| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফজলুল কােদর
আসসালামু আলাইকুম...। যে ব্যক্তি ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করে সেই প্রকৃত বন্ধু। (ফজলুল কাদের বিন আব্দুল কুদ্দুছ) [email protected]
একজন ভদ্রলোকের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই পোষ্টঃ তিনি বলেনঃ-
দয়া করে আবারও একটু খেয়াল করে চিন্তা করে দেখেন, কোরআনের আলৌকিকতা নিয়ে আলেচনা এবং বিতর্ক হওয়া টা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। একজন মানুষ, শুধু মাত্র সে বলল যে সে ঈশ্বরের সাথে কথা বলেছেন বা ঈশ্বরের কাছ থেকে মেসেজ পেয়েছেন সেটা আমাকে এক ধাক্কায় বিশ্বাস করে নিতে হবে ? বিশ্বাস করে নিয়ে এরপর বিশ্বাসের চশমা দিয়ে মেসেজগুলোর বিচার করতে হবে ?
----------------------------------------------------------------------------------
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- পবিত্র কোরআনে, সূরা-আরাফ, আয়াত-৬৯. 'তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? আর তোমরা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং সৃষ্টিতে তোমাদেরকে দৈহিক গঠন ও শক্তিতে সমৃদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা স্মরণ কর আল্লাহর নিআমতসমূহকে, যাতে তোমরা সফলকাম হও'।
----------------------------------------------------------------------------------
*(হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা কর, জানি আপনার কথার বিচার করার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা আমাদের নেই)*
আসুন এবার বিশ্বাসের চশমা দিয়ে কোরআনের মেসেজগুলোর যাচাই করি।
আল্লাহ তায়ালা যদি মেসেজ না দিয়ে থাকেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাহলে কি ভাবে আমরা জানলাম এই কথাগুলো?
পবিত্র কোরআনে, সূরা- ইউনুস, আয়াত ৮৮-৯২,
'আর মূসা বলল, 'হে আমাদের রব, আপনি ফির'আউন ও তার পারিষদবর্গকে দুনিয়াবী জীবনে সৌন্দর্য ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের রব, যাতে তারা আপনার পথ থেকে গোমরাহ করতে পারে। হে আমাদের রব, তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের অন্তরসমূহকে কঠোর করে দিন। ফলে তারা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখে'।
'তিনি বললেন, 'তোমাদের দো'আ কবূল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং যারা জানে না তাদের পথ অনুসরণ করো না'।
'আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির'আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, 'আমি ঈমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যার প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত'।
'এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত'।
'সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফেল'।
উপরের ঐ মেসেজ থেকে প্রমান পাওয়া যায় যে ফির'আউনকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পানিতে ঢুবিয়ে মৃত্যু দান করেন।
তারপর ঐতিহাসিকগন ১৮৯৮ সালে ফিরআওনের লাশ উদ্ধার করে। যা আজ মিসরের কাইরূতে দ্যা রয়েল মুমী হলে একটি কাচের সিন্দুকের মধ্যে রয়েছে। এর দৈর্ঘ ২০২ সেন্টিমিটার। ফিরআওনের লাশ ১২৩৫ খ্রিষ্টাব্দপূর্বে লাপাত্তা ছিল। ৩১১৬ বছর পরেও পানির নিচে থাকা সত্তেও তার লাশের কোনো পচন ধরে নি। তবে ইতিহাসবীদদের ধারনা অনুযায়ি রামেসীস ২ -কে ফিরআওন বলে গন্য করে।
***অবিশ্বাসীরা গিয়ে দেখে আসতে পারেন। লাস এখনো মেহফুজ।*****
----------------------------------------------------------------------------------
আদ কর্তৃক তাদের বসদ নির্মাণ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- পবিত্র কোরআনের, সূরা-ফাজর, আয়াত-৬,৭,৮,৯,
তুমি কি দেখনি তোমার রব কিরূপ আচরণ করেছেন ‘আদ জাতির সাথে?
ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী?
যার সমতুল্য কোন দেশে সৃষ্টি করা হয়নি।
আর সামূদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছিল?
