নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী মনে করেছিল। একজন বলেছিল হাতি নাকি স্তম্ভ, আরেকজন বলেছিল সাপ, তৃতীয়জন ঘোষণা করেছিল কুলা। তাদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আংশিক সত্য ছিল; কিন্তু তাদের উপসংহার ছিল সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।

ডিজিটাল যুগে সেই উপকথার নতুন সংস্করণ জন্ম নিয়েছে "অন্ধের হাতি দেখা ব্লগার"।
এঁদের বৈশিষ্ট্য বিস্ময়কর। কোনো লেখা পড়ার আগে কলম ধরেন, কোনো যুক্তি বোঝার আগে প্রতিবাদ লিখে ফেলেন, কোনো প্রবন্ধের শুরুতে না পৌঁছেই তার শেষের বিচার করে দেন। যেন পড়া নয়, অনুমানই তাদের প্রধান পেশা; গবেষণা নয়, গুজবই তাদের প্রধান তথ্যভাণ্ডার।

তাঁদের কাছে একটি পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যে অংশটি তারা পড়েননি।
তারা মূল লেখার পরিবর্তে পড়েন অন্যের মন্তব্য, শোনেন তৃতীয় ব্যক্তির বর্ণনা, দেখেন একটি বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি কিংবা কিছু না দেখেই অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য । তারপর সেই ভগ্নাংশের উপর দাঁড়িয়ে এমন আত্মবিশ্বাসে রম্যরচনা শুরু করেন, যেন তাঁরা বিষয়টির সর্বশেষ বিশ্বকোষ।

ফলাফল?
হাস্যরসের পরিবর্তে জন্ম নেয় হাস্যকরতা।
ব্যঙ্গের পরিবর্তে প্রকাশ পায় বুদ্ধিবৃত্তিক দারিদ্র্য।
আর সমালোচনার পরিবর্তে দৃশ্যমান হয় অসত্যের অহংকার।
প্রকৃত ব্যঙ্গকার কখনো অজ্ঞতার উপর ব্যঙ্গ নির্মাণ করেন না। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পড়েন, প্রতিপক্ষের যুক্তিকেও ন্যায্যভাবে উপস্থাপন করেন, তারপর তার অসারতা উন্মোচন করেন। কারণ তিনি জানেন যে প্রতিপক্ষকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি, সে তাকে খণ্ডনও করতে পারে না।

কিন্তু আজকাল কিছু ব্লগার যেন নতুন এক দর্শনের অনুসারী
না পড়েই প্রতিবাদ, না বুঝেই ব্যঙ্গ, না জেনেই সিদ্ধান্ত।
এ যেন যুক্তির নয়, কল্পনার সাংবাদিকতা।
এ যেন গবেষণার নয়, গুজবের সাহিত্য।
এ যেন প্রমাণের নয়, পূর্বধারণার মহোৎসব।

আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, তাঁরা নিজেদের এই অর্ধপাঠক কিংবা নিষ্পাঠক অবস্থাকেই প্রজ্ঞার শিখর বলে মনে করেন। অথচ জ্ঞানী মানুষের প্রথম পরিচয় হলো বিনয়; তিনি বলেন আমি আগে পড়ব, তারপর বলব। আর অর্ধজ্ঞানী মানুষের প্রথম পরিচয় হলো তাড়াহুড়ো; তিনি বলেন আমি আগে বলব, পরে যদি সময় পাই পড়ব।

এক জন জ্ঞানী ব্যক্তির এর একটি বিখ্যাত উক্তি আছে:
আমি কখনো কারও সঙ্গে বিতর্ক করিনি এই কামনায় যে আমি জয়ী হব; বরং কামনা করেছি সত্য যেন তার বা আমার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এই বুদ্ধিবৃত্তিক সততা আজও জ্ঞানচর্চার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আদর্শ।

দুনিয়ার সকল দর্শনেই বারবার মানুষকে সত্য যাচাই করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ যাচাইহীন বক্তব্য বিভ্রান্তির জন্ম দেয়, আর বিভ্রান্তির উপর দাঁড়িয়ে নির্মিত হাস্যরস শেষ পর্যন্ত লেখককেই হাস্যস্পদ করে তোলে।

