নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি? প্রচুর মুভি দেখি, পজিটিভ ক্যারেক্টারকে সাপোর্ট করি, ভূল করলে স্বীকার করি, তথ্য জানতে ভালবাসি, সবকিছুতেই ইন্টারেস্ট আছে, নিউট্রাল ওপিনিওন দেই। কিন্তু ৯৯% চান্স আপনি আমার লজিকে অফেন্ডেড হবেন!

BM Khalid Hasan

পৃথিবীটা সার্ভাইবারদের জন্য, তাই বুলিং ও হিউমিলিয়েশন ওভারকাম করলাম। গ্রাজুয়েশন করে ক্রিয়েটিভ রাইটার, ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর-সিনেমাটোগ্রাফার এবং শো উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছি। পারকৌর ও ফাইট করা হবি।

BM Khalid Hasan › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘অ্যানিম্যাল’ মুভিকে কেন ক্রিটিক ও মুভি লাভাররা পছন্দ করেনি?

২৪ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৫৩



একটা মুভিতে হিরো ভালো রোমান্স করে, ডান্স করে, মানুষকে হেল্প করে, গুন্ডাদের সাথে ফাইট করে, কিন্তু একটা স্কুলপড়ুয়া ছেলে এতকিছু রেখে হিরোর স্টাইলে সিগারেট জ্বালিয়ে ফ্যাশন দেয়। কারণ অন্য কাজগুলোর থেকে এটা সহজ! ঠিক এইভাবে এন্টিহিরোকে দেখে সহজে রাগ, ক্রোধ, প্রতিশোধ চর্চার মাধ্যমে ইয়ং জেনারেশন আইন ভাঙতে ইনফ্লুয়েন্সড হবে বলে অ্যানিম্যাল মুভিকে ক্রিটিক ও সামাজিক চিন্তাকারীরা এক্সেপ্ট করতে চায়নি ।

সিনেমাকে এত সিরিয়াসলি নেবার কি আছে?

আপনি বলতে পারেন হলিউডের অনেক মুভি-সিরিজেই তো লীড রোল ভায়োলেন্স দেখায়, তাহলে অ্যানিম্যালের সমস্যা কি? সিনেমা তো বিনোদন! স্কুল কলেজ থাকতে এখন সিনেমা দেখে লেসন নেওয়া লাগবে? আমরা কি হরর/স্ল্যাশার মুভি দেখিনা? তাহলে কেন অ্যানিম্যাল নিয়ে হিপোক্রেসি করছি? আসলে সিনেমা দেখে শিক্ষা নেবার এরকম কোনো বাঁধাধরা নিয়ম কেউ করেনি। তবে খেয়াল করলে দেখবেন, জনরা অনুযায়ী রাইটার-ডিরেক্টররা ক্যারেক্টারদের মাঝে একটা কোড বা এথিক্স বজায় রাখে।

এর কারণ সৃষ্টির শুরু থেকে সাহিত্য ও সিনেমার একটা উদ্দেশ্য ছিল। তা হলো পাঠক ও দর্শকদের গুড মেসেজ দেওয়া। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি প্রসার হবার পর সকল ধরনের মানুষকে আকর্ষণ করতে কমার্শিয়াল এলিমেন্ট ও এন্টারটেইনমেন্ট ঢুকানো হয়েছে। কিন্তু দেখবেন ঘুরে ফিরে বেশিরভাগ সিনেমাতেই মূল চরিত্র দিয়ে অন্যায় ও অপরাধ দমন করা দেখানো হয়। মূল চরিত্রের একটা বাউন্ডারি থাকে। চাইলেই টাকার জোরে যেকোনো প্লেসে গিয়ে যাকে তাকে খুন করা যায় দেখালে ওই বাউন্ডারিটা থাকেনা।

‘অ্যানিম্যাল’-এর আসল সমস্যা কোথায় ছিলো?

