| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]
‘উড়িয়া যাইব শুয়া পাখি/পড়িয়া রইব ছায়া ...’
আজ হাছন রাজার (১৮৫৪-১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) জন্মদিন। যিনি তাঁর গানে একটি অনিবার্য প্রশ্ন রেখেছিলেন: ‘কী ঘর বানাইমু আমি/ শূন্যেরও মাঝার।’ বোঝা যায়, এক অমোঘ শূন্যতা বোধে আক্রান্ত হয়েছিলেন বাংলার ওই মরমি গীতিকার। ঘরসংসার -এমন কী- খোদ অস্তিত্বই যেখানে অর্থহীন, অসার - তাহলে জীবন কেন? কেন ক্ষণিকের এই শূন্য জীবনে এত আনন্দের উপকরণ? সুনামগঞ্জের মরমি গীতিকার এই তিক্ত ভাবনায় বিস্মিত ও ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন সন্দেহ নেই।
অবশ্য পরিনত বয়সে পৌঁছনোর আগে হাছনের মনে গভীরতরো মরমি ভাবনার উদয় হয়নি। পরিবেশও অবশ্য অনুকূলে ছিল না। বিত্তশালী পরিবারের সন্তান ছিলেন হাছন। যৌবন ছিল ইয়ার-দোস্তদের সঙ্গে মৌজ-ফুর্তিতে ভরপুর। বিলাসবহুল সৌখিন জীবনে অভ্যস্ত হাছন আসক্ত ছিলেন নারীসঙ্গে।বামাচারী তন্ত্রের চর্চা, অর্থাৎ বেসামাল যৌনাকাঙ্খার নিবৃত্তিই ছিল যে জীবনের একমাত্র লক্ষ।
সেকালের ওপরতলার পুরুষদের এহেন প্রবৃত্তি করবার সর্বজনসম্মত সামাজিক প্রথারও চল ছিল বৈ কী। হাছনের জন্ম সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে। বর্ষার মরশুমে হাওর অঞ্চলের সম্পদশালী পরিবারের পুরুষরা ঘেটু গানের দলবল নিয়ে আমোদের বিলাসী নৌকা ভাসাত হাওরের জলে। (হুমায়ুন আহমেদ- এর ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ছবিতে এরকম দৃশ্য আমরা দেখেছি বৈকী।) যৌবনে হাছন রাজা অনুরূপ জীবনই কাটিয়েছেন। তবে হাছন রসের হাওরে ভেসেও তাঁর হৃদয় নামক ‘পিঞ্জিরা’র মধ্যে ‘প্রাণ’ নামক মন-মনিয়া পাখির ছটফটানি টের পেয়েছিলেন ঠিকই। কাজেই হাছনের পুর্নজ্জাগরণ ঘটতে সময়ও লাগেনি। তিনি সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন । একদা যিনি ছিলেন ভোগী, তিনি হয়ে উঠলেন ত্যাগী।পূর্বজীবনের পাঁক-পঙ্কিলতা স্মরণ করে অনেকটা আক্ষেপ করেই হাছন লিখলেন
‘ও যৌবন ঘুমেরই স্বপন/
সাধন বিনে নারীর সনে হারাইলাম মূলধন।’
মিস্টিক বাঙালির আরেক ইশতেহার রচয়িতা লালন যেমন বলেছেন:
যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন
সে ধনের হল না যতন
অকালের ফল পাকায় লালন
দেখেশুনে জ্ঞান হল না।
বাংলার মরমি সাধকদের এই আত্মসমালোচনা আমাদের জন্য ইঙ্গিপূর্ণ। সে যাই হোক। হাসন রাজা জেগে উঠলেন।পরিবর্তিত মানুষটি জমিদারের ঝলমলে পোশাক ছুড়ে ফেলে সংসার ত্যাগী মুছাফির-এর আলখাল্লা পড়লেন । তারপর তুরস্কের কোনিয়ায় মাওলানা রুমির মাজারের ঘূর্নায়মান দরবেশদের মতন দু’হাত তুলে ঘুরে- ঘুরে গাইতে লাগলেন:
আমি যাইমু রে যাইমু আল্লারও সঙ্গে
হাছন রাজা আল্লা বিনা কিছু নাহি মাঙ্গে ...
