| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডলুপূত্র
গ্রামেতে জন্ম আমার বাঁচায় নগর! সারাদিন পথে পথে ধোঁয়া-ধুলো খাই সন্ধ্যায় অফিসে বসের বকা-ঝকা খাই মাঝরাতে বাসায় ফিরে বউয়ের মুখ ঝামটা খাই অবশেষে ক্ষুধাহীন পেটে ঠান্ডা ভাত খেয়ে সামুতে লুকাই।
শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে সাংসদদের দু'রকম তথ্য
6.32%
গড় রেটিং:
রেটিং :
Bookmark and Share
সজল জাহিদ
সংসদ সদস্যরা নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপারে একেক জায়গায় একেক তথ্য দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে 'সাংসদের জীবনবৃত্তান্তে' প্রকাশিত অনেকের তথ্যে চমকপ্রদ গরমিল রয়েছে। অন্তত তিন ডজন সদস্য পাওয়া গেছে, যারা হলফনামায় দেওয়া তথ্যের চেয়ে নিজেদের বেশি 'শিক্ষিত' বলেছেন।
ইতিমধ্যে সংসদ সচিবালয় সব সদস্যের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে। সংকলন প্রকাশের জন্য স্পিকারের অনুমোদন চেয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। সাংসদদের জীবনবৃত্তান্তের সংকলন সংসদ থেকে প্রকাশিত হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুই রকম তথ্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সিনিয়র সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীও। আছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নামও। তা ছাড়া দুটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও আবদুল মোমিন তালুকদার, সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং
হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদও একইভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার দুই রকম তথ্য দিয়েছেন। এই তালিকায় হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, মোজাহার আলী প্রধান, মোঃ মকবুল হোসেন, এমএ জব্বার, মোঃ মতিউর রহমান, সৈয়দ মহসিন আলী, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মুঃ জিয়াউর রহমান, মোঃ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, শেখ আফিল উদ্দিন, রণজিত কুমার রায়, মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, একেএম রহমতুল্লাহ, শামসুল হক চৌধুরী এবং মোস্তফা কামাল পাশার নামও রয়েছে।
অষ্টম শ্রেণী পাস করা কিশোরগঞ্জের মোঃ আফজাল হোসেন ও ভোলার আবদুল্লাহ আল ইসলাম। পিরোজপুর-১ আসনের একেএমএ আউয়াল হলফনামায় বলেছিলেন, সার্টিফিকেট হাতে না থাকায় তথ্য দেওয়া গেল না। এখন বলছেন, তারা এইচএসসি পাস। বরিশাল-২ আসনের মোঃ মনিরুল ইসলাম ১৯৬৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাস করেছেন বলে তথ্য দিয়েছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বাইরে সাংসদরা তাদের জীবনবৃত্তান্তের সংকলনে নানা চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তবে নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১০ জন মাধ্যমিক স্তর পেরোতে পারেননি। ১৫ জন মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে আর এগোতে পারেননি। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৩০ জন। অধিকাংশ সাংসদ স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া নির্বাচনের হলফনামায় নিজেকে 'স্বশিক্ষিত' উল্লেখ করেন। সংসদের জন্য তার দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে বলা হয়েছে, 'দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন।' এর আগে অষ্টম সংসদের সংসদ সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তের সংকলনেও তিনি একই তথ্য দেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এই তথ্য খালেদা জিয়ার অফিস থেকে পেয়েছেন তারা। চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে যথেষ্ট বিতর্ক এবং হাস্যরসের সৃষ্টি করেন। হলফনামায় তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে লেখেন 'নাই'। '৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বর্তমানে গ্রেফতার থাকা এই সাংসদ জীবনবৃত্তান্তে সংসদকে জানিয়েছেন, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি। তার আগে পাঞ্জাবের সাদিক পাবলিক স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ছয়বারের এই সাংসদ।
মন্ত্রীদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা দুই রকম পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হলফনামায় জানান, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পর্যন্ত। তবে জাতীয় সংসদের জীবনবৃত্তান্তের সংকলনে তিনি নিজেকে এমএ পাস উল্লেখ করেন। এর আগে ২০০৫ সালে সংসদ থেকে সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তের যে সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল সেখানেও তিনি নিজেকে এমএ পাস হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনও হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি উল্লেখ করেন। মাদারীপুর-১ আসনের এই সদস্য এখন বলছেন, সৈয়দ বজলুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ১৯৮৬ সালে বিকম পাস করেন তিনি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু তার হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ষষ্ঠ শ্রেণী উল্লেখ করেন। সংসদকে তিনি জানিয়েছেন, 'তিনি ম্যাট্রিকসহ বিবিএ (অ্যাসোসিয়েট) ডিগ্রিপ্রাপ্ত।' নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তখন ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা হতো। একদিনের নোটিশে শিক্ষাগত সনদ জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। সে কারণে বাধ্য হয়ে তখন ষষ্ঠ শ্রেণী উল্লেখ করেছেন।
