| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একুশ আমার অহংকার ২
কোনো দলের দালালি নয়, আমি মুক্তযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারন করে মেহনতি আর সাধারন মানুষের দালালি করি
গত কয়েকদিন টিকফা চুক্তি নিয়া দেশে বিশাল কেরিক্যাচা লাইগা আছে। তাই গত কয়েকদিন টিকফা নিয়া একটু স্টাডি করলাম। এরপর থিকা মাথা পুরা আউট হইয়া আছে। আমি অল্প শিক্ষিত মানুষ। বড় বড় জিনিষপত্র বুঝি না। কিন্ত তারপরে ও যা বুঝলাম বাংলাদেশের মানুষ'রে ফতুর বানাইতে এই চুক্তির কোনো বিকল্প নাই।
আমি আইটি সাইডের লোক তাই খালি আইটি সেক্টরের কথাই কিছুই বলি। গত কয়েকবছরে বাংলাদেশ যে কয়েকটা সেক্টরে বিশাল ডেভেলপমেন্ট হয়েছে তার মধ্যে আইটি সেক্টর অবশ্যই ফার্ষ্টের দিকে থাকবে। কারণ গত কয়েক বছরে আইটি সাইডে যে কাজ হয়েছে স্পেশিয়ালী তরুণ প্রজন্মের যে মুভমেন্ট তা আসলেই অসাধারণ।
এখন কথা হচ্ছে আইটি'তে টিকফা চুক্তির রোলটা কি?
খুব রাফ ল্যাংগুয়েজে টিকফা চুক্তির একটা ফিচার হল এই চুক্তি সাইন হলে আমেরিকা চাইলেই বাংলাদেশে ঢুইকা নীলক্ষেতের ফটোকপি বই কিংবা আইডিবির ৩০ টাকা দামের সফটওয়্যারের সিডির অ্যাগেইনষ্টে লিগাল অ্যাটেম্পট নিতে পারে। অর্থাৎ তখন এইসব প্রোডাক্টের ক্র্যাক আমরা ইউজ করতে পারব না। টাকা দিয়ে কিনতে হবে এবং যেই অ্যামাউন্ট লাগবে তা অনেকের ইনকামের দ্বিগুণের ও বেশি।
কই জানি একটা রাফ হিসাব পড়লাম যে ওডেস্ক, ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার এইসব সাইটের ফ্রিল্যান্সাররা এবং বিভিন্ন আইটি ফার্মের মাধ্যমে প্রতিবছর কয়েক মিলিয়ন ডলার আমাদের দেশে আসছে। বিভিন্ন কারণে ডলারের প্রাইজ যেভাবে বাড়ার কথা ছিল এই আইটি সেক্টরের ইনকামের ফলে ঐটা অনেকটাই ব্যালেন্স হয়ে গেছে।
বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ আর মিডল ইষ্টের সফটওয়্যার, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মার্কেটপ্লেসটা পুরাটাই বাংলাদেশের দিকে মুভ করছিল। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অনেক ভাল কোয়ালিটির কাজ করে এটা একটা রিজন হলে ও মেইন রিজন হচ্ছে এদেশ থেকে কাজ করালে টাকা কম লাগে। যার কারণে বিজনেস পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বিচার করলে আউটসোর্সিং এর মার্কেটটা আস্তে আস্তে আমাদের অনুকুলে চলে আসছিল।
এখন কথা হচ্ছে আমরা কিভাবে এত চীপে সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারি। অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা হচ্ছে উন্নত দেশগুলার তুলনায় কম স্যালারিতে এখানে লোক পাওয়া যায়। সেই সাথে ইনভেষ্টমেন্ট কষ্ট ও কম। অন্যান্য কারণের সাথে অনেক বড় একটা কারণ আমরা চাইলে ৩০ টাকার সিডি কিনে আর টরেন্ট থেকে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কিনে কাজ করে ফেলতে পারি।
