত্র সহ পোস্ট দিতে পারছি। আমার ঘরে বই আছে ঠিকই ... তবে খুব বেশি নেই। তবে বইগুলি হাতের নাগালেই থাকে। কাজেই একটা আইডিয়া এলে সহজেই পোস্টটা গুছিয়ে তুলতে পারি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

১৪| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৫০

শায়মা বলেছেন: :P

যাক বাবা ভেবেছিলাম মাইর খাবো।

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:০৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: এই যে আমার ঘরের বইয়ের ছবি... :P

১৫| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:১৭

আকাশ_পাগলা বলেছেন: যুগে যুগে কত কাহিনীই ঘটে গেছে, আমরা জানি তার সামান্য।

বস কেমন আছেন?

আচ্ছা, বইয়ে পড়ছিলাম, যেই কচুকাটা আর কোপাকোপির কারণে মাহেঞ্জাদারোর এমন সমৃদ্ধ সভ্যতা শেষ হয়ে গেছিল(বজ্জাতগুলা সম্ভবত এসিরীয় ছিল) , টপিকটাকে খুবই ইন্টারেস্টিং লাগছিল,সেই ইনসিডেন্ট নিয়ে একটা পোস্ট চাই।

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:২৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলে নদী শুকিয়ে গিয়েছিল বলেই সিন্ধু সভ্যতা লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আর ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বে আর্যরাও এল। না সিন্ধু সভ্যতা এসিরীয় না, ওখানকার লোকাল তবে এসিরীয় সভ্যতার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ট। অনেক দিন ধরেই ভাবছি সিন্ধু সভ্যতার ওপর পোস্ট দেব আর হয়ে ওঠে না।

আছি একরকম।
অনেক ধন্যবাদ।

১৬| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:৩৪

মাঠশালা বলেছেন: ইমন ভাই, বই ধার নিমু বাট পরুম না; ফেরৎও দিমু না। ভাববো যে একদিন অবসর পেলে পড়ে ফেলব। ভাবতে ভাবতেই একদিন দেখবো আপনার ব্লগে বইয়ের বিষয়টা নিয়া একটা পোস্ট। সেখানে দৌড়ের উপর চোখ বুলায় যাব। :D

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:৩৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন: :P

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:৪১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমার বেশির ভাগ বইই অন্যের কাছে ;)

১৭| ২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯

শিরীষ বলেছেন:
অনেক কিছু জানছি ইমন ভাই। আপনি যে এত সিরিয়াস ভাল কিছু দেবার জন্যে এ বিষয়টিই ভালো লাগে।
বিরূঢ়ক- অসাধারণ লেগেছে। পোস্ট কন্টেন্ট অনেক রিচ। দারুণ গোছানো। অনুভূতি মেশানো।

২৮ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:৪১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: কৃতজ্ঞতা কবি।

১৮| ২৮ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৪৪

শায়মা বলেছেন: এ ছি ছি আপনি এত অগোছালো?:P

২৮ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আপনার ঘরের বইগুলি বেশ সাজানোগোছানো বুঝি?
বেশ। তার মানে বইগুলি পড়া হয় না :(
আমার বুক সেলফ অগোছালো। কারণ? বইগুলি নিয়মিত পড়া হয় ;)

১৯| ২৮ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫৭

আলী প্রাণ বলেছেন: দারুণ লাগলো, শেয়ারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন।