ব্লগ জগতে কলমের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত; কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে থাকতে হবে পাঠের দায়িত্ব, গবেষণার সততা এবং যুক্তির শৃঙ্খলা। কারণ স্বাধীন কলম যদি অজ্ঞতার হাতে পড়ে, তবে তা আলো ছড়ায় না; বরং বিভ্রান্তির কুয়াশা ঘনীভূত করে।

অতএব, যে ব্লগার মূল পোস্ট না পড়েই তার বিরুদ্ধে রম্যরচনা লেখেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে লেখককে নয়, নিজের পাঠ অভ্যাসকেই উন্মোচিত করেন। তাঁর কলমে হাসির চেয়ে বেশি ধরা পড়ে তাড়াহুড়ো, গবেষণার চেয়ে বেশি ধরা পড়ে অনুমান, আর প্রজ্ঞার চেয়ে বেশি ধরা পড়ে আত্মপ্রবঞ্চনা।

অন্ধের হাতি দেখার গল্পটি তাই আজও শেষ হয়ে যায়নি। শুধু হাতির জায়গায় এসেছে ব্লগপোস্ট, আর অন্ধত্বের জায়গায় এসেছে পড়তে অনিচ্ছুক অথচ মন্তব্য করতে আগ্রহী এক নতুন ডিজিটাল সংস্কৃতি।

সত্যকে জানতে হলে পুরোটা পড়তে হয়।
যুক্তিকে বুঝতে হলে ধৈর্য ধরতে হয়।
আর ব্যঙ্গকে শিল্পে পরিণত করতে হলে আগে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।
অন্যথায় ইতিহাসের পাতায় নয়, পাঠকের হাসির খাতায়ই নিজের নাম লিখতে হয়।

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: "অন্ধের হাতি দেখা ব্লগার"।
.......................................................
বাংলা ভাষা যথেষ্ট সমৃদ্ধ, এখন বোধহয় অবস্হাদৃষ্টে
কিছু পরিবর্ধন পরিমার্জন আবশ্যক হয়ে পড়েছে ।
আপনার সহিত একমত যে ,
সত্যকে জানতে হলে পুরোটা পড়তে হয়।
যুক্তিকে বুঝতে হলে ধৈর্য ধরতে হয়।

সামুর জয় হোক, শুভ ব্লগিং ।

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
বাংলা ভাষা কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, চেতনা ও মননের জীবন্ত
ধারক। ভাষা কখনো স্থির থাকে না সময়ের স্রোত, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তার এবং সভ্যতার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এরও
পরিশীলন, পরিবর্ধন ও নবায়ন ঘটে। পরিবর্তনই ভাষার প্রাণ; স্থবিরতাই তার অবক্ষয়ের সূচনা।

আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি আন্তরিকভাবে একমত। সত্য কখনো খণ্ডাংশে ধরা দেয় না; তাকে আবিষ্কার করতে
হলে পুরো বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়, প্রেক্ষাপট বুঝতে হয় এবং পূর্বধারণার আবরণ সরিয়ে দেখতে হয়।
তেমনি যুক্তির আলোও অধৈর্য চোখে ধরা পড়ে না; তাকে উপলব্ধি করতে হয় ধীর মন, উন্মুক্ত বিবেক এবং বিনয়ী
চিন্তার মাধ্যমে।

যে পাঠ অর্ধেক, তার বিচারও অর্ধসত্য; আর অর্ধসত্য অনেক সময় মিথ্যার চেয়েও বিভ্রান্তিকর। কারণ, সত্যের পূর্ণতা
যেমন ধৈর্য দাবি করে, তেমনি প্রজ্ঞাও জন্ম নেয় মনোযোগী অনুসন্ধান থেকে, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত থেকে নয়। জ্ঞানের পথে
সবচেয়ে বড় বাধা অজ্ঞতা নয়; বরং না জেনেই জেনে ফেলার আত্মতৃপ্তি।

অনেকের মাঝে এই প্রবনতা লক্ষ্য করেই পেস্টের অবতারনা ।

শুভেচ্ছা রইল

২| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৪৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: অন্ধের হাতি দেখা ব্লগাররা সাধারনত বেশি সমালোচনা করেন এবং নিজেকে সবজান্তা বড় পন্ডিত মনে করেন

