নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

১৪৩

সাইবার সোহেল

আমি একজন অতি সাধারন বাংলাদেশী। আমি আমার দেশ ও দেশের মানুষকে খুব ভালবাসী। আগ্রহী যে কেউ আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন।

সাইবার সোহেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রতি বছরই আসে কোরবানির ঈদ , কিন্তু কোরবানির মূল শিক্ষাটা যায় কোথায় ??

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:০৬

রাত পোহালেই সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ। কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে, এবার মনটা অন্যরকম ভারী। শুধু দেশের পরিস্থিতির কারণে না, ব্যক্তিগত কারণেও। এবার প্রথমবারের মতো বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে হবে। বাবা নেই। এই শূন্যতাটা কাউকে বোঝানো যায় না, বিশেষ করে ঈদের দিনে, যেদিন সবাই একসাথে থাকে। যাই হোক, জীবন তো চলতেই থাকে.. তাই লেখাটা লিখছি।
প্রতি বছর ঈদুল আজহা আসে আর আমরা বলি — এটা ত্যাগের ঈদ, এটা ইব্রাহিম (আ.) এর ত্যাগের স্মরণ, এটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা সেই উদ্দেশ্যটা মনে রাখি?? নাকি ঈদটা হয়ে গেছে শুধু একটা বড় পশু কেনার প্রতিযোগিতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার উৎসব আর "আমার গরুটা কত বড়" এই গর্বের আসর?? এই প্রশ্নটা প্রতি বছরই মাথায় আসে, কিন্তু এবার একটু বেশিই আসছে।
এবারের ঈদের আগে দেশে যা ঘটেছে সেটা দেখুন। পশুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারকে আলাদা করে হটলাইন নম্বর (১৬৬১১৩) খুলতে হয়েছে, মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন সবাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — "চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না।" মানে চাঁদাবাজিটা যে আছে, সেটা সবাই জানে, সরকারও জানে!! উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে শুরু করে সারাদেশের হাটে বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন — পশু বাঁধার খুঁটির জন্যও টাকা, হাটে ঢোকার জন্যও টাকা, পানি পাওয়ার জন্যও টাকা। দূরদূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা গরিব খামারি আর বেপারিরা এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতার ঘাড়ে।
গতবছরের তুলনায় এবার মাঝারি গরুতেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি, বড় গরুতে ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। দেশে তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সংসার চালাতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, আর এই অবস্থায় কোরবানির বাজারে গেলে মনে হয় পকেটে হাত দিলে কেউ টান মারছে। দাম শুনে মানুষ হাট থেকে ফিরে যাচ্ছেন — এটাই এবারের চিত্র। আরে এবারে ঈদের সময় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে নারায়নগঞ্জের আলোচিত মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার ঈদে কোরবানী হওয়ার কথা থাকলেওসরকারের হস্তক্ষেপে যার স্খান হচ্ছে চিড়িয়াখানায়..।
আর সড়কের কথা না বললেই না। ঈদযাত্রায় প্রতি বছর যেন মৃত্যুর মিছিল বের হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদযাত্রার শুরুর দিনেই পাঁচ জেলায় ১২ জনের প্রাণহানির খবর এলো, এরপরও থামেনি — ২৬ মে একদিনেই সাত জেলায় আরও ১২ জন মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার পর কয়েক কিলোমিটার যানজট। ঘরে ফেরার আনন্দ আর লাশ হয়ে ফেরা — দুটো ঘটনা একই সাথে ঘটছে এই দেশে, প্রতিটা ঈদে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালক, ভাঙা রাস্তা — এগুলো নিয়ে কথা হয় ঈদের পরে, তারপর ভুলে যাই, আবার পরের ঈদে একই কথা।
এত কিছুর মাঝে আসল প্রশ্নটায় ফিরে আসি। হযরত ইব্রাহিম (আ.) কোরবানি দিয়েছিলেন কী কারণে?? শুধু একটা পশু জবাই করার জন্য না। সেটা ছিল নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে আল্লাহর রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার প্রতীক — মনের ভেতরের লোভ, অহংকার, মমতার বন্ধন — সেগুলোকে কোরবানি করা। কিন্তু আমরা কি আসলেই সেটা করছি?? নাকি সবচেয়ে বড় গরু কিনে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েই ভাবছি কোরবানি হয়ে গেছে??
পাশের বাড়িতে হয়তো একটা পরিবার আছে যারা এবার কোরবানি দিতে পারছেন না। তাদের ছেলেমেয়েরাও ঈদের দিন মাংস খেতে চায়। কোরবানির মাংস তিন ভাগ করার যে বিধান — নিজেদের জন্য, আত্মীয়ের জন্য, গরিবের জন্য — সেটা কতজন আসলে মানছি?? এই হিসাবটা নিজে নিজে কষুন।
সব শেষে একটাই কথা বলব — এবার যাঁরা কোরবানি দিচ্ছেন, শুধু পশুর গলায় ছুরি না দিয়ে মনের ভেতরের স্বার্থপরতাটাকেও একটু কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করুন। সড়কে যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন তাঁদের জন্য দোয়া করুন। হাটের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরব হন। আর পাশের মানুষটার দিকে একটু তাকান।
সবাইকে ঈদ মোবারক। ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। ঈদ শেষে নিরাপদে যার যার কর্ম স্থলে ফিরে আসুন এটাই কামনা। :)

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কোরবানির মূল শিক্ষাটা যায় কোথায় ??
................................................................
আমরা তো আনন্দ করতে এবং
টাকার শক্তি দেখাতে এই ঈদে বড় গরু
কোরবানী দেই ।
আমাদের মাঝ থেকে সহর্মমিতা , বিশ্বাস, ঈমানের রহমত
উঠে গেছে !
ভাই এটা তো জেন জি দের দুনিয়া !!!