সত্তার এই আমূল পরিবর্তনে হাছন নিজেও অভিভূত । তার প্রমাণ তিনি রেখে গিয়েছেন। কেননা, তাঁর প্রাণমন থেকে স্ফূরিত হয়েছিল একটি গান:
বাউলা কে বানাইলো রে/
হাছন রাজারে বাউলা কে বানাই লো ...
হাছনের জীবনের এ পর্যায়ে আমরা তাঁর পরিশুদ্ধ হৃদয়ে পবিত্র প্রেমময় বোধের উদ্বোধনও দেখতে পাই:
নেশা লাগিল রে /
বাঁকা দুই নয়নে নেশা লাগিল রে/
হাছন রাজা পিয়ারীর প্রেমে মজিল রে/
এই মানবীয় প্রেমই আবার হাছনের অমলিন অন্তরলোকের রসরসায়নে সঞ্জীবিত হয়ে ঐশী চেতানায় উত্তীর্ণ হয়ে যায়:
সোনা বন্ধে আমারে পাগল করিল/
না জানি কোন মন্ত্র পড়ি যাদু করিল ...
এই প্রেম এখন আর অসংযত নয়, বহুগামী নয়। কেননা, প্রেমসাধনার কেন্দ্রে এখন রয়েছেন মহামহিম ঈশ্বর -যিনি এক। ঈশ্বর স্বয়ং বিশ্বব্রহ্মান্ডেরও মূল এক অনির্বচনীয় চিরন্তন সত্য। যিনি ব্যক্তি হাছনের কাছে ‘দয়াময়’। যে হাছনের উপলব্দিতে ঐশ্বরিক সত্তায় আচ্ছন্ন অনাদি অনন্তলোক যেমন সত্য ও বাস্তব, অনন্তকালের তুলনায় ক্ষুদ্র, তুচ্ছ এই সংসারও সত্য ও বাস্তব। সে কন্ঠক আকীর্ণ ঘাত-প্রতিঘাতময় সংসারে রয়েছে দুঃখের অবিরাম আবর্তন এবং মানবসত্তার বন্দিদশা। দুঃখার্ত এই সংসারের প্রতীক হাছনের কাছে খাঁচা। খাঁচায় বন্দি হাছন গাইলেন:
মায়ে বাপে করলা বন্দি খুশির মাঝারে/
লালে ধলায় হইলাম বন্দি পিঞ্জিরার ভিতরে রে/
কান্দে হাছন রাজার মনমনিয়ায় রে ...
‘হৃদয়’ নামক ‘পিঞ্জিরা’র মধ্যে ‘প্রাণ’ নামক ‘মন-মনিয়া’ পক্ষির ছটফটানি টের পেয়ে বিষন্ন হাছন। এই বিষন্নতার নামই বিবেকবোধ; যা মানুষে-মানুষে সমভাবে প্রজ্জ্বলিত নয়। এ রাতভর জ্বলে থাকা দেবালয়ের মিটিমিটি প্রদীপ, কখনও যা নেভে না।
এই বিষন্ন যন্ত্রণাকাতর প্রেমিক হাছন-এর সুফিপ্রাণকে বাঙালি তার হৃদয়ে গ্রহন করেছে বহুবছর আগেই। আশ্চর্য এই যে- হাছন রাজা ১৯২২ সনে পরলোক গমন করলেও তাঁর গান আমাদের সমকালীন বলেই মনে হয়। একটা সময় ছিল যখন হাছন রাজার গান মিডিয়ায় ‘লোকগান’ বলে প্রচারিত হত। কুড়ি শতক ধরে বাঙালির চেতনা সূক্ষ্ম হয়েছে, শানিত হয়েছে, পরিনত হয়েছে। যার ফলে আজ হাছন রাজার গান কেবলই নিছক ‘লোকগান’ নয়, তার চেয়েও অধিক কিছু, এ গান আজ মিস্টিক বাঙালির মরমি ইশতেহার। হাছন রাজার গান অনিবার্যভাবেই বাঙালি হৃদয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। যে কারণে হাছন রাজার গানের দিনদিন বাঙালির আগ্রহ বাড়ছে; বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক বোধে অনুপ্রাণিত তরুণ প্রজন্মে। এটি আশ্চর্যের কিছু না। আর এটিও বিস্ময়কর নয় যে, হাসনের গানে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ। হাছন রাজা মূলত সুফি ঘরনার সাধক ছিলেন। আমরা জানি সিলেট অঞ্চলটি মধ্যযুগ থেকেই সুফিবাদী ঐতিহ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবেই বৈষ্ণব-ভাবতত্ত্বেরও অনুশীলন হয়েছে। শিল্পী হিসেবে হাছন নিজস্ব মাটির বিভিন্ন ধারা ভাব ও সুর সমৃদ্ধ চেতনায় ধারণ করবেন লালন করবেন (আমাদেরও উদ্বুদ্ধ করবেন তেমনটি করতে) এটাই তো স্বাভাবিক। হাছন যে কারণে অনায়াসে লিখেছেন:
আমি মরিয়া পাই যদি শ্যামের রাঙ্গা চরণ
তবে সে রঙ্গিনী রাধার সাফল্য জীবন।
তবে সুফি বলেই হাছনের আত্মদর্শনের মূল ঝোঁকটি যেন বৈরাগ্যের, এবং একই সঙ্গে দয়াময় ঈশ্বরের সঙ্গে অভিন্নতার। যে কারণে তাঁরই এক গানে এই বিশেষ সুফি দৃষ্টিভঙ্গির এক সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্য আমরা পাই -
হাছন রাজায় কয়/ আমি কিছু নয় রে আমি কিছু নয়
ভিতরে-বাহিরে দেখি শুধু দয়াময়...
এই নিগূঢ় উপলব্দি এক বৃহৎবোধের ইঙ্গিত দেয়। পরিশুদ্ধ মানব চেতনার এ এক মহত্তম দিক। তাহলে জগতে অন্যের সুখই আমারই সুখ, অন্যের দুঃখই আমারই একান্ত দুঃখ? এই পৃথিবীর একটি পাখির কি একটি পাতার একান্ত দুঃখ ... উপকূলের নিরন্ন জেলেপাড়ায় কিংবা সিলেটের চা-বাগানে শীতার্ত পল্লীর যন্ত্রণা আসলে আমারই একান্ত যন্ত্রণা ...
তাহলে কখন আমরা উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব?
যখন আমরা শূন্যতায় দাঁড়িয়ে বলতে পারব:
‘কী ঘর বানাইমু আমি/ শূন্যেরও মাঝার।’
এই গানই তো মিস্টিক বাঙালির মরমি ইশতেহার ...
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
২|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১৬
দিকভ্রান্ত*পথিক বলেছেন: হাছন রাজা ও লালন এর মত মনের কেন্দ্রে এত গভীরভাবে স্পর্শ করতে পারে, এমন কিছুই আমি আমার জীবনে আর শুনি নাই... ভালো লাগা দিলাম ও প্রিয়তে নিলাম, অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট টির জন্যে!
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:৪৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৩|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:১৮
বাদল দিনের গান বলেছেন: খুব ভালো লেগেছে।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:২৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৫৫
রুদ্র মানব বলেছেন: পোস্টটি পড়ে খুবই ভাল লাগল ,
হাছন রাজা সত্যিই অসাধারন ।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৫|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০৪
মিজানুর রহমান মিলন বলেছেন: চমৎকার পোস্ট ! পড়ে খুব ভাল লাগলো ।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৬|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৪৫
সিলেটি জামান বলেছেন: গানগুলা শুনতে শুনতেই পোস্টটা পড়লাম। ভালো লাগল
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৭|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:১৪
প্রিন্স হেক্টর বলেছেন: ভালো লিখেছেন, প্লাস না দিলে অপরাধ হয়ে যায় :#>
+
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৮|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:১৩
সৈয়দ নাসির আহমেদ বলেছেন: বাউলা কে বানাইলো রে/
হাছন রাজারে বাউলা কে বানাই লো ..
