| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কালপ্রিট৬৯
আমি নাহিয়ান রহমান ওরফে অনীক ।আমি অতি আশাবাদী একজন মানুষ।আমি অনেক কল্পনাপ্রবণ। কল্পনায় আমার একটা সংগঠন আছে।অফিসের নাম 'আশাবাদী সংঘ"। যদিও অফিসে আমি ক্লার্ক এর পদে আছি। কারন টা খুব সহজ,আশা খুব কম ই পূরণ হইছে।হে হে..। আমি লিখি কেন আমি জানি না,আমি ভাবি কেন,কোন কিছুর কারন বের করার চেষ্টা করি কেন,ভ্রু কুচকে তাকাই কেন,নিচের ঠোট টা যাচ্ছেতাই করে কামড়াই কেন জানি না !! কিন্তু শুধু বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি এটা জানি! সফেদ পর্দার উপরে যে সূর্যের আলো খেলা করে সেটা জানি! হাই তুলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুচকি হাসি কেন জানি! এরকম অনেক জানা আর অজানার অনুসন্ধান করে আমার দিন কাটে!! আমার একটা খাঁচা আছে ! ওই খাঁচা কে আমরা "দেহ " বলি!!! কি রহস্যময় সেই খাঁচা! কখন পাপী,কখনো পবিত্র!! আমি গোয়েন্দা হয়ে সেই রহস্যময়তার কারণ অনুসন্ধান করে যাচ্ছি!
অল্টার ইগো দ্বৈত সত্তা বা প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে পরপর তিনটি মুভি দেখে ফেললাম ।
ফাইট ক্লাব,মি ব্রকস আর শেষের টি হল "অ্যা বিউটিফুল মাইন্ড"। তিনটি মুভিই আইএমডিবি রেটিং এ বেশ ভাল অবস্থানে আছে।শেষের মুভি টা সত্যিকার অর্থে মন কে নাড়া দিয়ে যাবে।
যারা টুকটাক লেখালিখি করে তাদের মধ্যে খুব কমন একটা বিষয় হল কোন না কোন সময় একটা মুভি রিভিঊ লেখা। আমার ও খায়েশ হল, তাই ভাবলাম "অ্যা বিউটিফুল মাইন্ড" মুভি টা নিয়ে কিছু লিখি।
রন হাওয়ারড এর পরিচালনায়্ এই সিনেমাটা মূলত বায়োগ্রাফিকাল ড্রামা বলা যেতে পারে।১৯৯৪ সালে ইকোনোমিক্সে নোবেল জয়ী ড। জন ন্যাশ এর জীবন নিয়ে কাহিনিটা সামনের দিকে আগিয়েছে।
সবার থেকে একটু আলাদা একটু পাগলাটে জন ন্যাশ(রাসেল ক্রো )ম্যাথমেটিক্স এর জিনিয়াস ১৯৪৭ সালে হ্যান্সেন মারটিনের সাথে কারনেগী স্কলারশিপ নিয়ে প্রিন্সটন ইউনিভারসিটিতে আসেন পোস্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য। মানুষ এর গায়ের রঙ এই যা পার্থক্য ,দুনিয়ার সব জাগাতেই পাগলাটে মানুষ রা তামাশার পাত্র হয় ,ন্যাশ ও তাই বাদ যায় না। তবে বন্ধুদের পচানী আর আর খুনসুটির মাঝেই সে পেয়ে যায় মারটিন(জস লুকাস),অ্যান্সলী(জেসন গ্রে স্ট্যানফোর্ড),রিচারডড)(অ্যাডাম গোল্ডবাগ), আর বেন্ডারে(আনথনি র্যাপ) মত কিছু বন্ধুদের।
তবে লিটারেচারের স্টুডেন্ট চার্লস হারসন (পল বেটানী)হয় তার জিগরি দোস্ত।তার আউলা এই বন্ধুটি তাকে প্রচন্ড হতাশায় উজ্জীবীত করে,আলা ভোলা ন্যাশ কে বিয়ারে উদ্বুদ্ধ করে আর সর্বোপরি সব সমস্যায় তার প্রচন্ড সহযগিতা থাকে।
এর মাঝেই ন্যাশের রিসার্চ পেপার জমা দেওয়ার সময় হয়ে গেল,কিন্তু "নান্না মুন্না রাহি" ন্যাশ তখন ব্যস্ত লাইব্রেরীর কাচে জটিল গানিতিক হিসাব আর নতুন কোন ফরমূলা আবিষ্কারে!!!