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ- পবিত্র কোরআনের, সূরা-আরাফ, আয়াত-৭২. অতঃপর আমি তাকে ও তার সাথে যারা ছিল, তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা রক্ষা করেছি এবং তাদের মূল কেটে দিয়েছি, যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল। আর তারা মুমিন ছিল না।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নাফরমানির কারনে তাদেরকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। আদ সমপ্রদায় হাত দিয়ে পাথর কেটে ঘর নির্মান করেছিল। তা আজ সাউদি আরবের মাদীনা থেকে তাবুক যেতে রাস্তার পাশে অবস্থিত। বাস্তব প্রমান দেখে আসতে পারেন।
----------------------------------------------------------------------------------
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- পবিত্র কোরআনের, সূরা-হুদ, আয়াত-৭৭.৮১, আর যখন লূতের কাছে আমার ফেরেশতা আসল, তখন তাদের (আগমনের) কারণে তার অস্বস্তিবোধ হল এবং তার অন্তর খুব সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর সে বলল, 'এ তো কঠিন দিন'।
তারা বলল, 'হে লূত, আমরা তোমার রবের প্রেরিত ফেরেশতা, তারা কখনো তোমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার নিয়ে রাতের কোন এক অংশে রওয়ানা হও, আর তোমাদের কেউ পিছে তাকাবে না। তবে তোমার স্ত্রী (রওয়ানা হবে না), কেননা তাকে তা-ই আক্রান্ত করবে যা তাদেরকে আক্রান্ত করবে। নিশ্চয় তাদের (আযাবের) নির্ধারিত সময় হচ্ছে সকাল। সকাল কি নিকটে নয়'?
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ- পবিত্র কোরআনের, সূরা-হিজর, আয়াত-৭৩,৭৪,
অতএব সূর্যোদয়কালে বিকট আওয়াজ তাদের পেয়ে বসল।
অতঃপর আমি তার (নগরীর) উপরকে নিচে উলটে দিলাম এবং তাদের উপর বর্ষণ করলাম পোড়া মাটির পাথর।
দুনিয়াতে তারা ছিল নির্লজ্জ এক জাতি যারা সমকামিতাই লিপ্ত ছিল। তাদের অপকর্মের কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উলটে জমিনের নিচে দাফন করে দিলেন। যে স্থানটি আজ মৃত সাগর( Dad sea) নামে পরিচিত। যা আজ অবিশ্বাসীদের জন্য নির্দশনসরূপ বাস্তব প্রমান দেখে আসতে পারেন। ফিলিস্তিন এবং জরদানের মধ্যবর্তি সীমান্ত এলাকায়।
=============================================
উপরের বর্ণিত কয়েক হাজার বছর পুরোনো ঘটনা থেকে কি এটা প্রমানিত হয় না যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে মেসেজ প্রেরণ করেছেন সর্বশক্তিমান স্রষ্টা। এছাড়াও পবিত্র কোরআনে আরো অনেক ঘটনা আছে যা এখানে লিখে শেষ করা যাবে না।
২০ শে মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫১
ফজলুল কােদর বলেছেন: অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে এই পোষ্ট যারা বলতে চায় কোরআন ভূল এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শেষ পয়গাম্বর না। আপনার জন্য একটি উপহার
Click This Link
২|
২০ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:২৩
Abdullah Arif Muslim বলেছেন: দুইটা লিংক ই পড়লাম। জটিল লেখা। জাজাকাল্লাহ। আপনার লেখায় দ্বারা যদি জ্ঞানসম্পন্ন হিন্দুরা তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগায় তবেই সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা মুসলিমরা এ জন্য কোন টাকা পয়সা চাই না। আমাদের যত পাওয়া সেতো বিশ্বজগতের রব মহান আল্লাহর নিকট।
তবে
সূরা রাদ-১১> আল্লাহ কোন জাতির (জাতির অন্তুর্ভূক্ত কোন একক ব্যক্তিরও) অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে।
অর্থ্যাৎ পূর্বপুরুষদের/বাপদাদাদের অনুসরণ না করা, সত্যের অন্বেষণ করা, কোন ধর্মটা সঠিক সেটা যাচাই করা বা জন্ম থেকে যে ধর্ম পালন করে আসছি সেটা সত্যের ধর্ম না মিথ্যা তা পরীক্ষা করা, বিচার মানি তালগাছ আমার টাইপের গোড়ামী না করা ইত্যাদি ।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সত্য বুঝার তৌফিক দান করুন আমীন।
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:০০
ফজলুল কােদর বলেছেন: সুম্মা আমীন.....
