নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এলেম হাসিলে কিতাবের সাথে হিকমাত ও চল্লিশ বছরের সম্পর্ক কি?

১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ৬৮ কালাম, ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪। তুমি অবশ্যই মহান (সর্বোত্তম) চরিত্রে অধিষ্ঠিত।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।

সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ করতে)।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।

* সর্বোত্তম চরিত্রে অধিষ্ঠিত রাসূলকে (সা.) আল্লাহ পশুপালন ও ব্যবসায় হিকমাত শিক্ষা দেওয়ার পর কোরআন (কিতাব) ও বাইয়ান শিক্ষা দিলেন চল্লিশ বছর বয়সের পর।সুতরাং উত্তম চরিত্র, হিকমাত শিক্ষা ও চল্লিশ বছরের অনুপস্থিতি কিতাবের এলেম হাসিলের অপাত্র বিবেচিত হবে।আর অপাত্রে এলেম হাসিলে এর উপকার লাভ হয় না।

সূরাঃ ২ বাকারা,৩১ নং থেকে ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩১। আর তিনি আদমেকে (আ.) সব জিনিসের নাম শিখালেন। তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে হাজির করলেন। তারপর বললেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আমাকে এসব বস্তুর নাম বলে দাও।
৩২। তারা বলেছিলো, আপনি মহান পবিত্রময়। আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এর বাইরে আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব জ্ঞানী, মহাকৌশলী।
৩৩। তিনি বললেন হে আদম! তুমি তাদেরকে ঐসবের নাম বলে দাও!এরপর যখন সে তাদেরকে ঐগুলোর নাম বলে দিলো, তখন তিনি (আল্লাহ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয়ই আমি আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানি। আর তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আমি তাও জানি।

সূরাঃ ৭ আ’রাফ, ১৯ নং থেকে ২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৯। হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর।আর যা খুশী খাও। আর এ গাছের কাছে যেও না।তাহলে তোমরা যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।
২০। অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা তাদের নিকট গোপন রাথা হয়েছিল তা’ তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল। আর সে বলল, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও, অথবা এখানে স্থায়ী হয়ে যাও সেজন্য তোমাদের রব এ গাছ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।
২১। সে তাদের নিকট কসম করে বলল, আমিতো তোমাদের নছিহতকারীদের একজন।
২২। এভাবে সে তাদেরকে ধোকা দিয়ে নীচু করল।তৎপর যখন তারা সে বৃক্ষফলের মজা গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল।আর তারা নিজেদেরকে জান্নাতের পাতা দ্বারা আবৃত করতে লাগল।তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছের কাছে যেতে মানা করিনি? আর আমি কি বলিনি যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন?

* হিকমাতের শিক্ষাছাড়া চল্লিশ বছরের পূর্বে আল্লাহ নিজে হযরত আদমকে (আ.) এলেম শিক্ষা দেওয়ার পর আল্লাহ তিনি শয়তানের ধোকায় পড়েছিলেন। সুতরাং অপাত্রে এলেম হাসিলে এর উপকার লাভ হয় না এটা প্রমাণিত সত্য। কারণ কৃষি হিকমাত শিক্ষা এবং চল্লিশ বছরের পর আল্লাহ তাঁকে কিতাব শিক্ষা দেওয়ার পর তিনি আর শয়তানের ধোঁকায় পড়েননি।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

* রাসূলের (সা.) ছাত্র হযরত আবু বকর (রা.) ব্যবসায় হিকমাত, হযরত ওমর (রা.) সামরিক হিকমাত ও হযরত ওসমান (রা.) ব্যবসায় হিকমাত লাভের পর চল্লিশ বছরের পর দশ বছরের বেশী সময় রাসূলের (সা.) নিকট কিতাব শিখে আলেম হয়েছেন। তাঁরা পরস্পর মতভেদ থেকে আত্মরক্ষা করে খেলাফতের ঐক্য ধরে রাথতে সক্ষম হয়েছেন। যারা তাঁদের সাথে মতভেদ করেছে তারা রাসূলের (সা.) চল্লিশ বছরের বেশী বয়সি ছাত্র ছিল না। তারাও তাঁদের সাথে মতভেদ করলেও বিভেদ করেননি। আর হযরত ওসমানের (রা.) সাথে যারা মতভেদ করেছে তারা মোটে রাসূলের ছাত্রই ছিল না। সেজন্য তারা জাহেল ছিল। তারা হযরত ওসমানকে (রা.) হত্যা করে কাফের হয়ে গেছে। কারণ তিনি আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত। আর আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্তের উপর অসাহাবী অস্ত্রধারণ করলে তারা কাফের হয়। সাহাবী (রা.) সাহাবীর (রা.) উপর অস্ত্র ধারণ করলে তাঁরা আল্লাহর ক্ষমার কারণে কাফের না হয়ে মুমিন থাকেন।হযরত আলী (রা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলের (সা.) চল্লিশের কম বয়শি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা পরস্পর মতভেদে লিপ্ত হয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়েছেন এবং এসব যুদ্ধে হাজারে হাজারে মুসলিম নিহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে যারা অসাহাবা তারা সাহাবার (রা.) উপর অস্রধারণের অপরাধে কাফের হয়েছে। কারবালায় যারা সাহাবী হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) উপর অস্ত্রধারণ করেছে তারা কাফের হয়েগেছে। তারা তাদের প্রিয় নবির (সা.) প্রিয় নাতির মাথাকেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়। রাসূলের (সা.) চল্লিশের কম বয়শি শিক্ষার্থী খলিফা হযরত আলী (রা.) খেলাফতের ঐক্য ধরে রাখতে সক্ষম হননি। তাঁর সময়ে খেলাফতে বিভেদ তৈরী হয়।সুতরাং এলেম হাসিলে কিতাবের সাথে হিকমাত ও চল্লিশ বছরের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। উক্ত নিয়ম ছাড়া কেউ মোটে আলেম হয় না, আল্লামা ও শায়েখ হওয়া বহু দূরের কথা। কারণ আলেম তাকে বলে যে তার এলেম অনুযায়ী আমল করে। আলেম, আল্লামা ও শায়েখেরা মূলত আলেম, আল্লামা ও শায়েখ হওয়ার মিথ্যা দাবীদার। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।আর সে মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম। এরা মুসলিম জাতিকে মতভেদে ডুবাবে। ঐক্য নষ্ট করবে আর তাদেরকে আল্লাহ জাহান্নাম দিবেন না এটা হয়স না। সাহাবার মতভেদে ক্ষমা থাকলেও এদের তো ক্ষমা নাই। তাহলে এরা জাহান্নাম থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে? প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে গিয়ে মুনাজাতে এদের কতিপয় হাত তুলেছে এবং কতিপয় হাত তোলেনি। কি বিচ্ছিরি কান্ড! এরা কত বড় জাহেল। কোরআন অনুযায়ী যারা হাত তোলেনী তারা জাহেল। কারণ সেই বৈঠকে হাত তোলায় ইজমা ছিল। ইজমা কোরআন স্বীকৃত। এর পরিবর্তে হাদিস বাতিল হয় বিধায় জাহেল লোকদের হাদিস দিয়ে ইজমা নষ্ট করা ঠিক ছিল না। আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে আরো অনেক কোরআনের আয়াত আছে। সুতরাং পরিবেশ নষ্টকারী জাহেল লোকদের পক্ষ নেওয়ার সুযোগ নাই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.