এর ই মাঝে একদিন বারে সুন্দরী ললনা পটানোর চেষ্টা করছিল ন্যাস ও তার বন্ধুরা!!
হ্যান্সেন অ্যাডাম স্মিথ এর একটা উদ্ধৃতি দিল আর বলল,"প্রত্যেক মানুষ ই নিজের জন্য" কিন্তু ন্যাশ একমত হল না ,বলল,"কিন্তু আমার মনে হয় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়", আর হঠাতই ন্যাস আবিষ্কার করে ফেলল,"new concept of governing dynamics" যেটা "Nash equilibrium" নামেও পরিচিত।এরই সুবাদের ন্যাশ "MIT" চাকরি পেয়ে গেল।
কয়েকবছর পর একদিন ন্যাশের ডাক পড়ল পেন্টাগনে।শত্রু দের পাঠানো কিছু কো্ড ব্রেক করতে বলা হল তাকে।খুব সহজেই কোড ব্রেক করে তাক লাগিয়ে দিল ন্যাশ আর এভাবেই চোখে পড়ে গেল ইউএস ডিফেন্স এজেন্ট উইলিয়াম পারচারের(এড হ্যারিস)। পারচার তাকে বলল রাশিয়া একটা পোর্টেবল এটম বোম দখল করেছে,এখন তারা বিভিন্ন ম্যাগাজিনের মাধম্যে কোড পাঠাচ্ছে ইউএস এ অবস্থানরত রাশিয়ার এজেন্ট দের।পারচার তাকে এই কোড ব্রেকিং এর কাজ দিল।
এরই মাঝে ন্যাশ এর পরিচয় হল "অ্যালিসিয়া লারড(জেনিফার কনেলী)" এর সাথে। দুই জনের ভাব ভালবাসা হল।একদিন হঠাত ই নিজ ক্যাম্পাসে ন্যাশ চার্ল ও তার ভাগনি মারসির দেখা পেল।ন্যাশ তাদের প্রেমের কথা চারলস কে বললএবং তাদের বিয়ে করা উচিত কিনা বলতে চার্লস তাকে উতসাহীত করল।
ন্যাশ অ্যালিসিয়ার বিয়ে হল,এবং কিছুদিন পরেই অ্যালিসিয়া প্রেগনেন্ট হল।এদিকে একদিন ন্যাশ রাশিয়ার এজেন্ট এর শুটাউটের মুখোমুখি হল,পারচার কোন মতে তাকে বাচাল। কিন্তুঅ্যালিসিয়ার কথা ভেবে ন্যাশ বিচলিত হল,অত্যন্ত বিপদজনক কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে অনুশোচনায় ভুগতে লাগল।পারচার কে সে সাফ জানিয়ে দিল যে আর কাজ করতে পারবে না,কিন্তু পারচার তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
কিছুদিন বাদে হাভারডে এক কনফারেনস এ যায় ন্যাশ। কিন্তু হঠাত ই কয়েকজন এসে তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং কাহিনি মোড় নেয় এখান থেকে। ন্যাশ যাদের কে রাশিয়ার এজেন্ট ভেবেছিল তারা ছিলেন ড রোজেন(ক্রিস্টোফার প্লামার) এর মনোচিকিতসক দল। আসলে ন্যাশ "প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া" নামক জটিল এক মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। সিজোফ্রেনিয়া কথাটি এসেছে গ্রীক "সাইজো" বা "সিজো" থেকে যার অর্থ "ভাঙ্গা" বা "টুকরা" আর "ফ্রেনিয়া" মানে হল " মন",সেই অর্থে সিজোফ্রেনিয়া মানে হল "ভাঙ্গা মন" বা " টুকরো টুকরো মন",সুইডেনের বিজ্ঞানী ইউজেন বিউওলার ১৯১১ সালে সিজোফ্রেনিয়া কথাটি ব্যবহার করেন।এই সমস্যার রোগী রা বিভিন্ন ধরনের ডিলিউশনে ভোগেন।অনেক সময় তারা একাধিক অস্তিত্ব তৈরী করেন। এবং ন্যাশের ক্ষেত্রে ও একই ঘটনা ঘটেছে। উইলিয়াম হারপার,চারলস,মারসি এগুলা সবই ছিলা তার নিজের কলপনা। অনেক সময় দেখা যায় সিজোফ্রেনিক রা নিজের কল্পিত চরিত্রে এত বেশি ঢুকে যায় তারা বাস্তবতা থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ন্যাশের ক্ষেত্রো এমন টি হয়েছিল।
