নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কবি ও সম্পাদক--কুয়াশা

দ্বীপ ১৭৯২

দ্বীপ সরকার। জন্মঃ ১লা মার্চ ১৯৮১ ইং। গ্রাম-গয়নাকুড়ি। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানা। পিতা-মৃত হাবিবুর রহমান। মাতা-আলহাজ্ব আছিয়া বিবি। মুসলিম পরিবারে জন্ম। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন ১৯৯৯ ইং। সম্পাদিত লিটেল ম্যাগ, কুয়াশা। প্রকাশিত বই ৫টি। ভিন্নভাষার গোলাপজল ২০১৮। ডারউইনের মুরিদ হবো ২০১৯। ফিনিক্স পাখির ডানা ২০২০। জখমগুচ্ছ ২০২৩। বুবুন শহরের গল্প ২০২৪।

দ্বীপ ১৭৯২ › বিস্তারিত পোস্টঃ

জখমগুচ্ছ : নদীর জলে হলদে দুপুর || সৈয়দ নূরুল আলম

০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:০৯



জখমগুচ্ছ : নদীর জলে হলদে দুপুর
সৈয়দ নূরুল আলম


শূন্য দশকে সাহিত্যে, বিশেষ করে কবিতায় নান্দনিকতা ও সরলতায় আভা ছড়িয়ে যাঁরা জনপ্রিয় হয়েছেন তাঁদের মধ্যে দ্বীপ সরকার অন্যতম একজন। তাঁর কবিতায় উঠে আসে জীবনবোধ, নস্টালজিয়া, জীবনের সুখ-দুঃখ, ঘাত-প্রতিঘাত, সার্থকতা-ব্যর্থতার চিত্র। সমাজের অসঙ্গতি, মানুষে মানুষে দ্বন্দ, কলহ, হিংসা-বিদ্বেষ, দরিদ্রতার রোষানল, শোষণ, এসব বিচলিত করে কবিকে। আর এসব নিয়েই কবি কবিতা লেখেন।

এ ধরণের কবির বই যখন বের হয়, তখন পাঠক একটু ঝাড়া দিয়ে ওঠেন। প্রকাশককে খোঁজেন। এরকম একটা সংবাদ— দ্বীপ সরকারের কাব্যগ্রন্থ ‘জখমগুচ্ছ’ সম্প্রতি অনুপ্রাণন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৬৪ পৃষ্ঠায় ৫৬টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলোর চমৎকার চমৎকার নাম। যেমন- শুক্রবার, চিল, পাপফুল, সন্ধ্যা, বউ বউ খেলা, নেতা, উপকথা, চিঠি, ছায়া , বোবা ছাদ, ইত্যাদি। এসব কবিতা তার পাঠকদেরকে অতীতের ভালোলাগার মুহুর্তগুলিতে ফিরিযে নিয়ে যায়। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলি আয়নার প্রতিবিম্ব হয়ে পাঠক আরো গভীর এবং আবেগময় হয়ে ওঠে। জীবনবোধের কবিতা জাগতিক সৌন্দর্য আর মানুষের সংযোগের গভীরতা, সময়ের সাথে সাথে উদযাপিত হয়।

দ্বীপ সরকারের একটা কবিতা দেখে নিই— "অনন্ত বাবুর প্যান্টের চেন খুলে রাখার অভ্যাস| ও পথে বাতাস আর কিছু / রোদ যায় আসে। অনন্ত অফিস করে। সমুখে ফাইল, টেবিল। ল্যাপটপে/ আঙ্গুল চাপলেই নিচের দিকে ভোর নামে। শরৎ নামে। গা শিন শিন/ করে। চেনটা উদোম নাচঘর যেন (কবিতা- অনন্ত বাবু ও পাখিরা, পৃ: ১০)|’

একজন কবি প্রকৃত অর্থে বহুমুখী শব্দশিল্পী। কবি তার আবেগের বর্ণালীকে বিস্তৃত করেন, মননের চিন্তাকে উদ্দীপিত করেন। প্রেমের কবিতাগুলি আবেগের একটি জলাশয়, যেখানে রোম্যান্স এবং ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি গীতিময় হয়ে ওঠে। যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। এধরণের একটি কবিতা— ‘নিরিবিলি এক সন্ধ্যার কাছে/ আমার অনেক কথা জমা আছে/ সন্ধ্যাগুলো সে কথা রাখতে পেরেছে কিনা, জানি না/ খুব গোধূলির কাছাকাছি সময়ে/ বিনীত হাত স্পর্শ করেছিল/ তখন সন্ধ্যা সন্ধ্যা ভাব— (কবিতা- সন্ধ্যা, পৃ: ২৫)’

