নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৮)

১০ ই মে, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬



সূরাঃ ১৮ কাহফ, ১ নং থেকে ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন। আর উহাতে তিনি বক্রতা রখেননি।

* কোরআনে আল্লাহ বক্রতা রাখেননি। অথচ কোরআনের বাহাত্তর দল অনুসারী বক্র পথের পথিক। এর মানে হলো তারা মসে করছে তারা কোরআন মানে, কিন্তু তারা বাস্তবে কোরআন মানে না।

সূরাঃ ১৮ কাহফ, ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। তুমি দেখতে পেতে তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত, সূর্য উদয়কালে তাদের গুহার দক্ষিণ পার্শ্বে হেলে যায় এবং অস্তকালে তাদেরকে অতিক্রম করে বাম পার্শ্ব দিয়ে, এ সমস্ত আল্লাহর নিদর্শন। আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন সে সৎপৎ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনো তার কোন মুরশিদ ওলী (সৎপথ প্রদর্শক অভিভাবক) পাবে না।


* কোরআন মানার কথা বলে বাস্তবে যারা কোরআন মানে না, বাস্তবে তাদের মুরশিদ ওলী থাকে না। তাদের অনেকের ওলী থাকলেও বাস্তবে তারা মুরশিদ হয় না। মুরশিদের বদলে তাদের অনেকে হয় শয়তান। আর শয়তান করো ওলী হলে সে কোরআনের পথ মনে করে বাঁকা পথে চলে। অথচ কোরআনের পথ হলো সোজা পথ।


সূরাঃ ১৮ কাহফ, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। তুমি বল, তারা কতকাল ছিল তা’ আল্লাহেই ভাল জানেন। আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই। তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা ও স্রোতা। তিনি ব্যতীত তাদের কোন ওলী নাই। তিনি কাকেও নিজে কর্তৃত্বের শরীক করেন না।


* সবজান্তা ওলী শুধুই আল্লাহ। অন্য কেউ সবজান্তার আচরণ দেখালে বুঝতে হবে সে ওলী নয় বরং শয়তান।সুতরাং ব্যক্তি ফতোয়া না দিয়ে ফতোয়া দিবে শুরা। ব্যক্তি শুরার ফতোয়া প্রচার করবে। শুরার ফতোয়ার তোয়াক্কা না করে যে ব্যক্তি নিজেই ফতোয়া দেয় তাকে শয়তান হিসাবে চিনে রাখা ভালো। কে হবে প্রথম খলিফা এ বিষয়ে কতিপয় গাদির খুমের হাদিস উপস্থাপন করেছে। তারা বলেছে গাদির খুমের হাদিস অনুযায়ী হযরত আলী (র.) রাসূলের মতই মাওলা। সুতরাং রাসূলের (সা.) পর তিনিই খলিফা হবেন। কিন্তু রাসূল (সা.) মাওলার দায়িত্ব পেয়েছেন চল্লিশ বছর বয়সে। আর রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় হযরত আলীর (রা.) বয়স ছিল তেত্রিশ বছর। সংগত কারণে রাসূল (সা.) যাঁদেরকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন তাঁরা প্রথম খলিফা হিসাবে হযরত আলীর (রা.) হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেননি। কারণ রাসূলের (সা.) একটি কাজে আল্লাহ সরাসরি আপত্তি তুলেছেন। সেটি ছিল বদর বন্দির মুক্তির ঘটনা। আল্লাহ তাদেরকে হত্যা অথবা মুক্তির বিষয়ে রাসূলকে (সা.) ইখতিয়ার দিয়ে ছিলেন। রাসূল (সা.) তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার পর আল্লাহ জানালেন ইখতিয়ার অনুযায়ী রাসূল (সা.) যে কাজ করেছেন সেটি সঠিক ছিল না। তবে তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হিসাবে তাতে পাপী ছিলেন না। গাদির খুমের ঘটনাকে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তেমন ঘটনা মনে করে গাদির খুমের হাদিসের উপর তাঁরা আমল করেননি। তাঁরাও ক্ষমাপ্রাপ্ত ছিলেন বিধায় তাতে তাঁরা পাপী ছিলেন না। যারা মাসুম তাঁদেরকে লানত দিয়ে শিয়ারা লানত প্রাপ্ত হয়। তাদের ইমামগণের বিষয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা চলমান আছে। তাদের প্রথম তিন ইমাম সাহাবা (রা.) হিসাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত বিধায় তাঁদের পরকাল বিনষ্ট হওয়ার কথা নয়। তবে তাদের অন্য সব ইমামের পরকাল রক্ষা পাওয়ার কথা নয়। লানতের ঘটনায় হযরত মুয়াবিয়ারও (রা.) পরকাল রক্ষা পাওয়ার কথা। শিয়ারা হযরত আলীকে (রা.) আল্লাহর মত ওলী মনে করে শিরকে লিপ্ত হয়। তারা মনে করে তাঁর মধ্যে কোন ত্রুটি নাই। অথচ মানুষ হিসাবে তিনি ত্রুটি মুক্ত হওয়ার কথা নয়। তবে তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হিসাবে মাসুম। তিনি তাঁর বিপক্ষের সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) সাথে নিয়ে শুরা গঠন করে মতভেদ নিরসন করে যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা না করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। একই ত্রুটি ছিল তাঁর বিপক্ষের সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে। সেজন্য তাঁরা যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হননি। তবে ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তাঁদের সবাই মাসুম ছিলেন। সেজন্য তাঁদের সমালোচনা হারাম। কারণ আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তের সমালোচা তাঁর ক্ষমার কুফুরী। সাহাবার (রা.) সমালোচনার অপরাধে সকল শিয়া পথভ্রষ্ট।