ভালো লিখেছেন, পড়ে খুব ভালো লাগলো ।
ভালো থাকুন
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১২
একজন ঘূণপোকা বলেছেন: 
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১০|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩১
হোসেন মনসুর বলেছেন: হাছন রাজা ও লালন এর মত মনের কেন্দ্রে এত গভীরভাবে স্পর্শ করতে পারে, এমন কিছুই আমি আমার জীবনে আর শুনি নাই... ভালো লাগা দিলাম ও প্রিয়তে নিলাম, অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট টির জন্যে! সহমত।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১১|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৪
অ্যামাটার বলেছেন: মরমী কবি দেওয়ান হাসন রাজার বানী ও কথায় তার চিন্তার গভীরতাই স্পষ্ট বলে দেয়, এই সুফি সাধক কত বড় মাপের দার্শনিক ছিলেন।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১২|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:০৬
কালোপরী বলেছেন: উড়িয়া যাইব শুয়া পাখি/পড়িয়া রইব ছায়া
ভাল লাগল
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৩|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:১১
রাজর্ষি রায় বলেছেন:
"আর যাইবায় নি হাসন রাজা, রাজার কুঞ্জ দিয়া ?,
আর করবায় নি হাসন রাজা দেশে দেশে বিয়া ?"
কৃতকর্মের এমন সহজ সরল স্বীকারোক্তি কয়জন করতে পারে !
হাসন রাজার বাড়িতে গেছেন কখনো ? সেই লক্ষণশ্রী এখনো আছে ।
হাসন রাজার দৌহিত্র কবি মমিনুল মউজদিনের "এ শহর ছেড়ে আমি পালাবো কোথায়" আমি এখনো অবাক হয়ে পড়ি ।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:২৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই।
না হাসন রাজার বাড়িতে যাওয়া হয়নি।
হাসন রাজার দৌহিত্র কবি মমিনুল মউজদিনের মৃত্যু আমাকে বিষন্ন করে।
ধন্যবাদ।
১৪|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৪৬
আপেল মাহমুদ বলেছেন: অসাধারন ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য ++++++++++++
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:২৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
১৫|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২৯
সিরাজ সাঁই বলেছেন: হাছনের মিষ্টিসিজমে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টি, প্রেমাস্পদের সাথে প্রেমাস্পদ, অবতারের সাথে ভক্ত, কত সহজেই না একাকার হয়ে যায় !
"হাছন রাজায় জিজ্ঞাস করে, কানাইয়ে কোন জন ?
ভাবনা চিন্তা কইরা দেহি কানাই যে হাছন !"
তাঁর গানে সুফিজমের সর্বোচ্চ স্তর তথা, স্রষ্টার সরাসরি সান্নিধ্যের ইঙ্গিত আমাকে শিহরিত করে -
"হাছন রাজা গাইতাসে গান হাতে তালি দিয়া,
সাইক্ষাৎে দাঁড়াইয়া শোনে হাছন রাজার পিয়া!"
ইমন ভাই, অসংখ্য ধন্যবাদ সহকারে পোস্টে প্লাস।
** একটি কথা - লালনের গানটির একটি শব্দ নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। আমার জানামতে হবে -
অকালের ফল পাকায় লালন
এ দুঃখের তো শোধ হইল না।
আবার অন্য একটি ভার্শনে পেয়েছি,
অকালের ফল পাকায় লালন
এ দুঃখের দোসর মিলল না।
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৪০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন অকালের ধন হবে না অকালের ফল হবে। তবে আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত লালনসমগ্র-র ৬২০ পৃষ্ঠায় পেয়েছি-
অকালের ফল পাকায় লালন
দেখেশুনে জ্ঞান হল না।
ধন্যবাদ।
১৬|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৩৯
মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন: আমি ব্যক্তিগতভাবে হাসন এবং লালনের ভাব ভক্ত।
আজ বিশেষ দিনে হাসন রাজা সম্পর্কে আপনার তথ্যপূর্ণ পোস্টটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে। লালন হাসন আমাদের কিংবদন্তী, যাদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়েই আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা পায়।
পোস্টে প্লাস!
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৪৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৭|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৪
আশরাফ মাহমুদ মুন্না বলেছেন: ..