চট্টগ্রামের আরেক সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরীও হলফনামায় উল্লেখ করা শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে এখন নিজেকে বেশি শিক্ষিত দাবি করছেন। হলফনামায় তিনি এইচএসসি পাস উল্লেখ করেন। এখন সংসদে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে বলছেন, '১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামের মসজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭৯ সালে একই কলেজ থেকে বিকম ডিগ্রি অর্জন করেন।'
পাবনা-৪ আসনের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু তার নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ম্যাট্রিকুলেশন বলে উল্লেখ করেন। এখন সংসদকে জানিয়েছেন, '৬২ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস করেন। এ বিষয়ে সমকালকে তিনি বলেন, কেউ কেউ তো 'স্বশিক্ষিত' লিখেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। আর এত পুরনো সার্টিফিকেট কোথায় পাব? সব উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে। বোর্ডে যোগাযোগ করেও এর কোনো কাগজ পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সাংসদ এমএ জব্বার সংসদকে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে বিএ পাস বলে জানিয়েছেন। হলফনামায় নিজেকে এসএসসি পাসের বেশি দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে সমকালকে তিনি বলেন, বিএ পাস করেননি ঠিক। তবে ঢাকা থেকে বিএ পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
হলফনামায় ঢাকা-১০ আসনের সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ নিজেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস দাবি করেন। এখন সংসদকে তিনি জানাচ্ছেন, তিনি একজন গ্র্যাজুয়েট। এ বিষয়ে সমকালকে তিনি বলেন, '৭১ সালে বিএ পরীক্ষা দিলেও পরে যুদ্ধে চলে যান। সে কারণে পরে আর সার্টিফিকেট জোগাড় করতে পারেননি।
রংপুর-১ আসনের হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের হলফনামায় বলা আছে, তিনি এসএসসি পাস। সংসদকে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করেছেন, ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাসের পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।
হলফনামায় এসএসসি উল্লেখ করা হলেও বগুড়া-৩ আসনের সাংসদ আবদুল মোমিন তালুকদার ১৯৬৭ সালে এসএসসির পর '৭০ সালে নওগাঁর বিএমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন বলে জানিয়েছেন।
পাবনা-৩ আসনের মকবুল হোসেনের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বলা হলেও সংসদে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে তিনি দাবি করছেন, ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাস করার পর ১৯৬৯ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। একইভাবে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সৈয়দ মহসিন আলীর হলফনামায় এসএসসি শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা হলেও সংসদের জীবনবৃত্তান্তে তিনি দাবি করেছেন, ভারতের কলকাতা থেকে তিনি 'এমবিএ ডিগ্রিপ্রাপ্ত' হয়েছেন। কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে উল্লেখ করেছেন। সংসদের জীবনবৃত্তান্তে তিনি জানান, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর মুরাদনগর মুজাফফর উলম মাদ্রাসা থেকে টাইটেল ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
জাতীয় পার্টির ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে 'আইকম' উল্লেখ করেন। সংসদে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে তিনি জানান, '৬৬ সালে বিএ পাস করেন তিনি। হলফনামায় উচ্চ মাধ্যমিক উল্লেখ করলেও যশোর-১ আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন বলছেন, পরে আয়ারল্যান্ডের ওয়েস্ট কোস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। যশোর-৪ আসনের রণজিত কুমার রায় জানান, তাড়াহুড়ার কারণে সার্টিফিকেট জোগাড় করতে না পারায় হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিএসসি ডিগ্রিধারী।
বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য স্বল্পশিক্ষিত হলেও হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছিলেন সংসদেও একই তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার সুলতানা তরুণ এবং সারাহ বেগম কবরী হলফনামায় নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী উল্লেখ করলেও পরে তার কোনো পরিবর্তন করেননি। কবরী সংসদকে দেওয়া তার জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী থাকা অবস্থায় চলচ্চিত্রে অভিনয় পেশায় জড়িয়ে পড়ায় আর পড়াশোনা করা হয়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে পেশাগত কারণেই কবরী অনেক পড়াশোনা করেছেন বলে জানা গেছে।
সাংসদদের আটজন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসির চেয়ে কম উল্লেখ করেছেন। মাধ্যমিক পাস উল্লেখ করেছেন ১৫ জন। ডিপ্লোমা পাস করেছেন আটজন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ২৬ জন। বিএ বা স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন ১১১ জন। মেডিকেল ডিগ্রি নিয়েছেন ১১ জন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন ১১৪ জন। এর বাইরে পিএইচডি ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছেন সাতজন।
Click This Link
©somewhere in net ltd.