এই মূহুর্তে যদি টিকফা চুক্তি একজেকিউট হয় তাহলে চাইলেই আমেরিকা সব অফিসে আইটি প্রোডাক্টের লাইসেন্স চেক করতে পারবে। একটা অফিসের প্রত্যেকটা কম্পিউটারে নিচের মত করে এক্সট্রা এক্সপেন্স মালিককে ফেস করতে হবে।
> উইন্ডোজঃ ১৪০০০ টাকা
> মাইক্রোসফট অফিসঃ ৩২০০০ টাকা
> অ্যান্টিভাইরাসঃ ৫০০০ টাকা
> ডেভেলপার টুলঃ ২৫০০০ টাকা (গড়)
এইটা একদম বেসিক হিসাব। আরো অনেক খরচ তো আছেই। কিন্তু শুধু এই হিসাবেই প্রতি কম্পিউটারে গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বেড়ে যায়। অর্থাৎ একটা ছোট অফিসে ও যদি চিন্তা করি তাহলে ১৫ টা পিসি থাকবে অ্যাটলিষ্ট। সেক্ষেত্রে ও ১০ লাখ টাকা উপরে ইনভেষ্ট বেড়ে যায়। আবার এগুলার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য পার ইয়ার একটা কষ্টিং তো আছেই। সেই সাথে অন্যান্য জিনিষের দাম বাড়ার কারণে স্যালারি ও বাড়াতে হবে। নাহলে এমপ্লয়ী ধরে রাখা পসিবল না।
সো আল্টিমেটলি যেটা হবে আগের মত চীপে আর সার্ভিস প্রোভাইড করা আমাদের পক্ষে পসিবল হবে না। তখন খুব নরমালি'ই আমাদের ক্লায়েন্ট অলটারনেটিভ খুজতে থাকবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় কমপিটেটর ইন্ডিয়া, পাকিস্তান আর ফিলিপাইনের কাছে মার্কেট মুভ করার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
এর ফলে আগামীতে বাংলাদেশের আইটি সেক্টরে একটা বিশাল ক্র্যাশ আসবে। ফরেন কারেন্সির যে ব্যালেন্সটা হচ্ছিল সেটা ও নষ্ট হবে। মোটকথা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তো আমরা হবই তারচেয়ে বড় প্রবলেম হবে দেশের একটা সেই রকম ফিউচার ওয়ালা ইন্ডাষ্ট্রি চোখের সামনে পুরাই ধ্বংস হবে।
এর মানে নিউজপেপারের হেডলাইন থেকে হারিয়ে যাবে অনেকগুলো সাফল্যের গল্প।
যেমনঃ
"আউটসোর্সিংয়ে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ"
"ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামিং কন্টেষ্টে আবারো বাংলাদেশের সাফল্য"
"ওডেস্কের নেক্সট সেমিনার বাংলাদেশে"
ইত্যাদি, ইত্যাদি।
দেশের পাটশিল্প গেল, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ফলে গার্মেন্টস বিশাল থ্রেটের মধ্যে আছে, চোখের সামনে ইলিশ জামদানির পেটেন্ট ইন্ডিয়ার কাছে গেল, বাংলাদেশ ক্রিকেটেও ফিক্সিং তথা ধ্বংসের গন্ধ, রামপাল হলে সুন্দরবন ও যাবে এবং এখন যদি সিরিয়ালে আইটি সেক্টরটাকে দেখি তাহলে ক্যামন লাগে?
খালি কথাই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করেঃ দেশকে রক্ষা করা মানে তো নিজেকেই রক্ষা করা, দেশকে উন্নত করা মানেই নিজেকে উন্নত করা। এই বুদ্ধিটা আমাদের কবে হবে, নাকি কখনোই হবে না?
"একজন অসহায় নিরপেক্ষ বাংলাদেশী মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো"
(Collected)
©somewhere in net ltd.