নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আিক

মুক্তির দূর্বার সৈনিক জাগ্রত জনতা আমরা।।

আিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

২২ফেব্র“য়ারী থেকে সীতাকুণ্ডে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

২২ফেব্র“য়ারী থেকে সীতাকুণ্ডে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা।



হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান সীতাকুণ্ডে ২২ফেব্র“য়ারী থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা। মেলা হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মুলত ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দেশ বিদেশ থেকে লাখ লাখ লোকের সমাগম হতো বিধায় কালক্রমে এটি মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। পরিণত হয়েছে একটি সার্বজনীন উৎসবে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অগণিত নারী-পুরুষের শিশু-কিশোরের পদচারণায় সীতাকুণ্ড মুখরিত হয় এই সময়ে। যাত্রা, সার্কাস, পুতুল নাচ, বুক ষ্টল,হস্তশিল্পসহ হরেক রকম বস্তুর সমারোহে এক ভিন্নরূপ আসে সীতাকুণ্ডে। সংসারত্যাগী সন্যাসীদের জপ-তপ-সাধনা প্রভৃতিতে প্রেমতলা থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিরাজ করবে একটি অন্যজগত। সব কিছু মিলিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই ঐতিহাসিক মেলা সীতাকুণ্ডকে দান করেছে ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়।







তীর্থস্থান এবং পথ নির্দেশক

বড়বাজার পূজা মন্ডপঃ সীতাকুণ্ড বাজার হতে পূর্ব দিকে মন্দির সড়ক হয়ে আনুমানিক ১৫০ গজ সামনে বাম পার্শ্বে বড় বাজার পূজা মন্ডপ।

বটতলী কালী মন্দির ঃ বড় বাজার কালীমন্দির মাকে দর্শন করে মন্দির সড়ক হয়ে আনুমানিক ১৫০ গজ সামনে এলে রাস্তার বাম পার্শ্বে বটতলী কালী মন্দির।



ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির ঃ বটতলী কালী মন্দির থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে রেললাইন পেরিয়ে আনুমানিক ১০০ গজ সামনে এলে রাস্তার বাম পার্শ্বে ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির ।



ভোলানন্দ গিরি সেবাশ্রম ঃ ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির সংলগ্ন মন্দির সড়কের উত্তর দিকে আনুমানিক ৩০০ গজ পথ অতিক্রম করলে ভোলনন্দ গিরি সেবাশ্রম দেখা যাবে। শারদীয়া দুর্গোৎসব, শ্যামা পূজা ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসযাত্রা উৎসব সহ বিভিন্ন পূজা এবং শ্রীমৎ স্বামী ভোলানন্দ গিরি মহারাজের আবির্ভাব ও তিরোধান তিথি সাড়ম্বরে উদ্যাপিত হয়ে থাকে। শিব চতুর্দশী তিথিতেই এই মহাপুরুষ পূণ্যভূমি চন্দ্রনাথ তীর্থে শুভাগমন করেন এবং আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে তীর্থ যাত্রীদের থাকারও সু-ব্যবস্থা আছে।



কাছারী বাড়ী ঃ ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির হতে পূর্বদিকে আনুমানিক ২০ গজ সামনে রাস্তার বাম পার্শ্বে কাছারী বাড়ী। পূর্বে এটি তীর্থ গুরু মোহান্ত মহারাজের কাছারী ছিল।



শনি ঠাকুর বাড়ী ঃ কাছারী বাড়ী হতে মন্দির সড়ক হয়ে সামনের দিকে আনুমানিক ২০০ গজ গেলে রাস্তার বাম পার্শ্বে শ্রী শ্রী শনি ঠাকুর বাড়ী।