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ঠিকই বলেছেন ।
'অন্ধের হাতি দেখা' ধরনের ব্লগারদের একটি বৈশিষ্ট্য প্রায়ই চোখে পড়ে—পুরো লেখা না পড়েই, প্রেক্ষাপট না বুঝেই
তারা সমালোচনার তলোয়ার খাপছাড়া করে বসেন। অল্প জ্ঞানকে পূর্ণ জ্ঞান বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা থেকে এমন
এক আত্মতুষ্টির জন্ম হয়, যেন তারাই শেষ কথা, তারাই সর্বজ্ঞ পণ্ডিত। অথচ সত্য হলো, যত গভীর জ্ঞান, তত বেশি
বিনয়; আর যত অগভীর উপলব্ধি, তত বেশি উচ্চকণ্ঠ আত্মপ্রচার। অর্ধসত্যের ওপর দাঁড়িয়ে গড়া পাণ্ডিত্য বেশিক্ষণ
টেকে না পূর্ণ সত্যের আলোয় তার মুখোশ একসময় খুলেই যায়।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৭

অগ্নিবাবা বলেছেন: আর যারা না দেখে না বুঝেই ইমান আনে তারা? বুঝার পরে ইমান আনলে উহাকে কি ইমান বলা যায়? একজন ইমানদার আর অন্ধ ব্যক্তির হাতি দেখার মধ্যে পার্থক্য কি?

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার মতামত তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।

আপনার প্রশ্নে একটি মৌলিক বিষয় গুলিয়ে গেছে। ঈমান আর অন্ধ অনুসরণ এক জিনিস নয়।

কুরআন বারবার মানুষকে চিন্তা করতে, গবেষণা করতে, প্রমাণ দেখতে এবং বুদ্ধি-বিবেক ব্যবহার করতে আহ্বান
জানিয়েছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা কি চিন্তা করো না?, তোমরা কি অনুধাবন করো না?, তোমরা কি বুদ্ধি খাটাও না?
এ ধরনের আহ্বান কুরআনে বহুবার এসেছে।

ঈমানের সূচনা হতে পারে বিশ্বস্ত সাক্ষ্য, নবীর সত্যবাদিতা, কুরআনের প্রমাণ এবং আল্লাহর নিদর্শন থেকে; কিন্তু সেই
ঈমানকে দৃঢ় করে জ্ঞান, উপলব্ধি ও চিন্তাশীলতা। তাই ইসলামে তাকলীদ (অন্ধ অনুকরণ) উৎসাহিত নয়; বরং তাহকীক (অনুসন্ধান ও সত্য যাচাই) প্রশংসিত।

আর 'অন্ধের হাতি দেখা' উপমাটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য, যিনি কোনো বিষয়ের সামান্য অংশ জেনে
পুরো বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দিয়ে বসেন। একজন মুমিনের আদর্শ হলো এর বিপরীত তিনি শোনেন, যাচাই করেন,
চিন্তা করেন এবং তারপর ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

সুতরাং, একজন ঈমানদার ও 'অন্ধের হাতি দেখা' ব্যক্তির পার্থক্য আকাশ-পাতাল। একজন সত্যের কাছে নিজেকে
সমর্পণ করেন জ্ঞান, প্রমাণ ও বিবেকের আলোকে; অন্যজন খণ্ডিত ধারণাকেই পূর্ণ সত্য মনে করে বসেন। ইসলাম
প্রথম পথটিকেই শিক্ষা দেয়।

৪| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আর সেই অন্ধের অন্ধভক্তের সংখ্যাও কম না এখানে। অন্যেকে ছোট করে এরা নিজেদের জ্ঞানী ভাবে।

কেমন আছেন আপনি? ভালো থাকুন আলী ভাইয়া
অনেক দোয়া রইলো

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, 'অন্ধের হাতি দেখা' মানসিকতার অনুসারীর সংখ্যাও কম নয়। আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো,
তাদের কিছু অন্ধ সমর্থকও না জেনে, না বুঝেই সেই অসম্পূর্ণ ধারণাকেই সত্য বলে ধরে নেয় ।

অন্যকে খাটো করে, বিদ্রূপ করে বা অবজ্ঞা প্রদর্শন করে কখনো প্রকৃত জ্ঞানীর পরিচয় দেওয়া যায় না। প্রকৃত জ্ঞান
মানুষকে বিনয়ী করে, উদার করে এবং সত্য অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলে। পক্ষান্তরে, অল্প জ্ঞান যখন অহংকারের
সঙ্গে মিশে যায়, তখন মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা দেখতে পায় না; বরং অন্যের ত্রুটি খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত থাকে।

