নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অাবদুল্লাহ

অাবদুল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেন এমন হয়?

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ২:১১

মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক, মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষের নিয়তিকে এমন ভাবে নির্ধারিত করে রেখেছেন, মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লাহ কেন এত নিষ্ঠুর? ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক অনুশাসন এবং বাবা-মা’র কঠোর নিয়ন্ত্রনের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। যখন কিছুটা বুঝতে শিখেছি, দেখতাম খুব সকাল বেলা বাবা বাসা থেকে বের হয়ে যেতেন। আরও কিছুটা যখন বুঝতে শুরু করলাম, বুঝলাম বাবা এত সকালে টিউশনি করাতে বের হচ্ছেন যদিও উনার অফিস সকাল ৯ টায়। মা’কে দেখতাম খুব হিসাব করে সংসার চালাতেন। বাবাকে কখনও নিজের জন্য কোন আবদার করতেন না। সারাক্ষন সংসার, সন্তান ও স্বামির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন। ছেলেমেয়েদের জন্য উনার ছিল কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ। সকাল বেলা বাবার জন্য নাস্তা ও অফিসের দুপুরের খাবার তৈরী করা ছিল একপ্রকার যুদ্ধ করার মত। এর পর আমাকে স্কুলে যাবার জন্য তৈরী করা। আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমাদের লেখাপড়ার পেছনে ও উনার ছিল বিশাল অবদান, আমাদের কখনও গৃহশিক্ষকের নিকট পড়তে হয়নি, আম্মাই ছিলেন আমাদের ৫ ভাইবোনের শিক্ষক। স্কুলের পড়া তৈরী থেকে শুরু করে হোম ওয়ার্ক পর্যন্ত আম্মাই তৈরী করে দিতেন এস.এস.সি পর্যন্ত।

আমাদেরকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পেছনে আমার মা’র ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ছোটবেলায় দেখতাম কমদামের রিজেক্ট শাড়ী কিনে কিভাবে টাকা সাশ্রয় করতেন। নিজের স্বাদ-আহ্লাদ কে জলাঞ্জলি দিয়ে সন্তান ও সংসারের চিন্তায় মগ্ন থাকতেন সবসময়। আমার বাবা আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন পরম মমতায়। তার আদর্শে আমাদের মানুষ করার চেষ্ঠা করেছেন আপ্রানভাবে। উনার মত সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ আমি কমই দেখেছি। যিনি কিনা তার সমগ্র জীবনে উনার মা’র কাছ থেকে মাত্র ২ টাকা নিয়েছেন। এত পরিশ্রমী একজন মানুষ যিনি নিজ চেষ্ঠায়, দৃঢ়তায়, সততায় কর্মক্ষেত্রে একজন সফল ব্যাংকার। একদম শুন্য থেকে যিনি ঢাকায় ৫কাঠা জায়গায় ৪তলা বাড়ী বানিয়েছেন, দুই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার (এক জনকে লন্ডন থেকে) বানিয়েছেন। মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে বড় মেয়েকে সুপাত্রস্থ করেছেন। এই সুদীর্ঘ পথ তিনি পরিভ্রমন করেছেন অনেক ত্যাগ ও তীতিক্ষার মাধ্যমে। তিনি ছিলেন চরম রকমের একজন সঞ্চয়ী একজন মানুষ। আর যার কারনেই আজ তিনি নিজেকে, নিজের ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজেকে সমাজের একটি অবস্থানে আনতে পেরেছেন। বাবাকে দেখেছি খুবই সস্তা দামের জামা কাপড় পরতে, কিভাবে কিছু টাকা সাশ্রয় করা যায়, সেই চেষ্ঠাই ছিল নিরন্তন। বাজার থেকে খুবই কম সময় রিক্সায় চড়ে ফিরেছেন, শুধু মাত্র সাশ্রয় করার জন্য। আজ তিনি একজন অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। বড়ছেলে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার, ছোট ছেলে লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেয়া, উনার শুখের সীমা থাকার কথা না, কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। জীবনের সায়াহ্নে এসে আজ তিনি চরমভাবে হতাশ, চিন্তা গ্রস্থ ও উদ্বিগ্ন। সকল সুখ স্বপ্নের মধ্যে আজ হোচট খেয়েছেন । যে সন্তান নিয়ে তিনি স্বপ্নের জাল বুনেছেন আজ সে বিদেশী ডিগ্রীর দাপটে বাবা, মা, ভাই, বোনদের ছেড়ে যেতেও কুন্ঠিত নয় শুধু মাত্র নিজের চাওয়াকে পূর্ণতা দিতে। বাবা-মা অনিচ্ছা থাকা সত্বেও নিজের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে ও নিজের জেদকে বজায় রাখতে আজ সে রক্তের বাধনকে ছিন্ন করতেও প্রস্তুত শুধুমাত্র নিজ পছন্দানুযায়ী বিয়ে করার জন্য। আজ তার কাছে একটি মেয়ের সংগই সবকিছু। যেখানে অসুস্থ বাবা-মা’র বাচা মরার কোন মূল্যই তার কাছে অর্থহীন। সন্তানের এহেন আচরনে বাবা-মা আজ স্তম্ভিত, হতভম্ভ ও বাকরুদ্ধ। জানিনা এই মানষীক চাপ উনারা কিভাবে সামলাবেন। চেষ্ঠা করছি তাদেরকে সান্তনা দিতে। যে ভাইয়ের জন্য নিজের বিদেশে পড়াশুনার করার জীবনের বড় ইচ্ছাকে জলাঞ্জলি দিয়েছি, আজ সে কিনা আমার চেহারাও দেখতে চায় না, শুধু মাত্র একটি মেয়ের জন্য। জানিনা বাবা-মা’র চোখের পানি ঝড়িয়ে জীবনে কেউ শুখ পেয়েছে কিনা। যে সন্তান বাবা-মা’, ভাই-বোনের রক্তের সম্পর্ক ত্যাগ করতে কুন্ঠা বোধ করেনা শুধুমাত্র নিজের জিদকে বজায় রাখার জন্য, জানিনা তার ভাগ্যে কি আছে। যে সন্তান বাবা-মা, ভাই-বোনের সংগে প্রতারনার আশ্রয় নিতে পারে, জানিনা তা’র ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার সাথে কিরকম আচরন করবে। মাঝে মাঝে অনেক ভাবি, কেন এমন হল, খুব কি বেশী আশা করেছিলাম ভাইকে নিয়ে? এত আশা করে কি খুব বেশী ভূল করেছি। বাবা-মা’র দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়, কোন দিন ভাবতেও পারিনি যার জন্য এত ত্যাগ তিতীক্ষা সহ্য করলাম আজ সে আমাদের এভাবে পর করে দিতে পারবে, আজ সে আমাদের শত্রু ভাববে। একটা দুষ্ট মেয়ে একটা পরিবারকে এভাবে ধংস করে দিতে পারে এটা কল্পনায় ও ছিলনা। সাত বছর পূর্বে যে মেয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করেছিল, যে মেয়ে দুই পরিবারকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল, সে মেয়ে আজ এভাবে প্রতিধোশ নিবে কোন দিনও ভাবিনি। জানিনা আমার ভাইয়ের জীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে। আমাদের এভাবে দুঃখ দিয়ে সে কতটুকু সুখ পাবে তা একমাত্র আল্লাহ ই ভাল জানেন। তবে তার মংগল কামনা করি সবসময়, যতই শত্রু ভাবুক না আমাকে, জানিনা তার সুখ দেখে যেতে পারব কিনা ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:০৩

ধমাধম বলেছেন: সবই আল্লার ইচ্ছা। দুঃখ কইরা লাভ কী!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.