২৮ শে মে, ২০১০ রাত ১০:০০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।

২০| ২৯ শে মে, ২০১০ রাত ১২:০৭

আকাশ_পাগলা বলেছেন: সিন্ধুদের এসিরীয় বলি নাই। অন্য কথা বলছি।

আমি যতদূর জানি, আর্কিওলজিস্টরা যখন মাহেঞ্জাদারো আবিষ্কার করে (ইনডাস ভ্যালি সভ্যতা), তখন তারা এমন পরিকল্পিত শহর দেখে টাশকি খেয়ে যায়। তারা দেখে একদিকে দোকান পাট আরেকদিকে বাড়িঘর। দারুণ ড্রেনেজ সিস্টেম। বিল্ডিঙ্গের ছায়া যেখানে বেশিরভাগ সময় থাকে,সেখানে কুলি কোয়ার্টার। এসব।রাস্তায় ময়লা ফেললে সেগুলো পরিষ্কার করার মিউনিপ্যালিসিটির লোকও ছিল।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার ছিল(আমি যতদূর জানি),শহরটা এত বেশি প্রাণবন্ত ছিল যে মনে হয়েছিল যেন একদম জীবন্ত।রাস্তাঘাটে টানা গাড়ি পর্যন্ত ছিল।আর যেটা ছিল তা হল শত শত কংকাল।ম্যাসিভ একটা মাসাকার হইছিল ওখানে।বাড়িঘর,রাস্তা সবখানে গলা কাটা মানুষ পড়েছিল।বছরের পর বছর এদের উপর বালি এসে কংকালকে টিকিয়ে রেখেছে,আর্কিওলজিস্টরা নাকি এদের পরে মাটির চাপা দেয়। এই মাসাকারটাই নাকি এই সিটিটা শেষ করে দেয়। কেউ জীবিত ছিলনা।

এই ম্যাসাকারের পিছনে একবার শুনছিলাম এসিরীয়রা ছিল(কারণ এদের এমন রেকর্ড বহু) আরেকবার শুনছিলাম আর্যরা(কাছাকাছি সময়ে পাঞ্জাবে নাকি এরকম কিছু একটা করতে চাইছিল) দায়ী।

ইতিহাসের ব্যাপারগুলার মাঝে এটা নিয়ে খুব ইন্টারেস্ট পাইছিলাম। আপনি যদি এব্যাপারে আরও বিস্তারিত কিছু জেনে থাকেন,তাইলে একটা পোস্ট আশা করছিলাম।

২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:০৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ওকে।

২১| ২৯ শে মে, ২০১০ রাত ১:৩২

আকাশ অম্বর বলেছেন: অদ্ভুত। আমার কাছে অনেক টাকা থাকলে এই কাহিনী নিয়ে বাংলাদেশেই এক মর্মস্পর্শী সিনেমাটোগ্রাফী বানানো যেতো! দারুণ সব 'ক্যারেকটার'। সিক্যুয়েল হোতো! 'বিরূঢ়ক'! (how rude I'm)

ধন্যবাদ, ইমন ভাই।

অট- লেখক বলেছেন: আমার বেশির ভাগ বইই অন্যের কাছে। :!> ভুলে গেছিলাম। দু'একটা আমার কাছে আছে, নিয়ে আসছি নেক্সট টাইম! :)


২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:০৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। 'বিরূঢ়ক'! নিয়ে ছবি করা যায়।

আরে তোমার সঙ্গে দেখা হল সেদিন। আমি গত ২০ বছরের কথা বলছি।

২২| ২৯ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:৩৪

প্রতীক্ষা বলেছেন: :) :) প্রাচীন ইতিহাস পড়তে পড়তে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম!


আমারও অনেক অনেক বই আছে সেলফে সাজানো..তবে সব গল্পের আর কবিতার বই! :D

২৩| ২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:০৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন: শুভেচ্ছা :P

২৪| ২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৪৩

প্রতীক্ষা বলেছেন: প্রতিদিন একই ফুল না!

শুধু শুভেচ্ছা না!

২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৫৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন:

২৫| ৩০ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:০২

রেজোওয়ানা বলেছেন: ঐতিহাসিক গল্প..........যথারিতী চমৎকার....

অ ট: জবা একটি গ্রীষ্মদেশিয় ফুল।

৩০ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:১৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ। :)

ক্লাস টেনে জবা কাটতাম বায়োলজি ক্লাসে। স্যারকে ফুলটা জোগার করার কথা বলে ক্লাস ফাঁকি মারতাম। :P

২৬| ৩০ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৪

রেজোওয়ানা বলেছেন: ও তাইলে তো আপনি জানেনই, জেনে শুনে বরফের মধ্যে জবা ফুল দিছেন কেন X( X((

৩০ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:০১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: শুভেচ্ছা

২৭| ৩০ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:০১

রেজোওয়ানা বলেছেন: পড়তে, পড়তে, পড়তে মাথা তো মনে হয় গেছে, আপনর দরকার একজন জিন চিকিৎসকের,

৩০ শে মে, ২০১০ বিকাল ৫:০৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: X( X((

২৮| ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:৪৪

বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: আমার একে বারেই না জানা ইতিহাস জানলাম।

