| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশে ইসলামি ছাত্রশিবিরের হাতে প্রথম খুন হন চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত এজিএস ও ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেন। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য দিবালোকে শিবির কর্মীরা রামদা ও কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তবারক হোসেনকে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তবারক যখন পানি পানি বলে চিৎকার করছিলেন তখন এক শিবির কর্মী তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়। একাত্তরের ওদের পূর্বপুরুষদেরকেও ছাত্রশিবিরের পান্ডারা সেদিন বর্বরতায় হার মানিয়েছিলো। এই একটি খুনের মাধ্যমেই শিবির হিংস্রতার পরিচয় দিয়ে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়। যারা এই খুনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, পরবর্তী সময়ে অনেক পত্রপত্রিকায় তারা বিভিন্ন সময়ে এই হত্যাকান্ড নিয়ে কথা বলেছেন, তারা বলেছেন শিবিরের সেদিনের বর্বরতার কথা, পৈশাচিকতার কথা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নাজিমউদ্দিন। এই বিষয়ে একটি দৈনিকের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,’ শিবিরের সন্ত্রাসীরা সেদিন তবারক হোসেনকে কিরিচ দিয়ে উপুর্যপুরি কুপাতে কুপাতে হত্যা করে। কিরিচের এলোপাতাড়ি কুপে মুমূর্ষ অবস্থায় তবারক যখন পানি পানি বলে চিৎকার করছিলেন তখন এক শিবির কর্মী তার মুখে প্রসাব করে দেয়। পরবর্তীতে সাক্ষীর অভাবে এই হত্যাকান্ডে জড়িত সবাই বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। কারণ, এই বর্বর পশুদের বিরুদ্ধে ভয়ে তখন কেউই রাজি হয়নি।
এই ঘটনার পর ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মনে ভয় ঢুকিয়ে চট্টগ্রামে নিজেদের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়। তারপর তারা তাদের রাজনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে । সেই লক্ষ্যে তারা নিজেদের মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদের দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে কাজ করতে থাকে ছাত্রশিবিরের ভিন্ন ভিন্ন ইউনিট। নগরীর কলেজগুলোর দখল নেওয়ার জন্য তারা দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্রলীগ আর ছাত্র ইউনিয়নের সাথে। তখন তারা চট্টগ্রাম নগরীর কলেজগুলোতে শুরু করে রগ কাটার রাজনীতি। তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলতো তাদের হাত পায়ের রগ কেটে দিতে শুরু করলো শিবিরের পশুরা।
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় টার্গেট করে তৎকালীন সময়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে। তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্দিকে নিজেদের আস্তানা গড়ে তুলে। শিবিরের অনেক কর্মী ও নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিজেদের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় বিয়ে করে সংসার করতেও শুরু করে। তারা স্থানীয় অধিবাসীদের নানা ধরণের আর্থিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্দিকের গ্রামগুলোতে মেস ও ছাত্রাবাস গড়ে তুলে। তারপর সেখানে শিবির নিজেদেরকে দরিদ্র কর্মীদেরকে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। প্রথমদিকে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হলেও এরশাদ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। আশির দশকে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরাজুস-সালেহীন বাহিনী গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে তান্ডবলীলা চালায়। এই বাহিনীর নাম শুনলেই তখন দেশের মানুষের চোখে এসে ভাসতো এক হিংস্র বর্বর কাহিনীর কথা। যারা কোনো কারণ ছাড়াই তখন শুধুমাত্র মানুষের মনে আতঙ্ক ঢুকানোর জন্যই যার তার হাত পায়ের রগ কাটতে শুরু করে। এই বাহিনীর তান্ডবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে সাধারন ছাত্রছাত্রীরাও। তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ব্যক্তিগত আলাপে আমাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি রগকাটার রাজনীতি শুরু না করতো তাহলে শিবির কখনোই নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারতো না। শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মনে তাদের হিংস্র কার্যকলাপের মাধ্যমে ভয় ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে তারা খুব সহজেই নিজেদের অবস্থান নিয়ে ফেলে। তাছাড়া তখন যারা ছাত্রলীগ বা বাম রাজনীতি করতেন, তাদের অনেকেই চট্টগ্রাম নগরীতে থাকতেন। অন্যদিকে শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে নিজেদের জনবল ও শক্তি বাড়িয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় বাড়ি ঘর মেস ছাত্রাবাস করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটাকে নিজেদের জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রে রেখে বৃত্তাকারে তারা একটি প্রতিরক্ষা দুর্গ গঠন করে। যার ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ছাত্রশিবিরের এত মজবুত অবস্থান তৈরি হয়ে যায়।
