নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সিভিল সার্ভেন্ট

সব প্রকাশ করে দেয়ার বিকল্প নেই, মানুষ যত যেনে যাবে দেশের তত মঙ্গল হবে।তাই যত পারেন জানিয়ে দিন, সব কিছু, সবাইকে।

সিভিল সার্ভেন্ট › বিস্তারিত পোস্টঃ

এসি ল্যান্ডের মাসিক আয় ও বাংলার ভূমিব্যবস্থাপনা।

১৬ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১০:০৮

ভূমি অফিস এক আজব অফিস।এখানে মানুষজন এমনি এমনি টাকা দেয়।কিন্তু তারপরও ভূমি অফিসগুলো লোকজনকে হাজারো রকমের প্রতারনা করে ব্যপক দুর্নীতি করে।

ধরে নিচ্ছি মাঝারি মানের একটি অফিস, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কুমিল্লা প্রভৃতি জেলা সদরে উপজেলা ভূমি অফিসে মাসে প্রায় ১৫০০ নাম জারী হয়।প্রতিটি সাধারন নামজারীতে এসি ল্যান্ড সর্বনিম্ন ৫০০/- টাকা করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ, প্রতি ১০০ টি নামজারী মামলায় ৪ টি অসাধারন বা বিশেষ কেইসের প্রতিটি ২০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত।প্রতিমাসে আপত্তি বা আগে এক রায় দেয়া মামলার পুনর্বিবেচনার ৪ টি কেইসের প্রতিটি ২০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা। প্রতিমাসে হাট বাজার বা মার্কেটের নতুন বরাদ্দ থেকে শুরু করে নানাবিধ ৪ টি কাজের প্রতিটি ২০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা।ভিপি সম্পত্তির ৪টি কেইসে নানাবিধ কাজে ১০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা।প্রতি মাসে ৪টি কেইস জল মহাল, খাসজমি, বালুমহাল, বাঁশ মহাল সহ হরেক রকমে ভূমির, প্রতিটির জন্য ২০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা।সাথে সরকারী নানা কাজের অনারিয়াম বেতন সহ আরও ৪০ হাজার।মোট প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা।উল্লেখ্য সকল ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন রেইট ধরা হয়েছে।



আর এসি ল্যান্ডের এই উপার্জন পযসেস করতে তহসিলদার, সহকারী, সার্ভেয়ার গড়ে প্রতিটি নামজারীতে ৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে যা এসি ল্যান্ডের প্রায় দশ গুন।তাহলে এরকম একটি উপজেলায় ভূমি অফিসে প্রায় ১ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়ে যাচ্ছে।



এবার আসা যাক এই ঐতিহ্যবাহী দুর্নীতির বহুবিধ আউটপুটের মধ্যে ভূমির কি অবস্থা হয়েছে ?



ভূমিই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ, ৮০ ভাগ মানুষের বাঁচা মরা, ৮০ ভাগ মামলা মোকাদ্দম, খুনাখুনি ভূমি নিয়েই, এক কথায় ভূমি ঠিক বাংলাদেশের ৮০ ভাগ ঠিক।আর আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলাদেশের ভূমির ব্যবস্থাপনার অবস্থা ও কারা এর জন্য দায়ী তা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না - যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকেও পরচা খতিয়ান বললেই অজ্ঞান হয়ে যাবে।



আমি ছোটকাল থেকে আজ পর্যন্ত এলাকায় যত সালিস বিচার,মামলা মোকদ্দমা হয়েছে তার ৯০শতাংসই জমি জমা সংক্রান্ত।এমনও মামলাকারীকে দেখেছি যতটুকু জমির জন্য সে মামলা করেছেন ঐ জমির যা মূল্য তার তিনগুন টাকা উকিল,কোর্ডবিল্ডিং এবং বাদী বিবাদীর উস্কানীদাতা গ্রাম্য দালালের পিছনে খরচ হয়ে গেছে, তারপর সমাধানে আসতে পারে নাই।এছাড়া রয়েছে দলিল পত্রাদির হাজারো সমস্যা।এছাড়া সরকারী খাস জমি, হাট বাজার, নদী নালাখাল বিল মানে আকাশের নিচে যাকিছু আছে এই ভূমী।



ধরে নেন গড় আয়তনের একটি ইউনিয়নে গড়ে ২০ মৌজা আজে, এরকম ৫ হাজার ইউনিয়ন, প্রতিটি মৌজায় গড়ে ১ থেকে ২ হাজার দাগ বা প্লট নম্বর, প্রতিটি প্লটে গড়ে পাঁচ জন/গ্রুপ দখল, মালিকানা, রেকর্ড নানা ভাবে আছে তার প্রতি তিনটি মালিকানা রেকর্ড নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ, মামলা মোকাদ্দমা, মারামারি ইত্যাদী আছে।তাহলে ডিসপিউট সংখ্যাটা ৪৫ লাখ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.