নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Blaster

I don't like politics.

ব্লাসটার

I am a simple man. I like eating, visiting

ব্লাসটার › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিরবতা ভেঙ্গে কিছু বলতে চাইঃ

১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:০৯

সব জায়গায় এখন তরুন প্রজন্ম, প্রজন্ম চত্বর, নবজাগরণ মঞ্চ, ৭১, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার ইত্যাদি নিয়ে খুব আলোচনা হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমি সাধারণত কোন আলোচনায় জড়াই না। কেউ মতামত জানতে চাইলে সাফ বলে দেই আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, ৭১ বুঝি না, ৭১ এর অনেক পরে আমার জন্ম সুতরাং এখন নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কোন সখ আমার নেই, যা দেখিনি তা নিয়ে লাফালাফি করি না। তবে আজ কিছু কথা একেবারে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে চাই। জানি তারপরও আমার কথা যারা মানতে পারবে না তারা আমাকে তাদের বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী বলে ধরে নিবে কিন্তু বাস্তবে আমি কখনই কোন রাজনৈতিক কাজে জড়িত হইনি।

অনেক কিছু নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। আমার কাছে মনে হয় সত্যি কথা কেউই বলে না সবাই তার আবেগকে ব্যবহার করে। মিডিয়ার রহস্যময় আচরন দেখে আমি হতাশ। মিডিয়া স্পষ্টই দ্বীমুখী নীতি অবলম্বন করছে।

প্রথমে কিছু কথা বলি তরুন প্রজন্ম নিয়ে।

তরুন প্রজন্ম শব্দটা ইদানিং জনগন শব্দটার মত ব্যবহার হচ্ছে। জনগনের দোহাই দেওয়াটা রাজনৈতিক দলগুলোর একটা অভ্যাস। যেমন একদল অপর দলকে উদ্দেশ্য করে বলে জনগন আমাদের সাথে আছে যদিও তাদের বিরোধী দলের মানুষগুলোও জনগনের মধ্যে পড়ে। তাহলে জনগন সাথে থাকার মানেটা কি? এর মানে হচ্ছে জনগনের একটা অংশ আমাদের সাথে আছে। জনগন শব্দটা একটা রাজনৈতিক বুলি ছাড়া আর কিছু না, তেমনি তরুন প্রজন্ম শব্দটাও। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নবজাগরন মঞ্চে যারা আন্দোলন করছে তারা বেশীর ভাগই তরুন। মিডিয়াগুলো এই তরুন প্রজন্মকে যে ভাবে ফুলিয়ে ফাপিয়ে প্রচার করছে তাতে মনে হয় সারা দেশের তরুনরা যেন এই নবজাগরন মঞ্চের পক্ষে। কিছু বুদ্ধীজিবীরা সরকারকে বুঝাচ্ছে তরুন প্রজন্মের এই দাবী মানতেই হবে কারন তারা জাতীর ভবিষ্যত। আমার প্রশ্ন- শিবিরের কর্মীগুলোকি তরুন না? মাদ্রাসার যেই ছাত্রগুলো মহানবী (সঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল তারাও কি তরুন প্রজন্মের মধ্যে পড়ে না? তাহলে তরুন প্রজন্মের সংজ্ঞাটা কি? তরুনরা কি এক পক্ষেই নাকি উভয় পক্ষেই?