সূরাঃ ১৮ কাহফ, ১১০ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১০। বল, আমিতো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কোন কিছুকে শরিক না করে।

* রাসূলের (সা.) ঐচ্ছিক কাজে ত্রুটি ছিল। তাঁকে ত্রুটিমুক্ত মনে করে তাঁকে আল্লাহর সমতুল্য মনে করা শির্ক। তবে ত্রুটি থাকলেও রাসূল (সা.) ক্ষমাপ্রাপ্ত হিসাবে মাসুম। তবে রাসূলের (সা.) মাঝে ত্রুটি থাকায় অভিন্ন ফিকাহ আল্লাহর বিধান। এটি আল্লাহর সুন্নাত। এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়। গাদির খুমের হাদিস এমন একটি বাতিল হাদিস। কারণ এটি আল্লাহর সুন্নাতের গরমিল। কারণ চল্লিশ বছরে মাওলা নিয়গ আল্লাহর সুন্নত। হযরত ঈসার (আ.) ঘটনা একটি বিশেষ ঘটনা। তাঁকেও তিনি নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। উপযুক্ত বয়সে তিনি আবার ফিরবেন।সাধারণ ঘটনা হলো মাওলার বয়স চল্লিশ। সেজন্য গাদির খুমের হাদিস আমলযোগ্য ছিল না বলেই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর উপর আমল করেননি। মাওলা হিসাবে অভিন্ন ফিকাহ সংকলন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হযরত আলীর (রা.) দায়িত্ব ছিল। তিনি সে কাজ না করায় তাঁকে কিভাবে মাওলা বলা যায়? তারমানে মাওলা পদে নিয়োগ পেলেও তিনি মাওলার কাজ করেননি। সেজন্য আমরাও যদি তাঁকে মাওলা না মানি তাতে আমাদেরও কোন পাপ হবে না। তিনি তাঁর মাওলার দায়িত্ব পালন না করায় তাঁর শিয়াই বিভিন্ন শিয়ায় বিভক্ত। অবশেষে অভিন্ন ফিকাহ সংকলন হয় হযরত আবু হানিফার (র.) শুরায় এবং এটি পরিশোধন ও অনুমোদন করেন। রাসূলের (সা.) আব্বসীয় আহলে বাইত খলিফা হারুনুর রশিদ।যার অনুসারী দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম। এ অভিন্ন হানাফী ফিকাহের অনুসারীদেরকে আল্লাহ তাঁর রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিয়েছেন। তারা একাধারে এগারশত বছর মুসলিম বিশ্ব শাসন করে। এখনো মুসলিমদের অধিকাংশ অঞ্চল, দেশ ও জনসংখ্যা হানাফীদের। তাদের পাকিস্তানের হাতে আছে পরমাণু অস্ত্র। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা হওয়ার দৌড়ে তারাই এগিয়ে। আগ্রাসী অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জয়ী হলে তারাই হবে।সুতরাং হানাফী হওয়াই মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একমাত্র উপায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.