চট্টগাম কলেজে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ১৯৮৪ সালের ২৮ মে ইসলামি ছাত্রশিবির কর্মীরা চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে ঘুমের মধ্যে জবাই হত্যা করে। শাহাদাত হোসেন সে রাতে তার উচ্চ মাধ্যমিকের ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমোতে যান। ঘুমের মধ্যেই হারুন ও ইউসুফ গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করে হত্যা করে শাহাদাতকে। শাহাদাতের অপরাধ ছিলো সে হারুন ও ইফসুফের কথায় ছাত্রশিবিরে যোগ দেয়নি ! পরবর্তীতে শাহাদাত হত্যাকান্ডের জন্য এই দুজনের সাজা হয়। কিন্তু দু’বছর পরই উচ্চ আদালতের রায়ে দুজনে শাহাদাত হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় জামিনে জেল থেকে বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে এই মামলা থেকে হারুণ ও ইউসুফ বেকসুর খালাস পেয়ে যায় ! শাহাদাত হত্যাকান্ডের পর আবার আঁতকে উঠে ছাত্রসমাজ, চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে শুরু হয় শিবির বিরোধী আন্দোলন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির নামের সংগঠন, যারা ইসলামের পতাকা উড়িয়ে সৎ লোকের শাষণের ডাক দেয়, তারাই হত্যা আর রগকাটার রাজনীতি শুরু করে ততদিনে চট্টগ্রামে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। তখন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যারা গিয়েছে তাদেরকে শিবির নামের পশুরা কঠোরভাবে দমন করার চেষ্ঠা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে, যারাই শিবির হঠাও আন্দোলন করেছে তাদের অনেকের হাত পায়ের রগ কেটে দিয়েছে শিবিরের সন্ত্রাসীরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির প্রথম হত্যা করে ছাত্রমৈত্রী নেতা ফারুককে। ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ এক মিছিলে গুলি চালিয়ে তারা ফারুককে হত্যা করে। ১৯৯৩ সালে শিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এনামুল হকের ছেলে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছাকে শিবির কর্মীরা নৃশংস ভাবে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য। এরপর তারা এই বিদ্যাপীঠে নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো হল দখলে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামগুলোতে মেস ও ছাত্রাবাসের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। মূলত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের গ্রামগুলো।
অন্যদিকে সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি মহসিন কলেজ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে ইসলামি ছাত্রশিবির। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দখল করার জন্য ইসলামি ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ জমির ও ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ফরিদউদ্দিনকে গুলি করার পর তাদের হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। একই বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মোজাম্মেল কচেজে হামলা চালিয়ে শিবির ক্যাডাররা হত্যা করে বকুল নামের এক শিবির কর্মীকে। ১৯৯৮ সালের ৬ মে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত আমানত হলে হামলা চালায় শিবির। এসময় তাদেও হামলায় ভর্তি হন বরিশাল থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ছাত্র আইয়ুব আলী। ২২ আগস্ট ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী সঞ্জয় তলাপাত্রকে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে শিবির দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ংকর হত্যাকান্ড ঘাঁয় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে। ২০০০ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় শিবির চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট মোড়ে একটি মাইক্রোবাসে থাকা ছাত্রলীগের ৮ নেতা কর্মীকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ড দেখে দেশের মানুষ আবার তাদের বর্বরোচিত নারকীয়তার সাথে নতুন করে পরিচিত হয়। এই হত্যাকান্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় শিবিরের অবস্থান যখন হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিলো তখনই তারা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় একেবারে পরিকল্পিত ভাবে শিবির ক্যাডাররা গুলি করে হত্যা করে ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে। এরপর ২০০১ সালে ২৯ ডিসেম্বর ফতেয়াবাদের ছড়ারকুল এলাকায় শিবির ক্যাডাররা ব্রাশফায়ারে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা আলী মর্তুজাকে। সর্বশেষ শিবির ক্যাডাররা এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে কুপিয়ে হত্যা করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এ এম মহিউদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। মহিউদ্দিন