| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নিশাচর-আমি
রাতের অন্ধকারে খুজে ফিরি তোমায়, দেখেও ও দেখিনা.....আমি সেই রাতকানা...
স্কুল জীবনে মানুষটিকে দেখলেই খুব ভয় হত। তাকে কখনও এক রাস্তায় দেখলে অন্য রাস্তা দিয়ে পালাতাম। কোথাও খেলাধুলা করতে দেখলে সোজা বাড়ি পাঠিয়ে দিত। সারাদিন শুধু পড়ালেখা ছাড়া কোন উপদেশই তার কাছে ছিলনা। তার হাতে কত যে মাইর খেয়েছি তার কোন হিসাব নাই। তার জন্য স্কুল জীবনটা কেটেছে অনেকটাই পরাধীনতার মধ্যে। মোট কথা আমার কাছে উনি ছিল বিরক্তিকর একজন। ইচ্ছে ছিল মাধ্যমিক শেষ করতে পারলে বাড়ির আশেপাশের কোন কলেজে পড়ালেখা করবনা, দূরে কোথাও গিয়ে ভর্তি হব।
মাধ্যমিক শেষ হল এবার কলেজে ভর্তি হবার পালা। অনেক ঘোরাঘুরি করে ভর্তি হলাম শহরের এক কলেজে। শুরু হল মেস লাইফ। নতুন স্বাধীন জীবন পেয়ে আমি মহাখুশী। কিন্তু শহরের যান্ত্রিক পরিবেশে সুখ আর রইল না, জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত ফটিকের মত অসহায়ভাবে কাটাতে লাগলাম। মেসের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে অসহায়ত্ব আরোও বেড়ে গেল। অসুস্থতার খরব পেয়ে তিনি ছুটে আসলেন। নিজের হাতে ডাক্তার দেখালেন, খাইয়ে দিলেন। তখন মানুষটিকে অন্যভাবে feel করতে লাগলাম। এরপর থেকে প্রতিমাসেই আমাকে দেখতে আসতেন । যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসসমূহ ও মাসের খরচার টাকা দিয়ে যেতেন।
সব ভালোই কাটতেছিল। শহরের সাথে দিন দিন পরিচিত হতে লাগলাম সেই সাথে বাড়তে লাগল আড্ডাবাজি, চলে যেতে লাগলাম পড়াশুনা থেকে অনেক দূরে। রেজাল্ট দিন দিন খারাপ হতে লাগল। রেজাল্ট এর খবর পেয়ে আবার শুরু হল দন্দ। মাসে মাসে আসা বন্ধ করে দিলেন সেই সাথে মাসের খরচার টাকাও। শুধু মা’র জন্য খরচার টাকাটা বন্ধ করে দিয়েও পারেননি।
এভাবেই শেষ হল কলেজ লাইফ। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু। ভর্তি কোচিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা চাইতেই রাগারাগি শুরু করলেন। মন খারাপ হয়ে গেল, চাকরি করার চিন্তা করতে লাগলাম। পরে আবারও মা’র সাহায্যে টাকাটা পেলাম। কিন্তু সাফ সাফ জানিয়ে দিল চান্স না পেলে টাকা দেওয়া এবার সত্যি সত্যি বন্ধ। এবার মায়ের কথায়ও কাজ হবেনা।
ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিলাম, চান্স হল। আমার প্রতি ওনি খুব খুশী। আমার সাথে এখন উনি খুব ফ্রেন্ডলি চলতে চান কিন্তু আমার কেমন যেন আনইজি feel হয়, হৃদয়ের মাঝে কেমন যেন একটা চিন চিন ব্যাথা অনুভূত হয়। ধীরে ধীরে বুঝতে পারি ওনি যা করেছেন আমার ভালোর জন্য ই করেছেন। যদিও অনেক সময় লেগেছে তারপরেও বুঝতে পেরেছি তার ভালবাসা। কাছ থেকে যখন তার কষ্টগুলো দেখি তখন আর কিছু ভাল লাগেনা। এত কষ্টের মধ্যেও যখন বলে- “তোর যেই কোন সমস্যা আমাকে বলবি, আমি যেমনেই পারি তার সমাধান করমু”, তখন হৃদয়ের চিৎকার থামিয়ে রাখতে পারিনা। বুক ফেটে কান্না চলে আসে, অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নেই।
এত রাগ , অভিমান, ভালবাসা যেই মানুষটিকে নিয়ে বলছিলাম সে আর কেউ নয়, আমার বাবা। আজকে বাবা দিবসে খুব ইচ্ছা ছিল তাকে উইস করার কিন্তু আামার পক্ষে তা সম্ভব নয়। মনের ভালবাসা মনেই থাক। বাবার কথা বলতে বলতে মনে পরে গেল কিছু কবিতার লাইন-
একটি ছেলে ঘুরে বেড়ায় কবির মতো কুখ্যাত সব পাড়ায় পাড়ায়
আর ছেলেরা সবাই যে যার স্বার্থ নিয়ে সরে দাঁড়ায়
বাবা একলা শিরদাঁড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন,কী যে ভাবেন,
প্রায়ই তিনি রাত্রি জাগেন,বসে থাকেন চেয়ার নিয়ে।
পরিশেষে, আজকের বাবা দিবস উপলক্ষে সকল বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।
©somewhere in net ltd.