আবেগ এবং প্রেমের সৌন্দর্য হচ্ছে কবিতার অলঙ্কার। তাই কবিতায় যখন আবেগ এবং প্রেমের সৌন্দর্য প্রকাশ পেতে দেখা যায়, তখন সে কবিতা হয়ে উঠে মায়াময়, সর্বজনীন। দ্বীপ সরকারের কবিতা পড়লে পাঠকদের সেই উপলব্ধির দরজা একটু একটু করে খুলতে থাকে। একজন নির্ভীক শব্দকার সব সময় চান তার কবিতা পাঠ করে অন্যের মধ্যেও জেগে উঠুক কাব্যমন। সেক্ষেত্রে অবিচ্ছিন্ন সততার সাথে তিনি মূল্যায়ন করেন প্রতিটা শব্দের ব্যবহার, বাক্যের তাৎপর্য।
কবির মধ্যে জেগে থাকা নৈঃশব্দ্য, মনোজগতের হর্ষ বিষাদ, নৈস্বর্গীক সৌন্দর্য এসব কবিতার অবয়ব নিয়ে যখন পাঠকের চেতনায় ফুটতে থাকে জ্বলন্ত নক্ষত্র হয়ে, তখন সেই কবিতায়,পাঠকের একটা ভালোলাগার জায়গা তৈরি হয়। পাঠক কবিতায় মগ্ন হন সহজাত ভাবে। এটাই কবির কৃতিত্ব। যার সবটাই দ্বীপ সরকারের কবিতায় উপস্থিত। প্রায় প্রতিটি কবিতাই আমাদের আপন বলয়ের মধ্য থেকে উঠে এসেছে। সেকারণে কবিতাগুলো পাঠান্তে অনুরণন থাকে বহুক্ষণ। এধরণের একটা কবিতা, ‘নববঁধু সুইয়ে সুতো ভরাতে গিয়ে আঙুলে ফোঁড় দেয়/ সুইটা সুতো না দেখে, দ্যাখে আঙুল/ নববঁধু কাঁদে—’(কবিতা- কুসংস্কার, পৃ: ৩২)| এখানে নববঁধু এবং সুই অতপ্রতভাবে জড়িয়ে বাঙালির জীবনে। তবে সুইটা সুতো না দেখে, দ্যাখে আঙুল— এটাই কবিত্ব। এটাই দ্বীপ সরকারের বিশেষত্ব।

একথা অস্বীকারনকরার কোনো কারণ নেই, জীবন স্বীকৃত কবিতা লেখার জন্য পর্যবেক্ষণের গভীর অনুভূতি থাকতে হবে, পাশাপাশি মানুষের জটিল জীবনকে পড়ার জন্য গভীর উপলব্ধি থাকতে হবে। তাই পর্যবেক্ষণ বলি, আর উপলব্ধি বলি, মননের গভীরতা থেকে যার কবিতার প্রতিটি অক্ষর অনুরণিত হতে দেখা যায় তিনিই জাত কবি। আর দ্বীপ সরকারকে এধরণের একজন কবি বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। অভিনন্দন কবিকে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:২৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নববঁধু সুইয়ে সুতো ভরাতে গিয়ে আঙুলে ফোঁড় দেয়/ সুইটা সুতো না দেখে, দ্যাখে আঙুল/
নববঁধু কাঁদে—’(কবিতা- কুসংস্কার, পৃ: ৩২)|

........................................................................................................................
কবিতায় কাব্য ফুটে না উঠলে
তা আর কবিতা কি করে হবে ?
তখন বর্তমান প্রচলিত গদ্য
বা অনু পদ্যর আকার ধারন করবে ।
..........................................................................
শুভেচ্ছা থাকল, জখমগুচ্ছ : নদীর জলে হলদে দুপুর এর
পর্যালোচনা দেবার জন্য ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.