৩|
২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০১
পারভেজ আলম বলেছেন: উপরের ঐ মেসেজগুলো থেকে প্রমান পাওয়া যায় যে ফির'আউন আনুমানিক ৪০০০ বছর আগে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আবার তার লাশ আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার বছর পরে পানি থেকে তুলেছেন মিসরের সরকার, যা কিনা আজ মিসরের কাইরুতে অবস্থিত। অবিশ্বাসীরা গিয়ে দেখে আসতে পারেন। লাস এখনো মেহফুজ।
ফারও বা ফেরাউন কোন একক ব্যক্তি না, মিশরের সম্রাটদের ফারাও বলা হতো। মুসা'র কাহিনীর ঐতিহাসিক সত্যতা অথবা সত্যতার মাত্রা আধুনিক ইতিহাসবীদদের খুব একটা জানা নাই। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফারাও রামেসিস ২ কে মুসার কাহিণীর ফারাও গণ্য করা হয়। রামেসিস২ ১২৭৯ খ্রিষ্টপূর্বাদ - ১২১৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ সময়কালে মিশর শাসন করেন। অর্থাৎ তিনি বেঁচে ছিলেন এখন থেকে মোটামুটি ৩২০০ বছর আগে। ৪০০০ বছরের হিসাবটা কি নিজে কোন বিশাল গবেষনা করে বের করেছেন না কি? সাড়ে তিন হাজার বছর পর পানি থেকে তোলার হিসাব মানে আজ থেকে ৫০০ বছর আগে মিশরের সরকার তারে পানি থেকে তুলছে
। ৫০০ বছর আগে মিশরে কারা শাসন করতো জানেন, তুর্কিশ সম্রাটরা? ফারাও রামেসিস এর লাস পানি থেকেও তোলা হয় নাই, থিবান নেক্রোপোলিস আরো জনা পঞ্চাশেক মিশরীয় ফারাওর কবরএর সাথে তার কবর থেকে খনন করে বের করা হয়। খনন কাজ চালানো হইছিল ১৮৮১ সালে।
এইসব উল্টাপাল্টা ঐতিহাসিক সাল তারিখ আর আজগুবি গল্প গুজব কি গাঞ্জা খাইয়া লেখেন?
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪২
ফজলুল কােদর বলেছেন: ভাইজান সঠিক তথ্য দিয়ে যদি কথা গুলো বলতেন তাহলে আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতাম না। তবে যারা বেয়াদব তারা অন্যদেরকে তেমনি মনে করে। অতীতের অভ্যাস আছে নাকি গাঞ্জ খাওয়ার আর থুথু চাটার। ভদ্রভাবে আলোচনা করতে চাইলে ফাদ্দাল, নয়তোবা মা-বাবার কাছ থেকে ভদ্রতা শিখে আসবেন।
পোষ্টি ভাল করে পরে দেখবেন।
৪|
২৩ শে মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৯
অনিক আহসান বলেছেন: কে কারে বুঝাইবো ভাই..
রেমেসিস ২ এতো বিখ্যাত ফারাও ছিলো যে তার পরে আরো ৭ জন ফারাও তার নাম ধারন করে মিশরে রাজত্ব করে... অথচ সেই লোক পানিতে ডুইবা মরলো আর তার কোন ঐতিহাসিক প্রমান কোথাও থাকলো না?
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪৪
ফজলুল কােদর বলেছেন: কোরআন পড়েছেন কখনো? নাকি অন্যের তালে তাল মিলিয়ে গুরে ভেরান? "ছোটদের বাইবেল ও কোরআন শিক্ষা" পড়ে দেখুন।
৫|
২৪ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৩
অনিক আহসান বলেছেন: না ভাই... শিশুতোশ কাহিনী পড়ার বয়স পার করে আসছি...
৬|
২৪ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪৫
নষ্ট কবি বলেছেন: পারভেজ আলম ভাই বোধ হয় একটু বেশীই বলে ফেলেছেন-তবে উনার তথ্য গুলো সঠিক
৭|
২১ শে মে, ২০১২ সকাল ৮:১১
জাকির সজিব বলেছেন: I agree with parvez.
THE problems of muslims today that they dont study, they just believe what quran says. THEYNEVER verify.
