| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন ফারসি কবি বলেছিলেন, দুরাচার স্ত্রী স্বামীকে ভিখারী করে রাখে, পূণ্যবতী স্ত্রী বানিয়ে রাখে বাদশাহ। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেও ঘটেছিল এরূপ। তিনি মুসলিম সাইয়্যিদ বংশের নারীকে ছেড়ে বিয়ে করেছিলেন এক হিন্দু নারীকে, যাকে বিয়ে দেয়ার জন্য মেয়েটির পরিবারকেও তৎকালীন হিন্দুসমাজে তিরস্কৃত হতে হয়েছিল।
কিন্তু কবি ছিলেন আবার তার খান্ডার শ্বাশুড়ী আর স্ত্রী নিকট নিতান্ত অসহায়। তাকে বাড়িতে জল এবং ভগবান বলতে হতো, বাইরে প্রাণ খুলে বলতে পারতেন ‘আল্লাহ’ এবং ‘পানি’। কবি ইসলামের জন্য গজল লিখবেন, এটার প্রচণ্ড বিরোধিতা করত কবির শ্বাশুড়ী। নানা নির্মম পরিহাসের মাঝেও কবি ইসলামের জন্য লিখে যেতেন, কবির স্ত্রী ও শ্বাশুড়ী এতই জালেম ছিল যে তাদের সামনে তিনি তার দুই ছেলের খতনার কথাও তুলতে পারতেন না। শুধু তাই নয়, যে হিন্দুসমাজ নজরুলের স্ত্রীর পরিবারকে তিরস্কৃত করেছিল তাদেরকেই নজরুলের শ্বাশুড়ী ঘরে এনে ধুমধাম করে খাওয়ার আয়োজন করত।
মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করেছে’ এই অভিযোগে যারা কবির স্ত্রী ও শ্বশুর পরিবারকে দূর দূর বলে তাড়িয়ে দিয়েছিল, কবির নাম যশ প্রচার হলে এরাই আবার দলে দলে এসে কবির বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে থাকতো, খেতো, আমোদ ফূর্তিতে মত্ত থাকতো।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা উল্লেখ করা যায়,
সাহিত্যিক কাজী আব্দুল মান্নান মীর মশাররফ হোসেন লিখিত গল্পগ্রন্থে’র মুখবন্ধে লিখেছেন, মশাররফ হোসেন তার ‘আমার জীবনী’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘১৩০৫ সালে বস্তানী প্রকাশ হয়েছে।’ তিনি বস্তানীর ৪টি নথি ১৩১৫ সালে প্রকাশিত ‘আমার জীবনী’ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন। এর কারণ তিনি বলেছেন, আমার জীবনীর সাথে গাজী মিয়ার বস্তানীর শেষ অংশে বিশেষ সংশ্রব আছে বলে জীবনীর সঙ্গেই প্রকাশ হবে।
বস্তানীর মধ্যে মশাররফ হোসেনের অসাম্প্রদায়িক চিত্ত বিচলিত হয়েছে। তার অভিজ্ঞতার দ্বারা তিনি দেখেছেন, হিন্দুরা মুসলমানদের সর্বনাশ করে নিজেদের স্বার্থ হাছিল করেছে। বস্তানীর মধ্যেই তার বহু নিদর্শন আছে। তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিবি কুলসুম হিন্দু সমাজের মেয়ে। মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রণয়ের ফলে, ধর্ম পরিবর্তন করে তিনি মুসলমান হয়েছেন। জীবনের অভিজ্ঞতাও তার ব্যাপক। তিনি