নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বায়োবাংলা

বায়োবাংলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান: বাংলাদেশে আমাদের সম্ভাবনা

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:১৪

একবিংশ শতাব্দীকে বলা হয় জীববিজ্ঞানের (Bioscience) যুগ । বিশ্ব ইতিমধ্যে জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology) ও জীন প্রকৌশল (Genetic Engineering) এ প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বাংলাদেশের অবস্থান এ ব্যাপারে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। জৈবপ্রযুক্তিতে গবেষণা বাংলাদেশে গুরুত্ব পেয়েছে খুব সাম্প্রতিক যদিও জীন প্রকৌশলে “বাংলাদেশে এটমিক এনার্জি কমিশন” এর একটি প্রোগ্রাম ছিল সত্তর দশক থেকেই।



বাংলাদেশে বায়োটেকনোলজি বা জেনেটিক টেকনোলজিতে গবেষণায় IPH, ICDDRB,ই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বেশ কিছু গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনও বাংলাদেশে হয়েছে যেমন: BRRIএবং BARI কিছু রোগ প্রতিরোধক শস্য উদ্ভাবন করেছে, BCSIR কিছু ঔষধ ও স্বাস্থ্যকর খাবার উদ্ভাবন করেছে, এছাড়াও রয়েছে মাছের কৃত্রিম প্রজনন, আর্সেনিক পরিশোধন, খাবার স্যালাইন ইত্যাদি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বায়োটেকনোলজি বা জেনেটিক টেকনলজি বাংলাদেশ কখনই ততটা গুরুত্ব পায়নি যতটা এর দরকার ছিল।

এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় শিক্ষক প্রফেসর ও সায়েন্টিস্ট ড. হাসিনা খানের সাথে । বাংলাদেশের এই অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন সরকারের অসচেতনটাকে, এছাড়াও সরকারী গবেষণাগারগুলো আরও গবেষণা উপযোগী করা এবং উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও বিজ্ঞান উপদেষ্টা থাকা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন রশীদ চৌধুরীর মতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন না এবং ব্যাংকগুলো গবেষণা খাতে টাকা দিতে আগ্রহী নয়, তাছাড়া অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে কোন ব্যাংক- বিশ্ববিদ্যালয় লিয়াজোঁ নেই। সুতরাং বাংলাদেশে এখনো গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে উঠেনি।

বাংলাদেশ উৎপাদন শিল্পের জন্য একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। কারণ এ দেশে রয়েছে পর্যাপ্ত কাঁচামাল, কম খরচ অনেক কম তাছাড়া এখানে গবেষণার খরচও অনেক কম, বাংলাদেশে কেন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত তারই প্রেক্ষিতে যুক্তি দেখালেন প্রফেসর মামুন রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশের আমরা গবেষণা করে অতি দ্রুত তার বাণিজ্যিক ফলাফল লাভ করতে পারি, কিছু নমুনা দিলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে: বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের জুস (যা ভারত থেকে আমদানী করা হয়); মিষ্টিকুমড়ার প্রক্রিয়াজাত বীজ (যা থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়); বিভিন্ন ফল যেমন, আম, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লিচু, ইত্যাদির dried food এছাড়াও রয়েছে শাকসবজি থেকে প্রস্তুত উন্নতমানের Healthy Snack । শুধু আলু থেকেই অনেক ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুত করা সম্ভব ।



Waste Management এ বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে, যেখানে বাংলাদেশের এটা দরকার হবে খুব শীঘ্রই। কারণ বাংলাদেশে সীমিত জায়গার মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে অনেক শিল্পকারখানা কিন্তু তাদের বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুবই নিম্ন মানের। ফলে দুষিত হচ্ছে নদীনালা খাল-বিল সর্বোপরি পরিবেশ। ভবিষ্যতের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে খাবার পানি, বাংলাদেশের জন্য এটা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেবে যদি এখনই কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তাই ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার আগেই আমাদের এর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন রিকম্বিনেন্ট ব্যাকটেরিয়া ও উদ্ভিদ ব্যবহার করে বর্জ্য বিশোধন এবং নদীনালার দূষণ রোধ করা সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পূর্নবণায়ন (Reforestation) ও নদীনালার ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব যা গতানুগতিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে সস্তা ও কার্যকর। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্পকারখানার জন্য জৈব শোধনাগার ও দূষণ রোধকারী জৈব ব্যবস্থা (Bioremediation) প্রণয়নে প্রাণ-রসায়নবিদরা ভূমিকা রাখতে পারবে।