এবার আসি প্রজন্ম চত্বরে।

৫ই ফেব্রুয়ারী শাহাবাগ মোড়ে ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিটিস্ট ফোরাম নামের অপরিচিত সংগঠনটি ও কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী মিলে যখন এই আন্দোলন শুরু করল তখন আন্দোলনটি মিডিার কল্যাণে সারাদেশে সারা ফেলে এবং দিন দিন লোক সমাগম বৃদ্ধিপায়। কিন্তু এই আন্দোলনটি এক প্রকার আদালত বিরোধী ছিল। কারন তারা আদালতের দেওয়া রায়টি মেনে না নিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কমৃসূচী শুরু করে। আমরা গত কয়েক বছর সরকারের বিরুদ্ধে যত আন্দোলন দেখেছি সব আন্দোলনকে পুলিশ কঠর হাতে দমন করেছে। যেমন শেয়ার বাজার অনবরত ধষের প্রতিবাদে বিনিযোগকারী আন্দোলন করেছে, শিক্ষকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, এমপিও ভুক্তকরনের দাবীতে আন্দোলন করেছে, গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবীতে আন্দলোন করেছে। পুলিশ সবখানেই ছিল মারমুখী। পুলিশ গিয়ে তাদের উপর লাঠিচার্জ কররেছে এমনকি মরিচের গুড়াও স্প্রে করেছে। দুইটা মজার আন্দোলন ছিল এরকম- জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা ভার্সিটি সরকারী সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করে কারন এতে তাদের টিউশন ফি বৃদ্ধি পেত। সরকারের পক্ষে ছাত্রলীগ কর্মীরা গিয়ে সাধারন ছাত্রদের মারধর করে পুলিশের ভূমিকা পালন করে। ঢাকায় এশিয়া কাপ চলাকালে বাংলাদেশ বানাম ভারতের ম্যাচের আগে কিছু দর্শক প্ল্যান করে তারা বিএসএফ কর্তৃক সিমান্ত হত্যার প্রতিবাদে গ্যালারিতে STOP BORDER KILLING লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করবে। কিন্তু এই প্ল্যানটি ফেইসবুকে বিপুলভাবে প্রচার হওয়ায় সরকার বিষয়টি জেনে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। পুলিশ সেই দিনের খেলায় এই ধরনের প্ল্যাকার্ড কাউকেই প্রদর্শন করতে দেয়নি এবং কড়া ভাষা পুলিশ থ্রেট দিয়ে দেয় এরকম কিছু করলে খবর আছে। বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যে কোন আন্দোলনেই সরকার পুলিশ দিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এ দৃশ্য শাহাবাগের বেলায় ব্যতিক্রম। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার সাপোর্ট দিচ্ছে নিরলসভাবে। অথচ এই ইস্যুটাও কিঞ্চিত সরকার ও আদালত বিরোধী কিন্তু দাবীটাতো সরকারের জন্য খুবই উপকারী তাই তারা পুলিশ, আলো, পানি, জায়গা, সি সি ক্যামেরা, মিডিয়া কভারেজ ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করছে।



শাহাবাগের প্রজন্ম চত্বরে এখনও যাইনি। প্রথম দিকে একদিন ইচ্ছে করেছিলাম যাব আর বই মেলায় ঘুরে আসব কিন্তু সেদিন কোন সঙ্গী না পাওয়ায় আর যাওয়া হয়নি পরে আমাকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও আমি আর যাইনি শুধু টিভিতে দেখেছি। আমার বন্ধু, আত্নীয় ও পরিচিতদের মধ্যে যারা গিয়েছে তাদের কাছ থেকে যা শুনলাম তা হচ্ছে- সেখানে যারা আসে তাদের অনেকেই আসে কৌতুহল বসত। অনেক বই মেলার দর্শনাথীরাও আসত এক নজর দেখতে। সেখানে খাবার-পানীয়র কোন তেমন কোন অভাব নেই। সারা দিন থাকলে টাকা পাওয়া যায়। টয়লেটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই টয়লেটগুলোর নামও আবার রাজাকারদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষও ক্লাশ বন্ধরেখে ছাত্র-ছাত্রীদের নবজাগরন মঞ্চে পাঠাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানীগুলো শাহাবাগে টাকা পাঠাচ্ছে খাবার পাঠাচ্ছে। রাতে নাকি শাহাবাগে গাজার গন্ধ পাওয়া যায়। ঢাকা ভর্সিটিতে মধ্যে কয়েকটি কয়েকটি বিখ্যাত মাদক স্পট রয়েছে এটা অনেকেই হয়তো জানেন। ওই স্পটগুলোর একটা শাহাবাগ মোড়ের খুবই কাছে। তাই শাহাবাগের তরুন প্রজন্ম থেক গাজার গন্ধ পাওয়া যাওয়া, ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া যাওয়ার অভিযোগও তাই উড়িয়ে দিচ্ছি না। তরুন প্রজন্মের রাতের বেলার কিছু অশ্লীল ছবি ফেইসবুকে ছড়ানো হয়েছে। আমি ধরে নিচ্ছি এই সব ছবিগুলো সবিই ভুয়া, সবই ফটোশপ দিয়ে এডিটিং করা কিন্তু এইভাবে তরুন ছেলে মেয়েদের দিন-রাত সহ অবস্থান করতে দেওয়াটা কি কোন সচেতন অভিবাবকের উচিত? মিডিয়া ভিতরের এই খবর নিয়ে অনুসন্ধানও করে না! শাহাবাগের সি সি ক্যামেরার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কন্সটেবল খুন হওয়ার ঘটনাটাও মিডিয়াতে তেমন একটা দেখলাম না!