প্রেমতলা ঃ শনি ঠাকুর বাড়ী হতে আনুমানিক ২০০ গজ পথ সামনে এগুলে রাস্তার ডান পার্শ্বে চোখে পড়বে প্রেমতলা। সাধু, সন্যাসী ও বৈষ্ণবদের মিলন ক্ষেত্র হচ্ছে এ প্রেমতলা। এখানে ত্রিনাথ ঠাকুরের মন্দির, শীতলা বাড়ী ও সার্বজনীন পূজা মন্ডপ অবস্থিত।



শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রাহ্মচারী সেবাশ্রম ঃ প্রেমতলা হতে পূর্বদিকে আনুমানিক ৪০০ গজ সামনেই রাস্তার বাম পার্শ্বে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম। ত্রিকালদর্শী, মহাযোগী, ব্রহ্মজ্ঞ ব্রহ্মচারী লোকনাথ বাবা ১৩৩ বৎসর বয়সে শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ দর্শন শেষে লোকহিতের জন্যে সমতলে অবতরণ করেন। লোকনাথ আশ্রমের পাশেই মগধেশ্বরী সেবাখোলা অবস্থিত।



শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ঃ সেবাখোলা থেকে পূর্বদিকে আনুমানিক ২০ গজ সামনে রাস্তার বামপার্শ্বে শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম অবস্থিত।



গিরিশ ধর্মশালা ঃ রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের পার্শ্বে মন্দির সড়কের বামে গিরিশ ধর্মশালা অবস্থিত। তীর্থ যাত্রীদের থাকার সুবিধার্থে কুমিল্লার স্বর্গীয় মহেশ ভট্টচার্য্য তাঁর অভিভাবকের নামে এই ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে তীর্থ যাত্রীদের থাকার সু-ব্যবস্থা আছে।



দোল চত্বর ঃ গজারিয়া দীঘির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে দোল চত্বর। এখানে প্রতি বছর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা উৎসব মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।



এন,জি,সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস ঃ তমাল বৃক্ষ সংলগ্ন এবং মোহন্ত আস্তানার প্রবেশ পথের ডান পার্শ্বে এ যাত্রী নিবাস অবস্থিত। এখানে তীর্থযাত্রীদের থাকার সুব্যবস্থা আছে। ধর্মপ্রান, দানশীল ব্যক্তিত্ব শ্রী ননী গোপাল সাহা মহোদয় এটা নির্মাণ করে দেন।



তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা ঃ গজাড়িয়া দীঘির পূর্বপাড়ে বিশাল এলাকায় বৃক্ষরাজী শোভিত মনোরম স্থানে এটি অবস্থিত। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ তীর্থ, মহেশখালীর আদিনাথ তীর্থ এবং কাঞ্চননাথ তীর্থের তীর্থগুরু মোহান্ত মহারাজের আস্তানা এটি। উল্লেখিত তীর্থাদি এবং সম্পত্তির পরিচালক-সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রধান কার্যালয়ও এখানে অবস্থিত।



বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি ঃ মোহন্ত আস্তানা হতে বের হয়ে উত্তর দিকে আনুমানিক ১০ গজ সামনে গেলে চোখে পড়বে বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি। শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ ইংরেজিতে তাঁর মাকে নিয়ে চন্দ্রনাথ দর্শনে এসে এখানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এর পরেই প্রস্তাবিত সত্যনারায়ন কমপ্লেক্স, অদ্বৈতানন্দ সেবাশ্রম ও অনুকুল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রমের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।



জগন্নাথ আশ্রম ঃ বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি হতে সামনের দিকে ২০/২৫ গজ গেলে জগন্নাথ আশ্রম। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয়।