দেশকে ভালবাসতেন, স্বদেশানুরাগমূলক কবিতা আবেগ ভরে আবৃত্তি করতেন। কিন্তু গাজী মিয়ার বস্তানীতে মাঝে মাঝে তিনিও হিন্দু মধ্যবিত্ত সমাজের লোকদের সম্পর্কে তিক্ত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আমোদপ্রিয় মশাররফ হোসেন হিন্দু বন্ধুদের নিজের বাসায় মাঝে মাঝে আপ্যায়ন করতেন। বন্ধুরা ‘সময়ে সময়ে আসিয়া খুব এক পেট, রোস্ট, কাবাব মারিয়া যান। ব্র্যান্ডি হুইসকিও যে না চলে তা নয়।’ লেখকের স্ত্রী এসব ‘আমোদ আহ্লাদের’ আয়োজন নিপুণভাবেই করে দিতেন, কিন’ অত্যন্ত রাগ করতেন এবং বলতেন, ‘এ সকল গ্লাসের বন্ধু। এ সকল মালাধারী, পৈতেধারী বন্ধু-বান্ধব আমার চিনতে বাকি নেই। খেয়ে মুখটি পুঁচে, গেট পার হয়েই বলে যে, বেটাকে খুব ফাঁকি দিয়েছি। হাজার হোক নেড়ে কিনা।’
উল্লেখ্য, মীর মশাররফ হোসেন কোন ধার্মিক মুসলমান ছিলেন না। শিয়া আক্বীদা ছাড়া চারিত্রিক দুর্বলতা সবই তার মাঝে ছিলো। কিন্তু তারপরেও সে সময়ে সমাজে হিন্দুরা মুসলমানদের যেভাবে ঘৃণা ও লাঞ্ছনার শিকার করতো তথা মুসলমানদের নিগৃহীত ও নির্যাতিত করতো তার ছিটেফোঁটা প্রতিফলন তার রচনায় ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এসেছে বৈকি।
এমন ঘটনা ঘটেছে নজরুলের জীবনেও। জুলফিকার হায়দার তার প্রত্যক্ষ বর্ণনায় লিখেছেন, কবির শ্বাশুড়ী যেন তার প্রতি আরোপিত অপবাদ ও ঘৃণার জবাব দিতে তার বাড়ী থেকে আগত অতিথিদেরকে দু হাত ঢেলে আপ্যায়ন করতেন। কখনো কখনো দু একজনের খাবার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তিনি কবির পকেট থেকে তৎকালের দশ বিশ নয়, একেবারে চল্লিশ টাকা পর্যন্ত খরচ করাতেন। নিজেদের আত্মঅহমিকা আর ভাব দেখানোর এতসব আয়োজনের সব দায় মেটাতে হতো একা কবি নজরুলের। ফলে অর্থ অভাব আর টানাটানি লেগেই থাকতো তার সংসারে। মুন্সী জুলফিকারের কাছে একসময় কবি বলেই ফেললেন কথা প্রসঙ্গে, “তুমি তো আমার শ্বাশুড়ীকে চেন না। ওরা হচ্ছেন যেন রাঘব বোয়াল, কিছুতেই আমি ওদের পেট ভরাতে পারলাম না।’’
কাজী নজরুল ইসলাম মানুষ হিসেবে যে কতটা নিঃসঙ্গ ছিলেন, তার মনের অবস্থা কতো বেদনাময় ছিলো, এর প্রমাণ মিলে তার বিভিন্ন চিঠি থেকে। এজন্যই হয়তো তিনি ঘুরে বেড়াতেন নানা জায়গায়। কয়েকবার তিনি এসেছেন আমাদের এই ঢাকায়, এসেছেন কুমিল্লায়, ফরিদপুরে, যশোরে, খুলনায়, চট্টগ্রামে, সিরাজগঞ্জে, ঠাঁকুরগায়ে।
বেগম মাহমুদ নাহারকে লেখা চিঠির এক জায়গায় কবি লিখেছেন, তোমরা ভালবাস আমাকে নয়, আমার সুরকে, আমার কাব্যকে। তোমরা কবিকে জানতে চাও না নজরুল ইসলামকে জানতে চাও?”
