নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চিন্তিত দার্শনিকের ব্লগ

চিন্তায় আছে আইজ উদ্দিন

চিন্তিত দার্শনিক

ভালবাসি লেখালেখি লেখা আমার পেশা ও নেশা ঘৃনা করি হলুদ সাংবাদিকতা

চিন্তিত দার্শনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রসঙ্গ '৭২ এর সংবিধান পুনরুজ্জীবন'

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৮

'৭২ এর সংবিধান পুনরুজ্জীবন' দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অবদান যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই তেমনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের বেলায়ও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৭২ সালের সংবিধান তারাই রচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে চারটি সংশোধনীর মাধ্যমে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে স্বাধীনতার চেতনা, মানবিক অধিকার ও মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রতিদ্বনদ্বী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী ও সাধারণ মানুষের জীবন সম্মান ও সম্পত্তির ওপর আঘাত হেনে নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন।কিন্তু পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে।মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়।'৭২ এর সংশোধিত সংবিধান ও তার গণবিরোধী ধারাগুলো ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হয়।৩৩ বছর পর প্রহসনের নির্বাচনে অাঁতাতের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসে দলটি এখন পুনরায় '৭২ এর সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করতে চায়।ক্ষমতা ও একনায়কতন্ত্রের সাথে তাদের যে অবৈধ প্রেম হয়েছিল পঁচাত্তর সালে তার বিয়োগাত্মক সমাপ্তি ঘটেছিল।আজ ৩৪ বছর পর সেই প্রেম পুনরায় তারা ঝালাই করতে উঠে পড়ে লেগেছেন বলে মনে হয়। আসলে ক্ষমতার মোহ, নারীর প্রতি অবৈধ আকর্ষণ এবং সম্পদের লোভ এই তিনটি জিনিস মানুষকে পথভ্রষ্ট করে।'৭২ এর সংবিধান ছিল আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার দলিল এবং এ প্রেক্ষিতে তারা তাকে ভুলতে পারেন না। পাকিস্তান সরকারের আইন কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সে দেশের শাসনতন্ত্র রচনা ও সংরক্ষণ এবং আদর্শ রক্ষার লক্ষ্যে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র রচনা যারা করেছিলেন তা করার ব্যাপারে তাদের নৈতিক ও বৈধ অধিকার ছিল কিনা কিংবা এই শাসনতন্ত্র রচনার মাধ্যমে এককভাবে একটি দলের ইচ্ছা(প্রতিবেশী দেশের ইচ্ছা)দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে এখানে আমি কোনো প্রশ্ন তুলবো না।এই নিবন্ধে আমি '৭২ এর সংবিধানের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করতে চাই। ১৯৭২ সালের সংবিধান বলতে প্রধানমন্ত্রী ও তার দল কি বুঝাতে চান দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে তা পরিষ্কার নয়।এই সংবিধানের ইতিহাস ও পটভূমি বিশ্লেষণের পূর্বে এই দলটির হাতে সংবিধানটির আদল ও রূপরেখা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। বলা বাহুল্য ১৯৭২ সালের ৪ অক্টোবর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ঐ বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবস থেকে তা কার্যকর করা হয়।আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনামলে (১৯৭১-'৭৫) এই সংবিধানে চারটি সংশোধনী আনা হয়। এই সংশোধনীগুলো ছিল নিম্নরূপ : প্রথম সংশোধনী সংবিধান কার্যকর হবার মাত্র ১৭৬ দিন তথা সাত মাস পর এতে প্রথম সংশোধনী যোগ করা হয়।এই সংশোধনীর আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ নামে একটি আইনও জারি করা হয়।উল্লেখ্য যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' করেছিল তাদের বিচারানুষ্ঠান দ্রুততর করা ছিল প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য।এই সংশোধনীর আওতায় সরকারকে উপরোক্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয়। এতে বলা হয় যে, ১. অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থাকবে না এবং ২. এ সম্পর্কিত নতুন আইনকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, যুদ্ধকালে যুদ্ধরত যেসব চিহ্নিত অপরাধীর বিচারকে সামনে রেখে এই সংশোধনী আনা হয়েছিল এবং আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেসব অপরাধীকে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যে সিমলায় সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তির ভিত্তিতে বিনা বিচারে সসম্মানে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। আবার সংশোধনী ও আইনটি এমনভাবে করা হয়েছিল যে রোজ কেয়মত পর্যন্ত যে কোনও রাজনৈতিক প্রতিদ্বনদ্বীকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করে