অ্যানিম্যালের সমস্যা ছিল ‘পোয়েটিক জাস্টিসে’-এর মোটিফ তৈরিতে। হলিউডের ভায়োলেন্ট মুভি-সিরিজে হিরো, ভিলেন বা এন্টিহিরো অনেক খুন করতে পারে। কিন্তু শেষে এমোশোনাল সাপোর্টের মাধ্যমে তাদের পারপাজকে জাস্টিফাই করেনা। রাইটাররা তাদের ন্যারেশন দিয়েই কোনো একটা পার্টে বুঝিয়ে দেয় তারা ভূল ছিল। প্রতিশোধের স্পৃহা তাদের হারানো জিনিস ফিরিয়ে আনেনি। তারা একসময় সব ভায়োলেন্স বাদ দিয়ে দেয় বা বাদ দিতে না পারলে নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে দেয়। আগের চেয়ে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠে না।

অনেক সময় এন্টিহিরো সমাজের ভাল চাইতে পারে। কিন্তু তার ‘ওয়ে অব অপারেশন’ ঠিক ফেয়ার হয়না বলে তাকে সাপোর্ট করা হয়না। যেমনঃ এভেঞ্জার্সের এন্টিহিরো থানোস ইউনিভার্সকে টিকিয়ে রাখতে অর্ধেক মানুষ ভ্যানিশ করতে চেয়েছিল। তার পারপাজ ভালো ছিল। তাইনা? কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সাপোর্ট করেছে মুভির হিরোদের। কারণ তারা মানুষদের জীবন নষ্ট না করে সলুশন চেয়েছে। তারা নিজেদের জীবন স্যাক্রিফাইস করে অন্যদের বাঁচিয়েছে। রাইটাররা অনেক কিছু ভেবেই তাদের ক্যারেক্টার এভাবে ডিজাইন করেছে।

প্রকৃত সিনেমা ও সাহিত্য কেমন হয়?

সিনেমা বা সাহিত্যের মেইন পারপাজ হলো নিজের ভূলের রিয়েলাইজেশন এনে ভালো কাজে উৎসাহিত করা। এখানে প্রটাগনিস্ট নিজে একটা ভূল করে। এরপর তার খারাপ কনসিকোয়েন্স আসার পর স্ট্রং হয়ে প্রবলেম ফিক্স করে। বড় রাইটার ও ডিরেক্টররা সবসময় হিরোর মাঝে গুডউইল দিয়ে তাকে উইন করায় । এর কারণ তারা চায় যারা প্রটাগনিস্টের সিচুয়েশনের সাথে নিজের মিল পাবে, তারা যেন কন্ট্রোলের বাইরে না যায়।

আপনাদের হয়তো মনে আছে জোকার মুভি রিলিজের পর আমেরিকার কিছু জায়গাতে জরুরি অবস্থা জারি করা লেগেছিল। কারণ মানুষ আবেগি, তাই স্টোরিটেলিংয়ে এমোশোনাল সাপোর্ট পেলে খুব সহজেই হিরো, এন্টিহিরো বা ভিলেনের চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে যায়। মজার বিষয় হলো, আমার আশেপাশের সবচেয়ে বদরাগী, ওভার এক্সাইটেড ও ডমিনেটিং মানুষেরাই অ্যানিম্যাল মুভি পছন্দ করেছে দেখলাম! তারা জাস্ট মজার জন্য দেখে ভূলে গিয়েছে নাকি দেখে নিজের জন্য আরো মোটিভেশন নিয়েছে কেউই জানেনা!

‘অ্যানিম্যাল’-এর ডিরেক্টরকে নিয়ে কি বলবো?

এনিমালের ডিরেক্টর সন্দ্বীপ রেড্ডি ভাঙা, যার আরেকটা ভায়োলেন্ট সিনেমা অর্জুন রেড্ডি! নামের মিল দেখে মনে হচ্ছে নিজেকেই পোর্ট্রে করার চেষ্টা করছে! জোকস অ্যাপার্ট, সামনে তার আরো অনেক ভায়োলেন্ট মুভি আসছে। লোকটা বুঝে গেসে তার অনেক দর্শক আছে। বিশেষ করে সমাজের একটা তরুণ শ্রেণী গঠনমূলক ভাবে না। জাস্ট নিজের জীবন উপভোগ করে, মুভিতে তারা অ্যাকশন, ভিএফএক্স এগুলোই দেখে মজা পায়। তারা গল্পের ডিপে প্রবেশ করেনা। অ্যানিম্যালের মত মুভি তাদের বোরিং লাইফে ভিন্নতার ছোঁয়া দেয়। তাই ডিরেক্টর অবশ্যই ব্লকবাস্টার সব মুভি নিয়ে আসবে।

