নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মুহাম্মদ এনামুল হক আপনাদেরই লোক

ঢাকার লোক

বাংলা ভালোবাসি

ঢাকার লোক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমেরিকান জীবন

২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

গত সপ্তাহে এক আত্মীয়র বিয়েতে গিয়েছিলাম। কনে বাংলাদেশী বাবা মার আমেরিকায় জন্ম নেয়া বাঙালি, বর সাদা আমেরিকান। সমবয়সী, দুজনের বয়সই বাইশ বছরের মত। বর ইসলাম গ্রহণ করেছে দুই তিন বছর হয়েছে, এ মেয়ের সাথে পরিচয় হওয়ার আগেই। আলাপ করে জানলাম ইসলাম সম্বন্ধে পড়া শোনা করে ভালো মনে হওয়ায় বুঝে শুনেই সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এবং এখন সে একজন প্রাক্টিসিং মুসলমান।
বিয়েতে তার বাবা মা সহ দাদা এবং নিকটাত্মীয়দের সাথেও আলাপ পরিচয় হলো, সবাইকে দেখলাম স্বতঃস্ফূর্ত, অনিন্দিত, উচ্ছল। ছেলের আসল বাবা মা ডিভোর্সড, পরে দুজনই আবার বিয়ে করেছেন, তাই দুই জোড়া বাবা মা। চার জনই এসেছেন এবং সবাইকে দেখলাম সমভাবে খুশি এবং অনুষ্ঠানে ছেলে এবং ছেলের বৌকে অত্যন্ত উচ্ছাসের সাথে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
একজন বাংলাদেশী মুসলমান হিসাবে বড় হওয়া আমার চোখে এখানে দুটো বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রথমত আঠারো বিশ বছরের একটা ছেলে নিজ ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করাকে তার পরিবার যতটা সহজ ভাবে নিয়েছে, তেমনি একজন ভিন দেশি, ভিন্ন কালচারে বড় হওয়া একজন বৌকে নিজেদের পরিবারভুক্ত করাকেও তেমনি সহজ এবং স্বাভাবিক হিসাবেই নিয়েছে। কারো বিন্দুমাত্র বিরক্তি বা অসহযোগ নজরে আসেনি। দ্বিতীয়ত, ছেলের আসল মা ও তার বর্তমান স্বামী এবং আসল বাবা ও তার বর্তমান স্ত্রী ছেলের বিয়েতে সমভাবে উচ্ছসিত ! সবাই এক টেবিলে বসে গল্প করা, ডিনার করা, ছেলে ছেলের বৌকে অভিনন্দন- শুভেচ্ছা জানানো, হাগ্ করা, সবই দেখলাম সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক, যা আমাদের সমাজে অনেকটাই অকল্পনীয়।
আমেরিকান সমাজে এ বিষয়টা সম্বন্ধে আমি আগে থেকেই কিছুটা ওয়াকেবহাল, অনেকদিন আগে আমার পরিচিত এক মহিলা কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ছেলেবেলায় উনার দুই জোড়া বাবা মা থাকায় অন্য যাদের একজোড়া বাবা মা, ক্রিসমাসে তাদের চেয়ে বেশি উপহার পেতেন ! আমার এক সহকর্মী প্রতিবছর থাঙ্কসগিভিং এর ছুটিতে এক বাবা মার বাড়ি বেড়াতে যান, আর ক্রিসমাসের ছুটিতে যান ভিন্ন শহরে আরেক বাবা মার বাড়ি। এতো বছরেও এ নিয়মের ব্যাতিক্রম ঘটেনি কখনো ! কোথাও পড়েছিলাম প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন সৎ বাবার প্রতি তার অসীম কর্তৃজ্ঞতা জানাচ্ছেন, কেননা তার মায়ের একটা বিপদের সময়ে তিনিই তাকে দিয়েছেন আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা, যা না হলে তিনি নিজেও হয়তো এ প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সমর্থ হতেন না !

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বিপদের সময়ে তিনিই তাকে দিয়েছেন আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা,
.........................................................................................................
আত্নীয় ছাড়াও আমাদের প্রতিবেশীকে সহায়তা করাটা মানবিকতা
যা আমরা ভূলতে বসেছি, বাঙালী জাতির সেই মানবিক মূল্যবোধ
ফিরিয়ে আনার কাজ করতে হবে ।

২| ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.