জগন্নাথ মন্দিরের ডান পার্শ্বে শ্রী শ্রী চন্ডী মন্দির অবস্থিত।



ব্যাসকুণ্ড ঃ জগন্নাথ আশ্রমের কিছুদূর পথ পুর্ব দিকে গেলেই ব্যাসকুণ্ড। পুরাকালে এই স্থানে মহামুনি ব্যাসদেব ঋষিগণসহ অশ্বমেধ মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন। স্বয়ং মহাদেব ব্যাসের তপস্যার স্থানে ত্রিশূল নিক্ষেপ করে এই কুণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। পুর্বে এই কুণ্ডটি ৪ হাত পরিমিত ছিল। পধাদি তীর্থযোগে এক সঙ্গে অনেক লোক øান করতে অসুবিধা হত বিধায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে øানার্থীর সুবিধার্থে ব্যাসকুন্ডকে ব্যাস সরোবরে রূপান্তরিত করা হয়। এ কুণ্ড øানে গঙ্গাøানের ফল ও শিবত্বলাভ এবং তর্পণ করলে অশ্বমেধযজ্ঞ ফল , পিতৃলোক মুক্তি ঘটে। ব্যাসকুণ্ডের পশ্চিম পাড়ে ভৈরব মন্দির অবস্থিত। ভৈরব মন্দিরের মধ্যে ব্যাসেশ্বর শিব ভৈরব, ব্যাসদেব ও চণ্ডিকা মায়ের মুর্তি স্থাপিত আছে।

শংকর মঠ ঃ ভৈরব মন্দিরের সামনে সড়কের বামপাশে ছোট পাহাড়ের উপর শংকর মঠ ও মিশন অবস্থিত। এখানে গীতাভবনে অহোরাত্র ব্যাপী অখন্ড গীতাপাঠ চলছে। গীতাভবন ছাড়াও এখানে সংস্কৃত কলেজ, অনাথ আশ্রম, দাতব্য চিকিৎসালয় আছে।



শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ঃ শংকর মঠ হতে আনুমানিক ২০ গজ সামনে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির । এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি আছে।



মহাশ্মশান ঃ নারায়ন ছত্র হতে কিছুদূর পূর্বদিকে গেলে রাস্তার বাম পাশে মহাশ্মশান। এখানে মন্দিরে শ্রী শ্রী শ্মশানকালী মায়ের মূর্তি আছে।



সৎসঙ্গ ঃ মহাশ্মশানের সামনে রাস্তার ডান পার্শ্বে ছোট পাহাড়ের উপর যুগ পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী ঠাকুর অনকুল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত।



সীতাকুণ্ড ঃ হনুমান মন্দিরের সামনে থেকে নীচের দিকে আনুমানিক ২০/২৫ খানা সিঁড়ি অতিক্রম করলে সীতাকুণ্ড। সীতাদেবীর øান নিমিত্ত এবং মানুষ পবিত্র হবার জন্য মহামুনি ভার্গব এই মনোহর কুন্ড সৃষ্টি করেন। এ কুন্ডে øান করে সীতাদেবী শ্যামবর্ণা অষ্টভূজা হয়েছিল। যে কোন কেউ ভক্তিতে এই কুণ্ডে øান করিলে পূণজম্ম হবে না। সীতাকুণ্ডের সামনে শ্রী শ্রী সীতা মায়ের মন্দির। এখানে অষ্টভূজা সীতা মায়ের মূর্তি আছে।



রাম ও লক্ষণকুণ্ড ঃ সীতাকুণ্ড হতে কিঞ্চিৎ দক্ষিণ দিকে গেলে সামনে রাম ও লক্ষণকুণ্ড চোখে পড়বে।



ভবানী মন্দির ঃ হনুমান মন্দির হতে আনুমানিক ৩০/৪০ খানা সিঁড়ি অতিক্রম করলে ডান পাশে শ্রী শ্রী ভবানী মন্দির। এখানে চতূর্ভূজা দেবী ভগবান পীঠাধিষ্ঠত্রী ভবানী রূপে বিরাজিত। এরপর জ্যোতির্ময় ও নহবতখানা।