হাছন রাজর প্রতি আমার কোন আকর্ষণ বা বিকষণ নেই। তবে তার একটি জীবনী পড়েছিলাম। বইটি বাংলা একাডেমি'র ভাষা শহীদ গ্রন্থমালার অন্তর্ভূক্ত। .......... জীবনী বইটি এ-জন্য পড়েছিলাম যে বইটি আমার এক অতি প্রিয় লেখকের লেখা বলে। আর ঐ প্রিয় লেখকটি হলো - বিশিষ্ট দার্শনিক অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। তিনি ছিলেন হাছন রাজার মেয়ের ঘরের নাতি। শৈশবে তাকে কোলে বসিয়ে অনেক গান রচনা করেছিলেন বলে জনাব আজরফ তার লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেন। তার লিখিত বইটির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় সম্পূর্ণ "নির্মোহ ও নিরাষক্ত" দৃষ্টিভঙ্গি", যেটি ঘনিষ্ট আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বিস্মিত করেছে। পারিবারিক সদস্য হওয়ায় তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন, যা' অন্য অনাত্মীয় জীবনীকার হলে লিখতে পারতেন না। আর জনাব আজরফ নিজে দার্শনিক হওয়ায় নানা হাছন রাজা'র রচনার দার্শনিক খুঁটিনাটিঁ ব্যাপারগুলো সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন।
+++++++++++
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৮|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:৩৮
অনীনদিতা বলেছেন: চমৎকার পোস্ট ! পড়ে খুব ভাল লাগলো ।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৯|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৩৮
নস্টালজিক বলেছেন: হাছন রাজা-কে নিয়ে সুন্দর একটা লেখা পড়লাম!
অনেক ধন্যবাদ!
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
২০|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০০
জুবেরী বলেছেন: [img|http://ciu.somewherein.net/ciu/image/75349/small/?token_id=a80c67a958c3929fb80a90e742f22b5f
নিশা লাগিল রে, নিশা লাগিল রে,
বাঁকা দুই নয়নে নিশা লাগিল রে।
হাসন রাজার পিয়ারীর প্রেমে মজিল রে।।
ছটফট করে হাসন রাজা দেখিয়া চাঁন মুখ
হাসন জানের মুখ দেখিয়া জন্মের গেল দুখ।।
হাসন জানের রূপটা দেখি ফালদি ফালদি উঠে
চিড়া বাড়া হাসন রাজার বুকের মাঝে টুটে।।
না বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো
সোনা বন্ধে আমারে পাগল করিল।
আরে না জানি কি মন্ত্র করি জাদু করিল।।
রূপের ঝলক দেখিয়া তার আমি হইলাম কানা
সেই অবধি লাগল আমার শ্যাম পিরিতির টানা।।
হাসন রাজা হইল পাগল লোকের হইল জানা
নাচে নাচে পালায় পালায় আর গায়ে জানা।।
মুখ চাহিয়া হাসে আমার যত আদি পরী
দেখিয়াছি বন্ধের দুখ ভুলিতে না পারি।।
এগো মইলা, তোমার লাগিয়ে হাছন রাজা বাউলা।
ভাবতে ভাবতে হাছন রাজা হইল এমন আউলা।।
দিনে রাইতে উঠে মনে, প্রেমানলের শওলা।
আর কত সহিব প্রাণে, তুই বন্ধের জ্বালা।।
সোনার রং অঙ্গ আমার, হইয়াছে রে কালা।
অন্তরে বাহিরে আমার জ্বলিয়ে রহিল কয়লা।।
লোকে বলে হাছন রাজা হইল রে আজুলা।
হাতে তলি দিয়া গিল্লা, করেরে কট মুল্লা।।
আজুলা হইয়া হাছন রাজায় বলে আল্লা।
বারে বারে বলে, লাইলাহা ইল্লাল্লা।
নাচে নাচে হাছন রাজা হইয়া ফানা ফিল্লা।।
রঙ্গিয়া রঙ্গে আমি মজিয়াছি রে।
মজিয়াছি রে, আমি ডুবিয়াছি রে।।
আরশি পড়শী যাই চল, যাইমু বন্ধের সনে রে।
কিবা ক্ষণে গিয়াছিলাম সুরমা নদীর গাঙ্গে।
বন্ধে মোরে ভুলাইলো, রঙ্গে আর ঢঙ্গে রে।।
হাটিয়া যাইতে খসিয়া যায় বন্ধে অঙ্গে, অঙ্গে।
ধনকড়ি তোর কিছু চায় না, যৌবন কেবল মাঙ্গে রে।
হাছন রাজায় নাচন করে প্রেমেরি তরঙ্গে।
পাইলে কখন ছাড়িবে না, এই মনে পাঙ্গে রে।।
২১|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০২