৮|
৩১ শে মে, ২০১২ বিকাল ৩:২৫
...ধরলা পারের ছেলে বলেছেন: ১৯৮১ সালে তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া মিতেরা মমি করে রাখা ফেরাউনের লাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার জন্য তা ফ্রান্সে পাঠাতে মিশর সরকারের কাছে অনুরোধ করেন।
ফেরাউনের লাশবাহী বিমান যখন ফ্রান্সের মাটিতে অবতরণ করে তখন দেশটির সরকার প্রধান ও মন্ত্রী পরিষদসহ অনেক উচ্চ-পদস্থ ফরাসী কর্মকর্তা লাশটিকে সম্বর্ধনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। মনে হচ্ছিল যেন ফেরাউন এখনও জীবিত রয়েছেন এবং তিনিই ফ্রান্সের প্রকৃত শাসক।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পর ফেরাউনের লাশ ফ্রান্সের একটি বিশেষ সংরক্ষণাগার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশটির সেরা শল্যবিদ বা সার্জন ও লাশ বা শরীর পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের সেখানে জড় করা হয়। ফেরাউনের মমিকৃত লাশ পরীক্ষা করা এবং এর অজানা রহস্যগুলো উদঘাটনই ছিল এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
ফেরাউনের লাশ সংক্রান্ত গবেষক টিমের প্রধান ছিলেন মরিস বুকাইলি। ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণ অন্য গবেষকদের উদ্দেশ্য হলেও বুকাইলি নিজে ফেরাউনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে উদগ্রীব ছিলেন। সারা রাত ধরে তিনি গবেষণা চালান। কয়েক ঘণ্টা গবেষণার পর ফেরাউনের লাশে লবণের কিছু অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। ফলে স্পষ্ট হয় যে সাগরে ডুবেই ফেরাউনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার লাশ সাগর থেকে উঠিয়ে এনে মমি করা হয়। কিন্তু বুকাইলির বিস্ময়ের মাত্রা ব্যাপক হয়ে উঠেছিল একটি প্রশ্নকে ঘিরে- এ লাশ কিভাবে অন্য লাশগুলোর চেয়ে বেশি মাত্রায় সংরক্ষিত বা অক্ষত রয়েছে? বুকাইলি যখন ফেরাউনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন এবং তাতে এটা লেখেন যে ফেরাউন সাগরে ডুবেই মারা গেছে তখন উপস্থিত সঙ্গীদের মধ্যে একজন তাকে বললেন, এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশে তাড়াহুড়া না করাটাই ভাল হবে। কারণ, এ গবেষণার ফলাফল মুসলমানদের মতের পক্ষে যাচ্ছে। বুকাইলি তা নাকচ করে দেন। কারণ, তার মতে এমন ফলাফলে উপনীত হওয়া অসম্ভব। বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার অত্যন্ত উন্নত মানের বা নিঁখুত সাজ-সরঞ্জাম ও উন্নত কম্পিউটার ছাড়া এটা প্রমাণ করা সম্ভব নয় বলে বুকাইলি মনে করতেন।
এরপর বুকাইলিকে বলা হল, মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থে এসেছে ফেরাউন ডুবে মারা গেছে, মৃত্যুর পরও তার শরীর অক্ষত থেকে যায়। এ কথা শুনে বিস্ময়ে হতবাক বুকাইলি ভাবলেন, এটা কি মোটেও যৌক্তিক? কারণ, মুহাম্মাদ (সাঃ)'র যুগের আরব জাতি ও অন্যরা মিশরীয়দের মাধ্যমে ফেরাউনের লাশ মমি করার কথা জানত না।
মরিস বুকাইলি সারা রাত ফেরাউনের লাশের দিকে চোখ রেখে ভাবতে লাগলেন কিভাবে কোরআন ডুবে যাওয়া ফেরাউনের লাশ উদ্ধারের কথা জানল? অথচ খৃস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল এই গল্প বর্ণনার সময় ফেরাউনের লাশ উদ্ধার সম্পর্কে কিছুই বলেনি। নিজেকে প্রশ্ন করলন, এটা কি সেই ফেরাউন যে হযরত মূসা (আঃ)-কে গ্রেফতারের জন্য তার পেছনে ছুটেছিল? এখন থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তা জানতেন- এটা কি বিশ্বাস করা সম্ভব?