খুন হওয়ার পর শিবির মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে ! এছাড়া শিবির ক্যাডাররা গোপাল কৃষ্ণ মূহুরীকেও হত্যা করে। দুর্গম এলাকা ফটিকছড়িতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে তারা পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগের বেশ কজন নেতাকর্মীকে হত্যা করে। তাদের এই হত্যা ও রগকাটা রাজনীতির, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কতৃপর্ক্ষ ইসলামি ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অধিভূক্ত ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর স্টাডি অব টেরোরিজম এন্ড রেসপন্স টু টেরোরিজমের তৈরি ফাইলে ছাত্রশিবিরের ব্যাপারে বলা হয়, ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি তৎপরতা চালানো ছাড়াও শিবির আন্তজার্তিক পর্যায়ের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাথে নিজেদের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও নগরীর ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবির নিজেদের দখলে রেখেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে শিবির নিয়মিত নানা অজুহাতে চাঁদা আদায় করে। এছাড়া তারা চট্টগ্রামে অস্ত্রের ব্যবসাও করে। অস্ত্রের ব্যবসার জন্য তাদের রয়েছে দেশব্যাপী এক বিশাল নেটওয়ার্ক। চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে তাদের পরিচালিত মাদ্রাসা। যেগুলোতে তারা শিবির কর্মীদেরকে নানা ধরণের অস্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও জঙ্গিবাদে উদ্ভূদ্ধ করে থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা নগরীর অন্যান্য কলেজে যখন শিবিরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোনো সংঘর্ষে জড়াতে হয় অথবা তারা যখন প্রতিপক্ষের উপরে হামলা করতে যায় তখন এসব মাদ্রাসার ট্রেনিংপ্রাপ্ত ক্যাডাররাই মূলত এসব কাজ করে থাকে।
বর্তমানে চট্টগ্রামে শিবির পরিচালিত অনেক ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্টান আছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর মধ্যে যেমন কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে, তেমনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাও আছে। আরো আছে শিবির পরিচালিত নানা ধরণের কোচিং সেন্টার। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেয় রঙ বেরঙের স্টিকার ও কিশোরকন্ঠ নামের একটা ম্যাগাজিন। এই কিশোরকন্ঠ নামের ম্যাগাজিন দিয়েই তারা প্রাথমিক ভাবে বশীভুত করে শিশু কিশোরদের ।
এছাড়া ফুলকুঁড়ি আসর তো আছেই। ফুলকুঁড়ি আসর নামের শিবিরের এই সংগঠনটি গড়ে উঠে ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর এরপর ছাত্র শিবিরের কার্যক্রমের সাথে এই সংগঠনটির কার্যক্রমও দেশব্যাপী বিস্তৃত করে শিবির। ফুলকুঁড়ির নানা ধরণের সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ ( ইসলামিক ) শিশু কিশোরদেরকে জড়িয়ে, পাঠাগার থেকে শিশু কিশোরদেরকে ইসলামিক বই পড়তে দিয়ে তারা পড়তে দিয়ে কোমলমতি শিশু কিশোরদেরকে তারা শিবির নামের ঘৃণ্য সংগঠনে টেনে আনছে। গ্রাম থেকে যে ছেলেরা চট্টগ্রাম নগরীর কলেজ অথবা যারা চট্টগ্রামের বাইরে থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে তাদেরকে হলে বা মেসে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে, নানা ধরণের আর্থিক সাহায্য সহযেগিতা করে, লেখাপড়া শেষে জামাত পরিচালিত প্রতিষ্টানে চাকরির নিশ্চয়তার কথা বলে তারা সহজ সরল গ্রামের ছেলেদেরকে খুব সহজেই শিবিরের রাজনীতিতে ঢুকিয়ে ফেলে ।
সূত্র
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:২৮
একরামুল হায়দার বলেছেন: ভদ্র ভাষায় কথা বলেন | চাগুএর কাছ থেকে ভদ্রতা আশা করাও পাপ |
প্রথম আলো কবে থেকে চালু হয়েছে জানেন? আর কবে থেকে অনলাইন ই আছে ? অবশ্য আপনার শিক্ষা থাকলেতো ছাগু হতেননা
২|
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৩৪
দন্ডিত বলেছেন: আমার এক পরিচিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আশির দশকের শেষদিকে পড়তেন। তার মুখে হামিদের কবজি কেটে কাটা কবজি নিয়ে মিছিলের গল্প শুনেছি।
তাদের অধিকাংশ খুন ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে। মানুষকে ভয় দেখানোর জন্যেই এটা করত তারা। তাদের ভয়ে কেউ সাক্ষী দিতে রাজি হত না। অনেকের সাজা হলেও সরকারী হস্তক্ষেপে জামিনে বেড়িয়ে এসেছে।
সেভেন মার্ডার কেইসের প্রধান আসামী এখন চট্টগ্রামে জামাতের সাংগাঠনিক কাজকর্ম চালান।
ঢাকায় শিবিরের কোন প্রতিপত্তি নেই। তারা এখানে ভদ্র, নামাজী ইত্যাদি ইমেজ তৈরী করেছে। চট্টগ্রাম/রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষ জানে শিবির কি জিনিস।
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:২৬
একরামুল হায়দার বলেছেন: সহমত
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৩৪
তন্দ্রামোহ বলেছেন: কিরে ছাগু এমন একটা লিংক দিলি যা প্রথম আলোতে ছাপা হয়নি। তোদের পত্রিকাও কি তোদের লিংক দিতে সাহায্য করে না?
দৌড়ের উপ্রে থাক গদাম। আর কাঠাল পাতা চিবোতে থাক।