যে কোন সময় বিচারের সম্মুখীন করা যাবে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো প্রমাণ করেছে যে, এই সংশোধনী এবং তার অধীনে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে প্রণীত আইনের শাসনের মূলনীতির পরিপন্থী এই আইনটি ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একটি হাতিয়ার মাত্র যা এই সংশোধনী ও আইন প্রণয়নের ৩৭ বছর পর তারা ব্যবহার করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪৭(৩) ও ৪৭ ক ধারা সংযোজিত হয়। দ্বিতীয় সংশোধনী প্রথম সংশোধনীর মাত্র ৬৯ দিন পর ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে দ্বিতীয় সংশোধনী আনে। এতে জরুরি অবস্থার বিধান, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদসমূহ স্থগিতকরণ, নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রেফতার ও আটক রাখার নিয়মাবলী, বিচার বিভাগীয় পুনর্বিবেচনা প্রভৃতি বিষয়ে যথাক্রমে সংবিধানের নবম ক ভাগ (নতুন), ১৪১ ক (নতুন) ১৪১ খ (নতুন), ১৪১ গ (নতুন) অনুচ্ছেদ সংযোজন, অনুচ্ছেদ ৩৩ (৩) (৪) (৫) (৬) সংশোধন/প্রতিস্থাপন, অনুচ্ছেদ ১৪২ (২), অনুচ্ছেদ ২৬ (৩) সংযোজন এবং অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারী স্থগিত ও অনুচ্ছেদ ৭২ সংশোধনী করা হয়। বলা নি্রয়োজন যে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন, ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কল-কারখানা, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও জায়গা জমি দখল, চোরা-চালান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ও উৎপাদন উপকরণ এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি প্রভৃতি মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলার প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অসন্তোষের যে দাবানল বিস্তৃত হচ্ছিল তার মোকাবিলার জন্যই এই সংশোধনী আনা হয়েছিল। এই সংশোধনীর ফলে ১. সরকারের নির্বাহী শাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ২. জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ খর্ব হয় ৩. বিচার বিভাগের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে ৪. সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বৃদ্ধি পায়। এই সময় সীমাবৃদ্ধির একটাই কারণ ছিল এবং তা হচ্ছে সরকারের নির্বাহী শাখা সংসদের মাধ্যমে না গিয়ে শুধুমাত্র অধ্যাদেশ জারি করে যেকোন আইন বলবৎ করার ক্ষমতা পায় ৫. এর ফলে সংসদ আইন প্রণয়নের পরিবর্তে অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে আইন ইতোমধ্যে বলবৎ করা হয়েছে কার্যত সেই আইন অনুমোদনের এক রাবার স্ট্যাম্প সংস্থাতে রূপান্তরিত হয়। তৃতীয় সংশোধনী দ্বিতীয় সংশোধনীর ৪২৩ দিন পর জরুরি অবস্থা জারি ও জাতিকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার হুমকী এবং রক্ষী বাহিনীর নিপীড়নের পরিবেশে ১৯৭৪ সালের ২৮ নবেম্বর সংবিধানকে তৃতীয়বারের ন্যায় সংশোধন করে। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চিহ্নিতকরণ সম্পর্কিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আওতায় ভূখন্ডগত রদবদল বাস্তবায়িত করার জন্য এই সংশোধনী আনা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বেরুবাড়ীসহ বাংলাদেশের কিছু ভূখন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়া হয় কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারত থেকে যে ভূখন্ড পাবার কথা ছিল তা অদ্যাবধি পওয়া যায়নি। তদুপরি ভারতের জবর দখল করা পদুয়া গ্রামসহ তালপট্টি দ্বীপও এখন পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে ফেরত দেয়নি যদিও তা উল্লেখিত চুক্তিতে ছিল না। চতুর্থ সংশোধনী তৃতীয় সংশোধনীর মাত্র ৫৮ দিন পর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত সংসদ কোনও রকম বিতর্ক বা আলোচনা ছাড়াই চতুর্থ সংশোধনী অনুমোদন করে। এই চতুর্থ সংশোধনী মূল সংবিধানের শুধু আক্ষরিক পরিবর্তনই করেনি বরং এর প্রেরণা, মূল দর্শন ও বৈশিষ্ট্য বদলে দিয়েছিল। এই সংবিধানে প্রথম থেকেই নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতাগুলো নানা রকমের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয় সংশোধনী বলে নির্বাহী শাখা নতুন ক্ষমতায় বলীয়ান হয়ে ওঠে। এই ক্ষমতাবলে জরুরি অবস্থা বলবৎ করার মাত্র ২৭ দিন পর সংসদে চতুর্থ সংশোধনী অনুমোদিত হয়। সংসদের ২৯৪ সদস্যের সকলেই এর পক্ষে ভোট দেন এবং বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, এর মাধ্যমে সংবিধানের গোটা ভৌত ও দার্শনিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনে সময় লেগেছে মাত্র এক ঘণ্টারও কম। চতুর্থ সংশোধনীতে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছিল সেগুলো ছিল নিম্নরূপ :