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩১

সাইবার সোহেল বলেছেন: একদম সত্যি কথা বলেছেন ভাইজান!! আসলে আমরা কোরবানিকে কখন থেকে যেন "স্ট্যাটাস শো" বানিয়ে ফেলেছি সেটা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। বড় গরু মানেই বড় মুসলমান — এই ভুল ধারণাটা এখন সমাজের গভীরে ঢুকে গেছে। অথচ কোরআনে কত স্পষ্ট করে বলা আছে — "লান ইয়ানালাল্লাহা লুহুমুহা ওয়ালা দিমাউহা" — আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তাকওয়া, মনের নিয়ত। কিন্তু সেই নিয়তের কথা আমরা ভুলেই গেছি!!
আর জেন জি দের কথা যা বললেন — সেটাও একটা বাস্তবতা। কিন্তু আমি একটু ভিন্নমতও রাখব — জেন জি দের দোষ দিলে হবে না পুরোটা, কারণ আমরা বড়রাই তাদের শিখিয়েছি যে বড় গরু কিনলে পাড়ায় "রেসপেক্ট" বাড়ে!! আমাদের প্রজন্মই এই সংস্কৃতিটা তৈরি করেছে, জেন জি শুধু সেটা ফলো করছে আরেকটু বেশি জোরে। পরিবর্তনটা তাই শুরু করতে হবে আমাদের নিজেদের থেকেই!!

২| ২৮ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

টবগমৃুাপৃসত বলেছেন: This was such a thoughtful reflection on Eid and the real meaning of sacrifice beyond just traditions and celebrations. After reading emotional posts like this, I usually relax with Bitlife, which is a life simulation game where every choice can completely change your journey.

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০

সাইবার সোহেল বলেছেন: Well, thank you for the kind words about the post! But honestly, you and I are quite different kinds of people — I write about the meaning of sacrifice and the struggles of real life, while you relax with a life simulation game. I guess some of us live real life, and some simulate it. Thanks for stopping by though!

৩| ২৮ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১

Sujon Mahmud বলেছেন: কোরবানি বলতে গোস্তো খাওয়াই বোঝায় আধুনিক সমাজ। এর বাইরে আমি কোনো কিছু সমাজ থেকে শিখতে পারিনি

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩

সাইবার সোহেল বলেছেন: আপনি একটা তিক্ত সত্যি কথা বলেছেন ভাইজান !! সত্যিই তো — আজকের সমাজে কোরবানির মানে হয়ে গেছে বড় গরু, বেশি গোশত, ফ্রিজ ভর্তি মাংস আর পাড়ায় বিলানো। ত্যাগের যে আসল শিক্ষাটা — লোভ ছাড়া, অহংকার ছাড়া, নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা — সেটা কোথাও শেখানোই হচ্ছে না। পরিবারে না, সমাজে না, এমনকি অনেক জায়গায় মসজিদের খুতবাতেও এই কথাটা আর জোর দিয়ে বলা হয় না। আমরা একটা প্রজন্ম তৈরি করেছি যারা কোরবানির দিন সকালে উঠে প্রথমে ভাবে "এবার কত কেজি মাংস হবে" — "আল্লাহ আমার নিয়তটা কবুল করো" এই কথাটা ভাবে না। এই ব্যর্থতাটা আসলে আমাদের সবার, পুরো সমাজের...।

৪| ০১ লা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষ ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী কোরবানী দিচ্ছে না। মানুষ নিজের মন মতো নিয়ম বানিয়ে নিয়েছে।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭

সাইবার সোহেল বলেছেন: চরম সত্যি কথা বলেছেন প্রিয় ভাইজান !! কোরবানির নিয়ম তো আল্লাহ আর তাঁর রাসূল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়েছেন — কিন্তু আমরা সেটাকে নিজেদের সুবিধামতো বাঁকিয়ে নিয়েছি। শরিয়ত বলছে কোরবানির মাংস তিন ভাগ করতে, কিন্তু অনেকে পুরোটাই ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখছেন!! শরিয়ত বলছে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে, কিন্তু আমরা গরুর সাইজ দিয়ে ইমান মাপছি!! শরিয়ত বলছে সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি দিতে, কিন্তু আমরা ধার করে হলেও "বড়টাই" নিচ্ছি — পাড়ার লোক কী বলবে সেই ভয়ে!! আসলে ধর্মটাকে আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো একটা "কাস্টমাইজড প্যাকেজ" বানিয়ে নিয়েছি — যেটা সুবিধার সেটা মানি, যেটা কঠিন সেটা এড়িয়ে যাই। কথা বলেছেন!! কোরবানির নিয়ম তো আল্লাহ আর তাঁর রাসূল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়েছেন — কিন্তু আমরা সেটাকে নিজেদের সুবিধামতো বাঁকিয়ে নিয়েছি। শরিয়ত বলছে কোরবানির মাংস তিন ভাগ করতে, কিন্তু অনেকে পুরোটাই ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখছেন!! শরিয়ত বলছে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে, কিন্তু আমরা গরুর সাইজ দিয়ে ইমান মাপছি!! শরিয়ত বলছে সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি দিতে, কিন্তু আমরা ধার করে হলেও "বড়টাই" নিচ্ছি — পাড়ার লোক কী বলবে সেই ভয়ে!! আসলে ধর্মটাকে আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো একটা "কাস্টমাইজড প্যাকেজ" বানিয়ে নিয়েছি — যেটা সুবিধার সেটা মানি, যেটা কঠিন সেটা এড়িয়ে যাই। বিষটা অনেকটা ঘুষের টাকায় হজ্জ করতে যাওয়ার মতো...। বলার কিছু নাই...।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.