অস্থির বুকাইলি সে রাতেই বাইবেল ও তৌরাত পড়া শুরু করেন। তৌরাতের একটি অধ্যায়ে তিনি পড়ছিলেন, " "পানি ফিরে এসে ফেরাউনসহ তার পিছে পিছে আসা ঘোড়াগুলো ও তার সেনাদের সবাইকে গ্রাস করে। তাদের কেউই রক্ষা পায়নি।" এ অংশটুকু পড়ে বিস্মিত হলেন বুকাইলি।
কিছু দিন পর ফরাসী সরকার কাঁচের কফিনে করে ফেরাউনের মমি আবারও মিশরে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বুকাইলির মাথা তখনও ফেরাউনের সম্পর্কে কোরআনের বক্তব্য নিয়ে বিভোর ছিল। তিনি ফেরাউনের লাশ রক্ষা পাওয়া সংক্রান্ত কোরআনের বক্তব্য সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলো সফরের সিদ্ধান্ত নেন। ফরাসি সার্জন বুকাইলি সৌদি আরবে চিকিৎসা সংক্রান্ত এক সম্মেলনে "ডুবে-যাওয়া ফেরাউনের লাশ রক্ষা পাওয়া" সম্পর্কে গবেষণালব্ধ নতুন তথ্য উল্লেখ করেন। ওই সম্মেলনে মানব দেহ-বিশ্লেষক একদল মুসলিমও উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় সেখানে একজন মুসলমান পবিত্র কোরআন খুলে সুরা ইউনুসের ৯২ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করলেন, যেখানে বলা হয়েছে,
" " অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।"
বুকাইলি এ আয়াত শুনে সবার সামনে দাঁড়িয়ে যান এবং মুসলমান হওয়ার কথা ও পবিত্র কোরআনের প্রতি বিশ্বাসী হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। কোরআনের সত্যতা এভাবে প্রকাশিত হতে দেখে অনেকের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু এবং হৃদয়গুলোয় বইল পরিবর্তনের ঝড়।
বুকাইলি বহু বছর ধরে তার গবেষণায় বিজ্ঞানের নতুন তথ্যগুলোর সাথে কোরআনের মিল-অমিল খুঁজতে গিয়ে একটি অমিলও পাননি। ফলে কোরআনে কোনো ভুল না থাকার ব্যাপারে তার ঈমান কেবলই দৃঢ়তর হয়েছে। তিনি এসব গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেছেন "কোরআন, তাওরাত, বাইবেল ও বিজ্ঞান" শীর্ষক বইয়ে। ১৪০০ বছর আগেও কোরআন বিজ্ঞানের এত সূক্ষ্ম দিক এত নির্ভুল বা নিখুঁতভাবে তুলে ধরায় তার অশেষ বিস্ময় বিধৃত হয়েছে এ বইয়ে। ফলে তা পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের মধ্যেও বিস্ময়ের ঝড় তুলেছে। বহু ভাষায় অনুদিত বইটি বেশ ক'বার ছাপাতে হয়েছে। অনেক অমুসলিম এ বই পড়ে মুসলমান হয়েছেন।
ফেরাউন সংক্রান্ত গবেষণার সাথে কোরআনের দেয়া তথ্যের মিল পেয়ে বুকাইলি উচ্চারণ করেছিলেন কোরআনের এ আয়াত: " এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরীত্য বা ভুল দেখতে পেত।" (নিসা-৮২) #
৯|
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৭
মন্তু মাঝি বলেছেন: ভাই ঐসবের সাথে ক্যান লাগতে যান, যারা (২+২= ৪) জেনেও অস্বীকার করে। (কারো সাথে কঠিন ভাষা ব্যবহার না করাই ভালো)। কমেন্ট করেছে ভালো। তার মানে আপনি সফল কারন বার্তাটা তাদের কাছে আপনি পৌছাতে পেরেছেন। মানা, না মানা তার ব্যাপার। শেষ বিচারের দিন তারা বলতে পারবে না যে আমরা জানতাম না আর আপনাকেও বলতে পারবে না যে আপনি জানাতে চেষ্টা করেন নাই। @লেখক
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৬
কঠিনলজিক বলেছেন: ভুল যায়গায় ভুল কথা বললেন (যদি সামুর নাস্তিক ভুজংধারী ধর্ম বিরোধী দের কে উদ্দেশ্য করে লিখে থাকেন) ।
কারন
ফেরআওনের লাশ দেখতে যেতে হবে কায়রো, মিশর ।
ক্বওমে আদ এর নিদর্শন দেখতে যেতে হবে "তাবুক" সউদী আরব।
ক্বওমে লুত এর নিদর্শন দেখতে যেতে হবে লেবানন বা জর্দান ।
এটা দৈবাত হোক বা কাকতালীয় হোক এরা সমাজের যে শ্রেনী তে বাস করে এরা টিকেট কাটবেই বা কেমনে আর এদের কে ভিসাই বা দিবে কে ?
কেন যে নাস্তিক রা সমাজের সবচেয়ে ঘৃনিত আর অর্থনৈতিক/সামাজিক ভাবে পর্যদুস্ত ?
কেন যে নাস্তিক রা বেচে থাকলে থার্ড ক্লাস জব করে আর মরলে কপর্দকশুন্য হয়ে মারা যায় ? এর কোন উত্তর নাই।