শাহাবাগের আন্দোলনটা যেই সংগঠনের মাধ্যমে শুরু সেটা কোন জনপ্রিয় সংগঠন না। এর নামই আগে কয়জন শুনেছে? একটা নতুন সংগঠনের পক্ষে এত বড় আন্দোলন করাটা কখনও সম্ভব হত না যদি এর পিছনে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা না থাকত। ছাত্রলীগ ও বামপন্থী ছাত্রসংঠনগুলো এই আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই আন্দোলনটাকে একেবারেই নিরপেক্ষ তরুন প্রজন্মের আন্দোলন তা কোনভাবেই বলা যায় না। সরকারবিরোধীদেরও এই ভাবে আন্দোলন করার সুযোগ দিলে তারাও শাহাবাদের মত আন্দোলন করতে পারবে।

এবার কিছু কথাবলি ব্লগ বিষয়ে।

বিভিন্ন ব্লগে ফ্রি একাউন্ট করে যে কেউই ব্লগ লিখতে পারে। ব্লগসাইট গুলো হচ্ছে মুক্ত একটা জায়গা। যে যার মত করে লেখা ও কমেন্ট পোস্ট করতে পারে। ব্লগার নামে বিশেষ কোন শ্রেনী নেই। বিভিন্ন ব্লগ সাইটগুলোতে অনেক নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগার দেখা যায়। যারা সবসময় তাদের লেখার মাথ্যমে ইসলামকে টার্গেট করে। এরা বেশীর ভাগই কোন না কোন ছদ্দ নাম ব্যবহার করে। এরা ধর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে ভাল কথা, এতে আমাদের রাগ হওয়ার কোন কারন নেই কারন অনেক ভাল ব্লগার আছে তাদের ভুয়া যুক্তির সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য। এরা প্রায়ই যুক্তি তর্ক বাদ দিয়ে আল্লাহ ও নবী সর্ম্পকে অশ্লীল কল্পকাহিনি বানিয়ে ব্লগে প্রকাশ করে যা কোন রুচীসম্পন্ন অমুসলিমও মুখে আনতে পারে না। ব্লগ সাইট গুলোতে এরকম অনেক ব্লগার আছে। তারা আবার ফেইস বুকে বিভিন্ন গ্রুপ, পেইজ তৈরী করে তাদের কার্যক্রমে চালায়। এব্যপারে সরকারের তেমন কোন নজরদারী নেই।