জ্ঞানীর পরিচয় উচ্চকণ্ঠ সমালোচনায় নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ বিশ্লেষণ, ধৈর্যশীল শ্রবণ এবং সত্যকে গ্রহণ করার বিনয়ে।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

কিরকুট বলেছেন: রেস্টুরেন্টে গেলে ম্যানু কার্ডে কি আছে যখন বুঝতে না পারে তখন অন্যের খাবার দেখেই অর্ডার করে । এরাও এমন । এরা লেখার গুরুত্ব বোঝে না যখন তখন অন্যের মন্তব্যই একমাত্র ভরসা।

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ঠিকই বলেছেন , বিষয়টি অনেকটা সেই মানুষের মতো, যিনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মেনু কার্ড পড়ার ধৈর্য বা আগ্রহ রাখেন
না। নিজের রুচি বা প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা না করে পাশের টেবিলে কে কী খাচ্ছে, সেটাই দেখে অর্ডার দিয়ে বসেন।
পরে খাবার ভালো লাগুক আর না-ই লাগুক, সিদ্ধান্তটা আর নিজের থাকে না।

লেখা পড়ার ক্ষেত্রেও কিছু মানুষের আচরণ ঠিক তেমনই। তারা পুরো লেখা পড়ে বিষয়টি বোঝার চেয়ে আগে অন্যের
মন্তব্যে চোখ বুলিয়ে নেন। তারপর সেই মন্তব্যের সুরেই নিজেদের মত গড়ে তোলেন। ফলে লেখার মূল বক্তব্য, যুক্তি
ও প্রেক্ষাপট তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়।

স্বাধীন চিন্তা মানুষের অন্যতম বড় সম্পদ। যে নিজের বিচারবোধকে অন্যের মন্তব্যের কাছে বন্ধক রাখে, সে সত্যের
অনুসন্ধানী নয় সে কেবল জনমতের অনুসারী। আর জনমত সব সময় সত্যের সমার্থক হয় না; সত্যকে জানতে হলে
নিজেকেই পড়তে, ভাবতে এবং বিচার করতে হয়।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমদের নির্বুদ্ধিতার কারণেই আমরা অনেক সময় একজন অগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়ে ফেলি।

কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা মানে তার প্রসার আরো বাড়িয়ে দেয়া।

আমি কয়েকজন তৈলবাজকে দেখেছি, যারা আক্রমণের শিকার হয়ে ব্লগে পোস্ট দিয়েছেন। আবার তারাই ব্যক্তির ব্যক্তির প্রশংসায় অষ্টমুখ হয়েছেন। ঘৃণ্য প্রজাতি হলেন এই তৈলবাজ গোষ্টী।

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ঠিক্ই বলেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ভাই, অনেক সময় আমাদের বিচারবোধের দুর্বলতাই এমন মানুষকে
অযথা গুরুত্বের আসনে বসিয়ে দেয়, যিনি প্রকৃতপক্ষে সেই গুরুত্বের দাবিদার নন। ইতিহাস সাক্ষী কখনো কখনো
অযথা বিতর্ক, অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কিংবা লাগাতার আলোচনাই একজন অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয় পরিচিতি
এনে দেয়।

তাই সমালোচনা করার আগে এটাও ভেবে দেখা দরকার আমরা কি সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করছি,
নাকি নিজের অজান্তেই তুচ্ছ বিষয় বা ব্যক্তিকেই আরও বেশি প্রচারের আলোয় নিয়ে আসছি?