কৃষি গবেষণাতেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে অথচ আমরা কৃষি প্রধান দেশ। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগকে বাংলাদেশের কৃষি গবেষণাতে সংশ্লিষ্ট করেই শুধু মাত্র বাংলাদেশের কৃষি গবেষণাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম। ট্রান্সফরমেশন, ট্রান্সফেকশন, Marker Assisted Breeding, Development of Protocolos for Disease Detection এগুলোর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দক্ষতা শুধুমাত্র প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদেরই রয়েছে। অন্যান্য কৃষি গবেষকরাও এই বিষয়গুলিতে দক্ষতা অর্জন করে নিতে পারবেন কিন্তু তা হবে সময়সাপেক্ষ এবং বাংলাদেশের জন্য ব্যয়সাপেক্ষ তো বটেই। কৃষি গবেষণা সমৃদ্ধ করে বাংলাদেশে রোগ মুক্তি সবজি (আলু, টমেটো, শিম, পটল) উচ্চ ফলনশীল ধান, উন্নতমানের পাট, তুলা উৎপাদন করা সম্ভব। আমদানীকারকরা এসব গবেষণা কাজে লাগিয়ে আরও তিন গুন বেশি লাভ করতে পারবেন কারণ তারা নতুন শিল্প গড়ে তুলতে পারবেন এবং দেশে ও বিদেশে রপ্তানি বিক্রি করতে পারবেন।



বাংলাদেশ ঔষধ শিল্পের আরও সম্প্রসারণ হতে পারত যদি তারা গবেষণায় Í একটু এগিয়ে আসত। পেটেন্ট শেষে হয়ে যাওয়া ঔষধ (এন্টিবায়োটিক, ভ্যাক্সিন) এবং অন্যান্য বায়োলজিক্যাল কম্পোনেন্ট (ইনসুলিন, কাইনেজ) নিয়ে গবেষণা করে সেগুলো আও উন্নতমানের করে বাজার জাত করা যেত। ICGEB পেটেন্ট শেষ হয়ে যাওয়া ড্রাগসগুলোর টেকনোলজি পর্যাপ্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দিয়ে থাকে । শুধুমাত্র খাদ্য শিল্পে এবং ফুল শিল্পে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক টেকনোলজি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ড. হাসিনা খান কাজ করছেন বি.টি পাট ও লিগনিন মুক্ত পাট নিয়ে। এদের কাগজ শিল্প ও কাপড় শিল্পে ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। ড. জেবা ইসলাম সেরাজ কাজ করেছেন “Marker Assisted Breeding” নিয়ে, এর মাধ্যমে হাইব্রিড বীজ, রোগমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদন সম্ভব। এভাবে অনেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা যাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশেকে পারে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন- বাংলাদেশে জায়গা কম মানুষ বেশি তাই আমাদের প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের অন্যতম পথ। বাংলাদেশে জৈবজ্বালানী (Biofuel), সবুজ আয় (Green Currency) ও সোনালী ধানের (Golden Rice) মতো প্রযুক্তিগুলোর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ শুধু গবেষণার কথই ভাবছেন না বরং দক্ষতা জনশক্তি রপ্তানি করার কথাও ভাবছে। বায়োইনফরমেটিকস গবেষক গড়ে তোলা সম্ভব, যাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে উন্নত দেশগুলোতে। ড. আনোয়ার হোসেন এর মতে এ দক্ষ Third Party Outsourcing এর মাধ্যমে ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন করতে পারবে। বায়োইনফরমেটিকস এর জগতে বাংলাদেশকে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, দরকার শুধু মাত্র আন্তরিকতার।

বাংলাদেশে এখন অনেক Pathology Lab ও Diagnostic Center রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত Kits বা রাসায়নিক দ্রব্যাদি (Reagents) গুলো বাংলাদেশে প্রস্তুত হয় না। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে খুব অল্প পুঁজিতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির কারখানা, তারা এগুলো



বাংলাদেশেও রপ্তানি করে। প্রাণরসায়ণবিদদের সহায়তা বাংলাদেশও এ ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ কৃষি শিল্পের গতি সঞ্চার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশ, বনায়ন প্রকল্প, নদী ভাঙ্গন রোধ, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের মত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। শুধু তাই নয় জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা যেমন, (ফুল শিল্প, খাদ্য শিল্প, কাগজ শিল্প, পাট শিল্প ইত্যাদি) ছাড়াও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।



এত সম্ভাবনা থাকার পরেও বাংলাদেশ জৈব প্রযুক্তিতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের বিশেষ মনোযোগ আসছেননা কেন সেটাই আশ্চর্য!!

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৩৫

greatgear001 বলেছেন: If someone wants to learn biology can follow my site Jibbiggan. It's a very little initiative to make biology easier to students.

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.