শাহাবাগের আন্দোলনের সাথে কোন ধরনের অনলাইন এক্টভিস্টরা জড়িত সে ব্যপারে আমরা সাধারন জনগন কিছুই জানত না। রাজিব হত্যার পর কয়েকটা বিষয় একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল। কারন রাজিব মারা যাওয়ার পরই মিডিয়াতে তার বন্ধুরা অকপটে বলে দিল রাজিব শাহাবাগ আন্দোলনের একজন নিবেদিত কর্মী সে থাবা বাবা নামে বিভিন্ন ব্লগ সাইটে নিয়মিত লিখত, সে নাস্তিক ছিল না তবে জামাত-শিবির তাকে নাস্তিক বলে অভিহিত করত। তারা তাদের পরিচালিত সোনারবাংলা ব্লগে ১১ ই ফেব্রুয়ারী “শাহাবাগ আন্দোলনের পিছনের মানুষগুলো” নামে একটা ধারাবাহিক লেখার ১ম পর্বে থাবা বাবা সম্পর্কে লেখে এরপর ১৫ই ফেব্রুয়ারী রাতে রাজিব মারা সুতরাং রাজিবকে জামাত-শিবিরই হত্যা করেছে। মিডিয়াতে এই খবর শুনার পর থাবা বাবা আসলে কি ধরনের লেখা লেখত তা দেখার জন্য ইন্টারনেটে সার্চ দেই এবং অনেকগুলো লেখা তখন পেয়েও যাই। দুই একটা লেখা পড়ে অন্য লেখাগুলা পড়ার আর রুচি হয় না এবং সবগুলো লেখাইু ছিল ১৫ই ফেব্রুযারী আগে। আমার বুঝা হয়ে যায় থাবা বাবা আসলে একটা ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগার ছিল। এর দুই দিন পর তার লেখাগুলো ব্লগ গুলো মুছে দেওয়া হয় তাকে বিতর্কের উর্ধে রাখার জন্য। ব্লগে তার লেখাগুলো কয়েকটি পত্রিকা লিংকসহ হুবহু পত্রিকায় হুবহু তুলে ধরে এবং সারা দেশে এই নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। আমার দেশ পত্রিকা ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এই খবর ছাপিয়ে ব্যপক রোশানলে পরে। মাহমুদুর রহমান তখন চ্যালেঞ্জ করে এই সব লেখা রাজিবেরই, থাবা বাবা নাম দিয়ে সে নিজেই লিখেছিল অন্য কেউ না। এ ব্যপারে তার কাছে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট আছে। তথ্যমন্ত্রী কে মাহমুদুর রহমান চ্যালেঞ্জ গ্রহনে তার অফিসে আসতে বলেছে। রাজিব আর থাবা বাবা একই ব্যক্তি কিনা এই ব্যপারে একটা সন্দেহ হয়েছিল কিন্তু সেই সেটাও সহজে দুর হয়ে যায় রাজিবের বন্ধু ও শুভাকাংখিদের কথা শুনলে এবং বাংলায় নাস্তিকদের আস্তানা ধর্মকারী ওয়েব সাইটে ১৬ই ফেব্রুয়ারী এই পোস্ট দেওয়া হয় “থাবা বাবা (আহমদে হায়দার রাজিব) হত্যায় আমরা শোকাহত-ধর্মকারী পরিবার”। ধর্মকারী ওয়েব সাইটেও থাবা বাবাকে আহমদে হায়দার রাজিব নামে বলা হল। আর রাজিব ধর্মকারী পরিবারের সদস্য ছিল, এই সাইটে থাবা বাবার অনেক লেখা ছিল। কিন্তু তার পরও দেখছি সব মিডিয়াই তাকে হিরো বানাচ্ছে। ওই মিডিযাগুলো বলছে এই সব লেখা রাজিবের না এগুলো তার মৃত্যুর দুই দিন পর তৈরী করা হয়েছে!!! যেই দুই একটি পত্রিকা রাজিবের জীবনের শেষ ফেইসবুক স্ট্যাটাস ছাপাতে পারলো যাতে রাজিব জামাত-শিবির পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করতে বলেছিল তারা কি পারলো না ঠিক একি এক্যাউন্টের কয়েক মাস আগে রাজিবের লেখা আল্লাহ ও নবীকে ব্যঙ্গ করা একটা স্ট্যাটাস ছাপিয়ে দিতে? ওই সব স্ট্যাটাস কি তাদের চোখে পড়েনি নাকি তারা ইচ্ছা করেই ছাপায়নি? সত্য উদঘাটনে মিডিয়ার দ্বীমুখী নীতি একেবারেই স্পষ্ট। অসংখ্য নাস্তিক ব্লগার অনলাইনে একটিভ আবার তারাই যুদ্ধ অপরাধীদের ফাসীর দাবীতে শাহাবাগেও একটিভ! মিডিয়া এসব খবরই অনুসন্ধান করে উদ্ঘাটন করতে পারত। আগে কালেরকন্ঠ পত্রিকাকে দেখতাম মহানবীকে অবমানোনা করে আলপিন ম্যাগাজিনে কার্টুন ছাপানোর দায়ে প্রথম আলো পত্রিকার সমালোচনা করত। এখন কোথায় গেল তাদের ধর্মীয় অনুভুতি? নাস্তিক ভয়ংকর ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগার চক্র অনলাইনে বিদ্যমান আবার তারাই শাহাবাগের আন্দোলনের নেপথ্যে এ ব্যপারে কারো কোন খোজ খবর নেই!!বরং তাদের বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শাহাবাগের নাস্তিক ব্লগার নেতারা এখন তাদের রহস্য ফাস হবার ভয়ে এখন পাকা মুসলমান সাজার অভিনয় করছে। পারলে ওরা ওদের ব্লগে লেখা ইসলাম বিদ্বেষী কথা গুলো মঞ্চ থেকে একবার পড়ে শুনাক! সাধারন মানুষ না শাহাবাগের মানুষেরাই ওদের পিটিয়ে ভর্তা বানিয়ে ফেলবে। সরকার যেমন ছাত্রলীগকে লাই দিয়ে ক্যানসার বানিয়ে ফেলেছে তেমনি নবজাগরন মঞ্চও অলরেডী তাদের জন্য ক্যানসার হয়ে গিয়েছে।

যারা এতকাল অনলাইনে ইসলামকে গালীগালাজ করত, অশ্লীল চটি গল্প লেখত তারা আজ মঞ্চ পেয়ে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে!!