স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ঃ ভবানী মন্দির হতে সামনের দিকে ২৫/৩০ খানা সিঁড়ি অতিক্রম করলে চারদিকে উঁচু পাহাড় এবং মাঝখানে একটুখানি সমতল ভূমি। এখানেই রয়েছে শ্রী শ্রী স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির । অষ্টশক্তি অষ্টমূর্তি সহিত এ অনাদি শিব লিঙ্গ ত্রিলোকে দূর্লভ। মানবকুল তাঁকে দর্শন করে সকল পাপ হতে মুক্ত হয়ে ধনধান্য, স্ত্রী-পুত্রাদি, ঐশ্বর্য সুখ-ভোগাধিসানে শিবত্ব লাভ করতঃ আর পুনঃ জন্ম গ্রহণ করেনা। পূণ্যপ্রদ স্বয়ম্ভুলিঙ্গ দর্শনে সকল তীর্থ দর্শনের ফল। স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির চত্বরে রয়েছে শ্রী শ্রী নব ভৈরব মন্দির, হরগৌরী শিব মন্দির, অন্নপূর্ণ মন্দির, নারায়ণ মন্দির, ভগবান বিষ্ণুর শালগ্রাম শিলা এবং অন্নপূর্ণা বাসুদেব, রাম-লক্ষণ সীতা’র মূর্তি রয়েছে।



গয়াক্ষেত্র ঃ স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির হতে পূর্বদিকে সামান্য গিয়ে রাস্তার বাম পাশে ৪০/৫০ খানা সিঁড়ি নীচের দিকে নামলে পর্বত মধ্যে পাদ গয়াক্ষেত্র। এখানে পিতৃ ও মাতৃকূলের উদ্ধার কল্পে শ্রাদ্ধ ও পিন্ডদান করতে হয়।



জগন্নাথ মন্দির ঃ স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির হতে পূর্বদিকে ১০/১২ খানা সিঁড়ি অতিক্রম করলে রাস্তার ডানপাশে মনোহর বাগান ও পূষ্পদ্যানলকৃত স্থানে শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠিত। এখানে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠিত।



মন্দাকিনীর একটি ধারা ( ঝর্না ) ঃ জগন্নাথ মন্দির হতে চন্দ্রনাথ যাওয়ার পথে আনুমানিক ১৩/১৪শ ফুট সামনে গেলে চোখে পড়বে চন্দ্রনাথ পর্বতের মধ্য হতে অঝোড় ধারায় অজস্র জলধারা কুলকুল রবে নেমে আসছে মন্দাকিনীর এই স্রোতটি যেন স্বয়ম্ভুনাথের সাথে মিলিত হওয়ার আশায়, দেবাদিদেবের পাদমূল ধৌত করার বাসনায় ছুটে আসছে। এই বিশুদ্ধ জলে স্বয়ম্ভুনাথের সেবা পূজাদি নির্র্বাহ হয়ে থাকে। বাম দিকের সিঁড়িটি হতে ছত্রশিলা, কপিলা আশ্রম, ঊনকোটি শিব মন্দির ও বিরুপাক্ষ মন্দির এবং পাতালপুরী যাবার রাস্তা হয়ে চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত চলে গেছে। আর ডান পাশের রাস্তাটি সরাসরি চন্দ্রনাথ মন্দিরে চলে গেছে। মূলতঃ চন্দ্রনাথ থেকে নামার রাস্তা। তীর্থযাত্রীরা বাম পাশের সিঁড়ি দিয়ে যাবেন।



বিরুপাক্ষ মন্দির ঃ দো-সিঁড়ি হতে আনুমানিক অর্ধ মাইল বাম দিকের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে বিরুপাক্ষ মন্দির। এখানে বিশ্বরূপ বিরুপাক্ষ শিব বিরাজিত। মহাস্থান বিরুপাক্ষ মন্দিরে উপনীত হলে লীলামায়ের আনন্দলীলা দর্শন হয়।



