নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম ও বিজ্ঞান এআই বিবেচনায় আমার ফরিদ আহমদ চৌধুরী ব্লগের সেরা পোষ্ট

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



# কপি করা যায় না বিধায় এআই তারমত করে পোষ্টটি সাজিয়ে দিয়েছে

ইসলাম ও বিজ্ঞান
লেখক: ফরিদ আহমদ চৌধুরী
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮
আল্লাহ, নবী (সা.) ও পরকাল ইসলামের প্রধান আলোচ্য বিষয়; কিন্তু বিদ্যমান জীবন ও জগৎ বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। আল্লাহ, নবী (সা.) ও পরকাল বিষয়ে যার পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই, ইসলাম তার নিকট গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু বিজ্ঞানের উপকার সবার জীবনে দৃশ্যমান বিধায় বিজ্ঞান সবার নিকট গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পরকাল বিষয়ে বিজ্ঞান তেমন কাজের বিষয় নয়। কারণ বিজ্ঞান এখনো পরকালের সঠিকতা আবিষ্কার করতে পারেনি। কিন্তু বিজ্ঞানে কোনো বিষয় থাকা বা না থাকা সেই বিষয়ের সঠিকতার জন্য জরুরি নয়। কারণ অনেক কিছুই বিজ্ঞানে না থাকলেও সঠিক ছিল বা আছে। যেমন পানির ভরতত্ত্ব আবিষ্কৃত হওয়ার আগেও তার কার্যকারিতা ছিল।
আবার বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি—এমন অনেক কিছু আছে, সেটি কী তা আবিষ্কারের পর বোঝা যাবে। যেমন আবিষ্কারের আগে ভরতত্ত্বও বোধগম্য ছিল না। বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করতে পারেনি, তা সঠিক নয় বলা বেকুবি।
কেউ যদি বলে, কেয়ামতের সঠিকতা না জেনে বিশ্বাস করবেন কিভাবে? কিন্তু কেয়ামতের সঠিকতা জানতে বিজ্ঞানই লাগবে—এটা এমন জরুরি নয়। কারণ বিজ্ঞান ছাড়াও বহু বিষয়ের সঠিকতা জানা যায়। যেমন আমার জমিতে আমি যে গাছ লাগিয়েছি, সেটা আমার গাছ—এটা জানতে বিজ্ঞান লাগে না।
ইসলাম বিশেষ কারো জন্য নয়; বরং ইসলাম সাধারণভাবে সবার জন্য। কাজেই ইসলামের সঠিকতা নির্ণয়ে সাধারণ জ্ঞান যথেষ্ট হওয়ার কথা। একজন নিরক্ষর সাধারণ মানুষের পক্ষে বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান দিয়ে ইসলামের সঠিকতা নির্ণয় সম্ভব নয়। অথচ তার জন্য ইসলাম স্বীকার করা ও ইসলাম মান্য করা ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।
আল্লাহ বলেছেন, ‘লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা’—আল্লাহ কারো উপর এমন কোনো কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত। (সূরা বাকারা, আয়াত ২৮৬।)
সংগত কারণে ইসলামের সঠিকতা অকাট্যভাবে নির্ণয় করতে বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন না হওয়ার কথা। আর কেউ যদি বিজ্ঞান দিয়েও ইসলামের বিরোধিতা করে, তবে সাধারণ জ্ঞান দিয়েই তাকে থামাতে পারার কথা।
কেউ কেউ বিগ ব্যাং, জেনেটিক্স, স্ট্রিং থিওরি, কোয়ান্টাম মেথড ও বিবর্তন ইত্যাদি উপস্থাপন করে বলে—সৃষ্টিকর্তার আর দরকার নেই; ‘দেয়ার ইজ নো গড’—সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছুই নেই। ধর্ম সব মানুষের বানানো।
তারা যে সব কাজের কথা বলল, এসব যে সৃষ্টিকর্তার কাজ নয়—সাধারণ জ্ঞানের এই প্রশ্নের জবাব তারা বিজ্ঞান দিয়ে কীভাবে প্রদান করবে? বিজ্ঞান অনেক সমস্যার সমাধান দিয়েছে, কিন্তু সব সমস্যার সমাধান কি বিজ্ঞান দিয়েছে?
বিজ্ঞান বিশেষ জ্ঞান হোক আর অশেষ জ্ঞান হোক, এটা যেহেতু মানুষের জ্ঞান, যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল আছে, সেহেতু বিজ্ঞানেও ভুল আছে—এটা অস্বীকারের উপায় নেই।
সংগত কারণে অনেকে বিজ্ঞানকে যতটা গুরুত্ব প্রদান করছে, বিজ্ঞান আসলে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান বিজ্ঞান হতে গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন বাবু ও মাঝির গল্পে বাবুর বিজ্ঞানের জ্ঞান মাঝির সাঁতার জানার সাধারণ জ্ঞানের কাছে তুচ্ছ প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞানের জ্ঞান না থাকায় বাবু মাঝির জীবন বারো আনা মিছে বলেছে। আর বাবুর সাঁতার জানার সাধারণ জ্ঞান না থাকায় মাঝি বাবুর জীবন ষোলো আনা মিছে বলেছে।
হাশরের দিন আল্লাহ যখন বিচারকের আসনে বসে বিজ্ঞানীর কাজের হিসাব নেবেন, তখন বেচারা বিজ্ঞানী কোন বিজ্ঞানে এই কঠিন অবস্থা থেকে বেঁচে যাবে? আর বিজ্ঞানীকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন কোন বিজ্ঞানে বেচারা জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে?
সংগত কারণে বেহুদা বিজ্ঞানকে গুরুত্ব প্রদান করতে গিয়ে বিপদে পড়ার কোনো যুক্তি নেই। যে বিজ্ঞানে উপকার হয়, সে বিজ্ঞান মানা হবে; আর যে বিজ্ঞানে ক্ষতি, সে বিজ্ঞান অবশ্যই পরিত্যাজ্য। যে জ্ঞান আল্লাহর পথ ছেড়ে শয়তানের পথে চলতে বলবে, সে জ্ঞান থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা বাঞ্ছনীয়।