শাহাবাগতো একটা স্বাধীন সরকার হয়ে গিয়েছে! কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে রাজাকার তার সার্টিফিকেট দিচ্ছে, কবে কখন স্কুলগুলোতে জাতিয় সংগীত গাইতে হবে, কোন পত্রিকা বন্ধ হবে, কাকে গ্রেফতার করতে নির্দেশনা দিচ্ছে, জনতার আদালতের নামে তারাই বিচারের রায় বলে দিচ্ছে। সরকারতো মনে হয় কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী, অভিনতো-অভিনেত্রী, চারুকলা-নাট্যকলার ছাত্র-ছাত্রী আর বাম সংগঠনগুলোর লোকের লাফালাফী দেখে ভুলেই গেছে এটা এক-দেড় লাখ লোকের দেশ না এটা ১৫ কোটি মানুষের দেশ। প্রথম দিকে সাধারন মানুষ এদের দ্বারা বিভ্রান্ত হলেও মানুষ আস্তে আস্তে এই এক চোখা মানুষ গুলোর কাছ থেকে ফিরে আসছে। সাধারন মানুষের বোঝা হয়ে গেছে এই মানুষ গুলো উপরে যাই বলুক ভিতর ভিতর এরা ইসলাম সর্ম্পকে একটা নোংরা মানসিকতা রাখে। আজ দাড়ী-টুপি ওয়ালা, বোরখা পরা, আলেম শ্রেনীর মানুষ দেখলেই, ইসলামিক কালচার দখলেই এই সব লোকের গা জ্বলে উঠে। আমরা শাহাবাগের একটা ছবিতে দেখেছি পাঞ্জাবী পরে, মাথায় টুপি দিয়ে, মুখে সাদা রং মেখে কান ধরে একটা যুবক রাজাকারের ক্যারেক্টারে দাড়িয়ে আছে আর পিছন থেকে একটা ছোট বালিকা হাস্যজ্জল মুখে অনবরত মাথায় জুতাপেটা করছে। এই ছবিটা থেকেই তাদের মানসিকতা উপলব্ধি করা যায়।

এবার কিছু কথা বলি রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে।

বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলটা আছে সহিংসতা করেনি? হরতাল দেয়নি? ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেনি? সহিংসতাই যেন এই উপমহাদেশের রাজনীতি কিন্তু মিডিয়াতে বেশী দেখানো হচ্ছে জামাত-শিবিরেরটাই। আমার মনে হয় জরিপ করলে দেখা যাবে ছাত্রলীগের সহিংসতার পরিমান যে কোন দলের চাইতে বেশী। এদের ভয়ে ইউনিভার্সিটির হলের ছাত্ররা এখন নামাজ পরা ছেড়ে দিয়েছে কারন কেউ নামাজ পরলে এরা শিবির সন্দেহ করে।

এবার কিছু কথা বলি যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গে।

যুদ্ধ অপরাধির বিচার করতে তো সরকার এক পায়ে খাড়া। কেউ যুদ্ধের সময় অন্যায় করে থাকলে শাস্তি পাক তাতে সমস্যা নেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পর বিচার করাটা আসলেই অনেক জটিল। এই সরকার যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তখনতো যুদ্ধ অপরাধির বিচার প্রসঙ্গে কিছুই বলল না বরং জাহানারা ইমাম যুদ্ধ অপরাধীর বিচার চাইলে তাকে উল্টা বদ নজরে দেখেছে। তখন আজ থেকে ১৭ বছর আগে তখন বিচার করা কিছুটা হলেও সহজ হত। তাছাড়াও ১৯৯১ সালে তারা জামাতের সাথে কিছু দিন আতাতও করেছিল তাই তাদের কর্মকান্ড দেখে সন্দেহ হচ্ছে তারা কি আসলে দেশপ্রেম থেকেই বিচার চাইছে নাকি রাজনৈতিক প্রতিদন্দীদের কোনঠাসা করতেই বিচার চাইছে।