আরেকটি প্রবণতা আরও হতাশাজনক। কিছু মানুষকে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে মুহূর্তেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সুবিধা
থাকলে কঠোর সমালোচক, আর সুবিধার পাল্লা বদলালেই সেই ব্যক্তির প্রশংসায় মুখর। নীতি, আদর্শ বা সত্যের চেয়ে
ব্যক্তিস্বার্থই যেন তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে।

প্রকৃত চিন্তাশীল মানুষের পরিচয় হলো নীতিতে অবিচল থাকা ব্যক্তি বদলালেও সত্যের মানদণ্ড বদলে না ফেলা।
কারণ, সুযোগসন্ধানী প্রশংসা যেমন বিশ্বাসযোগ্য নয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনাও সত্যের সেবা করে না।
সত্যের প্রতি আনুগত্যই একজন সৎ মানুষের প্রকৃত পরিচয়; ব্যক্তি বা সুবিধার প্রতি নয়। সময় আমাদের বিচারবোধের
দুর্বলতাই এমন মানুষকে অযথা গুরুত্বের আসনে বসিয়ে দেয়, যিনি প্রকৃতপক্ষে সেই গুরুত্বের দাবিদার নন। ইতিহাস
সাক্ষী কখনো কখনো অযথা বিতর্ক, অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কিংবা লাগাতার আলোচনাই একজন অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে
অপ্রয়োজনীয় পরিচিতি এনে দেয়।

তাই সমালোচনা করার আগে এটাও ভেবে দেখা দরকার আমরা কি সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করছি,
নাকি নিজের অজান্তেই তুচ্ছ বিষয় বা ব্যক্তিকেই আরও বেশি প্রচারের আলোয় নিয়ে আসছি?

মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

৭| ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: আসলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?

১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

বিনীতভাবে একটি অনুরোধ থাকল , সম্ভব হলে পুরো লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন।
আমার বিশ্বাস, তাহলে আমি কী বলতে চেয়েছি, তার বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর লেখার মধ্যেই পেয়ে যাবেন।

খণ্ডাংশ পড়ে কোনো লেখার মূল উদ্দেশ্য বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই মতামত দেওয়ার আগে পুরো
প্রেক্ষাপটটি বিবেচনা করলে আলোচনা আরও ফলপ্রসূ, ন্যায়সংগত এবং অর্থবহ হয়।

কোনো অংশ অস্পষ্ট মনে হলে নির্দিষ্ট করে সেটি উল্লেখ করুন। ইনশাআল্লাহ, আমি আনন্দের সঙ্গে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার
চেষ্টা করব। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সত্যের অনুসন্ধানে পারস্পরিক ধৈর্য, সৌজন্য ও পূর্ণাঙ্গ পাঠ এ তিনটিই
আমাদের সবার জন্য কল্যাণকর।

শুভেচ্ছা রইল

৮| ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: এখন আপাতত দু'জন বেয়াদব আছে এ ব্লগে। এছাড়া বাকী সব ঠিকঠাক মনে হচ্ছে আমার দৃষ্টিতে।।

২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

তাদের মাঝে বোধশক্তি জাগ্রত হোক এ কামনাই করি ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৯| ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:১৮

অগ্নিবাবা বলেছেন: কুরআন বারবার মানুষকে চিন্তা করতে, গবেষণা করতে, প্রমাণ দেখতে এবং বুদ্ধি-বিবেক ব্যবহার করতে আহ্বান
জানিয়েছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা কি চিন্তা করো না?, তোমরা কি অনুধাবন করো না?, তোমরা কি বুদ্ধি খাটাও না? - এর তফসীর কি পড়ে দেখেছেন?
“চিন্তার স্বাধীনতা” কথাটি কতটুকু সঠিক?
প্রশ্নঃ (১১০) “চিন্তার স্বাধীনতা” সম্পর্কে আমরা শুনে থাকি এবং পত্রিকায় পড়ে থাকি। মূলতঃ এটি আকীদা গ্রহণের স্বাধীনতার দিকে আহবান মাত্র। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
উত্তরঃ এ ব্যাপারে আমাদের কথা হল, যে ব্যক্তি আকীদার স্বাধীনতার দাবী করে এবং যে কোন দ্বীনে বিশ্বাসের অধিকার রাখে বলে মনে করে, সে কাফের। কারণ যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দ্বীন ব্যতীত অন্য দ্বীন গ্রহণ করা বৈধ মনে করে, সে কাফেরে পরিণত হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে। তাওবা না করলে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।
দ্বীনের বিষয় চিন্তা প্রসূত বিষয় বা কোন মতবাদ নয়। এটা আল্লাহর অহী, যা আল্লাহ তাঁর নবীদের উপর নাযিল করেছেন যেন মানুষ তার অনুসরণ করতে পারে। ইসলাম একটি চিন্তাধারা, খৃষ্ট ধর্ম একটি চিন্তা ধারা এবং ইহুদীবাদ একটি চিন্তা ধারা এভাবে ব্যাখ্যা করার অর্থ এই যে, আসমানী শরীয়তসমূহ নিছক মানবীয় চিন্তা প্রসূত বিষয়। আসমানী দ্বীনসমূহ আল্লাহর পক্ষ হতে অহী স্বরূপ আগমণ করেছে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর এবাদত করবে। সুতরাং এর ব্যাপারে চিন্তাধারা কথাটি ব্যবহার করা জায়েয নেই।
মোট কথা, যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করবে যে, সে নিজের খেয়াল-খুশী মত যে কোন দ্বীনে বিশ্বাস করতে পারে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ)
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন গ্রহণ করবে, তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।” (সূরা আল-ইমরানঃ ৮৫) আল্লাহ বলেন,
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ)
“ইসলাম আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম।” (সূরা আল-ইমরানঃ ১৯) সুতরাং ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করা জায়েয নেই। যে ব্যক্তি তা করবে আলেমগণ তাকে সুস্পষ্ট কাফের হিসাবে ফতোয়া দিয়েছেন।

