নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি করতে ভালবাসি।

শেখ শাকিল হোসেন

লেখালেখি করতে ভালবাসি।

শেখ শাকিল হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অ্যা মোটিভেশান সিকার অ্যাট ঢাকা ইউনিভার্সিটি

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৫


শেষবেলায় প্রিপারেশনে এখন পুরো ভাটা। তাই, স্বপ্নের ক্যাম্পাসে গেছি একটু মোটিভেশান খুঁজতে। শাহবাগ মোড় থেকে কলাভবনের দিকে যাচ্ছি কলেজের ঢাবিয়ান বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। ভাই খুব খোলা মনের,এক্কেরে দিলদরিয়া যারে বলে! দেখা হলো...

- ভাই আমার মোটিভেশান দরকার।
- আরে বেটা,এই ক্যাম্পাসের কোণায় কোণায় তুমি মোটিভেশান পাবা।

যাহোক,মোটিভেশান খুঁজতে বের হলাম। রাজু ভাস্কর্যের সামনে চলে এলাম...

- এটা হলো ঢাবির স্টুডেন্টদের আন্দোলনের কেন্দ্র। টিভি'তে প্রায় এখানে আমরণ অনশনের চিত্র দেখতে পাবা।
- আরে ভাই,জীবনটা অনেক দামী। এখান থেকে মোটিভেশান পাবার কিছুই নেই। পড়তে চাই,মরতে না।

আরেকটু এগিয়ে গেলাম। টিএসসির ভিতরে ঢুকে গেলাম। জায়গাটাতে সবার প্রবেশাধিকার আছে কিনা জানিনা। তবে,কেউ আটকালো না...

- এটা হলো টিএসসি,ঢাবির প্রাণ। এই যে দেখছো কতো সুন্দর পরিবেশ। কতো সুন্দর গ্রুপিং করে স্টুডেন্টরা আড্ডা দিচ্ছে। এই যে দেখো, কত্ত বড় ক্যাফেটোরিয়া,চা-সমুচা-চপ-সিঙ্গাড়ার প্যাকেজ মাত্র ১০ টাকা!

- ভাই,মোটিভেশান পেলাম না। তবে,খাওয়াতে পারেন,আপত্তি নেই।

টিএসসি থেকে বেরিয়ে রোকেয়া হলের সামনে এসেছি...

- এই যে কত্ত সুন্দর গেট দেখছো না? এটা হলো রোকেয়া হল,মেয়েদের প্রথম আবাসিক হল।

- হ্যাঁ,সে তো দেখতেই পাচ্ছি। বাট,এখানে মোটিভেশান নেবার কী আছে?

- আরে বেটা,বছরের বিশেষ দিনে ছেলেদেরও ঢুকতে দেয়। সেইদিন তো ঢাবিতে অঘোষিত ঈদ হয়রে পাগলা!

- মানে বাকি ৩৬৪ দিন ঢুকতে দিবে না!! না ভাই,মোটিভেশান পেলাম না।

হাঁটতে হাঁটতে এবার ডাকসু'র সামনে চলে এলাম...

- ডাকসুর নামতো শুনবে?

- হ্যাঁ ভাই,অবশ্যই।

- ডাকসু এখন জীবন পেয়েছে। ডাকসুর ইতিহাস তোমাকে উৎসাহ দিবে।

- না ভাই,ডাকসু এখন আমাকে টানে না। এর কারণ হয়তো অতীতের সাথে বর্তমানের তফাৎ। এ পার্থক্য শুধু সময়ের না,গতিবিধিরও।

- ঐ যে মধুর ক্যান্টিন,যাবা?

- না ভাই,বাড়ি যাবো।

হাকিম চত্বর দিয়ে বের হবার সময় গাছে উনার ছবি ঝুলানো দেখে উনি কে ছিলেন সেটা জানার আগ্রহ হলো...

- ভাই,হাকিম সাহেব কে ছিলেন?
- ঠিক জানি না, ভাই।

কোনোকিছুতে মোটিভেশান না পেয়ে আমি খুবই আশাহত...

- ভাই,বাড়ি যাবো।
- আরে, আমার হল থেকে ঘুরে তারপর যেও।

রাজি হয়ে গেলাম। যদি একটু মোটিভেশান পাই! হাকিম চত্বর থেকে হাঁটতে হাঁটতে ভাইয়ের হলে গেলাম। আশেপাশে হরদম মোটিভেশান খুঁজতেছি...

- চলো,তোমাকে গণরুম থেকে ঘুরিয়ে আনি।

গণরুমে গিয়ে দেখি,ওমা এক রুমে এতো মানুষ!! একজনের ঘাড়ে আরেকজন,অবস্থাটা এরকম।

ভাইয়ের দিকে পিটপিট করে তাকাচ্ছি...

- দেখেছো কতো সংগ্রাম করছে ছেলেগুলো?
- ভাই,মোটিভেশান নিতে এসেছি!!

পুরো হল আমাকে ঘুরিয়ে দেখালো। তারপর আমাকে টিভি রুমে অপেক্ষা করতে বলে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেলো।

কয়েকজন দেখলাম টিভি দেখছে,মাথার উপরে ফ্যান ঘুরছে। টিভির স্ক্রিনে তাকাকেই দেখলাম কী সব দেখছে!!! মনে মনে আমি খুব খুশি। হুররে,মোটিভেশান পেয়ে গেছি।

ভাই ফিরে আসলো...
- ভাই আমি মোটিভেশান পেয়ে গেছি!
- কিভাবে?
- টিভি রুম!
- তুমি তো লিজেন্ড!
অতঃপর,এক বুক মোটিভেশান নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। প্রিপারেশনে এখন জোয়ার তুলতে হবে।
- Shakil Hosen

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৯

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আহা মোটিভেশেন ;)

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৮

শেখ শাকিল হোসেন বলেছেন:

২| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: মোটিবেশান আপনার কাছেই আছে। খুঁজে নিন।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪০

শেখ শাকিল হোসেন বলেছেন: এটাই বোঝাতে চেয়েছি,ভাইয়া।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.