(১) সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের অবসান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন।



(২) প্রধানমন্ত্রীকে রাতারাতি রাষ্ট্রপতিতে রূপান্তর। এই সংশোধনী অনুযায়ী ধরে নেয়া হয় যে সংশোধনী কার্যকর হবার দিন থেকেই তিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।



(৩) সংসদ সদস্য না হলেও যেকোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন।



(৪) সংশোধনী অনুযায়ী ধরে নেয়া হয় যে, সংসদে যেসব সদস্য তখন ছিলেন তারা সে দিনই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এবং অতঃপর ঐ পদে ৫ বছর বহাল থাকবেন।



(৫) বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।



(৬) সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে তার স্থলে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (BAKSAL) বাকশাল নামক একটি মাত্র দল দেশে থাকবে বলে নির্ধারণ করা হয়।



(৭) সরকারি কর্মচারী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের রাজনীতিকীকরণ করে তাদেরও নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্য করার ব্যবস্থা করা হয়।



(৮) এই সংশোধনী বলে সদ্য ঘোষিত রাজনৈতিক দলের অনুমোদন ব্যতিরেকে কেউ রাষ্ট্রপতি বা সংসদ সদস্য হতে পারবেন না এবং নতুন দলে যোগ না দিলে বর্তমান সংসদ সদস্যপদ হারাতে হবে বলেও নির্ধারণ করা হয়।



(৯) মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করা হয়।



(১০) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। দু'টি দলীয় ও দু'টি সরকারি মালিকানাধীন পত্রিকা ছাড়া আর সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়।



(১১) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ব্যাপারে বিচার শাখার ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় এবং তার পরিবর্তে একটি সাংবিধানিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যাপারে সংসদকে কর্তৃত্ব দেয়া হয়।



(১২) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়।



(১৩) কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতিই সুপ্রীমকোর্টের বিচারক নিয়োগ করার একমাত্র কর্তৃপক্ষে পরিণত হন।



(১৪) রাষ্ট্রপতি তার অভিপ্রায় অনুযায়ী সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিলেট ডিভিশনের বিচারকদের অপসারণেরও ক্ষমতার অধিকারী হন।



(১৫) রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ এবং তাদের পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা পান।



(১৬) এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী অথবা আজীবন রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার অধিকার দেয়া হয়।



(১৭) সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত (Impeachement) করার কার্যপদ্ধতির বিধান রাখা হলেও এই পদ্ধতিকে এতোই কঠিন করা হয় যে, অভিশংসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমন- রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করার প্রস্তাবের জন্য সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতি গ্রহণ এবং অভিশংসিত করতে হলে তিন-চতুর্থাংশের ভোট প্রাপ্তির বাধ্যবাধতকার বিধান।



(১৮) এতে রাষ্ট্রপতিকে নিরঙ্কুশ ভেটো দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়। অর্থাৎ সংসদে পাস করা কোনও বিলে যদি রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান না করেন তাহলে বিল কখনো আইনে পরিণত হবে না এবং সংসদ ঐ বিলটি পুনর্বিবেচনা করতে পারবে না।



(১৯) সংসদের পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদকে রাষ্ট্রপতির নিকট জবাবদিহি করার বিধান প্রচলন করা হয়।



(২০) সংশোধনীর আওতায় একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হয় এবং তাকে নিয়োগ দানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়।



(২১) দেশে জেলার সংখ্যা ১৭ থেকে ৬১তে উন্নীত করা হয় এবং দলীয় ব্যক্তি ও পছন্দের আমলাদের গবর্নর পদে মুখ্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগদানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে অর্পণ করা হয়।



বস্তুতঃ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি সংবিধান। এটি ছিল আওয়ামী লীগ প্রণীত ও আওয়ামী লীগ সংশোধিত বায়াত্তরের সংবিধানেরই নতুন রূপ। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মৌলিক অধিকার, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো এবং রাজনীতির সামগ্রিক মানসিকতাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে দল, ব্যক্তির ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে কোটি কোটি স্বাধীন মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আগেই বলেছি, এই সংশোধনী যখন বলবৎ হয় তখন দেশে জরুরী অবস্থা বলবৎ ছিল এবং তার বিরুদ্ধে মানুষের টু-শব্দটি করার অধিকার ও ক্ষমতা কোনটাই ছিল না। এতে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক যে পরিবর্তন এসেছিল তাতে মানুষের জীবনে যে হুমকি ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা এতো ব্যাপক ও সুগভীর ছিল যে, এর পরিণতি ও ফলাফল এবং ভয়াবহতা মানুষকে এখনো প্রেতাত্মার মতো তাড়িয়ে বেড়ায়। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল এই সংবিধানটি কি পুনরুজ্জীবিত করতে চান প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতি জানতে চায়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০০

অন্তীম বলেছেন: ৩৩ বছর পর প্রহসনের নির্বাচনে অাঁতাতের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসে দলটি এখন পুনরায় '৭২ এর সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করতে চায়।ক্ষমতা ও একনায়কতন্ত্রের সাথে তাদের যে অবৈধ প্রেম হয়েছিল পঁচাত্তর সালে তার বিয়োগাত্মক সমাপ্তি ঘটেছিল।আজ ৩৪ বছর পর সেই প্রেম পুনরায় তারা ঝালাই করতে উঠে পড়ে লেগেছেন বলে মনে হয়। আসলে ক্ষমতার মোহ, নারীর প্রতি অবৈধ আকর্ষণ এবং সম্পদের লোভ এই তিনটি জিনিস মানুষকে পথভ্রষ্ট করে।'৭২ এর সংবিধান ছিল আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার দলিল এবং এ প্রেক্ষিতে তারা তাকে ভুলতে পারেন না।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৬

চিন্তিত দার্শনিক বলেছেন: সহমত

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.