নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রবাসী পণ্ডিত

কাজের কাজ তেমন কিছু পারি না... ভালোবাসি ঘুরে বেড়াতে আর ক্রিকেট খেলতে।লেখালেখির হাত তেমন ভালো না...তবু শখে লিখি।

প্রবাসী পণ্ডিত

কাজের কাজ তেমন কিছু পারি না... ভালোবাসি ঘুরে বেড়াতে আর ক্রিকেট খেলতে।লেখালেখির হাত তেমন ভালো না...তবু শখের বসে লিখি।

প্রবাসী পণ্ডিত › বিস্তারিত পোস্টঃ

হৃদয়ে হুমায়ূন আহমেদ

১৯ শে জুলাই, ২০১৩ ভোর ৪:৪৪

"ফাহিম, হুমায়ূন আহমেদ এর 'হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম' এই বই টি পরেছিস।", আমার মামাতো ভাই জুম্মা আমাকে প্রশ্ন করলো।

- না।

- ধুর! তাইলে কি পরেছিস এতদিন ধরে?

- ভাই, আমার এইসব বই-টই পরতে ভাল লাগেনা। কি সব হাবিজাবি লিখে এরা। মানুষের লেখা জিনিস, আমার পরতে ভাল লাগে না।

- তুই কি করে বুঝবি এই বই এর মূল্য? তুই কি কোনদিন, কোন গল্পের বই পড়েছিস নাকি?

- না পড়িনি তবে, আমি নিশ্চিত বলতে পারি এরা যা লেখে সব হাবিজাবি লেখে।

- ভাই তুই না পরলে নাই, কিন্তু দয়াকরে হুমায়ূন আহমেদ এর লেখালেখি নিয়ে কোন কথা বলবি না।

- ঠিক আছে বলব না।



এর কিছু দিন পরে হুমায়ূন আহমেদ মারা গেলেন। বাংলাদেশের প্রতিটা টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হল তার মৃত্যুর খবর, তার ছোটবেলা, তার পড়াশুনা, তার লেখালেখি, তার ছবি পরিচালনা সবকিছু। আমি তা দেখে কিছুটা অনুপ্রাণিত হলাম। পরক্ষনে ভাবলাম, "একবার পরেই দেখিনা, কেমন লিখতেন তিনি?" যেই ভাবা সেই কাজ, জুম্মার কাছ থেকে হুমায়ূন আহমেদ এর কিছু বই চেয়ে নিলাম। ও প্রথমে দিতে না চাইলেও পরে আমার জোরাজুরি তে দিতে রাজি হল। কিন্তু দেবার আগে সে আমাকে বলল, " তুই না এইসব বই-টই পড়িস না, আবার বই পরতে চাচ্ছিস কেন?"

- আগে পড়তাম না, কিন্তু এখন পড়ি।

- কোন বই কি এর আগে পড়েছিস তুই?

- হুম।

- কোন বই?

- অনিক ভাই এর ফুপার লেখা একটা বই। খুব দুঃখের গল্প।

- ওকে, এই নে পড়ে আমাকে জানাস, কেমন লাগলো।

- ঠিক আছে।



আমি মনোযোগ দিয়ে পরপর ২ দিন ধরে হুমায়ূন আহমেদ এর ৩ টি বই পরলাম। সে বই গুলো হল- 'নন্দিত নরকে', ' বিপদ' এবং 'হিমু'। বইগুলো পড়ার সময় আমার অনেক ভাল লাগছিল। এক পৃষ্ঠা পড়ার পরে আরেক পৃষ্ঠা পড়তে ইচ্ছা করছিল, কেমন যেন নেশার মত মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যে সম্পূর্ণ বই না পরলে বেধ হয় অনেক কিছু মিসস করে ফেলব। বইগুলো পড়া শেষ হলে আমি জুম্মার কাছে যাই বইগুলো ফেরত দিতে। তখন জুম্মা আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, "কেমন লাগলো বইগুলো পড়ে?" আমি বললাম, " ভাই আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে ক্ষমা করে দে।"

- কেন তুই না বলেছিলি, সবই নাকি হাবিজাবি।

- ভাই বললাম তো সরি।

- ওকে, তোর ভুল ভেঙেছে তাতেই আমি খুশি।

- ধন্যবাদ।



এর পরথেকে আমি নিয়মিত হুমায়ূন আহমেদ এর বই পড়া শুরু করে দিলাম। প্রতিটা বই পড়ার পর আমার ইচ্ছা হত হুমায়ূন স্যার এর সাথে দেখা করতে, কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছেন। আমার আফসছের সীমা থাকল না। হুমায়ূন স্যার এর বই পড়ার পর থেকে আমার জীবন যেন একদম বদলে গেলো। কিভাবে হাসতে হয়, কাদতে হয়, জিবনকে উপভোগ করতে হয় আমি নতুন করে শিখেছি তাঁর লেখা বই পড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি যেন হিমু, আবার মাঝে মাঝে মনে হয় আমিই মনে হয় মিছির আলী। মানুষটা আমার হৃদয়ে কত সহজেই জায়েগা করে নিয়েছে তা আমি আপনাদেরকে বলে বোঝাতে পারবোনা। আমার সারা জীবনের আফসছ থেকে গেলো যে আমি তাঁর সাথে দেখা করতে পারলাম না। একবার একুশে বইমেলায় গিয়ে তাঁর সিগনেচার সহ বই কিনতে পারলাম না।



আজ হুমায়ূন আহমেদ এর মৃত্যুবার্ষিকী, আসুন আমরা সকলে মিলে আল্লাহ্‌র দরবারে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ্‌ যেন তাকে জান্নাত নছিব করেন।(আমীন)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.