| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২৫ মার্চ , ১৯৭১
রাতে সমস্ত ঢাকা শহরে কারফিউ জারি করা হলো।" অপারেশন সার্চলাইট" -- এর নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়া হলো ২৫ মার্চের রাতকেই।রাত গভীর হতেই নীলখেত হয়ে একের পর এক ভারী অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান প্রবেশ করতে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
আক্রমনের প্রথম লক্ষ্যবস্তু হয় জগন্নাথ হল।হলের ভিতরে ঢুকেই পাক হানারা নির্বিচারে গুলি শুরু করে আবাসিক ভবন গুলোকে লক্ষ্য করে।তারপর সব রুমে রুমে গিয়ে গুলি করে,বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে হলের আবাসিক ছাত্রদেরকে।হত্যা করা হয় হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরকে। কয়েকজন ছাত্রকে বাঁচিয়ে রাখা হয়,মৃত লাশ বহন করে এনে কবর দেওয়ার জন্য।গনকবর রচিত হয় জগন্নাথ হল উত্তর বাড়ির সামনে , সেখানেই বাকিদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।তারপর শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, জহুরুল হক হল,রোকেয়া হলে হামলা চালায় পাক হানাদারবাহিনী। সেই রাতে আনুমানিক ৩০০ জন শিক্ষক,ছাত্রছাত্রী,কর্মচারীকে হত্যা করা হয়।
ভয়াল সে কালো রাতের নির্মমতা আজো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাতাসকে ভারী করে তোলে।গনকবরে শায়িত সেই সব অগ্রজদের মায়েরা হয়ত আজও ছেলে বাড়ি ফিরবে এই আশায় পথ চেয়ে আছে।হয়তবা কেউ আজো তার ছেলের চিঠি আসবে বলে প্রতিদিন পোষ্টমাষ্টারের দ্বারে দাঁড়ায়ে থাকে।কেউবা আজও ছেলের পছন্দের সব খাবার রান্না করে অধীর অপেক্ষায় বসে থাকে।আমার খোকা কখন আসবে?? বলে ডুকরে কেঁদে ওঠে।কান্নার সে করুণ সুর আজও হাহাকার ধ্বনি হয়ে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই,বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি সেই সব অগ্রজদের।তোমাদের আত্মত্যাগ আমরা কোনদিন ভুলবো না।
©somewhere in net ltd.