![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি মহিউদ্দিন খালেদ। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। পড়তে ভালোবাসি। নিজের একটা চিন্তা জগত আছে। সেখানে চারপাশের অনেক কিছু নিয়ে অনেক নিঃশব্দ আলোচনা হয়! সেই আলোচনা গুলোর সাথে বৃহত্তর জগতের সংযোগ ঘটাতে ইচ্ছে করে!
‘পৈশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ে’র উপাচার্যের কক্ষ। বিশাল কাল কক্ষে উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিকষ অন্ধকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিশাচ রা অন্ধকারেই একে অপরকে দেখতে পায়।
পিশাচপুরিতে কোটি টাকা খরচ করে প্রতিদিন লক্ষ মেগাওয়াটের অন্ধকার উৎপন্ন করতে হয়।
পৈশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত উপাচার্য তাঁর বিশাল চেয়ারে বসে উত্তেজনায় রীতিমত ঘামছেন! তাঁর সামনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্রাজুয়েট যে বসে আছে তাকে ‘রত্ন’ বললে কম বলা হয়! ‘হাবিয়া দোজখের হায়েনা’ উপাধি দিলেও তাকে উপযুক্ত ‘সন্মান’ দেয়া হয় না। পিশাচ গ্রাজুয়েশনের শেষ তিনটা টেস্টে তার পারফর্মেন্স ছিল অবিশ্বাস্য রকমের ভাল!
টেস্ট ৩ টা নিম্নরূপ-
টেস্ট-১। একটা নিষ্পাপ শিশু এবং একটা লোহার হাতুড়ি তোমাকে দেয়া হয়েছে। শুধু হাতুড়ি’র বাড়ি মেরে মেরে শিশুটিকে সর্বোচ্চ কষ্ট দিয়ে মারতে হবে। মৃত শিশুর রক্ত পান করার জন্য অতিরিক্ত বিশ মার্ক।
টেস্ট-২। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম একটি যুবক তোমার সামনে আছে। তোমাকে শুধু একটি ধারালো চাপাতি দেয়া হয়েছে। যুবক কে এমন ভাবে কোপাতে হবে যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক কোপ খাবার আগে পর্যন্ত সে জ্ঞান না হারায় এবং তার মৃত্যু না হয়। মৃত যুবকের কলিজা কাঁচা ভক্ষণ করার জন্য অতিরিক্ত বিশ মার্ক।
টেস্ট-৩। তোমার কোলে তোমার সদ্যোজাত সন্তান। তোমার সামনে একটি জ্বলন্ত ফার্নেস রাখা আছে। জ্বলন্ত ফার্নেসের গনগনে আগুনে নিজের হাতে তোমার সন্তান কে নিক্ষেপ করতে হবে।
তৃতীয় টেস্টের নাম ‘লুকা ব্রাসী টেস্ট’। এই টেস্টে পৈশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক তারকা স্টুডেন্ট ও ফেল করে।
পৈশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বুক চিরে গভীর একটা দীর্ঘঃশ্বাস বেরিয়ে আসে। তাঁর সামনে বসে থাকা রত্ন টি প্রতিটা বিষয়ে রেকর্ড নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। কিন্তু এই রত্নের জন্য তিনি কিছুই করতে পারছেন না।
হঠাৎ করেই সমগ্র দেশটা ‘রসাতলে’ গেছে!!
প্রশাসনের দূর্নীতি বন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচনে কারচুপি বন্ধ হয়ে গেছে। অবৈধ ভাবে কেউ দিতে বা নিতে পারছে না গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ। সাধারণ মানুষ আদালতে অন্যায়ের বিচার চেয়ে বিচার পাচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কথা চিন্তাও করা যায় না। স্কুলে বাচ্চাদের শেখানো হচ্ছে পরীক্ষায় ফার্স্ট হবার চেয়ে মানুষ হিসেবে নিজে ছাড়াও পৃথিবীর আর সব মানুষের সুখ এবং দুঃখ কে অনুভব করা অনেক বেশি জরুরি!
এই রকম চলতে থাকলে পিশাচ রা তাদের প্রভাব বিস্তার করবে কিভাবে? পৈশাচ ইউনিভার্সিটির এতগুলো রিসার্চ ফেলো স্রেফ বেকার হয়ে যাবে। ‘হাবিয়া দোজখের হায়েনা’ তকমা সহ যারা গ্রাজুয়েট হয়ে বেরোবে তাদের প্রাগৈতিহাসিক সিনেমার স্ট্যান্ট হওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না!
নিজের চেয়ারের উপর নড়েচড়ে বসে বিশাল ডেস্কের উপর সজোরে থাবা মারলেন পৈশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত উপাচার্য! ক্ষমতা কে কাজে পরিণত করার জন্য ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ দরকার। দেশের সর্বস্তরের মানুষ হঠাৎ করে সৎ এবং দেশপ্রেমিক হয়ে পিশাচ দের কাজের পরিবেশ কে পুরা নষ্ট করে ফেলেছে।
প্রচুর সময়,শ্রম, মেধা এবং অর্থ ব্যয় করে তৈরি ভয়ঙ্কর পিশাচ দের বসে বসে ভেরেণ্ডা ভাজা, অপমান জনক মৃত্যু বরণ এবং নরকের অনন্ত অগ্নি’র জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন গতি নেই!!
অন্ধকারের নিকষ তরঙ্গের মধ্যে বিশাল বপু উপাচার্য তার স্মরণ কালের সেরা ছাত্রের মুখোমুখি বসে কুল কুল করে ঘামতে লাগলেন!
২| ০৩ রা মে, ২০১৪ রাত ১২:৩৮
হঠাৎ ধুমকেতু বলেছেন: দেশ কে আমাদের রসাতলে নিতেই হবে। নইলে আমাদের সন্তান দের পিশাচের হিংস্র আগুন থেকে কিছুতেই রক্ষা করা যাবে না! ধন্যবাদ নিকষ আপনাকে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা মে, ২০১৪ রাত ১২:৩৪
নিকষ বলেছেন: যাবে না যাবে না, দেশ রসাতলে যাবে না। পিশাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, শিক্ষক-ছাত্র, শুভানুধ্যায়ীরা এই দেশকে রসাতলে যেতে দেবে না।