সবশেষে আর কয়েকটা কথা বলি

সরকার পুলিশকে কেন এতটা মারমুখী আচরন করাচ্ছে আমার বুঝে আসছে না এই সরকারেরও হয়তো কোন দিন বিরোধী দল হওয়া লাগবে তখন তারা পুলিশকে কি বলবে তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। রাজিবকে হত্যাকারী টিমটাকে পুলিশ অলরেডি গ্রেফতার করেছে যদিও তারা শিবির কর্মী বলে এখনও কোন প্রমান পাওয়া যায়নি তবুও প্রধানমন্ত্রী যহেতেু বলেছেন শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হবে কারন তারা সন্ত্রাসে বিশ্বাসী। তাহলে বিশ্বজিৎ হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে কারন তারাও সন্ত্রাসে বিশ্বাসী। শুধু তাই নয় শিক্ষাঙ্গন থেকেই ছাত্র রাজনীতি বিদায় করতে হবে (জানি তা তারা কোন দিনই করবে না কারন এতে তাদের ক্যাডার কমে যাবে মিটিং-মিছিল করার লোক থাকবে না, মারামারি করারও লোক থাকবে না) একটি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগার চক্র এভাবে পার পেয়ে যাবে তা কোন ভাবেই মানা যায় না সফিউর রহমান ফারাবিকে যদি ফেইসবুকে রাজিবের জানাজা নামাজ পরানো ইমামকে হত্যার হুমকি দিয়ে এক কমেন্ট লেখার জন্য গ্রেফতার হতে পারে তাহলে নাস্তিক ব্লগার চক্রকে কি ধরা সম্ভব না? অবশ্যই সম্ভব শুধু সৎ ইচ্ছার দরকার।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৩২

বাংলার হাসান বলেছেন: সারা দিন থাকলে টাকা পাওয়া যায়। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত কোন টাকা পাই নাই।

পারলে কিছু দিয়ে যাবনে।

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০২

ব্লাসটার বলেছেন: কি বলেন ভাই! কোন টাকা পান নাই!? খিচুরীতো পাইছেন? নাকি সেইটাও পান নাই?

২| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৩৩

দায়িত্ববান নাগরিক বলেছেন: Ar bolar dorkar nai... Tomare chinsi... Tumi chagu.

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০০

ব্লাসটার বলেছেন: আমারও আর বলার দরকার নাই তুমি কোন প্রকারের দায়িত্ববান নাগরিক চিনছি।

৩| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৩৬

মীরকাদিম বলেছেন: ভাই, শাহবাগীদের ভাষায় আপনি রাজাকার হইয়া গেছেন। কিছু কথা আপনি বাদ দিয়েছেন। শাহবাগী যুবক-যুবতীদের সেবায় পাসের বড় উঁচু দালান কোঠার হাসপাতালটির বেড, কেবিন আর বাথরুম উৎসর্গ।
আপনি ভাই একেবারে সেকেলে। আমাদের এক নারী নেত্রী (কপালে বড় টিপ, নামটা মনে নেই) টিভি টকশোতে শাহবাগে যুবক যুবতীদের সহঅবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি দেখেছেন, ওরা নাকি খুবই পুলকিত বোধ করে সেখানে।

৪| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৪৩

মোহাম্মদ মজিবর রহমান বলেছেন: স্পস্ট কথা।কারো বুঝতে কি কোন সমস্যা আছে?

৫| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৪৮

গেস্টাপো বলেছেন: পোস্ট রিমুভ কর শালা ছাগুর বাচ্চা X(( X((

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৫৫

ব্লাসটার বলেছেন: মুরগীর মত মানসিকতা তো তাই মতের অমিল হলেই কক কক।

৬| ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:০৬

আন্দোলন বলেছেন:
ভাই জা লিখছেন সব ই তো আজাইরা শোনা কথা, এতো জখন দুশচিনটা কষ্ট কইরা ২ দিন জাইতেন শাহাবাগ, দেখতেন টেকা পান কিনা, রাত হইলে ছেলে মেয়েরা কি করে, গাজা পাওয়া জায় কিনা।

না দেইখা গল্প লেখা জায়, আন্দলোন নিয়া না।
লিকতে মন চাইলে শোনা কোথা দিয়া রাজা রানির গল্প লিখেন মিয়া।

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৫৩

ব্লাসটার বলেছেন: ভাই আমিতো আগেই বলেছি আমি স্বচোক্ষে শাহাবাগে টাকা দেওয়া বা গাজা খাওয়ার দৃশ্য দেখিনি। আমি কেবল শুনেছি আর সন্দেহ করছি। যারা ওইখানে যায় তাদের মাঝে অনেকেই এই ধরনের কথা আমাকে বলেছে।

৭| ১৭ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০৪

ব্লাসটার বলেছেন: আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে আমার কিছু করার নাই। আমি শুধু বাস্তবতাটা তুলে ধরতে চেয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.