নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের হৃদস্পন্দনকে।।
যখন ছায়ানটের আঙিনায় আগুন জ্বলেছিল, তখনও অনেক শিল্পী নীরব ছিলেন। সেই নীরবতা আজও প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসে।

জনাব আফজাল সাহেব,
দীর্ঘ ৩৭ বছর মঞ্চে কাজ করে যা বুঝেছি- আপনি একজন শক্তিমান অভিনেতা, জনপ্রিয় শিল্পী। আপনার কণ্ঠ মানুষ শোনে, আপনার কথা মানুষ মনে রাখে। তাই শিল্পকলা একাডেমিতে বন্যার্ত মানুষের সহায়তার জন্য আয়োজিত একটি মানবিক অনুষ্ঠানে আপনার বক্তব্য শুনে আমরা বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছি।

যে মঞ্চে কথা হওয়ার কথা ছিল পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা নিয়ে,
যে মঞ্চে আহ্বান আসার কথা ছিল মানবতার পক্ষে,
সেই মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজনের ভাষা কেন?

রুনা লায়লা তাঁর গান শুরু করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে, দেশের গান দিয়ে। সেখানে ছিল ভালোবাসা, ইতিহাস, ত্যাগ আর বাংলাদেশের আত্মা।
কিন্তু সেই আবহে যখন বিভেদের কথা উঠে আসে, তখন প্রশ্ন জাগে-
শিল্প কি মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়বে, নাকি দেয়াল তুলবে?
আমরা শিল্পীদের শুধু অভিনয়, গান বা কবিতার জন্য ভালোবাসি না; ভালোবাসি তাঁদের মানবিক অবস্থানের জন্যও।
কারণ শিল্পীর কণ্ঠ যখন মানুষের দুঃসময়ে মানবতার কথা বলে, তখন সেই কণ্ঠ ইতিহাসে বেঁচে থাকে।
আর যখন মানবিকতার মঞ্চেও বিভাজনের ভাষা প্রবেশ করে, তখন কষ্ট হয়, খুব কষ্ট হয়।

বন্যার পানি একদিন নেমে যাবে, কিন্তু এই প্রশ্ন রয়ে যাবে-
মানুষের দুঃসময়ে আমরা কি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, নাকি নিজেদের বিভাজনের পাশে?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.