লক্ষ্মীপেঁচা বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগলো । লিখেছেনও খুব গুছিয়ে। প্লাস প্লাস প্লাস।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:১৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
২২|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৩:৪৫
হাছন রাধা করিম বলেছেন: ইমন ভাই সামুর উচিত আপনার পোষ্টগুলোয় একের অধিক প্লাস দেওয়ার ব্যবস্হা রাখা।
আমি একজন সিলেটি হয়েও হাছন রাজাকে নিয়ে এরকম পোষ্ট দিতে পারবোনা। যতোই আপনার লেখা পড়ি ততোই আমি বিমোহিত হই আপনার পড়াশোনার পরিধি দেখে। অসম্ভব ভালো লেখা হয়েছে।
তবে একটা ব্যপার আমাকে সবসময় পীড়া দেয় আর তা হলো হাছন রাজা অথবা শাহ আব্দুল করিম অথবা রাধা রমনের গান গুলোর সিলেটি শব্দ পাল্টে বাংলা শব্দে বদলে ফেলা হয় যা অনেক সময় গান গুলোর মধুরতা নষ্ট করে দেয়। এই ব্যাপারটা নিয়ে আপনি একটু সময় করে লিখবেন দয়াকরে।
২৩|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৩:৫৮
হাছন রাধা করিম বলেছেন: @রাজর্ষি রায়: ভাই/বোন আপনি যে গানটা উল্লেখ করেছেন ওটা এরকম: জাইবায়নিরে হাছন রাজা রাজাগন্জ দিয়া, আরে করবায়নিরে হাছন রাজা দেশে দেশে বিয়ারে হাছন রাজা....এখদিন তর অ্ইবোরে মরন।
@সিরাজ সাই: আপনি পুরো গানকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন। ওটা এরকম: হাছন রাজা গাইছে গান আতো তালি দিয়া, সাক্কাতে খাড়াইয়া হুনে হাছন রাজার পিয়া।
২৪|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৯
bikalbela বলেছেন: অনেক সুন্দর হয়েছে।
২৫|
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪৪
মেহবুবা বলেছেন: ঘরসংসার -এমন কী- খোদ অস্তিত্বই যেখানে অর্থহীন, অসার - তাহলে জীবন কেন? কেন ক্ষণিকের এই শূন্য জীবনে এত আনন্দের উপকরণ?
কে দেবে উত্তর ?
এখনো ব্লগে বসলে এই ব্লগারের পোষ্টের কথা সবার আগে মনে আসে , আসে না তার কোন জবাব; আসবেও না আর কোনদিন ।
ভাল থাকবেন যেখানে আছেন সেই কামনা করি ।
২৬|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:২২
সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর
২৭|
১২ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:০৪
নজের সনি বলেছেন: সুফিবাদে বিশ্বাসী ছিলেন হাসন রাজা। তার গানে প্রমান মেলে। লেখকের কিছু কথা মানতে পারছি না। গানে রস থাকবে। তাই বলে ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটবে সেটা ঠিক নয়। এনম হলে তো আমাদের দেশের সব কবির চরিত্র ------? নারী সঙ্গ আর যেৌন বিষয় নিয়ে একজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্লগ লেখার অধিকার কারো নেই। হাসন রাজার গানের গভীরতা বুঝতে হলে সুফিবাদ তত্ব পড়তে হবে। পগলাকনাই, হাসন রাজা, দুদু শাহ, সিরাজ শাহ, আসালত ফকির, পনজু শাহ ও লালনের গানের গভীরতা কয়জন জানে?? তিনারা তো তরিকতের উপর দৃঢ় ছিলেন। কিন্তু আমরা যে যে লাইনে চলি সেই সেই লাইনে নিয়ে যায়।
২৮|
১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:২৭
রমজান আহমেদ সিয়াম বলেছেন: পোষ্টটি পড়ে ভালো লাগলো
২৯|
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩২
মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: এমন পোস্ট যে লেখিলরে
সে কেন নাই আজ এ ধরায় রে
আমি পাই না খুঁজিয়া কোন উত্তর
হায়! ইমন ভাইরে।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:৫৩
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: এই মরমি গিতিকার তার আত্তচেতনার মধ্য দিয়ে হৃদয়ের যে আত্ত সুদ্ধিতার অমর গিতি রচনা করে গেছেন , যুগ যুগ ধরে তা বাঙ্গালী
সংস্কৃতির শ্রীবৃদ্ধি করবে এবং আত্তাধিক চেতনার বিপ্লব ঘটাবে
সব সময়ে সব হৃদয়ে ।
পোষ্টটি লেখার জন্য ধন্যবাদ