ইসলাম ও বিজ্ঞান



পোষ্টের মন্তব্য ও প্রতি মন্তব্যের এআই মূল্যায়ন
এই মন্তব্যপর্বটি আসলে দুই ধরনের আলোচনায় ভাগ হয়েছে।
১. সমর্থনমূলক মন্তব্যগুলো
সেলিম৮৩, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আরোগ্য, ফারিহা হোসেন প্রভা, ফেইরি টেলার প্রমুখ আপনার মূল বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মন্তব্যের মূল কথা—বিজ্ঞান ও ইসলামকে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই এবং বিজ্ঞানের বর্তমান সীমাবদ্ধতাকে ইসলামের অসত্যতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
এখানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মন্তব্যটি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বিষয়ভিত্তিক। তিনি সরাসরি বলেছেন, বিজ্ঞান কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে না পারলে সেটি বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা হতে পারে; একই সঙ্গে মরিস বুকাইলির বইয়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন। আপনার উত্তরও সংক্ষিপ্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে।
২. আপত্তি/প্রতিবাদমূলক মন্তব্যগুলো
চাঁদগাজী, ভিন্নচিন্তা ভিন্নমত ভিন্নপথ এবং বিশেষ করে “নতুন”-এর সঙ্গে আপনার আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁরা শুধু পোস্টের প্রশংসা বা বিরোধিতা করেননি; তাঁরা আপনার যুক্তির নির্দিষ্ট জায়গায় প্রশ্ন তুলেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক: “বিবর্তন”
আমার দৃষ্টিতে পুরো মন্তব্যপর্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো “নতুন” ও আপনার মধ্যকার ১২, ১৩, ১৬, ১৯ ও ২০ নম্বর মন্তব্যের ধারাবাহিকতা।
“নতুন” প্রথমে প্রশ্ন তুলেছেন যে বিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং কিছু মুসলিম বিজ্ঞানীও বিবর্তন গ্রহণ করেন। আপনি সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করেছেন:
“আমি বিবর্তন মানতে নারাজ নই। এ প্রক্রিয়ায় সব হয়েছে সেটা মানতে নারাজ।”
এই বক্তব্যটি আপনার পুরো পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক বক্তব্যগুলোর একটি। কারণ এখানে আপনি “বিবর্তন ঘটে” এবং “বিবর্তনের মাধ্যমেই সবকিছু হয়েছে”—এই দুটি দাবিকে আলাদা করেছেন।
এরপর “নতুন” যুক্তিটি আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে সৃষ্টির প্রক্রিয়া, শক্তি এবং “কুন” বা “হও” নিয়ে প্রশ্ন করেন। আপনার উত্তরেও তখন আপনি নিজের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে “কমান্ড” ও “হও” ধারণার মধ্যে তুলনা করেন।
এই জায়গায় আপনার উত্তরটি বিষয়টির দার্শনিক দিক ধরেছে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক বিবর্তন তত্ত্বের নির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেনি। ফলে বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান বনাম ধর্মের মৌলিক অবস্থানেই থেকে গেছে।
যেখানে আপনার প্রতিমন্তব্য সবচেয়ে শক্তিশালী
আমার মতে আপনার সবচেয়ে কার্যকর বক্তব্য হলো:
“এটা সঠিক হলেও এটা নাস্তিক্যবাদ প্রমাণ করে না।”
কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌক্তিক পার্থক্য। কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সত্য প্রমাণিত হলেও সেখান থেকে সরাসরি “সৃষ্টিকর্তা নেই”—এই সিদ্ধান্ত আবশ্যিকভাবে আসে না। আপনার ১৩ নম্বর প্রতিমন্তব্যে আপনি এই জায়গাটি পরিষ্কার করেছেন।
অন্যদিকে, “বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামকে বেঠিক প্রমাণ করার কোনো যোগ্যতা বিজ্ঞানের নেই এবং কোনো কালেই হবে না”—এই দাবিটি আপনার পোস্টের সবচেয়ে বড় ও কঠিন দাবি। কারণ এটি নিজেই একটি সর্বজনীন দাবি; এর পক্ষে আরও নির্দিষ্ট যুক্তি প্রয়োজন। পোস্টের মন্তব্যপর্বে আপনি এই দাবিটি বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করার সুযোগ নেননি। পোস্টের মূল বক্তব্যেও এই অবস্থানটি স্পষ্ট।
“নতুন”-এর সঙ্গে শেষ বিতর্কটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়
শেষদিকে “নতুন” বলেন, বিবর্তনকে বৈজ্ঞানিকভাবে একরকম প্রমাণিত বিষয় হিসেবে দেখা হয় এবং সেটিকে বিরোধিতা করা ধর্মান্ধতা। আপনি জবাব দেন:
“এভিলুসন প্রমাণ হয়নি। এটা এখনো অনুমানের মধ্যেই আছে। তবে এটা প্রমাণ হলেও এটা নাস্তিকতার সঠিকতা প্রমাণ করবে না।”
এখানে আসলে দুই পক্ষের দুটি আলাদা প্রশ্ন হয়ে গেছে:
• “বিবর্তন বৈজ্ঞানিকভাবে কতটা প্রতিষ্ঠিত?”
• “বিবর্তন সত্য হলেও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব কি অস্বীকার হয়?”
দ্বিতীয় প্রশ্নে আপনার যুক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি সরাসরি। কিন্তু প্রথম প্রশ্নে “বিবর্তন শুধু অনুমান”—এই অবস্থানটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক বেশি ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দাবি করে। ফলে এখানেই আপনার অবস্থানটি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
সামগ্রিকভাবে আমার রায়
বিষয় মূল্যায়ন
পোস্টের মূল দর্শন শক্তিশালী
যুক্তির ধারাবাহিকতা ভালো
সাধারণ জ্ঞানের উদাহরণ কার্যকর
মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার আন্তরিকতা খুব ভালো
বিরোধী মতের সঙ্গে সরাসরি মোকাবিলা ভালো
বিবর্তন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দুর্বল/আরও তথ্য প্রয়োজন
“বিবর্তন ≠ নাস্তিকতা” যুক্তি খুব শক্তিশালী
আবেগপ্রবণ/ব্যক্তিগত মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো আরও সংযত হওয়া যেত
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য পড়ে আমার মনে হয়েছে, আপনার পোস্টের প্রকৃত শক্তি “ইসলাম বনাম বিজ্ঞান” বিতর্কে নয়; বরং “বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থেকে কি সৃষ্টিকর্তার অনস্তিত্ব প্রমাণ হয়?”—এই প্রশ্নে। এই জায়গাটিতে আপনার যুক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দার্শনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আর মন্তব্যকারীদের মধ্যে “নতুন”ই আপনার বক্তব্যকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ করেছেন, ফলে তাঁর সঙ্গে আপনার ধারাবাহিক আলোচনা পুরো মন্তব্যপর্বের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম এবং জানলাম অনেক কিছু ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.