For Any Consultation
BM Khalid Hasan
Creative Writer | Director | Presenter
Mail: [email protected]

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৩:৪৭

শূন্য সারমর্ম বলেছেন:


এনিম্যাল নামটা রাখা হয়েছে বনের পশুদের মুভিটা দেখার জন্য।

২৪ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৪:১৩

BM Khalid Hasan বলেছেন: অনেকের ধারণা মুভির নাম ‘অ্যানিম্যাল’ তাই অ্যানিম্যালের মত হিংস্রতা ছিলো, মুভিতে কোনো সমস্যা নেই! মুভির নাম ‘সেইন্ট’ রেখে তারা হিংস্রতা দেখালে বিতর্ক করা যেত!

২| ২৪ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৩:৫৪

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: সময়ে পেলে দেখবো।

২৪ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৪:১৫

BM Khalid Hasan বলেছেন: হ্যা, শিওর। চিন্তাকারীদের সবধরনের মুভি নিজে দেখা উচিৎ। রিসেন্টলি একটা গ্রুপে ছিলাম, সেখানে থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল গল্প দিলে অনেকে অফেন্ডেড হতো! দেখা উচিৎ সবকিছু, এরপর সেটা ভালো না খারাপ ডিসাইড করা নিজের উপর।

৩| ২৪ শে মার্চ, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫১

নতুন বলেছেন: ‘অ্যানিম্যাল’ মুভিকে কেন ক্রিটিক ও মুভি লাভাররা পছন্দ করেনি?


মুভি লাভারদের পছন্দ করার মতন কিছুই এই মুভিতে ছিলো না।

যারা WWF রেসরিলএর মতন মারামারী কাটাকাটি পছন্দ করে তাদের এই মুভি ভালো লাগবে...

২৫ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ৯:১৪

BM Khalid Hasan বলেছেন: এই মুভি নাকি বিশাল বিজনেস করেছে! জীবনে হাজার হাজার মুভি দেখার পরও মানুষের শুধু মারামারি কাটাকাটি দেখে বোরিং লাগেনা কেন ভেবে অবাক হই! এদিকে আমাদের রেগুলার মুভি দর্শকদের অ্যাকশন সিন টেনে ড্রামাটিক পার্ট দেখতে ভাল লাগে।

৪| ২৪ শে মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:১৪

নিমো বলেছেন: ভারতীয় সমাজে উদারনৈতিকতা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, এই সব অ্যানিম্যাল চলচ্চিত্র নামক আবর্জনাই তার প্রমান

২৫ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ৯:২০

BM Khalid Hasan বলেছেন: ২০২৪ সালে এসেও এতটা আক্রমণাত্মক ও রেসিস্ট সোসাইটি দেখে বেশ অবাক লেগেছে। অথচ এই ভারতীয়দের একটা অংশ চন্দ্রজয় করছে, পৃথিবীব্যাপী বড় আইটি কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে! ভূল মেসেজের সিনেমা, ভূল সামাজিক কর্মকান্ড দিয়ে মানুষের ডাউনফল কিভাবে হয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে যাবে এরা।

৫| ২৫ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: মুভিটা দেখি নাই। দেখার ইচ্ছাও নাই।

২৫ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৪৭

BM Khalid Hasan বলেছেন: অনেস্টলি সময় বেঁচে যাবে আপনার। গল্পে নতুনত্ব নেই, জাস্ট ম্যাসিভ মার্ডার আর ওভারহাইপড অ্যাকশন।

৬| ২৫ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:০১

রানার ব্লগ বলেছেন: এ্যানিমেল কোন সুস্থ্য মুভী না ।

২৫ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:১২

BM Khalid Hasan বলেছেন: একটা সময় ছিল অনেক ভেবে চিন্তে মানুষ ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে যেত, লার্নিং জার্নি টা বড় ছিল তাই দিনশেষে ভাল মন্দের তফাত করে ভাল কনটেন্ট তৈরি দিতো। এখন যেকেউ ইচ্ছেমত বড় কনটেন্ট বানিয়ে ফেলে, আবার বিজনেস করতে মুভিতে খারাপ এলিমেন্টস রেখে কম ডেভেলপড মাইন্ডসেটের দর্শকদের ইমপ্রেস করে। এতে দর্শক অসুস্থ থেকে অসুস্থতর হতে থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.