পাতালপুরী ঃ বিরুপাক্ষ মন্দির হতে শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার পথে কিছুদূর গেলে রাস্তার বাম পাশে নিুদিকে প্রায় ১ মাইল পথ অতিক্রম করে পাতালপুরী যাওয়া যায়। এখানে গভীর অরণ্য মধ্যে মন্দাকিনী প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে হরগৌরী, দ্বাদশ শালগ্রাম, বিশ্বেশ্বর শিব, পাতালকালী, অষ্টবসু, রুদ্রেশ্বর শিব, গোপেশ্বর শিব, পঞ্চানন শিব, পাতালগঙ্গা ও অন্যান্য বহু দেব-দেবী দেখা যায়। ভোলানাথ এখানের গৌরীকে নিয়ে শিলাময় একাসনে আড়ম্বরহীন ভাবে উপবিষ্ট।



চন্দ্রনাথ মন্দির ঃ বিরুপাক্ষ মন্দির হতে আনুমানিক আধ মাইল পথ পার্বত্য রাস্তা ও সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে সর্বোচ্চ পর্বত শিখরে শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত। এখানে চন্দ্রনাথ শিবলিঙ্গ বিরাজিত। চন্দ্রনাথ দর্শনে স্পর্শনে শিবলোক প্রাপ্তি হয়। সমুদ্রপৃষ্ট হতে এ মন্দির প্রায় ১২/১৩ শত ফুট উঁচু। চন্দ্রনাথ শৃঙ্গে আরোহণ মাত্রই পথশ্রমের সব কষ্ট, শ্রান্তি, গ্লানি দূর হয়ে যায়। মন্দির মধ্যস্থ অসংখ্য ত্রিপত্র কুসুম বেষ্টিত চন্দ্রনাথের প্রশান্ত স্থির মূর্তি দর্শনে মন আনন্দিত হয়।

বাড়বকুণ্ড তীর্থ

জ্বালামুখী কালী মন্দির ঃ সীতাকুণ্ড বাজার বা রেল ষ্টেশন হতে সড়ক পথে অথবা রেল পথে ৩ মাইল দক্ষিণে বাড়বকুণ্ড, যেখান থেকে পূর্ব দিকে ৩/৪ মিনিট পথ অতিক্রম করলে রাস্তার ডান পাশে জ্বালামুখী কালী মন্দির । মন্দিরে কালী মায়ের নিমকাঠের মূর্তি বিরাজিত।



বাড়বানল বা বাড়বকুণ্ড ঃ জ্বালামুখী কালী মন্দিরে মাকে দর্শন করে পূর্বদিকে পার্বত্যপথে আনুমানিক ১ মাইল পথ অতিক্রম করলে নিবিড় কাননের মধ্যে বাড়বকুণ্ড এই মন্দিরটি দ্বিতল। এর নিুস্তরে বাড়বকুণ্ডে বাড়বানল জ্বলছে দিবস রাত্রি অবিরাম।



বাসীকুণ্ড ঃ বাড়বকুণ্ড মন্দিরের দক্ষিণ পাশে বাসীকুণ্ড, বাড়বকুণ্ড øান করার আগে প্রথমে বাসীকুণ্ডে øান করতে হয়ে।



কাল ভৈরব মন্দির ঃ বাড়বকুণ্ডের কিঞ্চিৎ দক্ষিণে কালভৈরবে মন্দির।



অন্নপূর্ণা মন্দির ঃ বাড়বকুণ্ডের কিঞ্চিৎ উত্তরে অন্নপূর্ণা মন্দির।



জগন্নাথ মন্দির ঃ বাড়বকুণ্ডের নাট-মন্দিরের সামান্য পশ্চিমে জগন্নাথ মন্দির। মন্দিরের মধ্যে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মূর্তি বিরাজিত।

