| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাইবার সোহেল
আমি একজন অতি সাধারন বাংলাদেশী। আমি আমার দেশ ও দেশের মানুষকে খুব ভালবাসী। আগ্রহী যে কেউ আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন।
রাত পোহালেই সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ। কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে, এবার মনটা অন্যরকম ভারী। শুধু দেশের পরিস্থিতির কারণে না, ব্যক্তিগত কারণেও। এবার প্রথমবারের মতো বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে হবে। বাবা নেই। এই শূন্যতাটা কাউকে বোঝানো যায় না, বিশেষ করে ঈদের দিনে, যেদিন সবাই একসাথে থাকে। যাই হোক, জীবন তো চলতেই থাকে.. তাই লেখাটা লিখছি।
প্রতি বছর ঈদুল আজহা আসে আর আমরা বলি — এটা ত্যাগের ঈদ, এটা ইব্রাহিম (আ.) এর ত্যাগের স্মরণ, এটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা সেই উদ্দেশ্যটা মনে রাখি?? নাকি ঈদটা হয়ে গেছে শুধু একটা বড় পশু কেনার প্রতিযোগিতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার উৎসব আর "আমার গরুটা কত বড়" এই গর্বের আসর?? এই প্রশ্নটা প্রতি বছরই মাথায় আসে, কিন্তু এবার একটু বেশিই আসছে।
এবারের ঈদের আগে দেশে যা ঘটেছে সেটা দেখুন। পশুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারকে আলাদা করে হটলাইন নম্বর (১৬৬১১৩) খুলতে হয়েছে, মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন সবাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — "চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না।" মানে চাঁদাবাজিটা যে আছে, সেটা সবাই জানে, সরকারও জানে!! উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে শুরু করে সারাদেশের হাটে বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন — পশু বাঁধার খুঁটির জন্যও টাকা, হাটে ঢোকার জন্যও টাকা, পানি পাওয়ার জন্যও টাকা। দূরদূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা গরিব খামারি আর বেপারিরা এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতার ঘাড়ে।
গতবছরের তুলনায় এবার মাঝারি গরুতেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি, বড় গরুতে ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। দেশে তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সংসার চালাতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, আর এই অবস্থায় কোরবানির বাজারে গেলে মনে হয় পকেটে হাত দিলে কেউ টান মারছে। দাম শুনে মানুষ হাট থেকে ফিরে যাচ্ছেন — এটাই এবারের চিত্র। আরে এবারে ঈদের সময় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে নারায়নগঞ্জের আলোচিত মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার ঈদে কোরবানী হওয়ার কথা থাকলেওসরকারের হস্তক্ষেপে যার স্খান হচ্ছে চিড়িয়াখানায়..।
আর সড়কের কথা না বললেই না। ঈদযাত্রায় প্রতি বছর যেন মৃত্যুর মিছিল বের হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদযাত্রার শুরুর দিনেই পাঁচ জেলায় ১২ জনের প্রাণহানির খবর এলো, এরপরও থামেনি — ২৬ মে একদিনেই সাত জেলায় আরও ১২ জন মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার পর কয়েক কিলোমিটার যানজট। ঘরে ফেরার আনন্দ আর লাশ হয়ে ফেরা — দুটো ঘটনা একই সাথে ঘটছে এই দেশে, প্রতিটা ঈদে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালক, ভাঙা রাস্তা — এগুলো নিয়ে কথা হয় ঈদের পরে, তারপর ভুলে যাই, আবার পরের ঈদে একই কথা।
এত কিছুর মাঝে আসল প্রশ্নটায় ফিরে আসি। হযরত ইব্রাহিম (আ.) কোরবানি দিয়েছিলেন কী কারণে?? শুধু একটা পশু জবাই করার জন্য না। সেটা ছিল নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে আল্লাহর রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার প্রতীক — মনের ভেতরের লোভ, অহংকার, মমতার বন্ধন — সেগুলোকে কোরবানি করা। কিন্তু আমরা কি আসলেই সেটা করছি?? নাকি সবচেয়ে বড় গরু কিনে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েই ভাবছি কোরবানি হয়ে গেছে??
পাশের বাড়িতে হয়তো একটা পরিবার আছে যারা এবার কোরবানি দিতে পারছেন না। তাদের ছেলেমেয়েরাও ঈদের দিন মাংস খেতে চায়। কোরবানির মাংস তিন ভাগ করার যে বিধান — নিজেদের জন্য, আত্মীয়ের জন্য, গরিবের জন্য — সেটা কতজন আসলে মানছি?? এই হিসাবটা নিজে নিজে কষুন।
সব শেষে একটাই কথা বলব — এবার যাঁরা কোরবানি দিচ্ছেন, শুধু পশুর গলায় ছুরি না দিয়ে মনের ভেতরের স্বার্থপরতাটাকেও একটু কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করুন। সড়কে যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন তাঁদের জন্য দোয়া করুন। হাটের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরব হন। আর পাশের মানুষটার দিকে একটু তাকান।
সবাইকে ঈদ মোবারক। ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। ঈদ শেষে নিরাপদে যার যার কর্ম স্থলে ফিরে আসুন এটাই কামনা।

©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কোরবানির মূল শিক্ষাটা যায় কোথায় ??
................................................................
আমরা তো আনন্দ করতে এবং
টাকার শক্তি দেখাতে এই ঈদে বড় গরু
কোরবানী দেই ।
আমাদের মাঝ থেকে সহর্মমিতা , বিশ্বাস, ঈমানের রহমত
উঠে গেছে !
ভাই এটা তো জেন জি দের দুনিয়া !!!