কাজী মোতাহার হোসনকে লেখা এক চিঠিতে কবি নিতান্ত দুঃখের সাথে লিখেছেন, “বন্ধু আমি পেয়েছি- যার সংখ্যা আমি নিজেই করতে পারবো না। এরা সবাই আমার হাসির বন্ধু, গানের বন্ধু। ফুলের সওদার খরিদ্দার এরা। এরা অনেকেই আমার আত্মীয় হয়ে উঠেছে, প্রিয় হয়ে ওঠেনি কেউ। আমার চোখের জলের বাদলা রাতে এরা কেউ এসে হাত ধরেনি।”
জীবনের শেষ প্রান্তে যখন নজরুল নির্বাক হয়ে যান, কলকাতার কায়েমী হিন্দুত্ববাদী সম্প্রদায় তার রোগকে সিফিলিস বলে অভিহিত করে তাকে চরিত্রহীন প্রমাণ করার অপচেষ্টা করে। এই তো স্বাভাবিক, যাদের দূর্গাপুজা বেশ্যার দরজার মাটি ছাড়া হয় না , তারা মুসলমান ও ইসলামকে অপমান করার ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে সেই যৌনতার দরজায়ই কড়া নাড়বে। তবে আমরা যারা মুসলমান তাদেরও দোষ কম নয়। শিয়ালের কাছে মুরগি তো আমরাই বর্গা দেই। (সংগৃহীত)
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:২১
বায়েজিদ আলম বলেছেন: নজরুল নির্বাক হয়ে যাওয়ার পর থেকে কলকাতায় এখন পর্যন্ত হিন্দুরা তাকে সিফিলিস রোগের অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে। যদিও হিন্দুদেরই মধ্যে বেশ্যাগমন এবং খতনা না করার প্রবণতার জন্য এইডস রোগীর পরিমাণ অনেক বেশি।
২৮ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:৫৭
বায়েজিদ আলম বলেছেন: ৮ নং কমেন্টটি দেখুন।
২|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:১২
টিং টিং বলেছেন: তোমরা কবিকে জানতে চাও না নজরুল ইসলামকে জানতে চাও?
ভাই , হবে কোথায়?
৩|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:২৬
অর্পণ! বলেছেন: ভালো
৪|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:৫৩
বিবেকহীন বলেছেন: নজরুল ইসলামের পারিবারিক অবস্থা জানা ছিলনা, এজন্য ধন্যবাদ। তবে সূত্র গুলোর উল্লেখ আরো ভালো হওয়া বাঞ্ছনীয়।
ম্যাভেরিক@ ইদানিং আপনার কিছু বক্তব্য বেশ চোখে বাধছে। জানি না আপনার ধর্ম বিশ্বাস আর রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা কোন পর্যায়ের। সব সমাজেই সংকীর্ণ আর উদার মনের মানুষ থাকে। এক্ষেত্রে সংকীর্ণতাকে তুলে ধরার জন্য ব্লগারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সমালোচনায় বিদ্ধ করার পেছনে কেবল সংকীর্ণ মানসিকতাই কাজ করতে পারে। আমার দৃষ্টিতে সে সময়ের হিন্দুরা আধুনিক শিক্ষায় ছিলো তুলনামূলক অধিক শিক্ষিত, তাদের কাছ থেকে এধরনের গভীর সামাজিক-সংকীর্ণতা একেবারেই অনাকাংখিত। তখনকার মুসলিম সমাজ আধুনিক শিক্ষায় অনেক কম শিক্ষিত হওয়ার পরও তাদের সংকীর্ণতা এ পর্যায়ের ছিলো না, যেটা ছিলো সেটা হচ্ছে প্রতিবাদ আর প্রতিঘাতের।
৫|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:৫৬
আলুমিয়া বলেছেন: আমার মনে হয় সংগৃহীত জিনিষ - একটু নিজে পড়ে তারপর কপি পেষ্ট করলে ভাল করতেন। লেখা পড়লেই খুব ভাল করে বোঝা যায়- লেখকের লুকানো মনবাসনা। আর রেফারেন্সের কথাতো বাদই দিলাম। আমার মনে হয় না এটা কোন মৌলিক লেখা। এরকম লেখা অনেককাল ধরেই পড়ে আসছি আর কখনই কোন রেফারেন্স পাইনি। এমনও হতে পারে - আমার আরও পড়তে হবে। তথাকথিত মুসলিম অন্তপ্রানদের কাছে নজরুল ছাড়া পৃথিবীতে কোন কবি নেই। আর তাদের সামনে যখন নজরুলের সাম্যবাদ অথবা কোন শ্যামাসন্গিত নিয়ে আসা যায় - তারা তখন অম্লযুক্ত ঢেকুর তুলেন - ভাবটা এমন তাদের ভুড়ির মধ্যে মস্তিষ্কটা লুকানো। আপনাকেও তাদের থেকে আলাদা করতে পারলাম না বলে নিতান্তই দূঃখিত।