লবনাক্ষ তীর্থ

লবণাক্ষকুণ্ড ঃ সীতাকুণ্ড বাজার হতে সড়ক পথে উত্তর দিকে ৩ মাইল গেলে ছোট দারোগারহাট বাজার। এখান থেকে দেড়মাইল পথ পূর্বদিকে গেলেই লবণাক্ষকুণ্ড। এই কুণ্ডের উত্তরে বাসীকুণ্ড। এখানে প্রথমে øান করে পরে লবণাক্ষকুণ্ডে øান করতে হয়। এই কুণ্ডের জল খুবই লবণাক্ত।

ব্রহ্মকুণ্ড ঃ লবণাকুণ্ড হতে পার্বত্য পথে কিছুদুর পূর্বদিকে গেলে অনুচ্চ পর্বত শৃঙ্গোপরি- স্বাভাবিক উষ্ণজল বিশিষ্ট ‘বহ্মকুণ্ড’। এখানে øান ও তর্পন করলে ব্রহ্মলোক প্রাপ্তি হয়।



সূর্য্যকুণ্ড ঃ ব্রহ্মকুণ্ড হতে কিছু উত্তর দিকে গেলেই রাস্তার উত্তর পাশের কুন্ডটি সূর্য্যকুণ্ড।

সহস্রধারা ঃ ব্রহ্মকুণ্ড হতে সিকি মাইল পথ পূর্বদিকে গেলে লীলা মায়ের অপূর্ব সৃষ্টি ‘সহস্রধারা’। এই সহস্রধারা দর্শনে পাপতাপ পীড়িত হৃদয় শান্ত হয়। এই সহস্রধারার স্বর্গীয় মন্দাকিনী-গঙ্গা-সরস্বতী একত্রিত হয়ে ৪০০ ফুট উঁচু পর্বত শৃঙ্গ থেকে অজস্রধারায় পতিত হচেছ।

কুমিরা তীর্থ

কুমারীকুণ্ড ঃ সীতাকুণ্ড হতে সড়ক পথে বা রেলপথে দক্ষিণ দিকে ৯ মাইল কুমিরা বাজার বা রেলস্টেশন। এখান থেকে পূর্ব দিকে পার্বত্য রাস্তায় কিছুদূর গেলে ‘‘কুমারীকুণ্ড’’। কুন্ডটি চার হাত পরিমিত। দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টা ১০ হাত পরিমান জায়গায় অগ্নিশিখা জ্বলছে।



এ মহাতীর্থে ত্রেতা যুগে রাম-সীতা-লক্ষণ এসে অনাদি স্বয়ম্ভুলিঙ্গ দর্শন করে অভিষ্ঠ সিদ্ধ করেছেন। ভূূচর, খেচর, সিদ্ধ, সুর, অসুর, স্বয়ম্ভু লিঙ্গ দর্শন মানসে এখানে আসে। এ মহাতীর্থে কেউ দেহ ত্যাগ করলে তার শিবচরণ প্রাপ্তি ঘটে। চন্দ্রশেখরাশ্রিতরা অমরত্ব পায়। ত্রিজগতবাসীর কামনা শ্রীচন্দ্রশেখরে দেহ ত্যাগ হোক। এ মহাতীর্থ দর্শনেই কাশী, প্রয়াগ, ভুবনেশ্বর, গঙ্গাসাগর, গঙ্গা ও নৈমিষারণ্য দর্শনের ফল লাভ হয়।





আরো বিস্তরিত জনতে চাইলে কিংবা মেলা উপভোগ করতে চাইলে যোগােযাগ করুন:



লিটন কুমার চোং-(প্রথম আলো প্রতিনিধি- সীতাকুন্ড) ০১৭১১৩০৬৬৩৮



আমি ত আছিই।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫০

পান্হপাদপ বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ লেখা।মেলায় যাব আশাকরছি।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৯

আিক বলেছেন: স্বাগতম...........

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০১

কুমারী শ্রীধন্যা গোস্বামী বলেছেন: মেলায় গেলে ছবি দেবেন দাদাভাই ৷

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৮

আিক বলেছেন: আমার সর্বচ্চ চেষ্টা থাকবে...........

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.