ইন্সুলিন শক থেরাপী আর অ্যান্টি সাইকোটিক মেডিকেশনের পর ন্যাশ অনেক টা সুস্থ হল। এরই মাঝে ন্যাশ এর একটা ছেলে সন্তান হয়েছে।কিন্তু ওষুধ খেতে ব্যপক আপত্তি দুষ্টু ন্যাশ এর।সে বউ এর চোখে ফাকি দিয়ে ওষুধে ফাকি দিয়ে চলল এবং আবারো সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হল।আবার সে নিজেকে ইউএস ডিফেনস এর এজেন্ট ভাবতে শুরু করল ।একদিনের ঘটনা,বাইরে প্রচন্ড ঝড়।ন্যাশের বউ গেছে কাপড় তুলতে,ন্যাশ তার বাচ্চাকে গোছল করাচ্ছে।এর মধ্যেই অ্যালিসিয়া আবিষ্কার করল ন্যাশে গোপন স্টাডিতে যেখানে সে তার পাগলামি আবার শু্রু করেছে।অ্যালিসিয়া চকিতেই বুঝে যায় তার জামাই আবারো সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে এবং এক ছুটে বাথরুম এ গিয়ে দেখে ন্যাশ তার ছেলেকে বাথটাবে রেখে জানলা লাগাতে গেছে এদিকে ছেলের মরার দশা।
এরপর অ্যালিসিয়া তার মায়ের বাড়িতে চলে যেতে চায় ,এসময় ন্যাশ অ্যালিসিয়ার গাড়ির সামনে আসে এবং বলে,"আমি জানি আমি অসুস্থ কারন মারসি কখনো বড় হয় না,একই রকম ছোট ই আছে"
এরপরের অংশ টা পুরোপুরি ভালবাসার । অ্যালিসিয়া বুঝতে পারে একমাত্র ভালবাসা আর তার সাপোর্ট ই ন্যাশ কে ভাল করে তুলতে পারে,ন্যাস আবার প্রিন্সটনে ফেরত যায়।সেখানে মারটিন তখন ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর হেড। মারটিন তাকে আশ্বাস দেয় দেয় যে আবার সে টিচিং এ ফেরত যেতে পারবে। ন্যাশ আসে আস্তে তার কল্পিত চরিত্র গুলো কে ইগনোর করা শুরু করে,চালিয়ে যায় গবেষনা এর মাঝেই সে১৯৯৪ সালে পেয়ে যায় ইকোনমিক্স এ নোবেল!!
গল্পটি মূলত ভালবাসা,ত্যাগ আর সাধনার এক চমতকার মিশেলে।প্রতিটি চরিত্রের সাবলীল অভিনয় সিনেমাটিকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে ।আর তাই আইএমডিবি রেটিং টাও স্বাস্থ্যবান,৮.১
। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রতি একশ জনে একজন সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত,সেই হিসাবে বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ট রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ। তাই এদের পাগল বলবেন না,ভালবাসা দিন,সাপোরট দিন।!!!
দে আর রিয়েলি স্মার্ট অ্যাস!!!
অনীক
৭-১৮-২০১৩
©somewhere in net ltd.