২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার এই মন্তব্যটিসহ নীচের মন্তব্যটির জন্য একটি সমন্বিত প্রতি্ত্তর আপনার নীচের মন্তব্যের নীচে প্রতিমন্তব্যের ঘরে
দেয়া হয়েছে , দয়া করে সেখানে দেখে নিন ।

১০| ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯

অগ্নিবাবা বলেছেন: যখন কেউ গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গায় চলে যান, তখন সাধারণ লজিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্য সেখানে কাজ করে না। কারণ:

বিশ্বাসের ভিত্তিই হলো 'অদৃশ্য': ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিশ্বাসের অন্যতম শর্তই হলো 'অদৃশ্য বা অপ্রমাণিত বিষয়ের ওপর বিশ্বাস' (যেমন ইসলামে একে বলা হয় 'ঈমান বিল গায়েব';)। যেখানে প্রমাণ নেই, সেখানেই মূলত বিশ্বাসের পরীক্ষা শুরু হয়। প্রমাণ থাকলে তো সেটা বিজ্ঞান বা বাস্তব সত্য হয়ে যেত।

মিরাকল বা মোজেজার অনুসন্ধান: বিশ্বাসীদের জগতে অলৌকিক কিছু ঘটাটা ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান হওয়ার বড় প্রমাণ। তাই তারা যুক্তি খোঁজার চেয়ে ঈশ্বরের অলৌকিক শক্তির প্রকাশ বা মোজেজা খুঁজতে ও বিশ্বাস করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

মানুষের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা: বিশ্বাসীদের মূল যুক্তি হলো—মানুষের বুদ্ধি ও নৈতিকতার মানদণ্ড পরিবর্তনশীল এবং সীমিত, আর ঈশ্বরের জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত চিরন্তন ও অসীম। তাই মানুষের বুদ্ধিতে যা অন্যায় বা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে, ঈশ্বরের কাছে হয়তো তার কোনো 'গভীর রহস্য' আছে—এই ধারণাতেই তারা সান্ত্বনা পান।

একটি চমৎকার বৈপরীত্য
এখানে একটি মজার বিষয় লক্ষ্য করার মতো। একদিকে যেমন বিশ্বাসের জন্য কোনো যুক্তির প্রয়োজন হয় না, অন্যদিকে আবার আধুনিক বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির কোনো আবিষ্কার হলে অনেক ধর্মীয় প্রচারকই সেটাকে ধর্মগ্রন্থের সাথে মিলিয়ে "অলৌকিক বিজ্ঞান" বা মিরাকল হিসেবে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

অর্থাৎ, যখন সুবিধা তখন বিজ্ঞানের সার্টিফিকেট নেওয়া হয়, আর যখন কোনো ঐতিহাসিক বা নৈতিক কঠিন প্রশ্নের উত্তর মেলে না, তখন "আল্লাহর ইচ্ছা" বা "মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে" বলে যুক্তিকে একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়। একেই বলে নিজের সুবিধা মতো ব্যাখ্যা তৈরি করা।

আপনার কী মনে হয়—বিজ্ঞান ও যুক্তির এত জয়জয়কারের যুগেও মানুষ কেন এখনো এই অলৌকিকতা বা অন্ধ বিশ্বাসের ওপর এত গভীরভাবে নির্ভর করে আছে? এর পেছনে কি মানুষের কোনো মনস্তাত্ত্বিক ভয় বা শূন্যতা কাজ করে?