৬|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১:০১
নষ্ট ছেলে বলেছেন: এমন হলে তো নজরুলের লেখাতে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেত।
৭|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১:০৫
রাজদরবার বলেছেন: এই লেখাটি আমি এই ব্লগে বেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিলাম।
নজরুলের বড়র পিরীতি বালির বাঁধ নামে একটি প্রবন্ধ আছে। তাতে নজরুলের প্রতি হিন্দুসমাজের নিপীড়নের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
আরো জানতে দরবার আলমের অজানা নজরুল বইটি পড়তে পারেন।
৮|
২৮ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:১৯
ম্যাভেরিক বলেছেন: @বিবেকহীন, আবডালে কেউ আমার মন্তব্য অনুসরণ করছে কি না, এ ভেবে আমি কখনো মন্তব্য করি না। আমি মন্তব্য করি যা আমি মনে করি যথার্থ ও যৌক্তিক। সুতরাং আপনার চোখে কোনো মন্তব্য বাঁধলে তার উপর আসুন মতবিনিময় করি, প্রয়োজনে বিতর্ক করি। এর জন্য প্রথমেই আমার ধর্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা কোন পর্যায়ের, এরূপ প্রসঙ্গের অবতারণা অবান্তর, কিছুটা হয়তো অশোভনও, প্রথমতঃ এ কারণে যে, আলোচনা হওয়া উচিত বক্তা নয় বরং বক্তব্যের আলোকে, অর্থাৎ বক্তব্য নৈর্ব্যক্তিক বা যৌক্তিক কি না, এবং দ্বিতীয়তঃ, আমার কিংবা এ ব্লগসাইটের সঙ্গে আপনার নিজের মিথষ্ক্রিয়াই এখন পর্যন্ত খুব সীমিত। তবে, হ্যাঁ, কোনো ব্লগার যদি নিজেকে সবসময় ব্লগের পরিবেশ নষ্টকারী troll হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, তাহলে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, অবস্থান আলোচনায় আসতে পারে।
"এক্ষেত্রে সংকীর্ণতাকে তুলে ধরার জন্য ব্লগারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সমালোচনায় বিদ্ধ করার পেছনে কেবল সংকীর্ণ মানসিকতাই কাজ করতে পারে।"-- এ কথাটি যদি আমার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে বলতে হয়, আপনি আমার মন্তব্য মোটেও ভালো করে পড়েননি, উপলব্ধি তো দূরের কথা! কারণ আমার বক্তব্যে মোটেও ব্লগারকে সমালোচনায় বিদ্ধ করা হয়নি, বরং সমালোচনা করা হয়েছে তাদের যারা কবি নজরুলের উপর তথাকথিত নির্যাতনের জন্য পুরো হিন্দু সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করে। এখন তাদের মধ্যে যদি ব্লগার কিংবা আপনিও পড়ে থাকেন, তাহলে দুঃখের সঙ্গে আপনাদেরও সমালোচনা করতে হয়। সে সমালোচনাকে যদি সংকীর্ণ বলেন, তাহলে আসুন বিতর্ক করি বিষয়টি নিয়ে, কী করা উচিত।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:১০
ম্যাভেরিক বলেছেন: কবির জীবনের অজানা অনেক তথ্য জানলাম, কিন্তু এসব তথ্য সত্যি হলেও, এদের মধ্যে যারা পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা নিজেরাই বড় সাম্প্রদায়িক।