০৩ রা জুন, ২০১০ সকাল ৭:১৮

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ

২৯| ০৩ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ৭:১৪

মহানাজমুল বলেছেন: অসাধারন। এই টপিক গুলা নিয়া গুগল করলে আপনার লেখাগুলাই বাংলা ভাষার ইন্টারনেট এ অন্যতম সমৃদ্ধ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলায় একমাত্র হয় , এই পরিশ্রমগুলির জন্য আপনাকে জানাই অভিবাদন। :-B

০৩ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ৭:৩৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধইন্যা। B:-)

৩০| ০৩ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ৮:১৫

তৌফিক জোয়ার্দার বলেছেন: ইতিহাসের ধুলোমাখা একটা গন্ধ আছে। আপনার লেখায় আবারো সেই পরিচিত প্রিয় গন্ধটা আকুল করল। অসাধারণ হয়েছে। এ ধরণের গল্পগুলোই আপনার বিশেষত্ব। একটা প্রশ্ন আছে। কপিলবস্তু হিমালয়ের পাদদেশে বলেছেন। বলেছেন তা কপিলের নামানুসারে হয়েছে। আরেক লেখায় লিখেছিলেন সাংখ্য দর্শনের প্রবক্তা কপিল ছিলেন বাঙ্গালি। এই বাঙ্গালি কপিলের নামানুসারেই কি কপিলবস্তুর নামকরণ? নাকি ইনি অন্য কপিল। বাই দা ওয়ে, দর্শন বিষয়ে লেকচার দেন এমন একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেন সাংখ্য দর্শনের প্রবক্তা কপিল যে বাঙ্গালি এ মতটি সঠিক নয়। এমনকি কপিল নামে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিও অসম্ভব নয়। আপনার কোন বক্তব্য থাকলে জানাবেন কি?

ও আরেকটা কথা। লেখায় 'কুঠির' শব্দটি সঠিক নয়- 'কুটির' হবে।

০৩ রা আগস্ট, ২০১২ সকাল ৮:৩০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। এই বাঙ্গালি কপিলের নামানুসারেই কপিলবস্তুর নামকরণ।উনি শেষ জীবনে অযোধ্যা থেকে ওখানে চলে গিয়েছিলেন।পরে নাম হয়-কপিলবস্তু।বাস্তু অর্থ বাড়ি বা ঘর। স্থাপত্যবিদ্যাকে প্রাচীন ভারতে বলা হত বাস্তুশাস্ত্র। কপিলবস্তু মানে: কপিলের বস্ত বা বাস্তু।

দর্শন বিষয়ে লেকচার দেন এমন একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেন সাংখ্য দর্শনের প্রবক্তা কপিল যে বাঙ্গালি এ মতটি সঠিক নয়।


আমার বক্তব্য:

১/ তিনি কি এই বিষয়ে আলাদা করে ভেবেছেন না কখনও না গবে ষনা করেছেন? নাকি সাংখ্যমত সম্বন্ধেই জানতে চেয়েছেন।

২/ আর তিনি যে বললেন সাংখ্য দর্শনের প্রবক্তা কপিল যে বাঙ্গালি এ মতটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তার যুক্তি কি? তিনি কতটা জানেন এ বিষয়ে?

৩/ আহম শরীফ এর বাঙলা বাঙালি ও বাঙালীত্ব বই তে (প্রথম দিকে ) বারবার বলা হয়ে সাংখ্য যোগ আর তন্ত্র এখানকার। যেজন্য পরে এদেশে যে ধর্মদর্শন এল সেসব সাংখ্য যোগ আর তন্ত্রর প্রভাবে মূল স্বরূপর হারিয়ে ফেলল। সাংখ্য যোগ আর তন্ত্র দেশি জিনিস না হলে এমন হয় না।

তিনি দর্শন বিষয়ে লেকচার দেন।তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন যে ওয়েস্টার্ন দর্শন সম্বন্ধে বই পড়েছেন ১০০টি। ভারতীয় দর্শন ২৫টি। আর কপিল সম্বন্ধে কতটি বই পড়েছেন?
ওনাকে জিজ্ঞেস করেন তো তাকে তন্ত্র কোথাকার জিনিস?

এনি ওয়ে । কপিল বাঙালি এটি নতুন চিন্তা। ২০০৭ চিন্তাটা আমি একটি লিটল ম্যাগ এ প্রকাশ করি। কাজেই গবেষনা শুরু হল মাত্র। ভবিষ্যৎ নতুন কথা বলবে।

ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.