| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পৃথিবীর অন্য দেশে ইকমার্স আর পেয়মেন্ট গেটওয়ে অনেক আগে পরিচিতি পেলেও আমাদের দেশে তা সম্পূর্ণ নতুন। তাই অনেকের এই বিষয় ধারনা কম আবার অনেকে রয়েছে ভুল ধারনা।
বাংলাদেশের পেয়মেন্ট গেটওয়ে পরিস্থিতিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালে পেয়মেন্ট গেটওয়ে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর বেশ কিছু পেয়মেন্ট গেটওয়ে প্রোভাইডার তাদের ব্যাংক পার্টনারদের সাথে নিয়ে পেয়মেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস চালু করে। এই পর্যন্ত ৪ টি পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী চালু আছে যারা সরাসরি পেয়মেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস দেয় যার মধ্যে আমাদের তুফান পে উল্লেখযোগ্য। এই পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি গুলো নানা রকম ভেরিফিকেশন আর বিশাল ইনভেস্টমেন্ট এর পর অনুমতি লাভ করে। এর বাইরে আরো কিছু সাব পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী আছে যারা এই ৪ টি কোম্পানির রেসেলার।
এবার আসুন ই কমার্সে কেন পেয়মেন্ট গেটওয়ে দরকার ?
ই কমার্সে সাইটে পেয়মেন্ট নেবার জন্য পেয়মেন্ট গেটওয়ের বিকল্প নেই। ক্যাশ অন ডেলিভারীতেও অনেক সমস্যা আছে যেমন ধরুন ক্লায়েন্ট ভুয়া অর্ডার দিল অথবা তার ঠিকানা ভুয়া এই ক্ষেত্রে আপনার ডেলিভারী খরচ লসের খাতায় গেল। কিন্তু পেয়মেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারে এই সমস্যা নেই। ক্লায়েন্ট অর্ডার সাথে সাথে তাকে পেয়মেন্ট করতে হবে। আর ক্লায়েন্ট এর ঠিকানা ভুল দিলেও পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানীর সহায়তায় ক্লায়েন্ট এর ব্যাংক একাউন্টে দেয়া ঠিকানায় আপনি ডেলিভারি করতে পারবেন। আর ক্লায়েন্ট এর ব্যাংক/কার্ড তথ্য আরো নিরাপদ। ক্লায়েন্ট এর ব্যাংক/কার্ড তথ্য আপনার কাছেও থাকবে না, পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানির কাছেও থাকবে না। ক্লায়েন্ট আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানির সার্ভারে ভেরিফিকেশন নিয়ে ব্যাংক এর সার্ভারে চলে যাবে। ক্লায়েন্ট কে সেখানেই পেয়মেন্ট দিতে হবে এবং কনফার্ম করতে হবে। পেয়মেন্ট কমপ্লিট হলে ক্লায়েন্টকে আপনার সাইটে রিডাইরেক্ট করা হবে ।
আপনি আপনার কন্ট্রোল প্যানেল থেকে দেখতে পাবেন যে ক্লায়েন্ট আপনাকে পেয়মেন্ট করেছে এবং অর্ডার করেছে। সে অনুযায়ী আপনি ডেলিভারী করে দিবেন। সেই কন্ট্রোল প্যানেল এর রিপোর্ট অনুযায়ী আপনি পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানীকে জানালে আপনার ব্যাংক একাঊন্টে আপনার টাকা পাঠিয়ে দেয়া হবে।
যে কেউ কি পেয়মেন্ট গেটওয়ের জন্য আপ্লাই করতে পারে ?
হ্যা অবশ্যই। তবে ব্যাংক এর নির্দেশনা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে কিছু ধাপ পার করতে হবে আবেদনকারীকে। তাই আবেদনকারীকে ভেরফিকেশন এর জন্য কিছু পেপার জমা দিতে হবে-
১) আপডেটেড ট্রেড লাইসেন্স এর কপি
২) আপডেটেড টিন সার্টিফিকেট এর কপি
৩) প্রতিষ্ঠানের মালিকের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও বৃত্তান্ত
এর বাইরে সাইটে কিছু ডকুমেন্টস ও নীতিমালা থাকতে হবে যা পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী আপনাকে সাহায্য করবে।
এই পেপার গুলো ভেরিফিকেশন হতে ব্যাংক ও পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী ৩ দিন সময় নিবে আর ভিসা, মাস্টার কার্ড এর ভেরিফিকেশন এর ক্ষেত্রে ১৫ দিন সময় নিবে। এই ১৫ দিন পর আবেদনকারী সাইন আপ ফিস জমা দিয়ে পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানীর সাথে এগ্রিমেন্টর মাধ্যমে পেয়মেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস পেয়ে যাবে।
আরো জানুন-
পেয়মেন্ট গেটওয়ে সেটআপ এবং মেন্টেন্যান্সে বিপুল খরচের কারনে সব কোম্পান্য।এক কালীন সাইন আপ এবং মাসিক ফি নিয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি ট্রানজেকশনে একটা কমিশন নিয়ে থাকে যা ব্যাংক, পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি এবং ক্লায়েন্ট যে ব্যাংক এর কার্ড ব্যবহার করেছে সেই ব্যাংক এর মধ্যে শেয়ারিং হয়। পেয়মেন্ট নিয়ে পেয়মেন্ট গেটওয়ে কোম্পানীর প্রতারনার কোন সুযোগ নেই। আপনি পেয়মেন্ট না পেলে ব্যাংক এ অভিযোগ জানালে ব্যাংক ব্যবস্থা নিবে । আর এখানে প্রতিটি স্তরে ব্যাংক এর টেকনিক্যাল টিম মনিটর করে থাকে।
ব্যক্তিগতভাবে আমার একটা ই-কমার্স সাইট আছে সেখানে আমি 2fun pay (http://www.2funpay.com) এর পেয়মেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করছি। তাই তাদের একটি প্যাকেজ এখানে তুলে ধরলাম।
তুফান পে র উদ্যোক্তা অফারঃ
2fun pay Payment gateway উদ্যোক্তাদের জন্য এককালীন সাইন আপ ফি পাচ হাজার টাকা এবং কোন মাসিক ফি ছাড়াই দিচ্ছে পেয়মেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস। সেই সাথে দিছে একটি ফ্রী ই কমার্স শপিং সাইট যেটা দিয়ে কেনা বেচা করা যাবে অতি সহজে। আর তুফান পে এককালীন সাইন আপ ফি পাচ হাজার টাকা পেয়মেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস এক্টিভেট হবার পর নিবে। এছাড়া তুফান পে দিচ্ছে এক বিশেষ অফার যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানীর নাম সহ পাবে প্রি পেইড কার্ড। এই কার্ড এ ব্যাংক এর মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করা যাবে আবার এ টি এম বুথ থেকে টাকা তোলাও যাবে, অনলাইনে শপিং করা যাবে। এই কার্ড উদ্যোক্তাদের ব্র্যান্ডিং ইমেজ বাড়িয়ে দিবে বহুগুন। আরো বিস্তারিত তাদের সাইটে - http://www.2funpay.com
বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে ই-কমার্স এর হাওয়া। এর সঠিক ব্যবহার আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
©somewhere in net ltd.