২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার দুটো মন্তব্যের প্রতিউত্তর এখানে একসাথে দেয়া হয়েছে ।
আপনার মন্তব্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, তবে সেখানে কিছু জায়গায় ভিন্ন ধরনের বিষয়কে একসঙ্গে
মিশিয়ে ফেলা হয়েছে বলে মনে হয়।

প্রথমত, কুরআনে মানুষকে বারবার চিন্তা, পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ বিবেচনা এবং বুদ্ধি প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে
এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে কুরআন নিজেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য বলেও দাবি
করে এবং সেই দাবির ভিত্তিতে মানুষকে তা গ্রহণের আহ্বান জানায়। অর্থাৎ, ইসলামী দৃষ্টিকোণে "চিন্তা" বলতে
সীমাহীন আপেক্ষিকতা নয়; বরং সত্য অনুসন্ধানের জন্য বুদ্ধির ব্যবহার বোঝানো হয়েছে। এটি ধর্মতাত্ত্বিক
অবস্থান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকল্প নয়।

দ্বিতীয়ত, উদ্ধৃত ফতোয়াটি একজন নির্দিষ্ট আলেমের ধর্মীয় ব্যাখ্যা। এটিকে ইসলামের একমাত্র বা সর্বজনস্বীকৃত
অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা যথার্থ হবে না। ইসলামের ইতিহাসে আকীদা, ধর্মত্যাগ, রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যক্তি
স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন মাজহাব ও সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই একটি নির্দিষ্ট
মতামতকে পুরো ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখানো বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তৃতীয়ত, বিশ্বাস মানেই যেখানে প্রমাণ নেই এই বক্তব্যটিও কিছুটা সরলীকৃত। অধিকাংশ ধর্মবিশ্বাসী দাবি করেন
না যে তাঁদের বিশ্বাস সম্পূর্ণ প্রমাণহীন; বরং তাঁরা ঐতিহাসিক তথ্য, দার্শনিক যুক্তি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ধর্মগ্রন্থের
সাক্ষ্য বা মহাবিশ্বের অস্তিত্বকে বিশ্বাসের পক্ষে সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে
করেন, এগুলো বৈজ্ঞানিক অর্থে পর্যাপ্ত প্রমাণ নয়। ফলে এখানে মূল বিরোধটি প্রমাণ শব্দটির সংজ্ঞা
ও মানদণ্ড নিয়ে।

চতুর্থত, যখন সুবিধা তখন বিজ্ঞান, আর যখন অসুবিধা তখন অলৌকিকতাএ ধরনের বক্তব্য কিছু ধর্মীয় প্রচারকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু তা থেকে সব ধর্মবিশ্বাসী একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন এমন সাধারণীকরণ যৌক্তিক নয়। একইভাবে সব সংশয়বাদীও যে সবসময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকেন, তাও বলা যায় না। উভয় পক্ষেই নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত (confirmation bias) কাজ করতে পারে।

সবশেষে, মানুষ কেন ধর্ম বা অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে এর উত্তর একমাত্র ভয় বা মানসিক শূন্যতায় সীমাবদ্ধ নয়।
মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় দেখা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাসের পেছনে অর্থের( meaning)
অনুসন্ধান, নৈতিক কাঠামো, সামাজিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, অস্তিত্বগত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, ব্যক্তিগত
অভিজ্ঞতা এবং কখনও মানসিক নিরাপত্তা সবই ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে অবিশ্বাস বা নাস্তিকতার পেছনেও
যুক্তিবাদ, বৈজ্ঞানিক মানসিকতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দার্শনিক অবস্থানসহ নানা কারণ কাজ করে।

তাই আলোচনাটি আরও ফলপ্রসূ হবে যদি আমরা কোনো পক্ষকে "অন্ধ" বা "অযৌক্তিক" বলে চিহ্নিত না করে, বরং
কোন দাবির পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ, যুক্তি ও পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য সেই বিষয়েই আলোচনা করি।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.